ভুবনেশ্বরী
চতুর্থ মহাবিদ্যা · আদিশক্তি · মহামায়া · রাজরাজেশ্বরী
পরিচয়
ভুবনেশ্বরী অর্থে ভুবনের ঈশ্বরী। চতুর্দশ ভুবন তাঁহারই শরীর — আকাশ তাঁহার উদর, নক্ষত্র তাঁহার অলংকার। দশমহাবিদ্যার মধ্যে তিনিই ‘জগৎ’ রূপে প্রকাশিতা শক্তি।
দেহে উদীয়মান সূর্যের আভা, মস্তকে চন্দ্রকলার মুকুট, ত্রিনয়ন, বদনে মৃদু হাস্য। চারি হস্তে পাশ, অঙ্কুশ, বর ও অভয়। তিনি সৌম্যা, অস্ত্র তাঁহার নাই; যাহা আছে তাহা আকর্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের প্রতীকমাত্র।
তাঁহার বীজ ‘হ্রীং’ — মায়াবীজ। তন্ত্র বলে, এই একটিমাত্র বীজেই সমস্ত সৃষ্টি নিহিত।
উৎপত্তির কাহিনী
ভুবনেশ্বরীর অসুরবধের কোনও কাহিনী নাই — কারণ তিনি যুদ্ধের দেবী নহেন, তিনি আকাশের — সৃষ্টির আধার যে স্থান, তাহার — দেবী। দেবীভাগবত বলিতেছে, সৃষ্টির পূর্বে ছিল কেবল চৈতন্য। সেই চৈতন্য আপনাকে দেখিতে চাহিল — আর সেই ইচ্ছাই হইল মহামায়া, ভুবনেশ্বরী। তিনি আকাশ রচনা করিলেন, তাহাতেই ভুবন বসিল।
দেবীভাগবতের এক আখ্যানে তিনি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবকে মণিদ্বীপে লইয়া যান, এবং দেখাইয়া দেন — তাঁহারা তিনজনেই তাঁহারই শক্তিতে কর্ম করিতেছেন। সৃষ্টির ক্ষমতা ব্রহ্মাকে, পালনের ক্ষমতা বিষ্ণুকে, সংহারের ক্ষমতা শিবকে তিনিই দিয়াছেন।
সেই হেতু তাঁহাকে বলা হয় আদিশক্তি — যাঁহা হইতে অবশিষ্ট সমুদয় শক্তি নির্গত।
মন্ত্র
মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।
একাক্ষর — বীজমন্ত্র (ওঁ-সহ ২ অক্ষর)
ত্র্যক্ষর (ওঁ-সহ ৪ অক্ষর)
পঞ্চাক্ষর (ওঁ-সহ ৬ অক্ষর)
অষ্টাক্ষর (ওঁ-সহ ৯ অক্ষর)
এক-বীজযুক্ত নাম-মন্ত্র (৮ অক্ষর)
দ্বি-বীজযুক্ত নাম-মন্ত্র (৯ অক্ষর)
ত্রিবীজযুক্ত নাম-মন্ত্র (ওঁ-সহ ১১ অক্ষর)
দ্ব্যক্ষর — পাঠান্তর (২ অক্ষর)
ত্র্যক্ষর — পাঠান্তর (৩ অক্ষর)
ধ্যানমন্ত্র
বঙ্গানুবাদ
- উদীয়মান দিবাকরের ন্যায় তাঁহার দীপ্তি, মস্তকে চন্দ্রের কিরীট।
- তিনি উন্নতকুচা, ত্রিনয়না।
- তাঁহার মুখে মৃদু হাসি।
- চার হাতে বরমুদ্রা, অঙ্কুশ, পাশ ও অভয়মুদ্রা — সেই ভুবনেশীকে ভজনা করি।
শব্দে-শব্দে অর্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| উদ্যৎ | উদিত |
| দিন | সূর্য |
| দ্যুতিম্ | দীপ্তিযুক্তা |
| ইন্দু | চন্দ্র |
| কিরীট | মুকুট |
| তুঙ্গ | উন্নত |
| কুচ | স্তন |
| নয়নত্রয় | তিন নয়ন |
| যুক্তাম্ | যুক্তা |
