শক্তি
দেবীর রূপ, মন্ত্র, কাহিনী ও সঙ্গীত

গান

বাংলার শাক্তপদাবলী ও দেবীবন্দনা।

কবি ও গায়ক

ইউটিউবের লিংকে শিল্পীর নাম তখনই লেখা হয়েছে, যখন ভিডিওর নিজের বিবরণে সেই নাম আছে; নইলে কেবল ‘খুঁজে দেখুন’।


কালী

মন রে কৃষিকাজ জানো না

রামপ্রসাদ সেন

গানের কথা

মন রে কৃষি কাজ জান না এমন মানবজমি রইল পতিত, আবাদ করলে ফলত সোনা । কালী নামে দেওরে বেড়া, ফসলে তছরুপ হবে না । সে যে মুক্তকেশীর (মন রে আমার) শক্ত বেড়া, তার কাছেতে যম ঘেঁষে না ॥ অদ্য অব্দ-শতান্তে বা, বাজাপ্ত হবে জান না । আছে একতারে মন, এই বেলা তুই চুটিয়ে ফসল কেটে নে না ॥ গুরু রোপণ করেছেন বীজ, ভক্তিবারি তায় সেঁচো না । ওরে একা যদি, (মন রে আমার) না পারিস মন, রামপ্রসাদকে ডেকে নে না ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

রামপ্রসাদের সবচেয়ে বিখ্যাত পদ। দেহকে জমি, সাধনাকে চাষ বলে দেখা হয়েছে — কালীনাম বেড়া দিলে যমও ঘেঁষতে পারে না।

শুনুন

আমায় দে মা তবিলদারি

রামপ্রসাদ সেন

গানের কথা

রাগ ও তাল: রামপ্রসাদী সুর — একতালা

আমায় দেও মা তবিলদারি আমি নিমকহারাম নই শংকরী॥ পদরত্নভাণ্ডার সবাই লুটে ইহা আমি সইতে নারি। ভাঁড়ার জিম্মা যার কাছে মা সে যে ভোলা ত্রিপুরারি ॥ শিব আশুতোষ স্বভাবদাতা তবু জিম্মা রাখ তাঁরই, অর্ধ অঙ্গ জায়গির, তবু শিবের মাইনে ভারী ॥ আমি বিনা মাইনার চাকর কেবল চরণধুলার অধিকারী। যদি তোমার বাপের ধারা ধর, তবে বটে আমি হারি ॥ যদি আমার বাপের ধারা ধর তবে তো মা পেতে পারি। প্রসাদ বলে এমন পদের, বালাই লয়ে আমি মরি। ও পদের মতো পদ পাই তো, সে পদ লয়ে বিপদ সারি ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মাকে জমিদার আর নিজেকে তাঁর তবিলদার (খাজাঞ্চি) কল্পনা করে লেখা — শাক্তপদাবলীর ‘আবদার’ ধারার পদ।

শুনুন

ডুব দে রে মন কালী বলে

রামপ্রসাদ সেন

গানের কথা

ডুব দে মন কালী বলে । হৃদিরত্নাকরের অগাধ জলে ॥ রত্নাকর নয় শূন্য কখনো, দু-চার ডুবে ধন না পেলে । তুমি দম-সামর্থ্যে এক ডুবে যাও, কুলকুণ্ডলিনীর কূলে ॥ জ্ঞানসমুদ্রের মাঝে রে মন, শক্তিরূপা মুক্তা ফলে । তুমি ভক্তি করে কুড়ায়ে পাবে, শিব-যুক্তি মতন চাইলে ॥ কামাদি ছয় কুম্ভীর আছে, আহারলোভে সদাই চলে । তুমি বিবেক-হলদি গায় মেখে যাও, ছোঁবে না তার গন্ধ পেলে ॥ রতন মাণিক্য কত, পড়ে আছে সেই জলে রামপ্রসাদ বলে, ঝম্প দিলে, মিলবে রতন ফলে ফলে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মনকে ডুবুরি বলা হয়েছে — হৃদয়ের সমুদ্রে ডুব দিলে রত্ন মিলবে, ভেসে থাকলে নয়।

শুনুন

এমন দিন কি হবে তারা

রামপ্রসাদ সেন

গানের কথা

রাগ ও তাল: সিন্ধু — ঠুংরি

এ মন দিন কি হবে তারা । যবে তারা তারা তারা বলে, তারা বয়ে পড়বে ধারা ॥ হৃদিপদ্ম উঠবে ফুটে, মনের আঁধার যাবে ছুটে, তখন ধরাতলে পড়বে লুটে, তারা বলে হব সারা ॥ ত্যজিব সব ভেদাভেদ, ঘুচে যাবে মনের খেদ, ওরে শত শত সত্য বেদ, তারা আমার নিরাকারা শ্রীরামপ্রসাদ রটে, মা বিরাজে সর্বঘটে, ওরে আঁখি অন্ধ, দেখো মাকে, তিমিরে তিমিরহরা ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

তারা ও কালী — দুই নামেই রামপ্রসাদ ডেকেছেন; এই পদ দুই পাতাতেই পড়া যায়।

শুনুন

সদানন্দময়ী কালী

কমলাকান্ত ভট্টাচার্য

গানের কথা

সদানন্দময়ী কালী, মহাকালের মনোমোহিনী। তুমি আপনি নাচো আপনি গাও মা, আপনি দাও মা করতালি॥ আদিভূতা সনাতনী, শূন্যরূপা শশি-ভালী। ব্রহ্মাণ্ড ছিল না যখন, মুণ্ডমালা কোথায় পেলি॥ সবে মাত্র তুমি যন্ত্রী, আমরা তোমার যন্ত্রে চলি। যেমন রাখ তেমনি থাকি মা, যেমন বলাও তেমনি বলি॥ অশান্ত কমলাকান্ত দিয়ে বলে গালাগালি – এবার সর্বনাশী, ধ’রে অসি, ধর্মাধর্ম দুটো খেলি॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

কমলাকান্তের সবচেয়ে পরিচিত পদ। মা নিজেই নাচেন, নিজেই গান, নিজেই করতালি দেন — তিন ভূমিকাই তাঁর।

শুনুন

কালী কালী বলো রে রসনা

রামপ্রসাদ সেন

গানের কথা

রাগ ও তাল: বসন্তবাহার — একতালা

কালী কালী বলো রসনা । করো পদধ্যান, নামামৃত পান, যদি হতে ত্রাণ থাকে বাসনা ॥ ভাই বন্ধু সুত, দারা পরিজন, সঙ্গের দোসর নহে কোনো জন । দুরন্ত শমন, বাঁধবে যখন, বিনে ওই চরণ, কেহ কারো না ॥ দুর্গানাম মুখে বলো একবার, সঙ্গের সম্বল দুর্গানাম আমার । অনিত্য সংসার নাহি পারাপার, সকলই অসার, ভেবে দেখো না । গেল গেল কাল, বিফলে গেল, দেখো না কালান্ত নিকটে এল । প্রসাদ বলে ভালো, কালী কালী বলো, দূর হবে কাল-যম-যন্ত্রণা ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

শুনুন

আয় মন বেড়াতে যাবি

রামপ্রসাদ সেন

গানের কথা

আয় মন বেড়াতে যাবি কালী-কল্পতরুমূলে, চারি ফল কুড়ায়ে পাবি ৷ প্রবৃত্তি-নিবৃত্তি জায়া নিবৃত্তিরে সঙ্গে লবি, বিবেক নামে তার পুত্র তত্ত্ব-কথা তায় সুধাবি ৷ শুচি-অশুচিরে লয়ে দিব্য ঘরে কবে শুবি, যখন দুই সতীনে পিরিত হবে তখন শ্যামা মাকে পাবি ৷ অহংকার-অবিদ্যা দুই পিতামাতায় তাড়িয়ে দিবি, যদি মোহ-গর্তে ডেকে নেয় তো ধৈর্য-খোঁটা ধরে রবি ৷ ধর্মাধর্ম দুটো অজা তুচ্ছ খোঁটায় বেঁধে থুবি, যদি না মানে নিষেধ তবে জ্ঞান-খড়্গে বলি দিবি ৷ প্রথম ভার্যার সন্তানেরে দূর হতে বুঝাইবি, যদি না মানে প্রবোধ জ্ঞান-সিন্ধু মাঝে ডুবাইবি ৷ প্রসাদ বলে, তবেই রে মন কালের কাছে জবাব দিবি, তবে বাপু-বাছা বাপের ঠাকুর মনের মতো মন হবি ৷

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

শুনুন


তারা

এমন দিন কি হবে তারা

রামপ্রসাদ সেন

গানের কথা

রাগ ও তাল: সিন্ধু — ঠুংরি

এ মন দিন কি হবে তারা । যবে তারা তারা তারা বলে, তারা বয়ে পড়বে ধারা ॥ হৃদিপদ্ম উঠবে ফুটে, মনের আঁধার যাবে ছুটে, তখন ধরাতলে পড়বে লুটে, তারা বলে হব সারা ॥ ত্যজিব সব ভেদাভেদ, ঘুচে যাবে মনের খেদ, ওরে শত শত সত্য বেদ, তারা আমার নিরাকারা শ্রীরামপ্রসাদ রটে, মা বিরাজে সর্বঘটে, ওরে আঁখি অন্ধ, দেখো মাকে, তিমিরে তিমিরহরা ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

তারানামে রামপ্রসাদের সবচেয়ে পরিচিত পদ।

শুনুন


ভুবনেশ্বরী

আমার মা ত্বং হি তারা

রামপ্রসাদ সেন

গানের কথা

মুখড়া —

আমার মা ত্বং হি তারা। তুমি ত্রিগুণধরা পরাৎপরা॥

গানের কথা পাওয়া যায়নি।

পদে মাকে ‘তারা’ নামে ডাকা হয়েছে; ‘ত্রিগুণধরা পরাৎপরা’ — ত্রিগুণের ধারিণী জগন্মাতার এই ভাবটি ভুবনেশ্বরীর তত্ত্বের কাছাকাছি।

শুনুন

যা দেবী সর্বভূতেষু

চণ্ডী স্তোত্র

গানের কথা

যা দেবী সর্বভূতেষু বিষ্ণুমায়েতি শব্দিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু চেতনেত্যভিধীয়তে। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু বুদ্ধিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু নিদ্রারূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষুধারূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু ছায়ারূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু শক্তিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু তৃষ্ণারূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু ক্ষান্তিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু জাতিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু লজ্জারূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু শান্তিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু শ্রদ্ধারূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু কান্তিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু লক্ষ্মীরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু বৃত্তিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু স্মৃতিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু দয়ারূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু তুষ্টিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ যা দেবী সর্বভূতেষু ভ্রান্তিরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥

সূত্র: শ্রীশ্রীচণ্ডী, পঞ্চম অধ্যায় — অপরাজিতা স্তুতি।

সব রূপের জন্যই গীত হয়।

শুনুন


ধূমাবতী

কে জানে কালী কেমন

রামপ্রসাদ সেন

গানের কথা

কে জানে গো কালী কেমন । ষড়দর্শনে না পায় দরশন ॥ কালী পদ্মবনে, হংস সনে, হংসীরূপে করে রমণ । তাঁকে সহস্রারে মূলাধারে, সদা যোগী করে মনন ॥ আত্মারামের আত্মা কালী, প্রমাণ প্রণবের মতন । তিনি ঘটে ঘটে বিরাজ করেন, ইচ্ছাময়ীর ইচ্ছা যেমন ॥ মায়ের উদর ব্রহ্মাণ্ড-ভাণ্ড, প্রকাণ্ড তা জানো কেমন । মহাকাল জেনেছেন কালীর মর্ম, অন্য কেবা জানে তেমন ॥ প্রসাদ ভাষে, লোকে হাসে, সন্তরণে সিন্ধুগমন । আমার প্রাণ বুঝেছে, মন বুঝে না, ধরবে শশী হয়ে বামন ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

ধূমাবতীর নিজস্ব বাংলা গান নেই; বৈরাগ্যের পদগুলিই তাঁর ভাবের কাছাকাছি।

শুনুন


মাতঙ্গী

শ্যামলা দণ্ডক

কালিদাস

গানের কথা

মুখড়া —

মাণিক্যবীণামুপলালয়ন্তীং মদালসাং মঞ্জুলবাগ্‌বিলাসাম্‌॥

গানের কথা পাওয়া যায়নি।

‘হাতে মাণিক্যের বীণা নিয়ে আদর করছেন, মদালসা, যাঁর কথা মধুর’ — শ্যামলার সবচেয়ে বিখ্যাত স্তুতি।

শুনুন


কমলা

লক্ষ্মীর পাঁচালী

বাংলা লোকসাহিত্য

গানের কথা

গানের কথা পাওয়া যায়নি।

কোজাগরী পূর্ণিমা ও প্রতি বৃহস্পতিবার পাঠ্য।

শুনুন

এসো মা লক্ষ্মী বসো ঘরে

প্রচলিত লক্ষ্মীবন্দনা

গানের কথা

মুখড়া —

এসো মা লক্ষ্মী বসো ঘরে। আমার এ ঘর আলো করে॥

গানের কথা পাওয়া যায়নি।

শুনুন


দুর্গা

গিরি, এবার আমার উমা এলে

রামপ্রসাদ সেন

গানের কথা

রাগ ও তাল: পিলুবাহার — যৎ

গিরি! এবার আমার উমা এলে, আর উমা পাঠাব না । বলে বলবে লোকে মন্দ, কারো কথা শুনব না ॥ যদি আসে মৃত্যুঞ্জয়, উমা নেবার কথা কয়, এবার, মায়ে ঝিয়ে করব ঝগড়া, জামাই বলে মানব না ॥ দ্বিজ রামপ্রসাদ কয়, এ দুঃখ কি প্রাণে সয় ; তিনি শ্মশানে মশানে ফিরে, ঘরের ভাবনা ভাবে না ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

আগমনী গানের সবচেয়ে বিখ্যাত পদ — মেনকা গিরিরাজকে বলছেন।

শুনুন

যাও যাও গিরি আনিতে গৌরী

শাক্তপদাবলী

গানের কথা

মুখড়া —

যাও যাও গিরি, আনিতে গৌরী। উমা নাকি বড় কেঁদেছে॥

গানের কথা পাওয়া যায়নি।

আগমনীর প্রধান পদগুলির একটি।

শুনুন

বাজলো তোমার আলোর বেণু

কথা: বাণীকুমার · সুর: পঙ্কজকুমার মল্লিক

গানের কথা

মুখড়া —

বাজলো তোমার আলোর বেণু, মাতলো রে ভুবন॥

গানের কথা পাওয়া যায়নি।

‘মহিষাসুরমর্দিনী’ বেতার অনুষ্ঠানের গান; মহালয়ার ভোরে বাঙালির ঘরে ঘরে বাজে।

শুনুন

জাগো তুমি জাগো

মহিষাসুরমর্দিনী বেতার অনুষ্ঠান

গানের কথা

মুখড়া —

জাগো দুর্গা, জাগো দশপ্রহরণধারিণী॥

গানের কথা পাওয়া যায়নি।

শুনুন


সমস্ত পদ — রামপ্রসাদ ও কমলাকান্ত

রামপ্রসাদ সেন

১৫৩টি পদ।

আমার অন্তরে আনন্দময়ী ।

রাগ ও তাল: জংলা — একতালা

আমার অন্তরে আনন্দময়ী । সদা করিতেছেন কেলি ॥ আমি যেভাবে সেভাবে থাকি, নামটি কভু নাহি ভুলি । আবার দু-আঁখি মুদিলে দেখি, অন্তরেতে মুণ্ডমালী ॥ বিষয়বুদ্ধি হইল হত, আমায় পাগল বোল বলে সকলই । আমায় যা বলে তা বলুক তারা, অন্তে যেন পাই পাগলি ॥ শ্রীরামপ্রসাদ বলে, মা বিরাজে শতদলে, আমি শরণ নিলাম চরণতলে, অন্তে না ফেলিয়ো ঠেলি ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

আমার এমন দিন কি হবে মা তারা

আমার এমন দিন কি হবে মা তারা যবে “তারা, তারা, তারা” বলে, নয়নতারা বেয়ে পড়বে ধারা। হৃদিপদ্মে উঠবে ফুটে আমার মনের আঁধার যাবে টুটে, তখন ধরাতলে পড়বো লুটে আমি তারা বলে হব সারা। ত্যাজিব সব ভেদাভেদ ঘুচে যাবে মনের খেদ, শত-শত সত্য বেদ তারা আমার নিরাকার। শ্রীরামপ্রসাদে রটে আমার মা বিরাজে সর্বঘটে, ওরে, আঁখি অন্ধ, দেখো রে মাকে সে যে তিমিরে তিমিরহরা।

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

আমি ওই খেদে খেদ করি ।

রাগ ও তাল: জংলা — একতালা

আমি ওই খেদে খেদ করি । ওই যে তুমি মা থাকিতে আমার, জাগা ঘরে হয় চুরি ॥ মনে করি তোমার নাম করি, আবার সময়ে পাশরি । আমি বুঝেছি পেয়েছি আশয়, জেনেছি তোমার চাতুরি ॥ কিছু দিলে না, পেলে না, নিলে না, খেলে না, সে দোষ কি আমারই । যদি দিতে পেতে, নিতে খেতে, দিতাম খাওয়াইতাম তোমারই ॥ যশ-অপযশ সুরস-কুরস সকল রস তোমারই । ওগো রসে থেকে রসভঙ্গ, কেন করো রাসেশ্বরী ॥ প্রসাদ বলে মন দিয়াছ, মনেরই আঁখঠারি । ও মা তোমার সৃষ্টি দৃষ্টিপোড়া মিষ্টি বলে ঘুরে মরি ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

আমি তাই অভিমান করি ।

আমি তাই অভিমান করি । আমায় করেছ গো মা সংসারী ॥ অর্থ বিনা ব্যর্থ যে এই সংসার সবারই । ওমা তুমিও কোন্দল করেছ, বলিয়ে শিব ভিকিরি জ্ঞানধর্ম শ্রেষ্ঠ বটে, দান ধর্মোপরি । বিনা ওমা দানে মথুরাপারে, যাননি সেই ব্রজেশ্বরী ॥ নাতোয়ানি কাচ কাচো মা, অঙ্গে ভস্মভূষণ পরি । ওমা কোথায় লুকাবে বলো, কুবের তোমার ভাণ্ডারী ॥ প্রসাদে প্রসাদ দিতে মা, এত কেন হলে ভারী যদি রাখ পদে, থেকে পদে, পদে পদে বিপদ সারি ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

আমি তাই কালোরূপ ভালোবাসি,

আমি তাই কালোরূপ ভালোবাসি, জগ-মন মজিলি এলোকেশী। শ্যামা মন মজিলি এলোকেশী, ভালোবাসি, আমি তাই কালোরূপ ভালোবাসি। তিনি দেবের দেব মহাদেব কালোরূপ তাঁর হৃদয়বাসী, কালোবরণ ব্রজে জীবন ব্রজাঙ্গনার মন উদাসী, ভালোবাসি। আমি তাই কালোরূপ ভালোবাসি। শোনেন বনমালী কৃষ্ণকালী বাঁশিতে যে করে অসি, প্রসাদ বলে অভেদ জ্ঞানে কালো রূপের মেশামিশি, ভালোবাসি। আমি তাই কালোরূপ ভালোবাসি।

