ছিন্নমস্তা
ষষ্ঠ মহাবিদ্যা · প্রচণ্ডচণ্ডিকা · ছিন্নমস্তিকা · বজ্রবৈরোচনী
পরিচয়
দশমহাবিদ্যার সর্বাপেক্ষা বিস্ময়কর রূপ। দেবী আপন মস্তক ছেদন করিয়া বাম হস্তে ধারণ করিয়াছেন; ছিন্ন কণ্ঠ হইতে তিনটি রুধিরধারা — দুইটি যাইতেছে দুই সখী ডাকিনী ও বর্ণিনীর মুখে, তৃতীয়টি তাঁহার নিজেরই ছিন্ন মস্তকের মুখে।
পদতলে কামদেব ও রতি — বিপরীত রতিতে রত। দেবী তাঁহাদের উপরে দণ্ডায়মানা। অর্থ এই — কামশক্তিকে তিনি দমন করেন নাই, তাহার উপরে দাঁড়াইয়াছেন; সেই শক্তিকেই ঊর্ধ্বমুখী করিয়াছেন।
মূল তত্ত্ব — আত্মদান। যিনি ভোজন করান আর যিনি ভোজন করেন, উভয়েই এক। আপনাকে না দিলে কাহাকেও পুষ্ট করা যায় না।
উৎপত্তির কাহিনী
কাহিনী বলে, দেবী পার্বতী তাঁহার দুই সখী জয়া ও বিজয়া (তন্ত্রে ডাকিনী ও বর্ণিনী) সমভিব্যাহারে মন্দাকিনী নদীতে স্নান করিতে গিয়াছিলেন। স্নানান্তে দেবী পরম আনন্দে ছিলেন, তাঁহার অঙ্গকান্তি কৃষ্ণবর্ণ হইয়া গিয়াছিল।
তখন দুই সখী বলিল, ‘মা, বড় ক্ষুধা পাইয়াছে, কিছু আহার দাও।’ দেবী বলিলেন, ‘কিঞ্চিৎ অপেক্ষা কর, গৃহে গিয়া দিব।’ কিছুক্ষণ পরে তাহারা পুনরায় বলিল, তাহার পর আবার — ‘মা তো ডাকিলেই সন্তানকে আহার দেন — তুমি এখন দিতেছ না কেন?’
তখন দেবী হাসিলেন। নিজ খড়্গ তুলিয়া আপনারই মস্তক ছেদন করিলেন। ছিন্ন মস্তক বাম হস্তে আসিয়া পড়িল। কণ্ঠ হইতে তিন ধারায় রুধির নির্গত হইল — দুইটি দুই সখীর মুখে, তৃতীয়টি তাঁহার আপনার মুখে। সখীদ্বয়ের ক্ষুধা নিবৃত্ত হইল।
এই কারণেই তাঁহার নাম ছিন্নমস্তা — যাঁহার মস্তক ছিন্ন। মাতা যে পরিশেষে আপনাকেই দিয়া দেন, এই কাহিনী তাহারই চরম রূপ।
মন্ত্র
মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।
একাক্ষর — বীজমন্ত্র (১ অক্ষর)
দ্ব্যক্ষর (ওঁ-সহ ৩ অক্ষর)
ত্র্যক্ষর (ওঁ-সহ ৪ অক্ষর)
চতুরক্ষর (ওঁ-সহ ৫ অক্ষর)
ষড়ক্ষর (৬ অক্ষর)
মূলমন্ত্র (১৬ অক্ষর)
ধ্যানমন্ত্র
বঙ্গানুবাদ
- তিনি প্রত্যালীঢ় ভঙ্গিতে দণ্ডায়মানা; এক হাতে নিজের ছিন্ন মস্তক, অন্য হাতে কর্তৃকা (কাটারি)।
- তিনি দিগম্বরী; নিজ কবন্ধ হইতে নির্গত রক্তধারা আনন্দে পান করিতেছেন — সেই রক্তই তাঁহার নিকট অমৃত।
- মস্তকে নাগবেষ্টিত মণি; তিনি ত্রিনয়না, বক্ষে পদ্মের অলংকার।
- রতিতে আসক্ত কামদেবের উপরে তিনি দৃঢ়ভাবে দণ্ডায়মানা; জবাফুলের ন্যায় তাঁহার বর্ণ — এইরূপে তাঁহার ধ্যান করিবে।
- দক্ষিণ পার্শ্বে অতি শুভ্রবর্ণা, মুক্তকেশী সহচরী — দুই হাতে কর্ত্রী ও খর্পর; তিনি রজোগুণ হইতে জাতা, নাম বর্ণিনী।