| স্মেরমুখীম্ | মৃদুহাস্যময়ী |
| বরদ | বরদানকারিণী |
| অভীতিকরা | অভয়প্রদায়িনী |
| ভুবনেশীম্ | ভুবনের ঈশ্বরীকে |
প্রণাম মন্ত্র
বঙ্গানুবাদ
হে ভুবনেশী, হে মহামায়া, হে সর্বভূতনমস্কৃতা! হে সর্বকামপ্রদা দেবী, তুমি প্রসন্ন হও — তোমাকে প্রণাম।
গায়ত্রী
বঙ্গানুবাদ
নারায়ণীকে জানি, ভুবনেশ্বরীকে ধ্যান করি — সেই দেবী আমাদের প্রেরণা দিন।
স্তোত্র — চণ্ডী (দেবীমাহাত্ম্য) — অপরাজিতা ও নারায়ণী স্তুতি হইতে
বাংলা অর্থ
- যে দেবী সর্বভূতে মাতৃরূপে অবস্থান করিতেছেন — তাঁহাকে প্রণাম, প্রণাম, পুনঃপুনঃ প্রণাম।
- সৃষ্টি, স্থিতি ও বিনাশ — এই তিনেরই শক্তিস্বরূপা তুমি, হে সনাতনী।
- তুমি গুণের আশ্রয়, আবার তুমিই গুণময়ী; হে নারায়ণী, তোমাকে প্রণাম।
শ্রীভুবনেশ্বরীস্তোত্রম্ — সম্পূর্ণ পাঠ
পাঠকের জন্য টীকা। স্তোত্রে দেবীর রূপ চরণ হইতে মস্তক পর্যন্ত অঙ্গ ধরিয়া বর্ণিত — ইহা সংস্কৃত স্তোত্রের প্রচলিত ‘নখশিখ’ রীতি, ভক্তির ভাষা।
১
হে অম্বিকা, তুমি সাক্ষাৎ আনন্দময়ী ও শব্দব্রহ্মস্বরূপিণী। সকল সম্পদের নিমিত্ত আমি সেই জগৎকারণা অম্বিকার স্তব করি। তুমি বিদ্যারূপিণী, অশেষের জননী; ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের বপুও তুমিই প্রতিপাদন কর। ত্রিজগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও ক্ষয় তুমিই কর। তোমার স্তব করিয়া আমি আমার বাণী নির্মল করি।
২
হে পর্বতরাজপুত্রী! পৃথিবী, জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ, হোতা, চন্দ্র ও সূর্য — এই অষ্টমূর্তিতে যিনি প্রকাশিত, সেই মন্মথরিপু মহাদেবের শক্তিমত্তারও হেতু কেবল তুমিই।
৩
হে মাতা! সকল দেবতা কর্তৃক অর্চিতা ত্রিস্রোতা গঙ্গার যে বৈশিষ্ট্য, তাহার কারণ আমি ইহাই বুঝি — তোমার পদপঙ্কজের পরাগে পবিত্রিত শম্ভুর জটায় তিনি নিরন্তর বিচরণ করেন।
৪
কলার অধিপতি চন্দ্র কেবল কুমুদিনীকে আনন্দিত করেন, অন্যকে নহে; সূর্য কেবল কমলিনীকে। একের আনন্দবিধানে এক-একজন সমর্থ। কিন্তু তুমি, হে দেবী, নিজ দৃষ্টিমাত্রেই সমস্ত প্রপঞ্চকে আনন্দিত কর।
৫
হে গৌরী! সমস্ত জগতের আদ্যা হইয়াও তুমি নবযৌবনা; শৈলাধিরাজের তনয়া হইয়াও অতিকোমলা। ত্রয়ী বেদের প্রসূতি হইয়াও সেই বেদ তোমাকে সম্যক্ দেখিতে পায় নাই। তুমি ধ্যেয়া, অথচ মনের পথে ধরা দাও না।
৬
হে জগতের জননী! বহুকালে দুর্লভ মনুষ্যজন্ম লাভ করিয়া, তাহাতেও নিজ ইন্দ্রিয়ের পটুতা পাইয়া যাহারা তোমার অর্চনা করে না — তাহারা নিঃশ্রেণীর অগ্রভাগে উঠিয়াও পুনরায় পড়িয়া যায়।