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

এ সংসারে ডরি কারে

এ সংসারে ডরি কারে রাজা যার মা মহেশ্বরী, আনন্দে আনন্দময়ীর খাসতালুকে বসত ক’রি। নাই জরিপ জমা বন্দী তালুক হয় না লাটবন্দী, আমি ভেবে কিছু পাই নে সন্ধি শিব হয়েছেন কর্মত্যাগী। পাইক পেয়াদার নাই ঝামেলা লাঠিসোঁটার নাই হামেলা, খাঁড়া নিয়ে ঠায় খাড়া থেকে নিজেই করেন চৌকিদারি। নাই কো কিছু অন্য ল্যাঠা দিতে হয় না মাথটবাটা, জয় দুর্গা নামে জমা গাঁথা এটাই ক’রি মালিক যারই। বলে দ্বিজ রামপ্রসাদ আছে যে মনের সাধ, আমি ভক্তিজোরে কিনতে পারি ব্রহ্মময়ীর জমিদারি।

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

এই সংসার ধোঁকার টাটি ।

এই সংসার ধোঁকার টাটি । ও ভাই আনন্দবাজারে লুটি ॥ ওরে, ক্ষিতি জল বহ্নি বায়ু, শূন্যে পাঁচে পরিপাটি প্রথমে প্রকৃতি স্থূলা, অহংকারে লক্ষ কোটি । যেমন সরার জলে সূর্য-ছায়া, অভাবেতে স্বভাব যেটি ॥ গর্ভে যখন যোগী তখন, ভূমে পড়ে খেলেম মাটি ওরে ধাত্রীতে কেটেছে নাড়ি, মায়ার বেড়ি কীসে কাটি ॥ রমণী-বচনে সুধা, সুধা নয় সে বিষের বাটি । আগে, ইচ্ছা-সুখে পান করে, বিষের জ্বালায় ছটফটি ॥ আনন্দে রামপ্রসাদ বলে, আদি পুরুষের আদি মেয়েটি । ওমা যাহা ইচ্ছা তাহাই করো মা, তুমি গো পাষাণের বেটি ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

এবার আমি করব কৃষি ।

এবার আমি করব কৃষি । ওগো, এ ভবসংসারে আসি । তুমি কৃপাবিন্দু পাত করিয়ে, বসে দেখ রাজমহিষী দেহ-জমিন জঙ্গল বেশি, সাধ্য কী মা সকল চষি । (মা গো), যৎকিঞ্চিৎ আবাদ হইলে, আনন্দসাগরে ভাসি ॥ হৃদয়মধ্যেতে আছে, পাপরূপী তৃণরাশী । তুমি তীক্ষ্ণ কাটারিতে মুক্ত করো গো মা মুক্তকেশী কাম আদি ছয়টা বলদ, বহিতে পারে অহর্নিশি । আমি গুরুদত্ত বীজ বুনিয়ে, শস্য পাব রাশি রাশি ॥ প্রসাদ বলে চাষেবাসে, মিছে মন অভিলাষী । আমার মনের বাসনা তোমার, ও রাঙা চরণে মিশি ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

এবার আমি ভালো ভেবেছি

এবার আমি ভালো ভেবেছি এক ভাবীর কাছে ভাব শিখেছি । যে দেশেতে রজনি নাই, সেই দেশের এক লোক পেয়েছি ॥ আমার কীবা দিবা কীবা সন্ধ্যা, সন্ধ্যাকে বন্ধ্যা করেছি ॥ ঘুম ছুটেছে, আর কি ঘুমাই, যুগে যুগে জেগে আছি । এবার যার ঘুম তারে দিয়ে, ঘুমেরে ঘুম পাড়ায়েছি সোহাগা গন্ধক মিশায়ে, সোনাতে রং ধরায়েছি । মণি-মন্দির মেজে দিব, মনে এই আশা করেছি ॥ প্রসাদ বলে, ভক্তি মুক্তি উভয়কে মাথে ধরেছি । এবার শ্যামার নাম ব্রহ্ম জেনে, ধর্ম কর্ম সব ছেড়েছি ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

এবার কালী কুলাইব ।

এবার কালী কুলাইব । কালি কষে কালী বুঝে লব ॥ সে নৃত্যকালী কী অস্থিরা, কেমন করে তায় রাখিবো । আমার মনোযন্ত্রে বাদ্য করে, হৃদি-পদ্মে নাচাইব ॥ কালীপদের পদ্ধতি যা, মন তোরে তা জানাইব । আছে আর যে ছটা বড়ো ঠ্যাঁটা, সে কটাকে কেটে দিব ॥ কালী ভেবে কালি হয়ে, কালী বলে কাল কাটাইব । আমি কালাকালে কালের মুখে, কালি দিয়ে চলে যাব ॥ প্রসাদ বলে আর কেন মা, আর কত গো প্রকাশিব । আমার কিল খেয়ে কিল চুরি তবু কালী কালী না ছাড়িব ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

এবার বাজি ভোর হল

এবার বাজি ভোর হল মন কী খেলা খেলাবে বলো ॥ শতর ঞ্চ প্রধান পঞ্চ, পঞ্চে আমায় দাগা দিল । এবার বোড়ের ঘর করে ভর, মন্ত্রীটি বিপাকে মল ॥ দুটা অশ্ব দুটা গজ, ঘরে বসে কাল কাটাল, তারা চলতে পারে সকল ঘরে তবে কেন অচল হল ॥ দুখান তরি নিমক ভরি, বাদাম তুলি না চলিল ওরে এমন সুবাতাস পেয়ে, ঘাটের তরি ঘাটে রল ॥ শ্রীরামপ্রসাদ বলে, মোর কপালে এই কি ছিল? ওরে অতঃপরে কোণের ঘরে, পিলের কিস্তে মাত হইল ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

কাজ কি মা সামান্য ধনে

কাজ কি মা সামান্য ধনে আমার কাজ কি মা সামান্য ধনে, ও কে কাঁদছে গো তোর ধন-বিহনে কাজ কি মা সামান্য ধনে। সামান্য ধন দিবে তারা পড়ে র’বে ঘরের কোণে, যদি দাও মা আমায় অভয় চরণ রাখি হৃদি-পদ্মাসনে, কাজ কি মা সামান্য ধনে। গুরু আমায় কৃপা ক’রে মা যে ধন দিলে কানে-কানে, এমন গুরু-আরাধিত মন্ত্র ও মা তাও হারালাম সাধন-বিনে, কাজ কি মা সামান্য ধনে। প্রসাদ বলে কৃপা যদি মা হবে তোমার নিজ গুণে, আমি অন্তিমকালে জয় দুর্গা ব’লে স্থান পাই যেন ওই চরণে।

শুনুন

‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ চলচ্চিত্রের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

কালী গো কেন লেংটা ফের,

কালী গো কেন লেংটা ফের, ছি ছি, কিছু লজ্জা নাই তোমার! বসন ভূষণ নাই তোমার মা রাজার মেয়ে গৌরব করো, মাগো, এই কি তোমার কুলের ধর্ম পতির উপর চরণ ধরো। আপনি লেংটা, পতি লেংটা শ্মশানে-মশানে চরো, মাগো, আমরা সবে মরি লাজে এবার মেয়ে বসন পরো। ত্যজি রত্নহার মা তোমার ও কন্ঠে শোভে নরশির, প্রসাদ বলে, ঐ রূপে মা ভয় পেয়েছেন দিগম্বর।

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

চিন্তাময়ী তারা তুমি

চিন্তাময়ী তারা তুমি আমার চিন্তা করেছ কি, নামে জগৎ চিন্তা-হরা তুমি কিন্তু কাজে তেমন কই মা দেখি, চিন্তাময়ী তারা তুমি, মা। প্রভাতে দাও অর্থ-চিন্তা মধ্যাহ্নে দাও জঠর-চিন্তা, শয়নে দাও অলস চিন্তা বল মা তোমায় কখন ডাকি। নামে জগৎ চিন্তা-হরা তুমি কিন্তু কাজে তেমন কই মা দেখি, চিন্তাময়ী তারা তুমি, মা। দিয়েছ এক মায়া-চিন্তে সদাই করি তাই চিন্তে, না পারিলাম তোমায় চিন্তে চিন্তা- কূপে ডুবে থাকি। তুই গো পাষাণী মেয়ে, মা – পরম-চিন্তামণি পেয়ে, রহিলি পাষাণ হয়ে, রামপ্রসাদকে দিয়ে ফাঁকি। নামে জগৎ চিন্তা-হরা তুমি কিন্তু কাজে তেমন কই মা দেখি, চিন্তাময়ী তারা তুমি, মা।

শুনুন

পান্নালাল ভট্টাচার্যের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রানি রাসমণি’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

ডুব দে রে মন কালী ব’লে

ডুব দে রে মন কালী ব’লে হৃদি-রত্নাকরের অগাধ জলে, ডুব দে রে মন কালী ব’লে। রত্নাকর নয় শূন্য কখন দু-চার ডুবে ধন না পেলে, তুমি দম-সামর্থ্যে এক-ডুবে যাও কুলকুণ্ডলিনীর কূলে। জ্ঞানসমুদ্র মাঝে রে মন শক্তিরূপা মুক্তা ফলে, তুমি ভক্তি করে কুড়ায়ে পাবে শিব যুক্তি-মতন চাহিলে। কামাদি ছয় কুম্ভীর আছে আহার লোভে সদাই চলে, তুমি বিবেক-হলদি গায়ে মেখে নাও ছোঁবে না তার গন্ধ পেলে, রতন মানিক্য যত পড়ে আছে সেই জলে। রামপ্রসাদ বলে ঝম্প দিলে মিলবে রতন ফলে ফলে, ডুব দে রে মন কালী ব’লে।

শুনুন

‘রানি রাসমণি’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

তাই অভিমান করি আমি, করেছ মা সংসারী

তাই অভিমান করি আমি, করেছ মা সংসারী অর্থ বিনা ব্যর্থ যে এই সংসারে সবারি, মা, তুমিও কোন্দল করেছ, বলি, এ শিব ভিখারী। জ্ঞানধর্ম শ্রেষ্ঠ বটে, দানধর্ম তদ-উপরি, মা, বিনা দানে মথুরা পাবে, জানি নে সেই ব্রজেশ্বরী। প্রসাদে প্রসাদ দিতে মা, কেন এত হলে ভারী, যদি রাখো পদে, প্রতি পদে, পদে-পদে বিপদ সারি।

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

তারা-তরী লেগেছে ঘাটে

তারা-তরী লেগেছে ঘাটে যদি পারে যাবি মন আয় রে ছুটে, তারা নামে পাল খাটিয়ে ত্বরায় তরী চলো বেয়ে, যদি পারে যাবি দুখ মিটাবি মনের গেরো দাও রে কেটে। বাজারে বাজার করো মিছে কেন বেড়াও ছুটে, ভব-বেলা গেল সন্ধ্যা হলো কি করো আর বসে হাটে, শ্রীরামপ্রসাদ বলে মন বাঁধো রে এঁটে-সেঁটে, এবার আমি ছুটেছি যে ভবের মায়াবেড়ি কেটে।

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

তিলেক দাঁড়া ওরে শমন,

রাগ ও তাল: ললিতখাম্বাজ — একতালা

তিলেক দাঁড়া ওরে শমন, বদন ভরে মাকে ডাকি রে । আমার বিপদকালে ব্রহ্মময়ী, এসেন কি না এসেন দেখিরে ॥ লয়ে যাবি সঙ্গে করে, তার এত ভাবনা কীরে । তবে তারা-নামের কবচ-মালা, বৃথা আমি গলায় রাখি রে ॥ মহেশ্বরী আমার রাজা, আমি খাস তালুকের প্রজা, আমি কখনো নাতান, কখনো সাতান, কখনো বাকির দায়ে না ঠেকি রে ॥ প্রসাদ বলে মায়ের লীলা, অন্যে কি জানিতে পারে । যার ত্রিলোচন না পেল তত্ত্ব, আমি অন্ত পাবো কীরে ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

তুমি কার কথায় ভুলেছ রে মন

তুমি কার কথায় ভুলেছ রে মন ওরে আমার শোয়াপাখি, আমারই অন্তরে থেকে আমারে দিতেছ ফাঁকি। কালীনাম জপিবার তরে রেখেছি পিঞ্জরে পুরে, তুই আমাকে বঞ্চনা ক’রে ঐহিক সুখে হ’লি সুখী। শিব-দুর্গা-কালীনাম জপ করো অবিরাম, তোর জুড়াবে তাপিত অঙ্গ একবার শ্যামা নাম বল না দেখি। এমনি মায়ের নামের জোর কাটে বিপদ মহাঘোর, তুই চুপটি ক’রে থাক না ব’সে পাদপদ্মে মন রাখি।

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

দুটো কথার কথা আমি কই,

দুটো কথার কথা আমি কই, কে বলে তোরে ওগো দীন-দয়াময়ী। মাগো, কারে দিলি চিনি-মণ্ডা খেতে খাসা দই, আমি অন্নবিনে উপবাসী দিলি দুদিন রই। কারে দিলি হাতি-ঘোড়া পাল্কী বাঁধা ছই, তারা কি তোর বাপের ঠাকুর আমি কি কেউ নই। প্রসাদ বলে, সময় বুঝে আমি এসব কথা কই, আমি কি দিয়েছি তোরে পাকা ধানে মই।

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

দেখি মা কেমন করে

দেখি মা কেমন করে আমারে ছাড়ায়ে যাবা, ছেলের হাতে কলা নয় মা, ফাঁকি দিয়ে কেড়ে খাবা! এমন ছাপান ছাপাইব মাগো খোজে খোজে নাহি পাবা। বৎস পাশে গাভী যেমন তেমনি পাছে পাছে ধাবা। প্রসাদ বলে ফাঁকিজুঁকি মাগো দিতে পার পেলে হাবা। আমায় যদি না তরাও মা শিব হবে তোমার বাবা!

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

পুরলো নাকো মনের আশা ।

পুরলো নাকো মনের আশা । আমার মনের দুঃখ রইল মনে ॥ দুঃখে দুঃখে কাল কাটালেম, সুখের আর কীবে ভরসা । আমি বলবো কী করুণাময়ী, সঙ্গে ছয়টা কর্মনাশা ॥ শ্রীরামপ্রসাদ বলে মা, ভেবে ভেবে পাইনে দিশা । আমি অভয়পদে শরণ নিয়ে, ঘটল আমার উলটা দশা ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

বসন পরো মা,

বসন পরো মা, বসন পরো মা বসন পরো, পরো মাগো বসন পরো মা। চন্দনে চর্চিত জবা, পদে দিব আমি গো। বসন পরো মা পরো, বসন পরো মা বসন পরো, পরো মাগো বসন পরো মা। কালীঘাটে কালী তুমি কৈলাসে ভবানী, বৃন্দাবনে রাধাপেয়ারী গোকুলে গোপিনী, পাতালেতে ছিলে মাগো হয়ে ভদ্রকালী, কত দেবতা করেছে পূজা দিয়ে নরবলি গো। বসন পরো মা পরো, বসন পরো মা। অসিতে রুধির-ধারা গলে মুণ্ড-মালা, ভেদমুখে চেয়ে দেখো পদতলে ভোলা, মাথায় সোনার মুকুট ঠেকিছে গগনে, মা হয়ে বালকের কাছে উলঙ্গ কেমনে, বসন পরো মা পরো, বসন পরো মা বসন পরো, পরো মাগো বসন পরো মা। তুমি পাগল পতি পাগল মাগো আরো আছে পাগল, প্রসাদ হয়েছে পাগল চরণ পাবার আসে গো। বসন পরো মা পরো, বসন পরো মা বসন পরো, পরো মাগো বসন পরো মা।

শুনুন

পান্নালাল ভট্টাচার্যের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

বল মা তারা দাঁড়াই কোথা

বল মা তারা দাঁড়াই কোথা আমার কেহ নাই শঙ্করী হেথা, বল মা আমি দাঁড়াই কোথা। মা’র সোহাগে বাপের আদর এ দৃষ্টান্ত যথা-তথা, যে বাপ বিমাতাকে ধরে এমন বাপের ভরসা বৃথা। তুমি না করিলে কৃপা যাব কি বিমাতা যথা, যদি বিমাতা আমায় করেন কোলে দেখা নাই আর হেথা সেথা। প্রসাদ বলে, এই কথা মা বেদাগমে আছে গাথা, ও মা যেজন তোমার নাম করে তার হাড়মালা আর ঝুলি-কাঁথা।

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

বড়াই করো কিসে গো মা,

বড়াই করো কিসে গো মা, জানি তোমার আদি-মূল, বড়াই করো কিসে। আপনি ক্ষ্যাপা, পতি ক্ষ্যাপা থাকো ক্ষ্যাপা-সহবাসে, তোমার আদি-মূল সকলই জানি দাতা তুমি কোন পুরুষে। মাগি-মিনসে ঝগড়া করে রইতে নারো আপন দেশে, মাগো, তোমার ভাতার ভিক্ষা ক’রে ফিরে কেন দেশে দেশে। প্রসাদ বলে মন্দ বলি কেবল তোমার বাপের দোষে, মাগো, আমার বাপের নাম লইলে বিরাজ করে কৈলাসে।

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

ভবে আসা, খেলব পাশা

ভবে আসা, খেলব পাশা বড়ই আশা মনে ছিল, মিছে আশা, ভাঙ্গা দশা প্রথমে পঞ্জুড়ি প’লো। পোবার আঠার ষোল যুগে যুগে এলান ভাল, শেষে কচেবারো পেয়ে মাগো পাঞ্জা ছক্কায় বদ্ধ রইলো। ছ দুই আট, ছ চার দশ কেহ নয় মা আমার বশ, আমার খেলাতে না হলো যশ এবার বাজী ভোর হইল। হদ্দ হলো চৌদ্দপোয়া বদ্ধ পথে যায় না যাওয়া, রামপ্রসাদের বুদ্ধিদোষে পেকেও ফিরে কেঁচে এলো।

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মন করো না দ্বেষাদ্বেষী

মন করো না দ্বেষাদ্বেষী যদি হবি রে তুই বৈকুন্ঠবাসী। শিবরূপে ধরো শিঙা কৃষ্ণরূপে বাজাও বাঁশি, ওমা রামরূপে ধরো ধনু কালীরূপে ধরো অসি। প্রসাদ বলে ব্রহ্ম নিরূপণ এমন কথা দেঁতোর হাসি, আমার ব্রহ্মময়ী সর্বঘটে পদে গঙ্গা-গোয়া-কাশী।

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

মন তোমার এই ভ্রম

মন তোমার এই ভ্রম গেল না । কালী কেমন তাই চেয়ে দেখলে না । ওরে ত্রিভুবন যে মায়ের মূর্তি, জেনেও কি তাই জানো না ॥ জগৎকে সাজাচ্ছেন যে মা, দিয়ে কত রত্নসোনা । ওরে কোন লাজে সাজাতে চাস তাঁয়, দিয়ে ছার ডাকের গহনা ॥ জগৎকে খাওয়াচ্ছেন যে মা, সুমধুর খাদ্য নানা ওরে কোন লাজে খাওয়াতে চাস তাঁয়, আলো চাল আর বুট ভিজানা ॥ জগৎকে পালিছেন যে মা, সাদরে তাই কি জানো না । ওরে কেমনে দিতে চাস বলি, মেষ মহিষ আর ছাগলছানা ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