- দেবীর ছিন্ন কবন্ধ হইতে পতিত রক্তধারা তিনি আনন্দে পান করেন; মস্তকে নাগবেষ্টিত মণি — মন্ত্রজ্ঞ দেবগণ সদা তাঁহার ধ্যান করেন।
- বাম পার্শ্বে কৃষ্ণবর্ণা সহচরী, তাঁহারও হাতে খড়্গ ও খর্পর; প্রত্যালীঢ় ভঙ্গিতে দাঁড়াইয়া তিনি কবন্ধ হইতে ক্ষরিত রক্ত আনন্দে পান করেন।
- ইনিই সেই তামসী শক্তি — প্রলয়ে সমস্ত ভুবন গ্রাস করিতে সমর্থা; পরাৎপরা ভগবতী, নাম ডাকিনী।
- ধ্যানপরায়ণেরা সবিনয়ে সদা তাঁহার ধ্যান করেন — তিনি ভক্তের অভীষ্ট ও ঐশ্বর্য দান করেন।
প্রচলিত আর একটি পাঠ
দীপ্তিমান মণ্ডলের মধ্যে অবস্থিতা, নিজের ছিন্ন মস্তক বাম হস্তে ধারণকারিণী, বিকীর্ণ কেশা, প্রসারিত মুখে নিজ কণ্ঠ হইতে নির্গত রুধির পানকারিণী, রতি ও কামের উপরে অধিষ্ঠিতা, ডাকিনী ও বর্ণিনী দুই সখীতে পরিবৃতা, আনন্দময়ী শ্রীছিন্নমস্তাকে আমি ভজনা করি।
শব্দে-শব্দে অর্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| ভাস্বৎ | দীপ্তিমান |
| গতাম্ | অবস্থানকারিণী |
| নিজ | নিজের |
| শিরস্ | মস্তক |
| ছিন্নম্ | ছিন্ন |
| বিকীর্ণ | ছড়ানো |
| অলক | কেশ |
| স্ফারাস্যম্ | প্রসারিত মুখ |
| প্রপিবৎ | পান করিতেছেন |
| গলাৎ | কণ্ঠ হইতে |
| স্বরুধিরম্ | নিজের রুধির |
| করে | হস্তে |
| বিভ্রতীম্ | ধারণকারিণী |
| স্মর | কামদেব |
| উপরিগতাম্ | উপরে অবস্থিতা |
| সখ্যৌ | দুই সখী |
| পরিদৃশ্য | দর্শন করিয়া |
| মোদকলিতাম্ | আনন্দপূর্ণা |
| ভজে | আমি ভজনা করি |
প্রণাম মন্ত্র
বঙ্গানুবাদ
হে ছিন্নমস্তা, হে মহাদেবী, হে প্রচণ্ডা, হে চণ্ডনায়িকা; হে আত্মদানপরায়ণা দেবী — তোমাকে পুনঃপুনঃ প্রণাম করি।
গায়ত্রী
বঙ্গানুবাদ
বৈরোচনীকে জানি, ছিন্নমস্তাকে ধ্যান করি — সেই দেবী আমাদের প্রেরণা দিন।
স্তোত্র — ছিন্নমস্তা স্তুতি
বাংলা অর্থ
- সর্বসিদ্ধিদায়িনী ছিন্নমস্তাকে সর্বদা বন্দনা করি।
- তিনি নিজের রুধিরই আহার করেন, দুই যোগিনী তাঁহার সঙ্গিনী।
- নিজেই নিজেকে দান করা — এই আত্মদান তিনিই জগৎকে দেখাইয়াছেন।
- করুণাসমুদ্রস্বরূপিণী সেই মাতাকে নিত্য প্রণাম।
শ্রীছিন্নমস্তাষ্টোত্তরশতনামস্তোত্রম্ — সম্পূর্ণ পাঠ
পাঠকের জন্য টীকা। ফলশ্রুতিতে মারণ, উচ্চাটন, স্তম্ভন প্রভৃতি অভিচার-কর্মের উল্লেখ আছে। এগুলি তন্ত্রের প্রাচীন শাস্ত্রীয় বর্ণনা; আজকের পূজা-পাঠে ইহাদের কোনও স্থান নাই, আর কাহারও ক্ষতি কামনা করা ভক্তির পথ নহে। পাঠটি এখানে শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল।
১
পার্বতী কহিলেন — হে শম্ভু, আপনি ছিন্নমস্তার প্রিয় ও শুভ যে পরম সহস্রনাম বলিয়াছেন, তাহা সদ্যই শত্রুনিকৃন্তন বলিয়া কথিত।