৭
হে ভবানি! যাঁহারা কর্পূরচূর্ণমিশ্রিত শীতল জলে মথিত চন্দনে ও সুগন্ধ কুসুমে সমুৎসুক হইয়া তোমার আরাধনা করেন, তাঁহারাই অখণ্ড ভুবনের অধিপতিরূপে প্রথিত হন।
৮
প্রথম সরোজে — মূলাধারে — মধ্যপথ আশ্রয় করিয়া তুমি বিশ্ব রচনা করিয়া রাজ্ঞীর ন্যায় সুপ্তা থাক। পরে বিদ্যুল্লতার বলয়ের বিভ্রম বহন করিয়া পাঁচটি পদ্ম বিদীর্ণ করিয়া ঊর্ধ্বে ওঠ।
৯
সেখান হইতে নির্গত অমৃতরসে গাত্র অভিষিক্ত করিয়া সেই পথেই পুনরায় বিলয় প্রাপ্ত হও। হে মহেশ্বরের কুটুম্বিনী মাতা! যাঁহাদের হৃদয়ে তুমি স্ফুরিত হও, তাঁহারা আর গর্ভবাস ভোগ করেন না।
১০
হে গৌরী! লম্বিত কুণ্ডলে ভারাক্রান্ত, অভিরাম মুখমণ্ডলা, পীন স্তনতটী ও তনু বৃত্ত মধ্যদেশবিশিষ্টা; হস্তে চিন্তামণি, অক্ষসূত্র, কলস ও লেখনী — তোমার সেই মূর্তি আমি মনে আবর্তন করি।
১১
হে ভুবনেশ্বরী! যোগিগণ যোগে প্রতিষ্ঠিত হইয়া ষড়্রিপু জয় করিয়া, ইন্দ্রিয়গণকে বদ্ধ করিয়া, প্রসন্ন মনে তোমাকে দর্শন করেন — তোমার হস্তে পাশ, অঙ্কুশ, অভয় ও বর, আর মুখে কিরণ।
১২
উত্তপ্ত স্বর্ণের ন্যায় দীপ্তিময়ী, চারিটি হস্তী কর্তৃক অমৃতঘটে অভিষিক্তা, দুই হস্তে রুচির নলিনী ধারণকারিণী — সেই অভয়করা পদ্মাও তুমিই।
১৩
হে দেবী ভবানি দুর্গে! আটটি বাহুলতায় উগ্র নানা আয়ুধ বহন করিয়া সিংহে আরোহণ করিয়া, দূর্বাদলের ন্যায় দ্যুতিময়ী হইয়া তুমি দেবশত্রুপক্ষকে পরাভূত কর।
১৪
নিদাঘজলের শীকরে শোভিত মুখমণ্ডলা, গুঞ্জাফলে গাঁথা হারধারিণী, রত্নাংশুকে ও অসিত কান্তিতে অলংকৃতা — সেই আদ্যা পুলিন্দতরুণীকে আমি বারংবার প্রণাম করি।
১৫
হে শ্রীকণ্ঠের পত্নী! ক্বণিত নূপুরের ধ্বনিতে দূর হইতেই যাঁহার গতি হংসেরাও অনুসরণ করে; ঊর্ধ্বমুখে রূঢ় সুজাত নালযুক্ত পদ্মের ন্যায় তোমার সেই চরণযুগল আমি মস্তকেই ধারণ করি।
১৬
হে ভবানি! দুই চক্ষুতে দেখিয়া তৃপ্তি হয় নাই বলিয়াই যেন বৃষকেতন তৃতীয় নয়ন উৎপাদন করিয়াছেন। সান্দ্র অনুরাগভরে তিনি যে দুই জঙ্ঘা নিরীক্ষণ করেন, সেই দুইটিতেই আমি নত হইলাম।
১৭
স্থৌল্যে হস্তিশুণ্ডের গর্ব জয়কারী, মার্দবে রম্ভাকে (কদলীকাণ্ডকে) পরাভূতকারী তোমার ঊরুযুগল আমি স্মরণ করি — শ্রোণীর ভার সহিবার নিমিত্ত তোমার তনু মধ্যদেশ যেন দুইটি স্তম্ভরূপে তাহাদিগকে গড়িয়া দিয়াছে।
১৮