মন তোর এত ভাবনা কেনে ।

মন তোর এত ভাবনা কেনে । একবার কালী বলে বলে বসোরে ধ্যানে ॥ জাঁকজমকে করলে পূজা, অহংকার হয় মনে মনে । তুমি লুকিয়ে তাঁরে করবে পূজা, জানবে না রে জগজ্জনে ॥ ধাতু পাষাণ মাটির মূর্তি, কাজ কী রে তোর সে গঠনে । তুমি মনোময় প্রতিমা করি, বসাও হৃদি-পদ্মাসনে ॥ আলো চাল আর পাকা কলা, কাজ কী রে তোর আয়োজনে । তুমি ভক্তিসুধা খাইয়ে তাঁরে, তৃপ্তি করো আপন মনে ॥ ঝাড়-লন্ঠন বাতির আলো, কাজ কী রে তোর সে রোশনায়ে, তুমি মনোময় মানিক্য জ্বেলে দেও না জ্বলুক নিশি দিনে ॥ মেষ ছাগল মহিষাদি, কাজ কী রে তোর বলিদানে । তুমি জয় কালী জয় কালী বলে, বলি দেও ষড় রিপুগণে ॥ প্রসাদ বলে ঢাক ঢোল, কাজ কী রে তোর সে বাজনে । তুমি জয় কালী বলি দেও করতালি, মন রাখো সেই শ্রীচরণে ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মন বলি ভজ কালী

মন বলি ভজ কালী ইচ্ছা হয় তোর যে আচারে, মুখে গুরুদত্ত মহামন্ত্র দিবানিশি জপ করে। শয়নে প্রণাম জ্ঞান নিদ্রায় করো মাকে ধ্যান, নগর ফেরো মনে করো প্রদক্ষিণ শ্যামা মারে। চর্ব্য-চোষ্য-লেহ্য-পেয় যত রস এ সংসারে, আহার করো মনে করো আহুতি দিই শ্যামা মারে। যত শোন কর্ণপুটে সবই মায়ের মন্ত্র বটে, কালী পঞ্চাশৎ বর্ণময়ী বর্ণে-বর্ণে নাম ধরে। আনন্দে রামপ্রসাদ রটে মা বিরাজেন সর্বঘটে, ঘটে-ঘটে যত রূপ মা আমার সে রূপ ধরে।

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মন রে আমার ভোলা মামা ।

মন রে আমার ভোলা মামা । ও তুই জানিস না রে খরচ জমা ॥ যখন ভবে জমা হলি, তখন হইতে খরচ গেলি । ওরে, জমা খরচ ঠিক করিয়ে, বাদ দিয়ে তিন শূন্য নামা ॥ বাদে হইলে অঙ্ক বাকি, তবে হবে তহবিল বাকি । তহবিল বাকি বড়ো ফাঁকি, হবে না তোর লেখার সীমা ॥ দ্বিজ রামপ্রসাদ বলে, কীসের খরচ কাহার জমা । ওরে অন্তরেতে ভাবো বসি, কালী তারা উমা শ্যামা ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

মন রে কৃষিকাজ জানো না

মন রে কৃষিকাজ জানো না এমন মানব জমিন রইল পতিত, আবাদ করলে ফলত সোনা। কালী নামে দাও রে বেড়া ফসলে তছরুপ হবে না, সে যে মুক্তকেশী শক্ত বেড়া তার কাছেতে যম ঘেঁষে না। অদ্য কিংবা শতাব্দান্তে, বাজেয়াপ্ত হবে জানো না, এখন আপন একতারে মন রে চুটিয়ে ফসল কেটে নে না। গুরুদত্ত বীজ রোপন ক’রে ভক্তিবারি সেঁচে দে না, একা যদি না পারিস, মন রামপ্রসাদকে সঙ্গে নে না।

শুনুন

পান্নালাল ভট্টাচার্যের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

মনরে তোর চরণ ধরি ।

মনরে তোর চরণ ধরি । কালী বলে ডাকোরে, ওরে ও মন, তিনি ভবপারের তরি । কালী নামটা বড়ো মিঠা, বলোরে দিবা শর্বরী । ওরে, যদি কালী করেন কৃপা, তবে কি শমনে ডরি দ্বিজ রামপ্রসাদ বলে, কালী বলে যাব তরি । তিনি তনয় বলে দয়া করে, তরাবেন এ ভববারি ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মা আমার অন্তরে আছ ।

মা আমার অন্তরে আছ । তোমায় কে বলে অন্তরে শ্যামা ॥ তুমি পাষাণমেয়ে বিষম মায়া, কত কাচ কাচাও মা কাচ ॥ উপাসনাভেদে তুমি, প্রধান মূর্তি ধর পাঁচ । যে জন পাঁচেরে এক করে ভাবে, তার হাতে মা কোথা বাঁচো ॥ বুঝে ভার দেয় না যেজন, তার ভার নিতে হাঁচ । যে জন কাঞ্চনের মূল্য জানে, সে কি ভুলে পেয়ে কাচ ॥ প্রসাদ বলে আমার হৃদয়, অমল কমলসাঁচ । তুমি সেই সাঁচে নির্মিতা হয়ে, মনোময়ী হয়ে নাচো ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মা গো তারা ও শঙ্করী,

মা গো তারা ও শঙ্করী, তুমি কোন অবিচারে, আমার উপর করলে দুঃখের ডিক্রি জারি। একা স্বামী ছটা পেয়াদা বল মা কিসে সামাই করি, আমার ইচ্ছা করে ওই ছটারে গরল খাইয়ে প্রাণে মারি। মা গো তারা ও শঙ্করী। কলাইতে স্থান নাই মা বল মা কি বা উপায় করি, ছিল স্থানের মধ্যে অভয় চরণ তাও নিয়েছেন ত্রিপুরারী। মা গো তারা ও শঙ্করী। পেয়াদার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তার নামেতে নিলাম জারি, রামপ্রসাদেরে দায় ঠেকায়ে বসে আছো রাজকুমারী। মা গো তারা ও শঙ্করী।

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মা বিরাজে ঘরে ঘরে ।

মা বিরাজে ঘরে ঘরে । এ কথা ভাঙিব কি হাঁড়ি চাতরে ॥ ভৈরবী ভৈরব সঙ্গে, শিশু সঙ্গে কুমারী রে । যেমন অনুজ লক্ষণ সঙ্গে জানকী তার সমিভ্যারে ॥ জননি, তনয়া, জায়া, সহোদরা, কী অপরে, রামপ্রসাদ বলে, বলব কী আর, বুঝে লও গে ঠারেঠোরে ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মা বলে ডাকিস না রে মন,

মা বলে ডাকিস না রে মন, মাকে কোথা পাবে হে ভাই । থাকলে এসে দিত দেখা, সর্বনাশী বেঁচে নাই ॥ গিয়ে বিমাতার তীরে, কুশপুত্তল দাহন করে, ওরে অশৌচান্ত পিণ্ড দিয়ে, কালাশৌচে কাশী যাই ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মা, মা ব’লে আর ডাকব না

মা, মা ব’লে আর ডাকব না ও মা দিয়েছ দিতেছ কতই যন্ত্রণা, মা, মা বলে আর ডাকব না। ছিলেম গৃহবাসী করিলে সন্ন্যাসী আর কি ক্ষমতা রাখ এলোকেশী, ঘরে-ঘরে যাব ভিক্ষা মেগে খাব মা, মা বলে আর ডাকব না। ডাকি বারে বারে মা মা বলিয়ে মা কি রয়েছ চক্ষু কর্ণ খেয়ে, মা বিদ্যমানে এ দুঃখ সন্তানের মা ম’লে কি আর ছেলে বাঁচে না, মা, মা বলে আর ডাকব না। ভণে রামপ্রসাদ মায়ের এ কী সূত্র মা হয়ে হলি মা সন্তানের শত্রূ, আমি দিবানিশি ভাবি, আর কী করিবি দিবি দিবি পুনঃ কঠোর যন্ত্রণা, মা, মা বলে আর ডাকব না।

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মা হওয়া কি মুখের কথা ।

মা হওয়া কি মুখের কথা । (কেবল প্রসব করে হয়না মাতা!) যদি না বুঝে সন্তানের ব্যথা ॥ দশ মাস দশ দিন, যাতনা পেয়েছেন মাতা । এখন ক্ষুধার বেলা সুধালে না, এল পুত্র গেল কোথা ॥ সন্তানে কুকর্ম করে, বলে সারে পিতামাতা । দেখে কাল প্রচণ্ড করে দণ্ড, তাতে তোমার হয় না ব্যাথা ॥ দ্বিজ রামপ্রসাদ বলে, এ চরিত্র শিখলে কোথা । যদি ধর আপন পিতৃধারা, নাম ধোরো না জগন্মাতা ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মায়ার এ পরম কৌতুক ।

রাগ ও তাল: জংলা — একতালা

মায়ার এ পরম কৌতুক । মায়াবদ্ধ জনে ধাবতি, আবদ্ধ জনে লুটে সুখ ॥ আমি এই আমার এই, এ ভাব ভাবে মূর্খ সেই, মনরে ওরে, মিছে মিছে সার ভেবে, সাহসে বাঁধিছ বুক ॥ আমি কেবা আমার কেবা, আমি ভিন্ন আছে কেবা ; মনরে ওরে, কে করে কাহার সেবা, মিছা ভাব দুখ সুখ । দীপ জ্বেলে আঁধার ঘরে, দ্রব্য যদি পায় করে ; মনরে ওরে, তখনই নির্বাণ করে, না রাখে রে একটুক ॥ প্রাজ্ঞ অট্টালিকায় থাক, আপনি আপন দেখ । রামপ্রসাদ বলে মশারি তুলিয়া দেখো রে মুখ ॥

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

মায়ের এমনি বিচার বটে ।

মায়ের এমনি বিচার বটে । যে জন দিবানিশি দুর্গা বলে, তারই কপালে বিপদ ঘটে ॥ হুজুরেতে আরজি দিয়ে মা, দাঁড়াইয়ে আছি করপুটে । কবে আদালত শুনানি হবে মা, নিস্তার পাব এ সংকটে ॥ সওয়াল জবাব করবো কী মা, বুদ্ধি নাইকো আমার ঘটে । ওমা ভরসা কেবল শিববাক্য, ঐক্য বেদাগমে রটে ॥ প্রসাদ বলে শমন-ভয়ে মা, ইচ্ছে হয় যে পালাই ছুটে । যেন অন্তিমকালে দুর্গা বলে, প্রাণ ত্যজি জাহ্ণবীর তটে ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মুক্ত কর মা –

মুক্ত কর মা – মুক্ত কর মা মুক্তকেশী ভবে যন্ত্রণা পাই দিবানিশি, মুক্ত কর মা মুক্তকেশী। কালের হাতে সোঁপে দিয়ে মা ভুলেছ কি রাজমহিষী, তারা, কতদিনে কাটবে আমার এ দুরন্ত কালের ফাঁসি, মুক্ত কর মা মুক্তকেশী। প্রসাদ বলে কি ফল হবে হই যদি গো কাশীবাসী, ওই যে বিমাতে মাথায় ধরে, মা – পিত হলেন শ্মশানবাসী, মুক্ত কর মা।

শুনুন

ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের কণ্ঠে (‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ চলচ্চিত্র, ১৯৫৬) — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

সদা শিব শবে আরোহিণী কামিনী

সদা শিব শবে আরোহিণী কামিনী শোভিত শোণিতধারা মেঘে সৌদামিনী। এ কি দেখি অসম্ভব আসন করেছে শব, মূর্তিমতী মনোভব এ ভব ভামিনী। রবি-শশী বহ্নি-আঁখি ভারে শশী শশীমুখী, পদনখে শশীরাশি যেন গজগামিনী। শ্রীরামপ্রসাদ ভণে কাদম্বিনী রূপ মনে, ভাব রে ভকতজনে দিবস রজনী।

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

সুরাপান করি নে আমি

সুরাপান করি নে আমি সুধা খাই “জয় কালী” বলে, মন-মাতালে মাতাল করে মদ-মাতালে মাতাল বলে। গুরুদত্ত গুড় লয়ে, মা, প্রবৃত্তি মশালা দিলে, জ্ঞান-সুঁড়িতে চুবায়ে ভাটি পান করে মোর মন-মাতালে। মূলমন্ত্র যন্ত্র ভরা, মা, শোধন ক’রি ব’লে “তারা”, রামপ্রসাদ বলে এমন সুরা খেলে চতুর্বর্গ মেলে। হব মা তোর কোলের ছেলে

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

হৃদকমল মঞ্চে দোলে

হৃদকমল মঞ্চে দোলে করালবদনী শ্যামা, আমার মনকমলে দুলাইছে দিবস-রজনী, ও মা। ইড়া-পিঙ্গলানামা সুষুম্না মনোরমা, তারই মধ্যে গাঁথা শ্যামা ব্রহ্ম সনাতনী। আবির রুধির তাই কি শোভা হয়েছে গায়, কাম-আদি মোহ যায় হেরিলে অমনি ও মা। যে দেখেছে মায়ের দোল সে পেয়েছে মায়ের কোল, রামপ্রসাদের এই বোল ঢোল-মারা বাণী।

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

ভাবো না কালী,

ভাবো না কালী, ভাবনা কীবা । ওরে মোহময়ী রাত্রি গতা, সম্প্রতি প্রকাশে দিবা অরুণ-উদয়কাল, ঘুচিল তিমিরজাল । ওরে কমলে কমল ভাল, প্রকাশ করেছে শিবা ॥ বেদে দিলে চক্ষে ধুলা, ষড়দর্শনের সেই অন্ধগুলা ওরে না চিনিল জ্যেষ্ঠা মূলা, খেলাধুলা কে ভাঙিবা ॥ যেখানে আনন্দহাট, গুরু শিষ্য নাস্তি পাঠ । ওরে যার নেটো তার নাট, তত্ত্বে তত্ত্ব কে পাইবা ॥ যে রসিক ভক্তশূর, সে প্রবেশে সেই পুর, রামপ্রসাদ বলে ভাঙল ভুর, আগুন বেঁধে কে রাখিবা ॥

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

মন জান না কী ঘটবে ল্যাঠা ।

মন জান না কী ঘটবে ল্যাঠা । যখন উর্ধ্ব বায়ু রুদ্ধ করে, পথে তোমার দিবে কাঁটা ॥ আমি দিন থাকিতে উপায় বলি, দিনের সুদিন যেটা । ওরে শ্যামা মায়ের শ্রীচরণে, মনে মনে হও রে আঁটা ॥ পিঞ্জরে পুষেছ পাখি, আটক করবে কেটা । ওরে জান না যে তার ভিতরে, দুয়ার রয়েছে নটা ॥ পেয়েছ কুসঙ্গী সঙ্গী, ধিঙ্গি ধিঙ্গি ছটা । তারা যা বলিছে, তাই করিছ, এমনই বুকের পাটা ॥ প্রসাদ বলে মন জান তো, মনে মনে যেটা । আমি চাতরে কি ভেঙে হাঁড়ি, বুঝাইবো সেটা ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মন রে ভালোবাসো তাঁরে ।

মন রে ভালোবাসো তাঁরে । যে ভবসিন্ধু পারে তারে । এই করো ধার্য কীবা কার্য অসার পসারে ॥ ধনে জনে আশা বৃথা, বিস্মৃত সে পূর্বকথা, তুমি ছিলে কোথা, এলে কোথা, যাবে কোথাকারে ॥ সংসার কেবল কাজ, কুহকে নাচায় নাচ, মায়াবিনী কোলে আছ পড়ে কারাগারে ॥ অহংকার দ্বেষ রাগ, অনুকূলে অনুরাগ, দেহরাজ্য দিলে ভাগ, বলো কী বিচারে ॥ যা করেছ চারা কীবা, প্রায় অবসান দিবা, মণিদ্বীপে ভাবো শিবা, সদা শিবাগারে ॥ প্রসাদ বলে দুর্গানাম, সুধাময় মোক্ষধাম, জপ করো অবিরাম, শুধাও রসনারে ॥

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

শমন আসার পথ ঘুচেছে ।

শমন আসার পথ ঘুচেছে । আমার মনের সন্ধ দূরে গেছে ॥ ওরে আমার ঘরের নবদ্বারে, চারি শিব চৌকি রয়েছে ॥ এক খুঁটিতে ঘর রয়েছে, তিন রজ্জুতে বাঁধা আছে সহস্র-দল-কমলে শ্রীনাথ, অভয় দিয়ে বসে আছে ॥ দ্বারে আছে শক্তি বাঁধা, চৌকিদারি ভার লয়েছে । সে শক্তির জোরে চেতন করে, তাইতে প্রাণ নির্ভয়ে আছে । মূলাধারে স্বাধিষ্ঠানে, কণ্ঠমূলে ভুরুমাঝে । এ চারিস্থানে চারি শিব, নবদ্বারে চৌকি আছে রামপ্রসাদ বলে এই ঘরে, চন্দ্র সূর্য উদয় আছে । ওরে তমো নাশ করি তারা, হৃদমন্দিরে বিরাজিছে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

কাজ কী মা সামান্য ধনে ।

কাজ কী মা সামান্য ধনে । ও কে কাঁদছে গো তোর ধন বিহনে ॥ সামান্য ধন দিবে তারা, পড়ে রবে ঘরের কোণে । যদি দেও মা আমায় অভয়চরণ, রাখি হৃদি-পদ্মাসনে ॥ গুরু আমায় কৃপা করে মা, যে ধন দিলে কানে কানে । এমন গুরু-আরাধিত মন্ত্র, তাও হারালেম সাধন বিনে ॥ প্রসাদ বলে কৃপা যদি মা, হবে তোমার নিজগুণে! আমি অন্তিম কালে জয় দুর্গা বলে, স্থান পাই যেন ওই চরণে ॥

শুনুন

‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ চলচ্চিত্রের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

দীন দয়াময়ী কী হবে শিবে ।

দীন দয়াময়ী কী হবে শিবে । বড়ো নিশ্চিন্তে রয়েছ, তোমার পতিত তনয় ডুবলো ভবে ॥ এঘাটে তরণি নাইকো, কীসে পার হবো মা ভবে, মা তোর দুর্গা নামে কলঙ্ক রবে মা, নইলে খালাস করো তবে ॥ ডাকি পুনঃপুন শুনিয়া না শুনো, পিতৃধর্ম রাখলে ভবে । অতি প্রাতঃকালে জয়দুর্গা বলে, স্মরণ নিবার কাজ কী তবে ॥ শ্রীরামপ্রসাদ বলে মা, মোর ক্ষতি কিছু না হবে । মা তোর কাশী মোক্ষধাম, অন্নপূর্ণা নাম, জগজ্জনে নাম নাহি লবে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

গেল দিন মিছে রঙ্গরসে ।

গেল দিন মিছে রঙ্গরসে । আমি কাজ হারালেম কালের বশে ॥ যখন ধন উপার্জন করেছিলাম দেশবিদেশে । তখন ভাই বন্ধু দারা সুত, সবাই ছিল আমার বশে ॥ এখন ধন উপার্জন, না হইল দশার শেষে । সেই ভাই বন্ধু দারা সুত, নির্ধন বলে সবাই রোষে ॥ যমদূত আসি শিয়রেতে বসি, ধরবে যখন অগ্রকেশে । তখন সাজায়ে মাচা, কলসি কাচা, বিদায় দিবে দণ্ডিবেশে ॥ হরি হরি বলি, শ্মশানে ফেলি, যে যার যাবে আপন বাসে । রামপ্রসাদ মল, কান্না গেল, অন্ন খাবে অনায়াসে ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