২
হে দেব, আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করি — আমার প্রতি কৃপা করুন। যে ব্যক্তি সহস্রনাম পাঠে অশক্ত —
৩
সে কী পাঠ করিবে, হে নাথ, হে কৃপাময়, তাহা আমাকে বলুন। সদাশিব কহিলেন — সে সর্বদা অষ্টোত্তরশত নাম পাঠ করিবে।
৪
তাহাতেই সহস্রনামপাঠের ফল নিশ্চিতরূপে লাভ হয়। — এই শ্রীছিন্নমস্তাষ্টোত্তরশতনামস্তোত্রের ঋষি সদাশিব, ছন্দ অনুষ্টুপ্, দেবতা শ্রীছিন্নমস্তা; সকল সিদ্ধি লাভের নিমিত্ত জপে ইহার বিনিয়োগ। — ছিন্নমস্তা, মহাবিদ্যা, মহাভীমা, মহোদরী, চণ্ডেশ্বরী, চণ্ডমাতা, চণ্ড ও মুণ্ডের প্রভঞ্জিনী।
৫
মহাচণ্ডা, চণ্ডরূপা, চণ্ডিকা, চণ্ডখণ্ডিনী, ক্রোধিনী, ক্রোধজননী, ক্রোধরূপা, কুহূকলা।
৬
কোপাতুরা, কোপযুতা, কোপসংহারকারিণী, বজ্রবৈরোচনী, বজ্রা, বজ্রকল্পা এবং ডাকিনী।
৭
ডাকিনীকর্মে নিরতা, ডাকিনীকর্মে পূজিতা, ডাকিনীর সঙ্গে নিরতা, ডাকিনীর প্রেমে পূরিতা।
৮
খট্বাঙ্গধারিণী, খর্বা, খড়্গ ও খপ্পরধারিণী, প্রেতাসনা, প্রেতযুতা, প্রেতসঙ্গে বিহারিণী।
৯
ছিন্নমুণ্ডধরা, ছিন্নচণ্ডবিদ্যা ও চিত্রিণী, ঘোররূপা, ঘোরদৃষ্টি, ঘোররাবা, ঘনোবরী।
১০
যোগিনী, যোগে নিরতা, জপযজ্ঞে পরায়ণা, যোনিচক্রময়ী, যোনি, যোনিচক্রপ্রবর্তিনী।
১১
যোনিমুদ্রা, যোনিগম্যা, যোনিযন্ত্রে নিবাসিনী, যন্ত্ররূপা, যন্ত্রময়ী, যন্ত্রেশী, যন্ত্রপূজিতা।
১২
কীর্ত্যা, কপর্দিনী, কালী, কঙ্কালী, কলকারিণী, আরক্তা, রক্তনয়না, রক্তপানে পরায়ণা।
১৩
ভবানী, ভূতিদা, ভূতি, ভূতিদাত্রী ও ভৈরবী; ভৈরবাচারে নিরতা, ভূত ও ভৈরব কর্তৃক সেবিতা।
১৪
ভীমা, ভীমেশ্বরী দেবী, ভীমনাদে পরায়ণা, ভব কর্তৃক আরাধ্যা, ভব কর্তৃক নুতা, ভবসাগরের তারিণী।
১৫
ভদ্রকালী, ভদ্রতনু, ভদ্ররূপা ও ভদ্রিকা; ভদ্ররূপা, মহাভদ্রা, সুভদ্রা, ভদ্রপালিনী।
১৬
সুভব্যা, ভব্যবদনা, সুমুখী, সিদ্ধ কর্তৃক সেবিতা, সিদ্ধিদা, সিদ্ধিনিবহা, সিদ্ধ ও অসিদ্ধ উভয়ের নিষেবিতা।
১৭
শুভদা, শুভফলা, শুদ্ধা, শুদ্ধসত্ত্বা, শুভাবহা, শ্রেষ্ঠা, দৃষ্টিময়ী দেবী, দৃষ্টিসংহারকারিণী।
১৮
শর্বাণী, সর্বগা, সর্বা, সর্বমঙ্গলকারিণী, শিবা, শান্তা, শান্তিরূপা, মৃড়ানী, মদাতুরা।
ফলশ্রুতি
১৯
হে দেবী, এইরূপে তোমাকে এই পরম দুর্লভ স্তোত্র বলা হইল। ইহা গুহ্য হইতেও গুহ্যতর, গোপ্য — যত্নপূর্বক গোপনীয়।
২০
হে প্রাণবল্লভে, তোমার সম্মুখে অধিক বলিবার কী আছে? হে দেবী, মারণ, মোহন ও তাহার পরে উচ্চাটন —
২১
স্তম্ভনাদি কর্ম, ঋদ্ধি ও সিদ্ধিসমূহও — ইহার ত্রিকাল পাঠে এই সকলই নিঃসংশয়ে সিদ্ধ হয়।
২২