শ্রোণী ও স্তন একসঙ্গে উচ্চে বিস্তৃত হইবার ফলে বাল্যের পরবর্তী বয়সে যাহা কৃশ হইয়াছে, রোমাবলির বিলাসে যাহার রূপ প্রকাশিত — তোমার সেই মধ্যদেশ আমার হৃদয়ের মধ্যে স্ফুরিত হউক।
১৯
হে দেবী! হরের নেত্রাগ্নিতে ভীত স্মরের সখা (বসন্ত) যেন নবযৌবনের লাবণ্যজলে পূর্ণ করিয়া গড়িয়া দিয়াছেন — তোমার সেই নাভি আমি কখনও বিস্মৃত না হই।
২০
ঈশের গৃহচিহ্ন ভস্ম ও কাশ্মীরকর্দমের লেপ যাহাতে শোভা পায়, তোমার সেই স্তনপঙ্কজযুগল — স্নান হইতে উত্থিত সমদ করীর ফেনশোভিত ও সিন্দূররঞ্জিত কুম্ভদ্বয়কে স্মরণ করাইয়া দেয়।
২১
হে মাতা! কণ্ঠ হইতে গলিত উজ্জ্বল কান্তিধারায় শোভিত তোমার বাহুযুগল — যেন মকরধ্বজ নিজ রিপুর কণ্ঠগ্রহণের নিমিত্ত দুইটি দীর্ঘ পাশ রচনা করিয়াছেন। তাহারা যেন কখনও আমার স্মৃতিপথ হইতে সরিয়া না যায়।
২২
হে গিরিরাজকন্যা! অতিদীর্ঘ নহে, রুচির কম্বুর বিলাস যেন চুরি করিয়াছে, বিবিধ ভূষণে বিরাজমান — তোমার সেই মনোহরগুণ কণ্ঠ চিন্তা করিয়া আমি কখনও তৃপ্তি পাই না।
২৩
হে অম্বা! অত্যায়ত নয়ন, অভিজাত ললাটপট্ট, মন্দহাস্যে ঈষৎ প্রফুল্ল কপোলরেখা, বিম্বসদৃশ অধর, সমুন্নত ও দীর্ঘ নাসা — যে ব্যক্তি তোমার সেই মুখ বারংবার স্মরণ করে, তাহার জন্মই সার্থক।
২৪
হে দেবী! সুগন্ধ পুষ্পের উপর ভ্রমণশীল ভ্রমরপুঞ্জ হইতে যাহা অভিন্ন, তোমার সেই কেশপাশ যে ব্যক্তি চিত্তে ধারণ করে, তাহার পুরাতন পাশ আপনি হইতেই খসিয়া পড়ে।
ফলশ্রুতি
২৫
শ্রুতিতে সুরচিত ও পরিণত এই স্তোত্র যে মর্ত্য আর্দ্র অন্তরাত্মা লইয়া নিত্য পাঠ করে, সে দীর্ঘকাল সম্পদের উচ্চ পদ লাভ করে — চরণে নত নরপতিগণের মুকুটলক্ষ্মীর লক্ষণ তাহাতে বর্তে।
এইরূপে শ্রীভুবনেশ্বরীস্তোত্র সমাপ্ত হইল।
কয়েকটি শব্দের অর্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| শব্দব্রহ্ম | বাক্যরূপ ব্রহ্ম |
| অম্বিকা | জননী |
| অরবিন্দযোনি | ব্রহ্মা |
| ত্রিস্রোতা | গঙ্গা |
| কুমুদিনী | চন্দ্রালোকে প্রস্ফুটিত ফুল |
| কমলিনী | সূর্যালোকে প্রস্ফুটিত পদ্ম |
| ত্রয়ী | তিন বেদ |
| নিঃশ্রেণিকা | নিঃশ্রেণী; সিঁড়ি |
| মূলাধার | প্রথম চক্র |
| বিদ্যুল্লতা | বিদ্যুতের রেখা |
| অক্ষসূত্র | জপমালা |
| বৈরিষট্ক | ষড়্রিপু; কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য |
| হাটক | স্বর্ণ |
| দূর্বাদল | দূর্বার পাতা |
| গুঞ্জাফল | কুঁচফল |
| পুলিন্দতরুণী | শবরকন্যা |
| শ্রীকণ্ঠ | শিব |
| বৃষকেতন | শিব |
| মকরধ্বজ | কামদেব |
| কম্বু | শঙ্খ |