এসংসারে ডরি কারে,

রাগ ও তাল: জয়জয়ন্তী — যৎ

এসংসারে ডরি কারে, রাজা যার মা মহেশ্বরী । আনন্দে আনন্দময়ীর, খাস তালুকে বসত করি ॥ নাইকো জরিপ জমাবন্দি, তালুক হয় না লাটে বন্দী মা । আমি ভেবে কিছু পাইনে সন্ধি, শিব হয়েছেন কর্মচারী । নাইকো কিছু অন্য ল্যাঠা, দিতে হয়না মাথট বাটা মা, জয়দুর্গার নামে জমা আঁটা, ওইটা করি মালগুজারি । বলে দ্বিজ রামপ্রসাদ, আছে এ মনের সাধ মা, আমি ভক্তির জোরে কিনতে পারি ব্রহ্মময়ীর জমিদারি ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

খাম্বাজ - আদ্ধা

খাম্বাজ - আদ্ধা কালী তারার নাম জপো মুখে রে, যে নামে শমনভয় যাবে দূরে রে । যে নামেতে শিব সন্ন্যাসী হইল শ্মশানবাসী, ব্রহ্মা আদি দেব যাঁরে, নাহি পায় ভাবিয়া রে ॥ ডুবুডুবু হইল ভরা, লোকে বলে ডুবে রে ; তবু ভুলাইতে পার যদি, ভোলানাথের মন রে । আমি অতি মূঢ়মতি, না জানি ভকতি স্তুতি, দ্বিজ রামপ্রসাদের নতি, চরণতলে রেখো রে ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

তাই কালোরূপ ভালোবাসি ।

তাই কালোরূপ ভালোবাসি । জগমন্মোহিণী মা এলোকেশী ॥ কালোর গুণ ভালো জানে, শুক শম্ভু দেব ঋষি । যিনি দেবের দেব মহাদেব, কালোরূপ তাঁর হৃদয়বাসী ॥ কালো বরন ব্রজের জীবন, ব্রজাঙ্গনার মন-উদাসী হলেন বনমালী কৃষ্ণকালী, বাঁশি ত্যজে করে অসি ॥ যতগুলি সঙ্গী মায়ের, তারা সকল এক বয়সি ওই যে তার মধ্যে কেলে মা মোর, বিরাজে পূর্ণিমার শশী ॥ প্রসাদ ভণে অভেদ জ্ঞানে, কালোরূপে মেশামেশি ওরে একে পাঁচ পাঁচেই এক, মন কোরো না দ্বেষাদ্বেষি ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

এবার ভালো ভাব পেয়েছি ।

এবার ভালো ভাব পেয়েছি । কালীর অভয়পদে প্রাণ সঁপেছি । ভবের কাছে পেয়ে ভাব, ভাবীকে ভালো ভুলায়েছি । তাই রাগ দ্বেষ লোভ ত্যজে, সত্ত্বগুণে মন দিয়েছি ॥ তারা নাম সারাৎসার, আত্মশিক্ষায় বাঁধিয়াছি । সদা দুর্গা দুর্গা দুর্গা বলে, দুর্গা নামের কাছ করেছি ॥ প্রসাদ ভাবে যেতে হবে, একথা নিশ্চিত জেনেছি লয়ে কালীর নাম পথের সম্বল, যাত্রা করে বসে আছি ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

সাধের ঘুমে ঘুম

সাধের ঘুমে ঘুম ভাঙে না । ভালো পেয়েছ ভবে কাল-বিছানা ॥ এই যে সুখের নিশি, জেনেছো কি ভোর হবে না তোমার কোলেতে কামনা-কান্তা, তারে ছেড়ে পাশ ফের না ॥ আশার চাদর দিয়াছ গায়, মুখ ঢেকে তাই মুখ খুল না । আছ শীত গ্রীষ্ম সমান ভাবে, রজক ঘরে তায় কাচাও না ॥ খেয়েছ বিষয়-মদ, সে মদের কি ঘোর ঘোচেনা আছ দিবানিশি মাতাল হয়ে, ভ্রমেও কালী বল না ॥ অতি মূঢ় প্রসাদ রে তুই, ঘুমায়ে আশা পুরে না তোর ঘুমে মহা ঘুম আসিবে, ডাকিলে আর চেতন পাবেনা ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

তুমি বাজিকরের মেয়ে শ্যামা,

তুমি বাজিকরের মেয়ে শ্যামা, যেমনি নাচাও তেমনি নাচে ॥ তুমি কর্ম, তুমি ধর্মাধর্ম, মর্মকথা বুঝা গেছে । ওমা, তুমি ক্ষিতি, তুমি জল, ফল ফলাচ্ছ ফলা গাছে ॥ তুমি শক্তি, তুমি ভক্তি, তুমিই মুক্তি শিব বলেছে । ওমা, তুমি দুঃখ, তুমিই সুখ, চণ্ডীতে তা লেখা আছে ॥ প্রসাদ বলে, কর্মসূত্র, সে সুতার কাটনা কেটেছে । ওমা, মায়াসূত্রে বেঁধে জীব, খ্যাপাখ্যাপি খেল খেলিছে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মা আমার খেলান হল ।

মা আমার খেলান হল । খেলা হল গো আনন্দময়ী । ভবে এলাম করতে খেলা, করিলাম ধুলাখেলা । এখন কাল পেয়ে পাষাণের বালা, কাল যে নিকটে এলো ॥ বাল্যকালে কত খেলা, মিছে খেলায় দিন গোঁয়াল । পরে জায়ার সঙ্গে লীলাখেলায়, অজপা ফুরায়ে গেল ॥ প্রসাদ বলে বৃদ্ধকালে, অশক্তি কী করি বলো । ওমা শক্তিরূপা ভক্তি দিয়া, মুক্তিজলে টেনে ফেলো ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

সামাল ভবে ডুবে তরি ।

সামাল ভবে ডুবে তরি । তরি ডুবে যায় জনমের মতো ॥ জীর্ণ তরি, তুফান ভারী, বাইতে নারি ভয়ে মরি ওই যে দেহের মধ্যে ছয়টা রিপু, এবার এরাই কচ্ছে দাগাদারি ॥ এনেছিলে, বসে খেলে মন, মহাজনের মূল খোয়ালি । যখন হিসাব করে দিতে হবে মন, তখন তহবিল হবে হারি ॥ দীন রামপ্রসাদ বলে মন, নীরে বুঝি ডুবায় তরি তুমি পরের ঘরের হিসাব কর, আপন ঘরে যায় যে চুরি ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

ওমা তোর মায়া কে

ওমা তোর মায়া কে বুঝতে পারে । তুমি খ্যাপা মেয়ে, মায়া দিয়ে, রেখেছ সব পাগল করে । মায়াভরে, এ সংসারে, কেহ কারে চিনতে নারে ওই যে এমনি কালীর কাপ আছে যে, যেমনি দেখে তেমনি করে ॥ পাগল মেয়ের কী মন্ত্রণা, কে তার ঠিক ঠিকানা করে । রামপ্রসাদ বলে, যায় গো জ্বালা, যদি অনুগ্রহ করে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মন যদি মোর ঔষধ খাবা ।

মন যদি মোর ঔষধ খাবা । আছে শ্রীনাথদত্ত, পটল সত্ত্ব, মধ্যে মধ্যে ওইটি চাবা ॥ সৌভাগ্য করো রে দূরে, মৃত্যুঞ্জয়ের করো সেবা । রামপ্রসাদ বলে তবেই সে মন, ভবরোগে মুক্ত হবা ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

সে কি এমনি মেয়ের মেয়ে ।

রাগ ও তাল: জংলা — একতালা

সে কি এমনি মেয়ের মেয়ে । যার নাম জপিয়া মহেশ বাঁচেন হলাহল খেয়ে ॥ সৃষ্টিস্ থিতি প্রলয় করে, কটাক্ষে হেরিয়ে, সে যে অনন্ত ব্রহ্মাণ্ড রাখে, উদরে পুরিয়ে ॥ যে চরণে শরণ লয়ে, দেবতা বাঁচে দায়ে, দেবের দেব মহাদেব, যাঁহার চরণে লুটায়ে । প্রসাদ বলে, রণে চলে, রণময়ী হয়ে । শুম্ভ নিশুম্ভকে বধে, হুঙ্কার ছাড়িয়ে ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

ভেবে দেখো মন কেউ

রাগ ও তাল: গারাভেরবী — যৎ

ভেবে দেখো মন কেউ কারো নয়, মিছে ফের ভূমণ্ডলে । দিন দুই তিনের জন্য ভবে, কর্তা ব’লে সবাই বলে ॥ আবার সে কর্তারে দিবে ফেলে, কালাকালের কর্তা এলে । যার জন্য মর ভেবে, সে কি সঙ্গে যাবে চলে ॥ সেই প্রেয়সী দিবে গোবরছড়া, অমঙ্গল হবে বলে । শ্রীরামপ্রসাদ বলে, শমন যখন ধরবে চুলে । তখন ডাকবি কালী কালী বলে, কী করিতে পারবে কালে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

যদি ডুবল না’

রাগ ও তাল: খাম্বাজ — একতালা

যদি ডুবল না’ ডুবায়ে বাওরে মননেয়ে । মন হালি ছেড়োনা ভরসা - বাঁধো পারবি যেতে বেয়ে মন চক্ষু-দাঁড়ি, বিষম হাড়ি, মজায় মজে চেয়ে । ভালো ফাঁদ পেতেছে শ্যামা, বাজিকরের মেয়ে ॥ মন শ্রদ্ধা-বায়ে ভক্তি-বাদাম দেও রে উড়াইয়ে । রামপ্রসাদ বলে, কালী নামের যাও রে সারি গেয়ে ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

হয়েছি মা জোর ফরিয়াদি ।

হয়েছি মা জোর ফরিয়াদি । এবার বুঝে বিচার করো শ্যামা ॥ ওই যে মন করিছে জামিনদারি নেচে উঠে ছটা বাদী ॥ অবিদ্যা বিমাতার ব্যাটা, তারা ছ’টা কাম আদি । যদি তুমি আমি এক হই তো, পুর হতে দূর করে দি ॥ বিমাতা মরেন শোকে, ছয়টায় যদি আমল না দি সুখে নিত্যানন্দ-পুরে থাকি, পার হয়ে যাই ভবনদী ॥ হুজুরে তজবিজ করো মা, হাজির ফরিয়াদি দাদি । এই স্বোপার্জিত ভজনের ধন, সাধারণ নয় যে তা দি ॥ মাতা আদ্যা, মহা বিদ্যা, অদ্বিতীয় বাপ অনাদি । ওমা, তোমার পুতে, সতীনসুতে, জোর করে কার কাছে কাঁদি ॥ প্রসাদ ভনে ভরসা মনে, বাপ তো নহেন মিথ্যাবাদী । ঠেকি বারে বারে খুব চেতেছি, আর কি এবার ফাঁদে পা দি ॥

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

ভূতের বেগার, খাটবো কত ।

ভূতের বেগার, খাটবো কত । তারা বলো আমায় খাটাবি কত ॥ আমি ভাবি এক হয় আর, সুখ নাই মা কদাচিত ॥ পঞ্চ দিকে নিয়ে বেড়ায়, এ দেহের পঞ্চভূত । ও মা, ষড়রিপু সাহায্য তায়, হল ভূতের অনুগত ॥ আসিয়া ভবসংসারে, দুঃখ পেলেম যথোচিত । ও মা, যার সুখেতে হব সুখী, সে মন নয় গো মনের মতো ॥ চিনি বলে নিম খাওয়ালে, ঘুচল না সে মুখের তিতো । কেন ভিষক প্রসাদ, মনে বিষাদ, হয়ে কালীর শরণাগত ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

অভয়পদ সব লুটালে ।

অভয়পদ সব লুটালে । কিছু রাখলি না মা তনয় বলে ॥ দাতার কন্যা দাতা ছিলে মা, শিখেছিলে মায়ের স্থলে । তোমার পিতামাতা যেমনি দাতা, তেমনি দাতা আমায় হলে ॥ ভাঁড়ার জিম্মা যাঁর কাছে মা ,সে জন তোমার পদতলে । ওই যে ভাং খেয়ে শিব সদাই মত্ত, কেবল তুষ্ট বিল্বদলে ॥ জন্মজন্মান্তরেতে মা, কত দুঃখ আমায় দিলে । প্রসাদ বলে এবার মলে, ডাকব সর্বনাশী বলে ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

ভালো ব্যাপার মন

ভালো ব্যাপার মন করতে এলে । ভাসিয়ে মানব-তরি কারণ-জলে ॥ বানিজ্য করিতে এলে, মন ভবনদীর জলে । ওরে কেউ করিল দুনো ব্যাপার, কেহ কেহ বা হারাল মূলে ॥ ক্ষিত্যপ তেজ মরুত ব্যোম, বোঝাই আছে নায়ের খোলে, ওরে ছয় দাঁড়ি ছয় দিকে টেনে, গুড়ায় পা দে ডুবিয়ে দিলে । পাঁচ জিনিস নে ব্যাবসা করা, পাঁচে ডেকে পাঁচে মিলে । যখন পাঁচে পাঁচ মিশায়ে যাবে, কী হবে তাই প্রসাদ বলে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

কে রে বামা কার কামিনী ।

কে রে বামা কার কামিনী । বসে কমলে ওই একাকিনী ॥ বামা হাসছে বদনে, নয়ন-কোণে নির্গত হয় সৌদামিনী । এ জনমে এমন কন্যে, না দেখি না কর্ণে শুনি । গজ খাচ্ছে ধরে, ফিরে উগরে, ষোড়শী নবযৌবনী ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মায়ের চরণতলে স্থান লব ।

মায়ের চরণতলে স্থান লব । আমি অসময়ে কোথা যাবো ॥ ঘরে জায়গা নাহয় যদি, বাহিরে রব ক্ষতি কীগো । মায়ের নাম ভরসা করে, উপবাসী হয়ে পড়ে রব ॥ প্রসাদ বলে উমা আমায়, বিদায় দিলেও নাইকো যাব । আমার দুই বাহু প্রসারিয়ে, চরণতলে পড়ে প্রাণ ত্যজিব ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

এলোকেশী দিগবসনা ।

এলোকেশী দিগবসনা । কালী পুরাও মোর মনোবাসনা ॥ যে বাসনা মনে রাখি, তার লেশ মা নাহি দেখি, আমায় হবে কী না হবে দয়া, বলে দে মা ঠিক ঠিকানা । যে বাসনা মনে আছে, বলেছি মা তোমার কাছে এ মা তুমি বিনে ত্রিভুবনে, এ বাসনা কেহ জানে না ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

বলো ইহার ভাব কী, নয়নে ঝরে জল

রাগ ও তাল: পিলুবাহার — যৎ

বলো ইহার ভাব কী, নয়নে ঝরে জল (গ্রহণে কালীর নাম) । তুমি বহুদর্শী মহাপ্রাজ্ঞ, স্থির করে বলো ॥ একটা করি অভিপ্রায়, ডুবা কাষ্ঠ বটে কায়! কালী-নামাগ্নি রসনায় জ্বলে, সেই জল ঢলঢল ॥ কাল ভাবি চক্ষু মুদি, নিদ্রা আবির্ভাব যদি, শিবশিরে গঙ্গা তারই, প্রবাহ নির্মল ॥ আজ্ঞা করেছেন গুরু, বেণী তীর্থ বটে ভুরু, গঙ্গা-যমুনার ধারার নিতান্ত এই ফল । প্রসাদ বলে মন ভাই, এই আমি ভিক্ষা চাই, বেণী-তটে আপন নিকটে দিয়ো স্থল ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

ডাকোরে মন কালী বলে ।

ডাকোরে মন কালী বলে । আমি এই স্তুতি মিনতি করি, ভুলো না মন সময়কালে ॥ এ সব ঐশ্বর্য ত্যজো, ব্রহ্মময়ী কালী ভজো, ওরে ও পদপঙ্কজে মজো, চতুর্বর্গ পাবে হেলে । বসতি কর যে ঘরেতে, পাহারা দিচ্ছে যমদূতে, ওরে পারবে না ছাড়াইয়ে যাইতে, কাল-ফাঁসি লাগবে গলে ॥ দ্বিজ রামপ্রসাদ বলে, কালের বশে কাজ হারালে, ওরে এখন যদি না ভজিলে, আমসি খাবে আম ফুরালে ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

ও কেরে মনোমোহিনী ।

ও কেরে মনোমোহিনী । ওই মনোমোহিনী ॥ ঢলঢলঢল তড়িৎ ঘটা, মনি-মরকত-কান্তি-ছটা একী চিত্তছলনা, দৈত্যদলনা, ললনা নলিনী-বিড়ম্বিনী ॥ সপ্ত পেতি, সপ্ত হেতি, সপ্তবিংশ-প্রিয়-নয়নী । শশী খণ্ড শিরসি, মহেশ-উরসী, হরের রূপসী একাকিনী ॥ ললাটফলকে, অলকা ঝলকে, নাসানলকে, বেসরে মণি । মরি! হেরি একী রূপ, দেখো দেখো ভূপ, সুধারস-কূপ, বদনখানি ॥ শ্মশানে বাস, অট্টহাস, কেশপাশ, কাদম্বিনী । বামা সমরে বরদা, অসুর-দরদা, নিকটে প্রমোদা, প্রমাদ গণি ॥ কহিছে প্রসাদ, না করো বিবাদ, পড়িল প্রমাদ, স্বরূপে গণি । সমরে হবে না জয়ী রে, ব্রহ্মময়ী রে, করুণাময়ীরে, বলো জননি ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

রামকেলি - আড়া

রামকেলি - আড়া ঢলিয়ে ঢলিয়ে কে আসে, গলিত চিকুর আসব-আবেশে । বামা রণে দ্রুতগতি চলে, দলে দানব দলে, ধরি করতলে, গজ গরাসে ॥ কে রে, কালীয় শরীরে, রুধির শোভিছে, কালিন্দীর জলে কিংশুক ভাসে । কে রে, নীল কমল, শ্রীমুখমণ্ডল, অর্ধচন্দ্র ভালে প্রকাশে । কে রে নীলকান্ত, মণি-নিতান্ত, নখরনিকর তিমির নাশে । কে রে রূপের ছটায়, তড়িত ঘটায়, ঘন ঘোর রবে, উঠে আকাশে ॥ দিতিসুতচয় সবার হৃদয়, থরথরথর, কাঁপে হুতাশে । মাগো! কোপ করো দূর, চলো নিজপুর, নিবেদে শ্রীরামপ্রসাদ দাসে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

(হেরো), কার রমণী নাচে রে ভয়ংকরা-বেশে ।

(হেরো), কার রমণী নাচে রে ভয়ংকরা-বেশে । কে রে, নব-নীল-জলধর-কায় হায় হায়, কে রে, হরহৃদি হৃদ-পদে দিগবাসে ॥ কেরে, নির্জনে বসিয়া, নির্মাণ করিল, পদ রক্তোৎপল জিনি, তবে কেন রসাতলে যায় ধরণি ; হেন ইচ্ছা করে, অতি গাঢ় করে, বাঁধি প্রেমডোরে, রাখি হৃদি-সরোবরে, হিল্লোলে ভাসে ॥ কে রে, নিন্দিত রামকদলীতরু, হেরি ঊরু, দরদর রুধির ক্ষরে, যেন নীরদ হইতে নির্গত চপলে ; অতি রোষবলে, ভুজঙ্গমদলে, নাভিপদ্মমূলে, ত্রিবলীর ছলে, দংশিল এসে । কে রে, উন্নত কুচ-কলি, মুখশতদলে অলি, গুনগুন করিয়া বেড়ায় যেন বিকশিত, সিতাম্ভোজ বনরোহায় ; কীবা ওষ্ঠ-শোভা, অতি লোল জিহ্বা, হরমনোলোভা, যেন আসব-আবেশে, শিশু সুধাভাসে ॥ কে রে, কুন্তল-জালে, আবৃত মুখমণ্ডল, লম্বিত চুম্বি ধরায়, তাহে ভুরুধনুর্বাণ সন্ধান করা অর্ধচন্দ্রভালে, শিতি মুহু দোলে, কী চকোর খেলে কীবা অরুণকিরণে গজমতি হাসে । কত দুন্ধবা দুন্ধবি নাচিছে ভৈরবী, হিহি হিহি করিছে যোগিনী, কত কটোরা ভরিয়া, সুধা জোগায় অমনই ; রামপ্রসাদ ভণে, কাজ নাই রণে, এ বামার সনে, যার পদতলে, শব-ছলে আশুতোষে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মল্লার - খয়রা

