শক্তি
দেবীর রূপ, মন্ত্র, কাহিনী ও সঙ্গীত

শক্তি

এক শক্তি, বহু রূপ। তন্ত্র বলে — যিনি কালী, তিনিই তারা, তিনিই কমলা। দশমহাবিদ্যা সেই এক আদ্যাশক্তিরই দশপ্রকার প্রকাশ। তাহার সহিত বাঙ্গালীর ঘরের দুই দেবী — দুর্গা ও জগদ্ধাত্রী।

প্রতি রূপের পাতায় আছে পরিচয়, উৎপত্তির কাহিনী, একাক্ষর–ত্র্যক্ষর–পঞ্চাক্ষর মন্ত্র, ধ্যানমন্ত্র, প্রণামমন্ত্র ও স্তোত্র — বঙ্গানুবাদসহ (কয়েকটি দীর্ঘ স্তোত্র ও কবচের অনুবাদ এখনও লেখা হয় নাই)। গানের জন্য স্বতন্ত্র পাতা।

যে পাঠগুলিতে দশ মহাবিদ্যাকে একত্রে আবাহন করা হয় — মহাবিদ্যা মন্ত্র, ধ্যান, স্তোত্র ও কবচ — সেগুলি সমষ্টিগত পাঠের পাতায় আছে।


দশমহাবিদ্যা

কালী — কালের অতীত, সংহার ও মুক্তির আদ্যাশক্তি
প্রথম মহাবিদ্যা · দক্ষিণাকালী · শ্যামা · আদ্যাশক্তি
তারা — যিনি ভবসাগর পার করান — বিপদে রক্ষাকর্ত্রী মা
দ্বিতীয় মহাবিদ্যা · উগ্রতারা · নীলসরস্বতী · একজটা
ষোড়শী — ত্রিভুবনের সুন্দরী — শ্রীবিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী
তৃতীয় মহাবিদ্যা · ত্রিপুরসুন্দরী · ললিতা · রাজরাজেশ্বরী · শ্রীবিদ্যা
ভুবনেশ্বরী — চতুর্দশ ভুবনের ঈশ্বরী — বিশ্বই যাঁহার শরীর
চতুর্থ মহাবিদ্যা · আদিশক্তি · মহামায়া · রাজরাজেশ্বরী
ভৈরবী — ক্ষয় ও তপস্যার শক্তি — ভৈরবের সঙ্গিনী
পঞ্চম মহাবিদ্যা · ত্রিপুরাভৈরবী · কালভৈরবী · শুভঙ্করী
ছিন্নমস্তা — নিজ মস্তক ছিন্ন করিয়া সহচরীদের তৃষ্ণা মিটান যিনি
ষষ্ঠ মহাবিদ্যা · প্রচণ্ডচণ্ডিকা · ছিন্নমস্তিকা · বজ্রবৈরোচনী
ধূমাবতী — ধূম্ররূপা — অভাব, বৈরাগ্য ও শূন্যতার দেবী
সপ্তম মহাবিদ্যা · বিধবা · জ্যেষ্ঠা · অলক্ষ্মী
বগলামুখী — স্তম্ভনের শক্তি — শত্রুর জিহ্বা যিনি স্তব্ধ করেন
অষ্টম মহাবিদ্যা · পীতাম্বরা · ব্রহ্মাস্ত্ররূপিণী · বল্গামুখী
মাতঙ্গী — বাক্‌, সঙ্গীত ও শিল্পের তান্ত্রিক দেবী
নবম মহাবিদ্যা · উচ্ছিষ্টচাণ্ডালিনী · শ্যামলা · রাজমাতঙ্গী
কমলা — শ্রী, ঐশ্বর্য ও শুভের তান্ত্রিক রূপ
দশম মহাবিদ্যা · কমলাত্মিকা · মহালক্ষ্মী · শ্রী

বাঙ্গালার দুই মহাশক্তি

দুর্গা — দুর্গতিনাশিনী — বাঙ্গালীর ঘরের কন্যা, আবার জগজ্জননী
মহাশক্তি · মহিষাসুরমর্দিনী · উমা · পার্বতী · চণ্ডী
জগদ্ধাত্রী — জগৎকে যিনি ধারণ করিয়া আছেন — অহংকারনাশিনী দেবী
মহাশক্তি · উমা হৈমবতী · জগন্মাতা

সতর্কবার্তা। এই পৃষ্ঠার মন্ত্রসমূহ স্বেচ্ছায় জপ করিবার বস্তু নহে। দশমহাবিদ্যার তান্ত্রিক মন্ত্র — বিশেষতঃ বীজমন্ত্র, পঞ্চদশী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী ও মাতঙ্গীর মন্ত্র — শাস্ত্রমতে দীক্ষা ব্যতীত জপের বিধান নাই। গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করিয়া, তাঁহার আদেশে, তাঁহার তত্ত্বাবধানেই ইহা অনুষ্ঠেয়। গুরুর পথনির্দেশ ব্যতিরেকে কেহ স্বয়ং চেষ্টা করিবেন না। এখানে মন্ত্র উদ্ধৃত হইয়াছে পাঠ, পরিচয় ও অর্থবোধের নিমিত্ত — সাধনার নির্দেশিকারূপে নহে।

মন্ত্র, ধ্যান ও স্তোত্র নানা গ্রন্থে পাঠভেদে ভিন্ন হইয়া থাকে; অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পূর্বে মুদ্রিত পুঁথি ও পঞ্জিকার সহিত মিলাইয়া লইবেন।

শক্তি — সমস্ত রূপের সূচি · স্বীকৃতি · গোপনীয়তার নীতি