| কাশ্মীরকর্দ্দম | কাশ্মীরকর্দম; কুঙ্কুমলেপ |
| ক্ষিতিপ | নরপতি |
শ্রীভুবনেশ্বরীকবচম্ (ত্রৈলোক্যমঙ্গল) — সম্পূর্ণ পাঠ
এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।
১
২
৩
৪
৫
৬
৭
৮
৯
১০
১১
১২
১৩
১৪
১৫
১৬
১৭
১৮
১৯
২০
২১
২২
২৩
২৪
২৫
২৬
২৭
২৮
২৯
৩০
পাতকদহন ভুবনেশ্বরীকবচম্ — সম্পূর্ণ পাঠ
শিব কহিলেন —
১
হে পার্বতী, ‘পাতকদহন’ নামে যে কবচ — উহা সর্বকামনাপূরক। শুন, বলিতেছি; তোমার প্রতি স্নেহেই ইহা প্রকাশ করিলাম।
২
এই পাতকদহন কবচের ঋষি সদাশিব, ছন্দ অনুষ্টুপ্, দেবতা ভুবনেশী; ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষে ইহার বিনিয়োগ।
৩
ঐং বীজ আমার মস্তক রক্ষা করুক, হ্রীং বীজ মুখ, শ্রীং বীজ কটিদেশ; ভুবনেশ্বরী সর্বাঙ্গ রক্ষা করুন। দিকে ও বিদিকে — সর্বত্র ভুবনেশীই সদা রক্ষা করুন।
ফলশ্রুতি
৪
ইহা পাঠের প্রসাদেই কুবের তৎক্ষণাৎ ধনেশ্বর হইয়াছিলেন। তাই পৃথিবীর মানুষ যত্নের সহিত সর্বদা ইহা পাঠ করিবেন।
প্রধান মন্দির
ভুবনেশ্বরী মন্দির
নীলাচল পাহাড়, কামাখ্যা, গুয়াহাটি, আসাম
নীলাচল পাহাড়ের চূড়ায়, মূল কামাখ্যা মন্দির থেকে খানিকটা উপরে। এখান থেকে ব্রহ্মপুত্র আর গুয়াহাটি শহরের অনেকটা দেখা যায়। নীলাচলের দশমহাবিদ্যা মন্দিরগুলির একটি।
ভুবনেশ্বরী মন্দির, উদয়পুর, ত্রিপুরা — গোমতী নদীর তীরে, সতেরো শতকে ত্রিপুরার মাণিক্য রাজাদের গড়া মন্দির। রবীন্দ্রনাথের ‘রাজর্ষি’ ও ‘বিসর্জন’-এর পটভূমি এই মন্দির।
মন্দির

ছবি: Rohit Goswami · CC BY-SA 4.0 · কমন্স

ছবি: Kanad Sanyal · CC BY-SA 4.0 · কমন্স
বিগ্রহ
বিগ্রহের চিত্র পাওয়া যায় নাই।
কাহিনী
মণিদ্বীপে তিন দেবতা
ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব — কে বড়, এই নিয়ে তিনজনের মনেই একটু অহংকার ছিল। হঠাৎ এক আলোর রথ এসে তাঁদের তুলে নিয়ে গেল মণিদ্বীপে। সেখানে রত্নসিংহাসনে বসে আছেন এক দেবী, আর তাঁর দুপাশে অসংখ্য শক্তি। তিন দেবতা নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখলেন — তাঁরাও নারীরূপ পেয়েছেন। দেবী হেসে বললেন, ‘তোমরা যে কাজ করো, সে শক্তি আমারই। আমি সরে গেলে সৃষ্টিও নেই, পালনও নেই, সংহারও নেই।’ ফিরে আসার পর তিনজনেই জানলেন, তাঁরা কর্তা নন, যন্ত্র।
বই
- শ্রীমদ্দেবীভাগবত পুরাণ
লেখক / সংকলক: কৃষ্ণদ্বৈপায়ন ব্যাস (বেদব্যাস)
প্রকাশক: গীতা প্রেস, গোরখপুর
দেবীকেই পরব্রহ্ম বলে প্রতিষ্ঠা; সপ্তম স্কন্ধে দেবীগীতা।