মল্লার - খয়রা এলোকেশে, কে শবে, এলরে বামা । নখরনিকর হিমকরবর, রঞ্জিত ঘন-তনু, মুখ হিমধামা ॥ নব নব সঙ্গিনী, নব রসরঙ্গিণী, হাসত ভাসত নাচত বামা । কুলবালা বাহুবলে, প্রবল দনুজদলে, ধরাতলে হতরিপুসমা ॥ ভৈরব ভূত, প্রমথগণ ঘন রবে, রণজয়ী শ্যামা । করে করে ধরে তাল, ববম বম বাজে গাল, ধাঁ ধাঁ ধাঁ গুড়গুড় বাজিছে দামামা ॥ ভবভয়ভঞ্জন হেতু কবিরঞ্জন, মুঞ্চতি করম সুনামা । তব গুণ শ্রবণে, সতত মম মনে, ঘোর ভবে পুনরপি গমনবিরামা ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

চরণে উদিত বিধু নখরে ॥

চরণে উদিত বিধু নখরে ॥ নীলকমলদল, শ্রীমুখমণ্ডল, শ্রমজল শোভে শরীরে । মরকত মুকুরে, মঞ্জু মুকুতাফল, রচিত কীবা শোভা মরি মরি রে ॥ গলিত চিকুরঘটা, নবজলধরছটা, ঝাঁপল দশ দিশি তিমিরে ॥ গুরুতর পদভর, কমঠ ভুজগবর, কাতর মূর্ছিত মহী রে ॥ ঘোর বিষয়ে মজি, কালীপদ না ভজি, সুধা ত্যজিয়া বিষপান করি রে, ভণে শ্রীকবিরঞ্জন, দৈব বিড়ম্বন, বিফলে মানব দেহ ধরি ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

আমি এত দোষী কিসে ।

আমি এত দোষী কিসে । ওই যে প্রতিদিন হয় দিন যাওয়া ভার, সারাদিন মা কাঁদি বসে ॥ মনে করি গৃহ ছাড়ি, থাকব না আর এমন দেশে । তাতে কুলালচক্র ভ্রমাইল, চিন্তারাম চাপরাশি এসে ॥ মনে করি গৃহ ছাড়ি, নামসাধনা করি বসে । কিন্তু এমন কল করেছ কালী, বেঁধে রাখে মায়াপাশে ॥ কালীর পদে মনের খেদে, দীন রামপ্রসাদে ভাষে । আমার সেই যে কালী, মনের কালী হলেম কালী তার বিষয়বশে ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

চিকন কালোরূপা সুন্দরী

চিকন কালোরূপা সুন্দরী ত্রিপুরারি-হৃদে বিহরে । অরুণ কমলদল, বিমল চরণতল, হিমকরনিকর রাজিত নখরে । বামা অট্ট অট্ট হাসে, তিমিরকলাপ নাশে, ভাযে সুধা অমিত ক্ষরে রে । ভ্রমে কোকনদদল মধুকর চঞ্চল, লঘুগতি পতিত যুবতি-অধরে ॥ সহজে নবীনা ক্ষীণা, মোহিনী বসনহীনা, কী কঠিনা দয়া না করে । চঞ্চলাপাঙ্গ প্রাণহর, বরসিত শর খর, কত কত শত শত রে ॥ কহে রামপ্রসাদ কবি, অসিত মায়ের ছবি, ভাবিয়া নয়ন ঝরে । ও পদপঙ্কজ-পল্লবে বিহরতু, মামক মানস আশ ধরে ॥

শুনুন

পান্নালাল ভট্টাচার্যের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

ঝিঁঝিট - আড়া

ঝিঁঝিট - আড়া সমর করে ও কে রমণী । কুলবালা ত্রিভুবনমোহিনী ॥ ললাট-নয়ন বৈশ্বানর, বামা বিধু বামেতর তরণি । মরকত মুকুর, বিমল মুখমণ্ডল, নূতন জলধর-বরণী ॥ শবশিবশিরে, মন্দাকিনী রাজত, ঢলঢল উজ্জ্বল ধরণি । ঊরোপরি যুগপদ, রাজিত কোকনদ, সুচারু নখরনিকর, সুধাধামিনী ॥ কলয়তি কবিরঞ্জন, করুণাময়ী করুণাং কুরু, হর-মোহিনী । গিরিবর-কন্যে, নিখিল শরণ্যে, মম জীবনধন জননি ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

বামা ও কে এলোকেশে ।

রাগ ও তাল: খাম্বাজ — ঢিমাতেতালা

বামা ও কে এলোকেশে । সঙ্গিনী রঙ্গিনী ভৈরবী যোগিনী, রণে প্রবেশে অতি দ্বেষে ॥ কী সুখে হাসিছে, লাজ নাহি বাসিছে, নাচিছে মহেশ উরসে । ঘোর রণে মগনা, হয়েছে নগনা, পিবতি সুধা কী আবেশে ॥ ঢলিয়া ঢলিয়া যাইছে চলিয়া, ধরোরে বলিয়া, ঘন হাসে । কাহার নারীরে চিনিতে নারি রে, মোহিত করেছে ছিন্ন বেশে । কারে আর ভজোরে, ও পদে মজোরে, রূপে আলো করিছে দিগদশে । কী করি রণেরে, হয়েছে মনেরে, প্রসাদ ভণেরে চলো কৈলাসে ॥

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

বসনবিহীনা কে রে সমরে ॥

বসনবিহীনা কে রে সমরে ॥ মদন-মথন-উরসি রূপসি, হাসি হাসি বামা বিহরে, প্রলয়কালীন জলদ গর্জে, তিষ্ঠো তিষ্ঠো সতত তর্জে জনমনোহরা শমন-সদরা গর্ব খর্ব করে । শস্ত্রে শস্ত্রে প্রথম দীক্ষা, প্রথম বয়স বিপুল শিক্ষা, ক্রুদ্ধ নয়নে, নিরখে যে জনে, গমন শমননগরে । কলয়তি প্রসাদ হে জগদম্বে, সমরে নিপাতো রিপু-কদম্বে, সম্বরো বেশ, কুরু কৃপালেশ, রক্ষো বিবুধনিকরে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

ললিত - রূপক

ললিত - রূপক নলিনী নবীনা মনোমোহিনী । বিগলিতচিকুরঘটা, গমনে বরটা, বিবসনা শবাসনা মদালসা । ষোড়শী ষোড়শকলা, কুশলা সরলা, ললাটে বালার্ক বিধু, শ্রুতিতলে ব্রহ্মা বিধু, মনোজ্ঞা মধুরমুখী মধুরলালসা ॥ সোম-মৌলিপ্রিয়া নাম, রবিজ মঙ্গলধাম, ভজে বুধ বৃহস্পতি, হীনকর্মনাশা । হরিণাক্ষী হরিমধ্যা, হরিহরব্রহ্মারাধ্যা, হরি পরিবার সেই, যে ভজে দিগবাসা ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

যাও গো জননি, জানি তোরে ।

যাও গো জননি, জানি তোরে । তারে দাও দ্বিগুণ সাজা মা, যে তোর খোশামোদি করে । মা মা বলে পাছু পাছু যে জন স্তুতি ভক্তি করে । দুঃখে শোকে দগ্ধে তারে দাখিল করিস যমের ঘরে ॥ অল্পে কারে পাওয়া যায়, ক্ষীণ আলে বারি ধায়, যে জন হয় শক্ত, তার ত্রিকাল মুক্ত, হয় জোরজবরে । চোখে আঙুল না দিলে পর, দেখবি না মা বিচার করে ॥ ও মা হরের আরাধ্য পদ, ভয়ে দিলি মহিষাসুরে । যে দু-কথা শোনাতে পারে, যে জনা হেতের ধরে । তার হয়ে আশ্রিত সদা, থাকিস মা পরাণের ডরে ॥ রামপ্রসাদ কৃতার্থ হবে, কৃপাকণা জোরে । সাধো রে শ্যামার পদ এ নব ইন্দ্রিয় হরে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

ললিত - তিওট

ললিত - তিওট কুলবালা উলঙ্গ, ত্রিভঙ্গ কী রঙ্গ, তরুণ বয়েস । দনুজদলনা, ললনা, সমরে শবে, বিগলিত কেশ ॥ ঘন ঘোর নিনাদিনী, সমরে বিবাদিনী, মদনোন্মাদিনী-বেশ । ভূত পিশাচ প্রমথ সঙ্গে ভৈরবগণ নাচত রঙ্গে, সঙ্গিনী বড়ো রঙ্গিণী, নগনাসমানবেশ ॥ গজ রথ রথী করত গ্রাস, সুরাসুর নর-হৃদয়-ত্রাস, দ্রুত চলত ঢলত রসে গরগর, নরকর, কটিদেশ । কহিছে প্রসাদ ভুবনপালিকে, করুণাং কুরু জননি কালীকে, ভবপারাবার তরাবার ভার, হরবধু হরো ক্লেশ ॥

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

তারা আছ গো অন্তরে, মা আছ গো অন্তরে,

রাগ ও তাল: বিভাস — একতালা

তারা আছ গো অন্তরে, মা আছ গো অন্তরে, কুলকুণ্ডলিনী ব্রহ্মময়ী মা ॥ এক স্থান মূলাধারে, আর স্থান সহস্রারে, আর স্থান চিন্তামণিপুরে । শিব শক্তি সব্যে বামে, জাহ্নবী যমুনা নামে, সরস্বতীমধ্যে শোভা করে ॥ ভুজঙ্গরূপা লোহিতা, স্বয়ম্ভূতে সুনিদ্রিতা, এই ধ্যান করে ধন্য নরে । মূলাধার স্বাধিষ্ঠান, মণিপুর নাভিস্থান, অনাহতে বিশুদ্ধাখ্য বরে ॥ বর্ণরূপা তুমি বট, ব, স, ব, ল, ত, ক, ক, ঠ, ষোলো স্বর কণ্ঠায় বিহারে । হ, ক্ষ, আশ্রয় ভুরু, নিতান্ত কহিলা গুরু, চিন্তা এই শরীর ভিতরে ॥ ব্রহ্মা আদি পাঁচ ব্যক্তি, ডাকিন্যাদি ছয় শক্তি , ক্রমে বাস পদ্মের উপরে । গজেন্দ্র মকর আর, মেষবর কৃষ্ণসার, আরোহণ দ্বিতীয় কুঞ্জরে ॥ অজপা হইলে রোধ, তবে জন্মে তার বোধ, গুঞ্জে মত্ত-মধুব্রত-স্বরে । ধরাজল বহ্নি বাত, লয় হয় অচিরাৎ, যং রং লং বং হং হোং স্বরে ॥ ফিরে করো কৃপাদৃষ্টি, পুনর্বার হয় সৃষ্টি চরণযুগলে সুধাক্ষরে । তুমি নাদ তুমি বিন্দু, সুধাধার যেন ইন্দু, এক আত্মা ভেদ কেবা করে ॥ উপাসনা ভেদ ভেদ, ইথে কোনো নাহি খেদ, মহাকালী কালপদভরে । নিদ্রাভঙ্গে যার ঠাঁই, তার আর নিদ্রা নাই, থাকে জীব, শিব কর তারে ॥ মুক্তি-কন্যা তারে ভজে, সে কি আর বিষয়ে মজে, পুনরপি আসিয়া সংসারে । আজ্ঞাচক্র করি ভেদ, ঘুচাও ভক্তের খেদ, হংসীরূপে মিল হংসবরে ॥ চারি ছয় দশ বারো, ষোড়শ দ্বিদল আরো, দশ শত দল শিরোপরে । শ্রীনাথ বসতি তথা, শুনি প্রসাদের কথা, যোগী ভাসে আনন্দসাগরে ॥

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

তারা! আর কী ক্ষতি হবে ।

তারা! আর কী ক্ষতি হবে । হ্যাদে গো জননি শিবে ॥ তুমি লবে লবে বড়োই লবে প্রাণকে আমার লবে থাকে থাক যায় যাক এ প্রাণ যায় যাবে । যদি অভয়পদে মন থাকে তো কাজ কী আমার ভবে ॥ বাড়ায়ে তরঙ্গ রঙ্গ আর কী দেখাও শিবে । একি পেয়েছো আনাড়ি দাঁড়ি তুফানে ডরাবে ॥ আপনি যদি আপন তরি ডুবাই ভবার্ণবে । আমি ডুব দিয়ে জল খাব তবু অভয়-পদে ডুবে ॥ গিয়েছি না যেতে আছি আর কি পাবে ভবে । আছি কাঠের মুরদ খাড়া মাত্র গণনাতে সবে ॥ প্রসাদ বলে, আমি গেলে তুমিই তো মা রবে । তখন আমি ভালো কি তুমি ভালো, তুমিই বিচারিবে ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

মায়ের নাম লইতে অলস হইও না,

রাগ ও তাল: মুলতান — একতালা

মায়ের নাম লইতে অলস হইও না, রসনা! যা হবার তাই হবে । দুঃখ পেয়েছ (আমার মনরে) না আরো পাবে ঐহিকের সুখ হল না বলে, কি ঢেউ দেখে নাউ ডুবাবে ॥ রেখো, রেখো সে নাম সদা সযতনে, নিয়ো রে, নিয়ো রে নাম শয়নে স্বপনে । সচেতনে থেকো (মন রে আমার), কালী বলে ডেকো, এ দেহ ত্যজিবে যবে ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

ভালো নাই মোর কোনো কালে ।

ভালো নাই মোর কোনো কালে । ভালোই যদি থাকবে আমার, মন কেন কুপথে চলে ॥ হ্যাদে গো মা দশভুজা । আমার ভবে তনু হইল বোঝা, আমি না করিলাম তোমার পূজা, জবা বিল্ব গঙ্গাজলে ॥ এ ভব-সংসারে আসি, না করিলাম গয়া কাশী, যখন শমনে ধরিবে আসি, ডাকব কালী কালী বলে ॥ দ্বিজ রামপ্রসাদ বলে, তৃণ হয়ে ভাসি জলে, আমি ডাকি ধরো ধরো বলে, কে ধরে তুলিবে কূলে ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

জানিগো জানিগো তারা তোমার যেমন করুণা ।

রাগ ও তাল: খটভৈরবী — পোস্তা

জানিগো জানিগো তারা তোমার যেমন করুণা । কেহ দিনান্তরে পায় না খেতে, কারু পেটে ভাত গেঁটে সোনা । কেহ যায় মা পালকি চড়ে, কেহ তারে কাঁধে করে, কেহ উড়ায় শাল - দুশালা, কেহ পায় না ছেঁড়া টেনা ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

কালীগুণ গেয়ে, বগল বাজায়ে,

রাগ ও তাল: মুলতান — একতালা

কালীগুণ গেয়ে, বগল বাজায়ে, এ তনু-তরণি ত্বরা করি চলো বেয়ে । ভবের ভাবনা কীবা, মনকে করো নেয়ে ॥ দক্ষিণ বাতাস মূল, পৃষ্ঠদেশে অনুকূল, কাল রবে চেয়ে । শিব নহেন মিথ্যাবাদী, আজ্ঞাকারী অনিমাদি, প্রসাদ বলে প্রতিবাদী, পলাইবে ধেয়ে ॥

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

শ্রীদুর্গানাম ভুলো না ।

রাগ ও তাল: ভৈরবী — একতালা

শ্রীদুর্গানাম ভুলো না । ভুলো না, ভুলো না, ভুলো না ॥ শ্রীদুর্গা স্মরণে, সমুদ্র মন্থনে, বিষপানে, বিশ্বনাথ মল না ॥ যদ্যপি কখনো বিপদ ঘটে, শ্রীদুর্গা স্মরণ কোরোগো সংকটে । তারায় দিয়ে ভার, সুরথ রাজার, লক্ষ অসিঘাতে প্রাণ গেল না ॥ বিভু নামে এক রাজার ছেলে, যাত্রা করেছিল শ্রীদুর্গা বলে, আসিবার কালে, সমুদ্রের জলে, ডুবেছিল, তাতে (তার) মরণ হল না ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

ললিত - তিওট

ললিত - তিওট ও কার রমণী সমরে নাচিছে । দিগম্বরী দিগম্বরোপরি শোভিছে ॥ তনু নব ধারা-ধর, রুধির-ধারানিকর, কালিন্দীর জলে কিংশুক ভাসিছে ॥ বদন বিমল শশী, কত সুধা ক্ষরে হাসি, কালোরূপে তমোরাশি রাশি নাশিছে । কহে কবি রামপ্রসাদে, কালিকা-কমলপদে, মুক্তিপদ হেতু যোগী-হৃদে ভাসিছে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

ওরে, তারা বলে কেন না ডাকিলাম ।

রাগ ও তাল: জংলা — একতালা

ওরে, তারা বলে কেন না ডাকিলাম । (আমার) এ তনু-তরণি ভব-সাগরে ডুবালাম ॥ এ ভবতরঙ্গে তরি বাণিজ্যে আনিলাম । (তাতে) ত্যজিয়া অমূল্য নিধি পাপে পুরাইলাম । বিষম তরঙ্গ মাঝে চেয়ে না দেখিলাম । মন-ডোরে ও চরণ হেলে না বাঁধিলাম ॥ প্রসাদ বলে মাগো আমি কী কার্য করিলাম । (আমার) তুফানে ডুবিল তরি আপনি মজিলাম ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

কালী কালী বলো রসনা রে ।

কালী কালী বলো রসনা রে । ও মন ষটচক্র রথ-মধ্যে, শ্যামা মা মোর বিরাজ করে ॥ তিনটে কাছি কাছাকাছি, যুক্ত বাঁধা মূলাধারে । পাঁচ ক্ষমতায় সারথি তায়, রথ চালায় দেশ দেশান্তরে ॥ যুড়ি ঘোড়া দৌড় কুচে, দিনেতে দশকুশী মারে । সে যে সময়শির নাড়িতে নারে, কলে বিকল হলে পরে ॥ তীর্থে গমন, মিথ্যা ভ্রমণ, মন উচ্চাটন কোরো নারে ও মন ত্রিবেণীর ঘাটেতে বৈসো, শীতল হবে অন্তঃপুরে ॥ পাঁচ জনে পাঁচ স্থানে গেলে, ফেলে রাখবে প্রসাদেরে । ও মন, এই তো সময়, মিছে কাল যায়, যত ডাকতে পার দু অক্ষরে ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

নিতান্ত যাবে দিন, এ দিন যাবে,

রাগ ও তাল: মুলতানি — একতাল

নিতান্ত যাবে দিন, এ দিন যাবে, কেবল ঘোষণা রবে গো । তারা নামে অসংখ্য কলঙ্ক হবে গো । এসেছিলাম ভবের হাটে, হাট করে বসেছি ঘাটে, ওমা শ্রীসূর্য বসিল পাটে, নায়ে লবে গো ॥ দশের ভরা ভরে নায়, দুঃখী জনে ফেলে যায়, ওমা তার ঠাঁই যে কড়ি চায়, সে কোথা পাবে গো ॥ প্রসাদ বলে পাষাণ মেয়ে, আসন দে মা ফিরে চেয়ে, আমি ভাসান দিলাম গুণ গেয়ে, ভবার্ণবে গো ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

তারা তোমার আর কি মনে আছে ।

রাগ ও তাল: মুলতানি — একতালা

তারা তোমার আর কি মনে আছে । ওমা এখন যেমন রাখলে সুখে, তেমনি সুখ কি পাছে । শিব যদি হয় সত্যবাদী, তবে কি তোমার সাধি, মাগো, ওমা, ফাঁকির উপরে ফাঁকি, ডান চক্ষু নাচে ॥ আর যদি থাকিত ঠাঁই, তোমাদের সাধিতাম নাই, মাগো ওমা দিয়ে আশা, কাটলে পাশা, তুলে দিয়ে গাছে ॥ প্রসাদ বলে মন দড়, দক্ষিণায় জোর বড়ো, মাগো ওমা আমার দফা হল রফা দক্ষিণা হয়েছে ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

মন কোরো না সুখের আশা ।

মন কোরো না সুখের আশা । যদি অভয়পদে লবে বাসা ॥ হয়ে ধর্মতনয় ত্যজে আলয়, বনে গমন হেরে পাশা । হয়ে দেবের দেব সদবিবেচক, তেঁই তো শিবের দৈন্যদশা ॥ সে যে দুঃখী দাসে দয়া বাসে, মন সুখের আশে বড়ো কসা । হরিষে বিষাদ আছে মন, কোরো না এ কথায় গোঁসা ॥ ওরে সুখেই দুখ দুখেই সুখ, ডাকের কথা আছে ভাষা । মন ভেবেছ কপট ভক্তি করে পুরাইবে আশা ॥ করে কড়ার কড়া তস্য কড়া, এড়াবে না রতি মাসা । প্রসাদের মন হও যদি মন, কর্মে কেন হও রে চাষা । ওরে মনের মতন করো যতন, রতন পাবে অতি খাসা ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

কৃষ্ণ-সংগীত

কৃষ্ণ-সংগীত গিরিশগৃহিণী গৌরী গোপবধুবেশ । কষিত কাঞ্চনকান্তি প্রথম বয়েস ॥ বিচিত্র বসন মণি-কাঞ্চন ভূষণ । ত্রিভুবন দীপ্তি করে অঙ্গের কিরণ ॥ স্বয়ম্ভূ যুগল হর সুরনদী কূলে । স্বয়ম্ভূ পূজেন নিত্য করপদ্মফুলে ॥ নাভি-পদ্ম ভেদি ভ্রমে বেণী ক্রমে ক্রমে । লোমাবলি ছলে চলে করী কুম্ভ ভ্রমে ॥ ঈশ্বর মোহন ইষু নয়ন তরল । বিধি কি কজ্জলছলে মাখিলো গরল ॥ নিখিল ব্রহ্মাণ্ড ভাণ্ডোদরীর কী কাণ্ড । ফেরে করে লয়ে ছাঁদ-ডোর দুগ্ধভাণ্ড ॥ ভালেতে তিলক শোভে সুচারু বয়ান । ভণে রামপ্রসাদ দাস মার এই এক ধ্যান ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

ওহে নূতন নেয়ে! ভাঙা নৌকা চল বেয়ে ॥

ওহে নূতন নেয়ে! ভাঙা নৌকা চল বেয়ে ॥ দূকুল রইল দূর, ঘন ঘন হানিছে চিকুর, কেমন কেমন করয়ে দেয়া, মাঝ যমুনায় ভাসে খেয়া, শুনো ওহে গুণনিধি, নট হোক ছানা দধি, কিন্তু মনে করি এই খেদ । কাণ্ডারী যাহার হরি, যদি ডুবে সেই তরি, মিছা তবে হইবে হে বেদ ॥ যমুনা গভীরা ভাঙা তরি, অবলা বালা কৃশোদরী, প্রাণরক্ষার তুমি মাত্র মূল । অবসান হল বেলা, একী পাতিয়াছ খেলা, ঝটিৎ পারে চল, প্রাণ নিতান্ত আকুল ॥ কহিছে প্রসাদ দাস, রসরাজ কীবা হাস, কূলবধূর মনে বড়ো ভয় ।

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

অন্নপূর্ণার ধন্য কাশী ।

অন্নপূর্ণার ধন্য কাশী । শিব ধন্য কাশী ধন্য, ধন্য ধন্য গো আনন্দময়ী ॥ ভাগীরথী বিরাজিত হয়ে অর্ধচন্দ্রাকৃতি । উত্তরবাহিনী গঙ্গা, জল চলেছে দিবানিশি । শিবের ত্রিশূলে কাশী, বেষ্টিত বরুণা অসি । তন্মধ্যে মরিলে জীব, শিবের শরীরে মিশি ॥ কী মহিমা অন্নপূর্ণার, কেউ থাকে না উপবাসী ওমা রামপ্রসাদ অভুক্ত, তোমার চরণ-ধুলার অভিলাষী ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

পুলকে উথলে প্রেমসিন্ধু ॥

পুলকে উথলে প্রেমসিন্ধু ॥ ছলছলছল নয়ন । লোলচন্দ্র বদনে চুম্বন ॥ মধুর মধুর বিনয় বাণী । গদগদগদ কহত রানি ॥ কোটিজনম পুণ্যজন্য । কোলে কমল-লোচনা ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

আমার উমা সামান্য মেয়ে নয় ।

আমার উমা সামান্য মেয়ে নয় । গিরি তোমারই কুমারী - তা নয় তা নয় । স্বপ্নে যা দেখেছি গিরি, কহিতে মনে বাসি ভয় । ওহে কারো চতুর্মুখ, কারো পঞ্চমুখ উমা তাঁদের মস্তকে রয় ॥ রাজরাজেশ্বরী হয়ে, হাস্য বদনে কথা কয় । ওকে গরুড় বাহন, কালো বরন, জোড় হাতেতে করে বিনয় ॥ প্রসাদ ভণে মুনিগণে, যোগ ধ্যানে যাঁরে না পায়, তুমি গিরি ধন্য, হেন কন্যা, পেয়েছ কী পুণ্য উদয় ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

রত্নসিংহাসনে গৌরী,

রত্নসিংহাসনে গৌরী, নিকটে মেনকা গিরি, অনিমেষে শ্রীঅঙ্গ নেহারে । রানি বলে পুণ্যতরুফল সেই, মন্দিরে প্রকাশ এই, দোঁহে ভাসে আনন্দ-সাগরে ॥ প্রভাতে শ্রীঅঙ্গ নেহারই রানি ॥ দলিত কদম্ব পুলকে তনু, সুললিত লোচন সজল, হরল মুখে বাণী ॥ ঘেরল অবল, সবহুঁ রমণী মুখমণ্ডল, জয় জয় কিয়ে প্রতিবিম্ব অনুমানি । কাঞ্চন তরুবরে চন্দ্রকি মাল, বিলম্বিত ঝলমল, কো বিধি দেয়ল আনি ॥ হিমকর বদন, রদন মুকুতাবলি, করতল কিশলয়, কোমল পাণি । রাজিত তঁহি কনক-মণি-ভূষণ, দিনকরধাম চরণতলখানি ॥ ভব কমলজ শুক নারদ মুনিবর যো মাই, ধ্যান অগোচর জানি । দাস প্রসাদে বলে, সেই ব্রহ্মময়ী, জগজনমন বিকচ কর তঁহি ভাণি ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

মাগো তারা ও শংকরী ।

মাগো তারা ও শংকরী । কোন অবিচারে আমার পরে, করলে দুঃখের ডিক্রি জারি ॥ এক আসামি ছয়টা পেয়াদা, বলো মা কীসে সামাই করি । আমার ইচ্ছা করে ওই ছয়টারে, বিষ খাওয়াইয়ে প্রাণে মারি ॥ পেয়াদার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র, তার নামেতে নিলাম জারি । ওই যে পান বেচে খায় কৃষ্ণ পানতি, তারে দিলে জমিদারি ॥ হুজুরে দরখাস্ত দিতে, কোথা পাব টাকাকড়ি । আমায় ফিকিরে ফকির বানায়ে, বসে আছ রাজকুমারী ॥ হুজুরে উকিল যে জনা, ডিসমিসে তাঁর আশয় ভারী । করে আসল সন্ধি সওয়াল বন্দি, যেরূপে মা আমি হারি ॥ পালাইতে স্থান নাই মা, বলো কীবা উপায় করি । ছিল স্থানের মধ্যে অভয়চরণ, তাও নিয়েছেন ত্রিপুরারি ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

মালশ্রী

মালশ্রী আজ শুভনিশি পোহাইল তোমার । এই যে নন্দিনী আইল, বরণ করিয়া আনো ঘরে, মুখশশী দেখো আসি, দূরে যাবে দুঃখরাশি, ও চাঁদ মুখের হাসি, সুধারাশি ক্ষরে ॥ শুনিয়া এ শুভ বাণী, এলো চুলে ধায় রানি, বাস না সম্বরে । গদগদ ভাব-ভরে, ঝরঝর আঁখি ঝরে, পাছে করি গিরিবরে, অমনই কাঁদে গলা ধরে । পুন কোলে বসাইয়া, চারু মুখ নিরখিয়া, চুম্বে অরুণ অধরে । বলে, জনক তোমার গিরি, পতি জনম-ভিখারি, তোমা হেন সুকুমারী, দিলাম দিগম্বরে ॥ যত সহচরীগণ, হয়ে আনন্দিত মন, হেসে হেসে এসে ধরে করে । কহে বৎসরেক ছিলে ভুলে, এত প্রেম কোথা থুলে, কথা কহো মুখ তুলে, প্রাণ মরে মরে ॥ কবি রামপ্রসাদ দাসে, মনে মনে কত হাসে, ভাসে মহা আনন্দসাগরে । জননির আগমনে, উল্লাসিত জগজ্জনে, দিবানিশি নাহি জানে, আনন্দে পাশরে ॥

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

গিরিবর! আর আমি পারিনে হে

গিরিবর! আর আমি পারিনে হে প্রবোধ দিতে উমারে । উমা কেঁদে করে অভিমান, নাহি করে স্তন্যপান, নাহি খায় ক্ষীর ননি সরে ॥ অতি অবশেষে নিশি, গগনে উদয় শশী, বলে উমা ধরে দে উহারে । কাঁদিয়ে ফুলালে আঁখি, মলিন ও মুখ দেখি, মায়ে ইহা সহিতে কি পারে ॥ আয় আয় মা মা বলি, ধরিয়ে কর-অঙ্গুলি, যেতে চায় না জানি কোথারে । আমি কহিলাম তায়, চাঁদ কিরে ধরা যায়, ভূষণ ফেলিয়ে মোরে মারে ॥ উঠে বসে গিরিবর, করি বহু সমাদর, গৌরীরে লইয়া কোলে করে । সানন্দে কহিছে হাসি, ধর মা এই লও শশী, মুকুর লইয়া দিল করে ॥ মুকুরে হেরিয়া মুখ, উপজিল মহা-সুখ, বিনিন্দিত কোটি শশধরে ॥ শ্রীরামপ্রসাদ কয়, কত পুণ্যপুঞ্জচয়, জগৎ-জননি যার ঘরে । কহিতে কহিতে কথা, সুনিদ্রিতা জগন্মাতা, শোয়াইল পালঙ্ক উপরে ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

অনিত্য বিষয় ত্যজো, নিত্য নিত্যময়ে ভজো,

অনিত্য বিষয় ত্যজো, নিত্য নিত্যময়ে ভজো, মকরন্দ রসে মজো, ওরে মনোভৃঙ্গ ॥ স্বপ্নে রাজ্য লভ্য যেমন, নিদ্রা ভঙ্গে ভাব কেমন, ॥ অন্ধস্কন্ধে অন্ধ চড়ে, উভয়েতে কূপে পড়ে, কর্মীকে কি কর্মে ছাড়ে, তার কী প্রসঙ্গ ॥ এই যে তোমার ঘরে, ছয় চোরে চুরি করে, তুমি যাও পরের ঘরে, এ তো বড়ো রঙ্গ । প্রসাদ বলে কাব্য এটা, তোমাতে জন্মিল যেটা, অঙ্গহীন হয়ে সেটা দগ্ধ করে অঙ্গ ॥

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

মন কী করো ভবে আসিয়ে ।

রাগ ও তাল: জংলা — একতালা

মন কী করো ভবে আসিয়ে । ওরে দিবে অবশেষে, অজপার শেষ, ক্রমেতে নিঃশ্বাস যায় ফুরায়ে ॥ হং-বর্ণ পূরকে হয়, সঃ-বর্ণ রেচকে বয় । অহর্নিশি করে জপ হংস হংস বলিয়ে ॥ অজপা হইলে সাঙ্গ, কোথা তব রবে রঙ্গ, সকলই হইলে ভঙ্গ, ভবানীরে না ভাবিয়ে । চলনে দ্বিগুণ ক্ষয়, ততোধিক নিদ্রায় হয়, বিনয়ে রামপ্রসাদ কয়, ততোধিক সঙ্গমসময়ে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

আমি কি দুখেরে ডরাই ।

আমি কি দুখেরে ডরাই । ভবে দেও দুঃখ মা আর কত তাই । আগে পাছে দুখ চলে মা, যদি কোনোখানেতে যাই । তখন দুখের বোঝা মাথায় নিয়ে, দুখ দিয়ে মা বাজার মিলাই ॥ বিষের কৃমি বিষে থাকি মা, বিষ খেয়ে প্রাণ রাখি সদাই । আমি এমন বিষের কৃমি মা গো, বিষের বোঝা নিয়ে বেড়াই । প্রসাদ বলে ব্রহ্মময়ী, বোঝা নাবাও ক্ষণেক জিরাই । দেখো, সুখ পেয়ে লোক গর্ব করে, আমি করি দুঃখের বড়াই ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

ওরে, মন কী ব্যাপারে এলি ।

ওরে, মন কী ব্যাপারে এলি । ও তুই না চিনিয়ে কাজের গোড়া, লাভে মূলে হারাইলি ॥ গুরুদত্ত রত্ন ভরে, কেন ব্যাপার না করিলি । ও তুই কুসঙ্গেতে থেকে রত, মধ্যে তরি ডুবাইলি শ্রীরামপ্রসাদ বলে, সে অর্থ কেন না আনিলি । ও তোর ব্যাপারেতে লাভ হবে কী, মহাজনকে মজাইলি ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

ও মন, তোর নামে কী নালিশ দিব ।

ও মন, তোর নামে কী নালিশ দিব । ও তুই সকার বকার বলতে পারিস, বলতে নারিস দুর্গা শিব । খেয়েছ জিলিপি খাজা, লুচি মন্ডা সরভাজা । ওরে শেষে পাবি সেসব মজা, যখন পঞ্চত্ব পাব ॥ পাঁচ ইন্দ্রিয়ের পাঁচ বাসনা, কেমন করে ঘর করিব । ওরে চুরিদারি করিলে পরে, উচিত মতো সাজাই পাব ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মরলেম ভূতের বেগার খেটে ।

মরলেম ভূতের বেগার খেটে । আমার কিছু সম্বল নাইকো গেঁটে ॥ নিজে হই সরকারি মুটে, মিছে মরি বেগার খেটে । আমি দিন-মজুরি নিত্য করি, পঞ্চভূতে খায় গো বেঁটে ॥ পঞ্চভূত ছয়টা রিপু, দশেন্দ্রিয় মহা লেঠে । তারা কারো কথা কেউ শুনে না, দিন তো আমার গেল ঘেটে ॥ যেমন অন্ধ জনে হারা-দণ্ড, পুন পেলে ধরে এঁটে আমি তেমনি মতো ধরতে চাই মা, কর্মদোষে যায় গো ছুটে ॥ প্রসাদ বলে ব্রহ্মময়ী, কর্ম-ডুরি দে মা কেটে । প্রাণ যাবার বেলা এই করো মা, ব্রহ্মরন্ধ্র যায় যে ফেটে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

আমি, তোর আসামি নইরে শমন,

আমি, তোর আসামি নইরে শমন, মিছে কেন করিস তাড়না । শমন আছে রে প্রকাশ, আমি দুর্গাদাস, তোর কিছু ধার ধারি না । আমি দুর্গাপুরবাসী, সেখানে নাই নিরিখ বেশী রে । নাইকো তহসিল-যাতনা ; জমার নাইকো বাটা, মা দিয়াছেন পাটা স্বহস্তেতে করি নিশানা- (শমন রে) মায়ের পেয়ে অনুমতি, চৌদ্দো ভুবনপতি, উশুলে তফাত কিছু করে না । জগদম্বা আমার রাজা, আমি মায়ের খাসের প্রজা তোর তালুকেতে থাকি না ; পেয়ে মহাবীজ, হয়েছি খারিজ, তোর কাছারি যেতে হবে না ; দেখো গে চিত্রগুপ্তের কাছে, যে বাকিদার আছে, আমার নাম তাতে পাবি না সাবেক যত জমা ছিল, সে অঙ্কে মা শূন্য দিল রে, এমনই মায়ের করুণা ; রামপ্রসাদ কয়, তপন-তনয় আর কভু হেথা এসো না- (শমন রে) তুমি এসেছ এখানে, মা যদি তা শোনে, অপমানে বাকি থোবে না ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মন তুই কাঙালি কীসে ।

মন তুই কাঙালি কীসে । ও তুই জানিস নারে সর্বনেশে ॥ অনিত্য ধনের আশে, ভ্রমিতেছ দেশে দেশে, ও তোর ঘরে চিন্তামণি-নিধি, দেখিস নারে বসে বসে ॥ মনের মতো মন যদি হও, রাখোরে জোগাতে নিশে, যখন অজপা পূর্ণিত হবে, ধরবে না আর কাল-বিষে ॥ গুরুদত্ত রত্ন-তোড়া বাঁধোরে যতনে কষে । দীন, রামপ্রসাদের এই মিনতি, অভয়চরণ পাবার আশে ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রানি রাসমণি’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

আর বাণিজ্যে কী বাসনা ।

আর বাণিজ্যে কী বাসনা । ওরে আমার মন বলো না ॥ (ওরে) ঋণী আছেন ব্রহ্মময়ী, সুখে সাধ সেই লহো না ॥ ব্যজনে পবন বাস, চালনেতে সুপ্রকাশ । মন রে ওরে শরীরস্থা ব্রহ্মময়ী, নিদ্রিতা জন্মাও চেতনা ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

বলো দেখি ভাই কী হয় মলে ।

বলো দেখি ভাই কী হয় মলে । এই বাদানুবাদ করে সকলে ॥ কেহ বলে ভূত প্রেত হবি, কেহ বলে তুই স্বর্গে যাবি, কেহ বলে সালোক্য পাবি, কেহ বলে সাযুজ্য মেলে । বেদের আভাস, তুই ঘটাকাশ, ঘটের নাশকে মরণ বলে ॥ ওরে শূন্যেতে পাপ পুণ্য গণ্য, মান্য করে সব খোয়ালে । এক ঘরেতে বাস করিছে, পঞ্চজনে মিলেজুলে ॥ সে যে সময় হইলে আপনা আপনি, যে যার স্থানে যাবে চলে । প্রসাদ বলে যা ছিলে ভাই, তাই হবি রে নিদান কালে । যেমন জলের বিম্ব জলে উদয়, জল হয়ে সে মিশায় জলে ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

নিতি তোরে বুঝাবে কেটা ।

নিতি তোরে বুঝাবে কেটা । বুঝে বুঝলি না রে মন ঠ্যাঁটা ॥ কোথা রবে ঘরবাড়ি তোর, কোথা রবে দালান-কোঠা । যখন আসবে শমন, বাঁধবে কষে মন, (ও মন!) কোথা রবে বাপ-খুড়া-জ্যাঠা ॥ মরণসময় দিবে তোমায়, ভাঙা কলসি ছেঁড়া চেটা । ওরে সেখানেতে তোর নামেতে, আছে রে যে জাবদা আঁটা ॥ যত ধন জন সব অকারণ, সঙ্গেতে না যাবে কেটা । রামপ্রসাদ বলে দুর্গা ব ’ লে, ছাড় রে সংসারের ল্যাঠা ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

কাজ কী রে মন যেয়ে কাশী ।

কাজ কী রে মন যেয়ে কাশী । কালীর চরণ কৈবল্যরাশি ॥ সার্ধ ত্রিশ কোটি তীর্থ, মায়ের ও চরণবাসী । যদি সন্ধ্যা জান, শাস্ত্র মান, কাজ কী হয়ে কাশীবাসী ॥ হৃৎকমলে ভাবো বসে, চতুর্ভুজা মুক্তকেশী । রামপ্রসাদ এই ঘরে বসি, পাবে কাশী দিবানিশি ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

রসনে কালী নাম রটো রে!

রাগ ও তাল: জংলা — একতালা

রসনে কালী নাম রটো রে! মৃত্যুরূপা নিতান্ত ধরেছে জঠরে ॥ কালী যার হৃদে জাগে, তর্ক তার কোথা লাগে । এ কেবল বাদার্থ মাত্র, খুঁজতেছে ঘটপট রে ॥ রসনারে করো বশ, শ্যামানামামৃত রস । তুমি গান করো পান করো, সে পাত্রের পাত্র বট রে ॥ সুধাময় কালীর নাম, কেবল কৈবল্যধাম । করে জপো না কালীর নাম, কী তব উৎকটরে ॥ শ্রুতি রাখো সত্ত্বগুণে, দ্বি-অক্ষর করো মনে । প্রসাদ বলে দোহাই দিয়া, কালী বলে কাল কাটো রে ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

মনরে

মনরে আমার এই মিনতি । তুমি পড়াপাখি হও, করি স্তুতি ॥ যা পড়াই তাই পড়ো মন, পড়লে শুনলে দুধিভাতি । ওরে, জান না কি ডাকের কথা, না পড়িলে ঠ্যাঙার গুতি ॥ কালী কালী কালী পড়ো মন, কালীপদে রাখো প্রীতি । ওরে, পড়ো বাবা আত্মারাম, আত্মজনের করো গতি ॥ উড়ে উড়ে বেড়ে বেড়ে, বেড়িয়ে কেন বেড়াও ক্ষিতি । ওরে গাছের ফলে কদিন চলে, করো রে চার ফলের স্থিতি ॥ প্রসাদ বলে ফলা গাছে, ফল পাবি মন শুনো যুকতি । ওরে বসে মূলে, কালী বলে গাছ নাড়া দেও নিতি নিতি ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মন কালী কালী বলো ।

রাগ ও তাল: মুলতান — একতালা

মন কালী কালী বলো । বিপদনাশিনী কালীর নাম জপো না, ওরে ও মন, কেন ভুলো ॥ কিঞ্চিৎ কোরো না ভয়, দেখে অগাধ সলিল । ওরে অনায়াসে ভবনদীর কালী কুলাইবেন কূল ॥ যা হবার তা হল ভালো, কাল গেল মন কালী বলো, এবার কালের চক্ষে দিয়ে ধুলো, ভব-পারাবারে চলো, শ্রীরামপ্রসাদে বলে, কেন মন ভুলো । ওরে, কালী নাম অন্তরে জপো, বেলা অবসান হইল ॥

শুনুন

পান্নালাল ভট্টাচার্যের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

ওরে কালীনাম তীক্ষ্ণ খড়গে

ওরে কালীনাম তীক্ষ্ণ খড়গে কর্ম-পাশ ফেলো কেটে ॥ নিতান্ত বিষয়াসক্ত মাথায় করো বেসার বেটে । ওরে একে পঞ্চভূতের ভার, আবার ভূতের বেগার মর খেটে ॥ সতত ত্রিতাপের তাপে, হৃদিভূমি গেল ফেটে । নব কাদম্বিনীর বিড়ম্বনা, পরমায়ু যায় খেটে ॥ নানা তীর্থ পর্যটনে, শ্রমমাত্র পথ হেঁটে । পাবে ঘরে বসে চারি ফল, বুঝ না রে দুঃখচেটে ॥ রামপ্রসাদ কয় কীসে কী হয়, মিছে মলেম শাস্ত্র ঘেঁটে । এখন ব্রহ্মময়ীর নাম করে, ব্রহ্মরন্ধ্র যাক ফেটে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

একবার ডাকো রে কালী তারা বলে,

রাগ ও তাল: জংলা — একতালা

একবার ডাকো রে কালী তারা বলে, জোর করে রসনে! ও তোর ভয় কীরে শমনে ॥ কাজ কী তীর্থ গঙ্গা কাশী, যার হৃদে জাগে এলোকেশী । তার কাজ কী ধর্মকর্ম, ও তাঁর মর্ম যেবা জানে । ভজনের ছিল আশা, সূক্ষ মোক্ষ পূর্ণ আশা । রামপ্রসাদের এই দশা, দ্বি-ভাব ভেবে মনে ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

আয় দেখি মন চুরি করি,

রাগ ও তাল: সোহিনী — একতালা

আয় দেখি মন চুরি করি, তোমায় আমায় একত্ররে । শিবের সর্বস্ব ধন, মায়ের চরণ, যদি আনতে পারি হরে ॥ জাগা ঘরে চুরি করা, ইতে যদি পড়ি ধরা তবে মানবদেহের দফা সারা, বেঁধে নিবে কৈলাসপুরে ॥ গুরুবাক্য দৃঢ় করে, যদি যাইতে পারি ঘরে, ভক্তিবাণ হরকে মেরে, শিবত্ব-পদ লব কেড়ে ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

তুমি এ ভালো করেছ

রাগ ও তাল: সোহিনীবাহার — একতালা

তুমি এ ভালো করেছ মা, আমারে বিষয় দিলে না । এমন ঐহিক সম্পদ কিছু আমারে দিলে না ॥ কিছু দিলে না, পেলে না, দিবে না, পাবে না, তায় বা ক্ষতি কী মোর! হোক দিলে দিলে বাজি, তাতেও আছি রাজি, এবার এ বাজি ভোর গো ॥ এমা দিতিস দিতাম, নিতাম খেতাম, মজুরি করিয়ে তোর । এবার মজুরি হল না, মজুরা চাবো কী, কী জোরে করিবো জোর গো ॥ আছো তুমি কোথা, আমি কোথা, মিছামিছি করি শোর । শুধু শোর করা সারা, তোর যে কুধারা, মোর যে বিপদ ঘোর গো ॥ এমা ঘোর মহানিশা, মন যোগে জাগে, কী কাজ তোর কঠোর । আমার এ-কূল ও-কূল, দুকূল গেল, সুধা না পেলে চকোর গো ॥ এমা, আমি টানি কূলে, মন প্রতিকূলে, দারুণ করম-ডোর । রামপ্রসাদ কহিছে, পড়ে দু-টানায়, মরে মন ভূঁড়া চোর গো ॥

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

মন খেলাও রে দাণ্ডাগুলি ।

মন খেলাও রে দাণ্ডাগুলি । আমি তোমা বিনা নাহি খেলি ॥ এড়ি বেড়ি তেড়ি চাইল, চাম্পাকলি ধুলা ধূলি । আমি কালীর নামে মারব বাড়ি ভাঙব যমের মাথার খুলি ॥ ছয়জনের মন্ত্রণা নিলি, তাইতে পাগল ভুলে গেলি । রামপ্রসাদের খেলা ভাঙলি, গলে দিলি কাঁথাঝুলি ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

কালী কালী বলো রসনা ।

রাগ ও তাল: বসন্তবাহার — একতালা

কালী কালী বলো রসনা । করো পদধ্যান, নামামৃত পান, যদি হতে ত্রাণ থাকে বাসনা ॥ ভাই বন্ধু সুত, দারা পরিজন, সঙ্গের দোসর নহে কোনো জন । দুরন্ত শমন, বাঁধবে যখন, বিনে ওই চরণ, কেহ কারো না ॥ দুর্গানাম মুখে বলো একবার, সঙ্গের সম্বল দুর্গানাম আমার । অনিত্য সংসার নাহি পারাপার, সকলই অসার, ভেবে দেখো না । গেল গেল কাল, বিফলে গেল, দেখো না কালান্ত নিকটে এল । প্রসাদ বলে ভালো, কালী কালী বলো, দূর হবে কাল-যম-যন্ত্রণা ॥

শুনুন

‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

আমি ক্ষেমার খাসতালুকের প্রজা ।

আমি ক্ষেমার খাসতালুকের প্রজা । ওই যে ক্ষেমংকরী আমার রাজা ॥ চেন না আমারে শমন, চিনলে পরে হবে সোজা । আমি শ্যামা মার দরবারে থাকি, অভয়পদের বই রে বোঝা ॥ ক্ষেমার খাসে আছি বসে, নাই মহালে শুকা হাজা দেখো বালি-চাপা সিকস্ত নদী, তাতেও মহাল আছে তাজা ॥ প্রসাদ বলে শমন তুমি, বয়ে বেড়াও ভূতের বোঝা, ওরে যে পদে ও পদ পেয়েছে, জান না সেই পদের মজা ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

আর কাজ কী আমার কাশী

রাগ ও তাল: জংলা — একতালা

আর কাজ কী আমার কাশী মায়ের পদতলে পড়ে আছে গয়া গঙ্গা বারাণসী ॥ হৃৎকমলে ধ্যানকালে, আনন্দসাগরে ভাসি । ওরে কালীর পদ-কোকনদ, তীর্থ রাশি রাশি ॥ কালী নামে পাপ কোথা, মাথা নাই তার মাথাব্যাথা । ওরে অনলে দাহন যথা, হয় রে তুলারাশি ॥ গয়ায় করে পিণ্ডদান, বলে পিতৃঋণে পাবে ত্রাণ ওরে যে করে কালীর ধ্যান, তার গয়া শুনে হাসি কাশীতে মলেই মুক্তি, এ বটে শিবের উক্তি । ওরে সকলের মূল ভক্তি, মুক্তি তার দাসী ॥ নির্বাণে কি আছে ফল, জলেতে মিশায় জল । ওরে চিনি হওয়া ভালো নয় মন, চিনি খেতে ভালোবাসি ॥ কৌতুকে প্রসাদ বলে, করুণানিধির বলে । ওরে চতুর্বর্গ করতলে, ভাবিলে রে এলোকেশী ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মা আমি পাপের আসামি ।

রাগ ও তাল: জংলা — একতালা

মা আমি পাপের আসামি । এই লোকসানি মহাল লয়ে বেড়াই আমি পতিতের মধ্যে লেখা যায় এই জমি । তাই বারে বারে নালিশ করি, দিতে হবে কমি ॥ আমি মলে এ মহলে, আর নাই হামি । মা গো এখন ভালো না রাখ তো, থাকুক রামরামি ॥ গঙ্গা যদি গর্ভে টানে, লইল এই ভূমি । কেবল কথা রবে, কোথা রব, কোথা রবে তুমি ॥

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

অসকালে যাবো কোথা ।

অসকালে যাবো কোথা । আমি ঘুরে এলেম যথাতথা । দিবা হল অবসান, তাই দেখে কাঁপিছে প্রাণ । তুমি নিরাশ্রয়ের আশ্রয় হয়ে, স্থান দেও গো জগন্মাতা ॥ শুনেছি শ্রীনাথের কথা, বট চতুর্বর্গদাতা । রামপ্রসাদ বলে, চরণতলে রাখবে রাখো এই আমার কথা ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

কালীর নাম বড়ো মিঠা ।

কালীর নাম বড়ো মিঠা । সদা গান করো পান করো এটা ॥ ওরে ধিক রে রসনা, তবু ইচ্ছা করে পায়সপিঠা ॥ নিরাকার সাকার, ককার সবাকার ভিটা । ওরে ভোগ-মোক্ষ-ধাম নাম, ইহার পর আর আছে কীটা ॥ কালী যার হৃদে জাগে, হৃদয়ে তার জাহ্নবীটা । সে যে কাল হলে মহাকাল হয়, কালে দিয়ে হাততালিটা ॥ জ্ঞানাগ্নি অন্তরে জ্বেলে, ধর্মাধর্ম করো ঘিটা ॥ তুমি মন করো বিল্বদল, শ্রুব করো যত্ন যেটা ॥ প্রসাদ বলে হৃদিভূমির, বিরোধ মেনে গেল মিটা আমার এ তনু দক্ষিণাকালীর, দেবত্রয়ের দাগা চিঠা ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

তুই যা রে কী করবি শমন,

তুই যা রে কী করবি শমন, শ্যামা মাকে কয়েদ করেছি । মনোবেড়ি তাঁর পায়ে দিয়ে, হৃদ-গারদে বসায়েছি হৃদিপদ্ম প্রকাশিয়ে, সহস্রারে মন রেখেছি । কুলকুণ্ডলিনী শক্তির পদে আমি আমার প্রাণ সঁপেছি ॥ এমনই করেছি কায়দা, পলাইলে নাইকো ফয়দা । হামেশ রুজু ভক্তি পেয়াদা দু-নয়ন দারোয়ান দিয়েছি মহাজ্বর হবে জেনে, আগে আমি ঠিক করেছি । তাই সর্ব-জ্বর-হর লৌহ, গুরুতত্ত্ব পান করেছি ॥ শ্রীরামপ্রসাদ বলে, তোর জারি ভেঙে দিয়েছি । মুখে কালী কালী কালী বলে, যাত্রা করে বসে আছি ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

কালী সব ঘুচালে ল্যাটা ।

কালী সব ঘুচালে ল্যাটা । আগম নিগম শিবের বচন, মানবি কিনা মানবি সেটা ॥ শ্মশান পেলে ভালবাস মা, তুচ্ছ কর মণিকোটা । মা গো আপনি যেমন ঠাকুর তেমন, ঘুচল না আর সিদ্ধি-ঘোঁটা ॥ যেমন তোমার ভক্ত হয় মা, ভিন্ন হয় তার রূপের ছটা । তার কটিতে কৌপিন মেলে না, গায় ছালি আর মাথায় জটা ॥ ভূতলে আনিয়ে মা গো করলে আমায় লোহাপিটা । আমি তবু কালী বলে ডাকি, সাবাস আমার বুকের পাটা ॥ চাকলাজুড়ে নাম রটেছে, শ্রীরামপ্রসাদ কালীর ব্যাটা । এ যে মায়েপোয়ে এমন ব্যাবহার, ইহার মর্ম বুঝবে কেটা ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

সামাল সামাল ডুবল তরি ।

সামাল সামাল ডুবল তরি । আমার মন রে ভোলা, গেল বেলা, ভজলে না হরসুন্দরী ॥ প্রবঞ্চনার বিকিকিনি, করে ভরা কৈলে ভারী সারাদিন কাটালে ঘাটে বসে, সন্ধ্যাবেলা ধরলে পাড়ি ॥ একে তোর জীর্ণ তরি, কলুষেতে হল ভারী । যদি পার হবি মন ভবার্ণবে, শ্রীনাথে করো কাণ্ডারী ॥ তরঙ্গ দেখিয়া ভারী, পলাইল ছয়টা দাঁড়ি এখন গুরুব্রহ্ম, সার করো মন, যিনি হন ভবকাণ্ডারী ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মন কেন রে পেয়েছো

রাগ ও তাল: জংলা — একতালা

মন কেন রে পেয়েছো এত ভয় । ও তুমি কেন রে পেয়েছো এত ভয় ॥ তুফান দেখে ডোরো না রে, ও তুফান নয় । দুর্গানাম তরণি করে বেয়ে গেলে হয় ॥ পথে যদি চৌকিদারে, তোরে কিছু কয় ; তখন ডেকে বোলো, আমি শ্যামা মায়েরই তনয় ॥ প্রসাদ বলে খ্যাপা মন, তুই কারে করিস ভয় । আমার এ তনু দক্ষিণার পদে করেছি বিক্রয় ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

অভয়পদে প্রাণ সঁপেছি ।

অভয়পদে প্রাণ সঁপেছি । আমি আর কি যমের ভয় রেখেছি ॥ কালীনাম-কল্পতরু, হৃদয়ে রোপন করেছি । (আমি) এ দেহ বেচে ভবের হাটে, দুর্গানাম কিনে এনেছি ॥ দেহের মধ্যে সুজন যেজন, তাঁর ঘরেতে ঘর করেছি । এবার শমন এলে, হৃদয় খুলে, দেখাব ভেবে রেখেছি । সারাৎসার তারানাম, আপন শিখাগ্রে বেঁধেছি । রামপ্রসাদ বলে দুর্গা বলে, যাত্রা করে বসে আছি ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

এমন দিন কি হবে তারা ।

রাগ ও তাল: সিন্ধু — ঠুংরি

এমন দিন কি হবে তারা । যবে তারা তারা তারা বলে, তারা বয়ে পড়বে ধারা ॥ হৃদিপদ্ম উঠবে ফুটে, মনের আঁধার যাবে ছুটে, তখন ধরাতলে পড়বে লুটে, তারা বলে হব সারা ॥ ত্যজিব সব ভেদাভেদ, ঘুচে যাবে মনের খেদ, ওরে শত শত সত্য বেদ, তারা আমার নিরাকারা শ্রীরামপ্রসাদ রটে, মা বিরাজে সর্বঘটে, ওরে আঁখি অন্ধ, দেখো মাকে, তিমিরে তিমিরহরা ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

কেবল আসার আশা, ভবে

কেবল আসার আশা, ভবে আসা, আসা মাত্র হল । যেমন চিত্রের পদ্মেতে পড়ে, ভ্রমর ভুলে রল ॥ মা নিম খাওয়ালে , চিনি বলে, কথায় করে ছল । ওমা! মিঠার লোভে, তিত মুখে সারা দিনটা গেল ॥ মা খেলবি বলে, ফাঁকি দিয়ে নাবালে ভূতল । এবার যে খেলা খেলালে মাগো, আশা না পুরিল ॥ রামপ্রসাদ বলে ভবের খেলায়, যা হবার তাই হল । এখন সন্ধ্যাবেলায় কোলের ছেলে, ঘরে নিয়ে চলো ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

আয় মন বেড়াতে যাবি ।

আয় মন বেড়াতে যাবি । কালী-কল্পতরুতলে গিয়া, চারি ফল কুড়ায়ে খাবি প্রবৃত্তিনিবৃত্তি জায়া, তার নিবৃত্তিরে সঙ্গে লবি । ওরে বিবেক নামে জ্যেষ্ঠপুত্র, তত্ত্বকথা তায় শুধাবি ॥ অশুচি শুচিকে লয়ে, দিব্যঘরে কবে শুবি । যখন দুই সতীনে প্রীতি হবে, তখন শ্যামা মাকে পাবি ॥ অহংকার অবিদ্যা তোর, পিতামাতায় তাড়ায়ে দিবি । যদি মোহগর্তে টেনে লয়, ধৈর্য-খোঁটা ধরে রবি ॥ ধর্মাধর্ম দুটো অজা, তুচ্ছ হেরে বেঁধে থুবি । যদি না মানে নিষেধ, তবে জ্ঞান-খড়্গে বলি দিবি ॥ প্রথম ভার্যার সন্তানেরে, দূরে রইতে বুঝাইবি । যদি না মানে প্রবোধ, জ্ঞানসিন্ধু মাঝে ডুবাইবি ॥ প্রসাদ বলে এমন হলে, কালের কাছে জবাব দিবি । তবে বাপু বাছা বাপের ঠাকুর, মনের মতন মন হবি ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মন রে শ্যামা মাকে ডাকো ।

মন রে শ্যামা মাকে ডাকো । ভক্তি মুক্তি করতলে দেখো ॥ পরিহরো ধনমদ, ভজো পদ কোকনদ । কালেরে নৈরাশ করো, কথা শুনো, কথা রাখো ॥ কালী কৃপাময়ী নাম, পূর্ণ হবে মনস্কাম । অষ্টযামের অর্ধযাম, আনন্দেতে সুখে থাকো ॥ রামপ্রসাদ দাস কয়, রিপু ছয় করো জয় । মারো ডঙ্কা ত্যজো শঙ্কা, দূরছাই করে হাঁকো ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

আর ভুলালে ভুলব না গো ।

আর ভুলালে ভুলব না গো । আমি অভয়পদ সার করেছি, ভয়ে হেলব দুলব না গো ॥ বিষয়ে আসক্ত হয়ে, বিষের কূপে উলব না গো । সুখ দুঃখ ভেবে সমান, মনের আগুন তুলব না গো ॥ ধনলোভে মত্ত হয়ে, দ্বারে দ্বারে বুলব না গো । আশা-বায়ুগ্রস্ত হয়ে, মনের কথা খুলব না গো ॥ মায়াপাশে বদ্ধ হয়ে, প্রেমের গাছে ঝুলব না গো রামপ্রসাদ বলে দুধ খেয়েছি, ঘোলে মিশে ঘুলব না গো ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

আছি তেঁ

আছি তেঁ ই তরুতলে বসে । মনের আনন্দে আর হরষে ॥ আগে ভাঙাব গাছের পাতা, ভাটি ফল ধরিব শেষে । রাগ-দ্বেষ-লোভ-আদি, পাঠাব সব বনবাসে । রব রসাভাষে হা প্রত্যাশে, ফলিতার্থ সেই রসে ॥ ফলে ফলে সুফল লয়ে, যাইব আপন নিবাসে । আমার বিফলকে ফল দিয়ে, ফলাফল ভাসাও নৈরাশে ॥ মন করো কী, লও রে সুধা, দুজনাতে মিলেমিশে । খাবে একই নিঃশ্বাসে যেন সূর্যতেজে সকল শোষে ॥ রামপ্রসাদ বলে, আমার কোষ্ঠি, শুদ্ধ তারারেশে মাগি জানেনা যে মনকপাটে, খিল দিয়েছি বড়ো কষে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

সময় তো থাকবে না গো

রাগ ও তাল: টুরিজায়েনপুরী — একতালা

সময় তো থাকবে না গো মা, কেবল কথা রবে । কথা রবে, কথা রবে, মা গো জগতে কলঙ্ক রবে ॥ ভালো কীবা মন্দ কালী, অবশ্য এক দাঁড়া হবে । সাগরে যার বিছানা মা! শিশিরে তার কী করিবে ॥ দুঃখে দুঃখে জরোজরো, আর কত মা দুঃখ দিবে । কেবল ওই দুর্গানামে শ্যামানামে কলঙ্ক রটিবে ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

এবার আমি বুঝিব হরে ।

এবার আমি বুঝিব হরে । মায়ের ধরব চরণ লব জোরে ॥ ভোলানাথের ভুল ধরেছি, বলব এবার যারেতারে । সে যে পিতা হয়ে মায়ের চরণ হৃদে ধরে কোন বিচারে? পিতাপুত্রে এক ক্ষেত্রে, দেখামাত্রে বলব তারে । ভোলা মায়ের চরণ করে হরণ, মিছে মরণ দেখায় কারে ॥ মায়ের ধন সন্তানে পায়, সে ধন নিলে কোন বিচারে? ভোলা আপন ভালো চায় যদি সে, চরণ ছেড়ে দিক আমারে ॥ শিবের দোষ বলি যদি বাজে আপন গা-র উপরে । রামপ্রসাদ বলে ভয় করিনে, মার অভয়চরণের জোরে ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মন ভেবেছ তীর্থে যাবে ।

মন ভেবেছ তীর্থে যাবে । কালী-পাদপদ্ম-সুধা ত্যজি, কূপে পড়ে আপন খাবে ॥ ভবজরা পাপ-রোগ, নীলাচলে নানা ভোগ, ওরে জ্বরে কাশী সর্বনাশী, ত্রিবেণীস্নানে রোগ বাড়াবে ॥ কালীনাম মহৌষধি ভক্তিভাবে পান বিধি । (ওরে) গান করো, পান করো, আত্মারামের আত্ম্য হবে । মৃত্যুঞ্জয়ে উপযুক্ত সেবায় হবে আশু মুক্ত । ওরে সকলই সম্ভবে তাঁতে পরমাত্মায় মিশাইবে প্রসাদ বলে মনভায়া, ছাড়ি কল্পতরু-ছায়া, ওরে কাঁটাবৃক্ষের তলে গিয়ে, মৃত্যুভয়টা কি এড়াবে ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

আয় দেখি মন তুমি আমি

রাগ ও তাল: সোহিনীবাহার — একতালা

আয় দেখি মন তুমি আমি দুজনে বিরলেতে বসি রে । যুক্তি করি মনেপ্রাণে, পিঞ্জর গড়ব গুরুচরণে, পদে লুকাইব সুধা খাব, যমের বাপের কি ধার ধারি রে ॥ মন বলে করিবে চুরি, ইহার সন্ধান বুঝিনে রে । গুরু দিয়াছেন যে ধন অভয়চরণ কেমনে খরচ করিবে ॥ শ্রীরামপ্রসাদের আশা, কাঁটা কেটে খোলসা করিরে ॥ মধুপুরী যাব মধু খাব, শ্রীগুরুর নাম হৃদে ধরে ॥

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

ছি ছি মনভ্রমরা

ছি ছি মনভ্রমরা দিলি বাজি । কালী-পাদপদ্ম-সুধা ত্যজে ॥ দশের মধ্যে তুমি শ্রেষ্ঠ, লোকে তোমায় কয় রাজাজি । সদা নীচ সঙ্গে থাক তুমি, রাজা বট রীতি পাজি, অহংকারমদে মত্ত, বেড়াও যেন কাজির তাজি । তুমি ঠেকবে যখন, শিখবে তখন, করবে কালে পাপোসবাজি ॥ বাল্য যুবা বৃদ্ধ দশা, ক্রমে ক্রমে হয় গতাজি । পড়ে চোরের কোটায়, মন টুটায়, যে ভজে সে মত্ত গাঁজি ॥ কুতূহলে প্রসাদ বলে, জরা এলে আসবে হাজি । যখন দণ্ডপাণি লবে টানি কী করিবে ও বাবাজি ॥

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

কাজ কী আমার কাশী ।

রাগ ও তাল: ইমন — একতালা

কাজ কী আমার কাশী । যাঁর কৃত কাশী, তদুরসি বিগলিতকেশী ॥ যেই জগদম্বার কুণ্ডল, পড়েছিল খসি । সেই হতে মণিকর্ণি বলে তারে ঘোষি ॥ অসি বরুণার মধ্যে তীর্থ বারাণসী । মায়ের করুণা বরুণা ধারা, অসিধারা অসি ॥ কাশীতে মরিলে শিব দেন তত্ত্বমসি । ওরে তত্ত্বমসির উপরে সেই মহেশমহিষী ॥ রামপ্রসাদ বলে কাশী যাওয়া ভালো তো না বাসি । ওই যে গলাতে বেঁধেছ আমার কালী নামের ফাঁসি ॥

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কবিরঞ্জন রামপ্রসাদ সেনের গ্রন্থাবলী’ — উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, ১৯১০

সে কি শুধু শিবের সতী ।

সে কি শুধু শিবের সতী । যারে কালের কাল করে প্রণতি ॥ ষটচক্রে চক্র করি, কমলে করে বসতি । সে যে সর্বদলের দলপতি, সহস্রদলে করে স্থিতি ॥ ন্যাংটাবেশে শত্রু নাশে, মহাকাল হৃদয়ে স্থিতি ॥ ওরে বলো দেখি মন, সে বা কেমন, নাথের বুকে মারে নাথি ॥ প্রসাদ বলে মায়ের লীলা, সকলই জানি ডাকাতি । ওরে সাবধানে মন করো যতন, হবে তোমার শুদ্ধমতি ॥

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

কমলাকান্ত ভট্টাচার্য

১২টি পদ।

আর কিছু নাই শ্যামা তোমার

আর কিছু নাই শ্যামা তোমার কেবল দু’টি চরণ রাঙা, শুনি তাও নিয়াছেন ত্রিপুরারি অতেব হ’লাম সাহস-ভাঙা। জ্ঞাতি বন্ধু সুত দারা সুখের সময় সবাই তারা, কিন্তু বিপদকালে কেউ কোথা নাই ঘর-বাড়ি ওড়গাঁয়ের ডাঙা। নিজগুণে যদি রাখো করুণানয়নে দ্যাখো, নইলে জপ করে যে তোমায় পাওয়া সেসব কথা ভুতের সাঙা। কমলাকান্তের কথা মা’রে বলি মনের ব্যথা, আমার জপের মালা, ঝুলি, কাঁথা জপের ঘরে রইল টাঙা।

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৯০০

এই কথা আমারে বলো,

এই কথা আমারে বলো, তোমার কে বা মন্দ কে বা ভালো! বিদ্যারূপে দিয়ে জ্ঞান কারে করো পরিত্রাণ, কারে অবিদ্যা আবৃত ক’রে মোহগর্তে টেনে ফেলো। জীবমাত্র শিব বটে এ কথা অনেকে রটে, যে সদানন্দ তারে কেন নিরানন্দ হতে হইল। কমলাকান্তের কালী মনের কথা মায়ে বলি, কারুর সুখের উপর সুখ কারুর দুঃখে কেন জনম গেল!

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৯০০

কালী, সব ঘোচালি ল্যাঠা –

কালী, সব ঘোচালি ল্যাঠা – কালী, সব ঘোচালি ল্যাঠা। শ্রীনাথের লিখন আছে যেমন, রাখবি কিনা রাখবি সেটা, কালী, কালী – তোমার যারে কৃপা হয়, তার সৃষ্টিছাড়া রূপের ছটা, দুখে রাখো সুখে রাখো, করব কি আর দিলে খোঁটা, মা- কালী, কালী। জগৎ জুড়ে নাম দিয়েছ, কমলাকান্ত কালীর ব্যাটা, মা গো – এখন মায়ে-পোয়ে কেমন ব্যভার, ইহার মর্ম জানবে কেটা, মা – কালী, কালী সব ঘোচালি ল্যাঠা।

শুনুন

‘রামপ্রসাদ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৯০০

কিছু নাই সংসারের মাঝে

কিছু নাই সংসারের মাঝে কেবল শ্যামা সার রে, ধ্যান কালী জ্ঞান কালী প্রাণ কালী আমার রে। আসিয়ে ভুবনে এ তনু ধারণে যাতনা না হয় বলো কার রে, একবার হেরিলে ও কায়, সব দুখ যায়, এই গুণ শ্যামা মা’র রে। এ ভবে এসেছে কেহ সুখে আছে পেয়ে শিরে রাজ্যভার রে, আমার দরিদ্রের ধন, ও রাঙা চরণ গলায় করেছি হার রে। কমলাকান্ত হইয়ে ভ্রান্ত যাওয়া-আসা বারম্বার রে, মায়ের অভয় চরণ লহো রে শরণ অনায়াসে পাবি পার রে।

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৯০০

তুমি কি ভাবনা ভাব

তুমি কি ভাবনা ভাব ওরে আমার মূঢ় মন, সময় পেয়েছ ভালো সাধ না সেই শ্যামা ধন। যারে ভাব আপনার ভেবে দেখ কে তোমার, কেবলি সুখের ভাগে জ্ঞাতি বন্ধু পরিজন। নামেরই ভরসা কেবল

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৯০০

মজলো আমার মনভ্রমরা শ্যামাপদ-নীলকমলে,

মজলো আমার মনভ্রমরা শ্যামাপদ-নীলকমলে, কালীপদ-নীলকমলে, বিষয়-মধু তুচ্ছ হলো যত কামাদি-কুসুমসকলে। চরণ কালো ভ্রমর কালো কালোয় কালো মিশে গেল, পঞ্চতত্ত্ব প্রধান মত্ত সঙ্গ দেখে ভঙ্গ দিলে। কমলাকান্তের মনে আশাপূর্ণ এতদিনে, সুখ-দুঃখ সমান হলো তায় আনন্দসাগর উথলে।

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

মা! যদি কেশে ধরে তোলো

মা! যদি কেশে ধরে তোলো তবে বাঁচি এ সংকটে, আমার একূল ওকূল দুকূল পাথার মধ্যে সাঁতার বিষম হল। সঙ্গীগুলো হল ছাই তাদের সঙ্গে ভেসে যাই, ধরতে গেলে আমায় ধরে ডোবে-ডোবায় প্রাণটা গেল! করেছিলাম যে ভরসা না পুরিল সেসব আশা, ভুলালে তখন, ডুবলে এখন- আর কখন কি করবে বল! কমলাকান্তের ভার মা বিনে কে লবে আর! ওমা চরণতরী শরণ দিয়ে সঙ্গে লয়ে দেশে চল।

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৯০০

যতনে হৃদয়ে রেখো

যতনে হৃদয়ে রেখো আদরিণী শ্যামা মা কে, মন তুই দেখ, আর আমি দেখি আর যেন কেউ নাহি দেখে। কামাদিরে দিয়ে ফাঁকি আয় মন বিরলে দেখি, রসনারে সঙ্গে রাখি সে যেন মা বলে ডাকে। কুরুচি-কুমন্ত্রী যত নিকট হতে দিও না কো, জ্ঞান-নয়নে প্রহরী রেখো সে যেন সাবধানে থাকে। কমলাকান্তের মন ভাই আমার এই নিবেদন, দরিদ্রে পাই নে রতন সে কি অযতনে রাখে।

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

‘মহাপীঠ তারাপীঠ’ ধারাবাহিকের গান — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৯০০

শ্যামা মা কি আমার কালো রে

শ্যামা মা কি আমার কালো রে শ্যামা মা কি আমার কালো, লোকে বলে কালী কালো আমার মন তো বলে না কালো রে, কালো রূপে দিগম্বরী হৃদিপদ্ম করে মোর আলো রে, শ্যামা মা কি আমার কালো। শ্যামা কখনো শ্বেত, কখনো পীত কখনো নীল লোহিত রে, মায়ের সে ভাব কেমন বুঝিতে না পারি ভাবিতে জনম গেল রে। শ্যামা কখনো পুরুষ, কখনো প্রকৃতি কখনো শুনাকার হে, মায়ের সে ভাব ভাবিয়া কমলাকান্ত সহজে পাগল হলো রে।

শুনুন

জি বাংলা ‘সারেগামাপা’ অনুষ্ঠান থেকে — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৮৭৭

শ্যামাধন কি সবাই পায়?

শ্যামাধন কি সবাই পায়? অবোধ মন বোঝো না কি এ কী দায়, মন বোঝে না এ কী দায়। শিবের অসাধ্যসাধন মন মজো না রাঙা পায়, ইন্দ্রিয়াদি সম্পদসুখ তুচ্ছ হয় যে ভাবে তায়। সদানন্দ সুখে ভাসে শ্যামা যদি ফিরে চায়, যোগীন্দ্র মনীন্দ্র ইন্দ্র যে পদ না ধ্যানে পায়, নির্গুণ কমলাকান্ত তবু সে চরণ চায়।

শুনুন

ইন্দ্রনীল দত্তের কণ্ঠে — ইউটিউবে শুনুন →

সূত্র: ‘বাঙ্গালীর গান’ — দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত, ১৯০৫

সমর আলো করে কার কামিনী

সমর আলো করে কার কামিনী সজল জলদ জিনিয়া কায়, দশনে প্রকাশে দামিনী। এ নয় চাঁচর চিকুর পাশ সুরাসুর মাঝে না করে ত্রাস, অট্টহাসে দানব নাশে রণপ্রকাশে রঙ্গিণী। কি বা শোভা করে স্থমজ বিন্দু ঘন তনু ঘেরি কুমুদ বন্ধু, অমিয় সিন্ধু হেরিয়া ইন্দু মরি এ কোন মোহিনী। এ কি অসম্ভব ভব-পরাভব মা গো, পদতলে সব সাজে শনিরব, কমলাকান্ত করো অনুভব এ মতে ও গজগামিনী।

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৯০০

ও মন, ত্যাজি অন্য ফল

ও মন, ত্যাজি অন্য ফল কালী কালী বল, মানব জনম য’দিন সুখের বাসনা কোরোনা ক’দিন। পাবে ব্রহ্মপদ অক্ষয় সম্পদ স্মরণ করিবে এদিন, স্মৃতি-স্থিতি-লয় যা হইতে হয় সে হবে তোমার অধীন। যখন যেমন বিধির লিখন সেই রূপ যাবে সেদিন, ভাবিলে বিষাদ ঘটিবে প্রমাদ কালী না বলিবে যেদিন। কমলাকান্ত হইয়ে ভ্রান্ত ভুলেছ নমাস নদিন, বাড়ে বাড়ে আসি, দুঃখ রাশি রাশি যাতনা সবে কতদিন। রামপ্রসাদী গান

সূত্র: ‘কমলাকান্তের পদাবলি’ — ১৯০০

সতর্কবার্তা। এই পৃষ্ঠার মন্ত্রসমূহ স্বেচ্ছায় জপ করিবার বস্তু নহে। দশমহাবিদ্যার তান্ত্রিক মন্ত্র — বিশেষতঃ বীজমন্ত্র, পঞ্চদশী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী ও মাতঙ্গীর মন্ত্র — শাস্ত্রমতে দীক্ষা ব্যতীত জপের বিধান নাই। গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করিয়া, তাঁহার আদেশে, তাঁহার তত্ত্বাবধানেই ইহা অনুষ্ঠেয়। গুরুর পথনির্দেশ ব্যতিরেকে কেহ স্বয়ং চেষ্টা করিবেন না। এখানে মন্ত্র উদ্ধৃত হইয়াছে পাঠ, পরিচয় ও অর্থবোধের নিমিত্ত — সাধনার নির্দেশিকারূপে নহে।

মন্ত্র, ধ্যান ও স্তোত্র নানা গ্রন্থে পাঠভেদে ভিন্ন হইয়া থাকে; অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পূর্বে মুদ্রিত পুঁথি ও পঞ্জিকার সহিত মিলাইয়া লইবেন।

শক্তি — সমস্ত রূপের সূচি · স্বীকৃতি · গোপনীয়তার নীতি