হে বরাননে, আমার কথিত এই মহোত্তম স্তোত্র যে নরোত্তমগণ অনন্য বুদ্ধিতে, ভক্তিযুক্ত হইয়া নিত্য পাঠ করেন, শত্রুর দ্বারা তাঁহাদের পরাজয় হয় না।
এইরূপে শ্রীছিন্নমস্তাষ্টোত্তরশতনামস্তোত্র সমাপ্ত।
কয়েকটি শব্দের অর্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| মহোদরী | বৃহৎ উদরযুক্তা |
| প্রভঞ্জিনী | ভঙ্গকারিণী |
| কুহূকলা | অমাবস্যার কলা |
| বজ্রবৈরোচনী | ছিন্নমস্তার মূলমন্ত্রের নাম |
| ডাকিনী | ছিন্নমস্তার এক সহচরী |
| খট্বাঙ্গ | মুণ্ডশীর্ষ দণ্ড |
| খর্পর | করোটিপাত্র |
| যোনিচক্র | তন্ত্রোক্ত চক্র |
| যন্ত্র | পূজার রেখাচিত্র |
| ভূতি | ঐশ্বর্য |
| ভৈরবাচার | ভৈরবের উপাসনাপদ্ধতি |
| মৃড়ানী | মৃড়ানী; শিবের শক্তি |
| ঋদ্ধি | সমৃদ্ধি |
| ত্রিকালপঠন | ত্রিকালপাঠ; প্রাতঃ, মধ্যাহ্ন ও সন্ধ্যায় পাঠ |
শ্রীছিন্নমস্তাস্তোত্রম্ (প্রচণ্ডচণ্ডিকাস্তবরাজ) — সম্পূর্ণ পাঠ
পাঠকের জন্য টীকা। এই পাঠে মাংস, মদ্য ও বলির মতো বামাচারী তান্ত্রিক উপচারের উল্লেখ আছে। এগুলি বিশেষ সাধনপথের পরিভাষা, সাধারণ গৃহপূজার বিধি নহে। পাঠটি শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল। স্তোত্রে উচ্চাটনেরও উল্লেখ আছে; আজকের পূজা-পাঠে তাহার কোনও স্থান নাই।
এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।
১
২
৩
৪
৫
৬
৭
৮
৯
১০
১১
১২
১৩
১৪
১৫
১৬
১৭
শ্রীছিন্নমস্তাকবচম্ (ত্রৈলোক্যবিজয়) — সম্পূর্ণ পাঠ
এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।
১
২
৩
৪
৫
৬
৭
৮
৯
১০
১১
১২
১৩
১৪
১৫
১৬
১৭
১৮
১৯
২০
২১
২২
২৩
২৪
২৫
২৬
২৭
২৮
২৯
৩০
৩১
৩২
৩৩
৩৪
প্রধান মন্দির
ছিন্নমস্তিকা মন্দির, রজরপ্পা
রজরপ্পা, রামগড় জেলা, ঝাড়খণ্ড — দামোদর ও ভেড়া নদীর সঙ্গমে
ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত ছিন্নমস্তা মন্দির; শক্তিপীঠ বলে গণ্য। প্রাচীন মন্দির, আসাম-ধারার স্থাপত্য। বাঙালি ভক্তদের মধ্যেও অত্যন্ত জনপ্রিয়।
ছিন্নমস্তা মন্দির, চিন্তপূর্ণী, হিমাচল প্রদেশ — ছিন্নমস্তিকা দেবী নামে পূজিতা; একান্ন পীঠের একটি বলে বিশ্বাস।
মন্দির

ছবি: Kuarun · CC BY-SA 3.0 · কমন্স

ছবি: Flashthomsom · CC0 · কমন্স
বিগ্রহ
বিগ্রহের চিত্র পাওয়া যায় নাই।
কাহিনী
তিন ধারা
চিত্রটা যতই ভয়ংকর লাগুক, তন্ত্রে এর একটি ব্যাখ্যা এই। দেবীর গলা থেকে তিনটি ধারা বেরোচ্ছে — বাঁ দিকেরটি ইড়া, ডান দিকেরটি পিঙ্গলা, আর মাঝেরটি সুষুম্না। দুই সখী ডাকিনী ও বর্ণিনী দুই নাড়ি; তাঁরা পান করছেন মানে প্রাণ চলছে। মাঝের ধারা দেবী নিজেই পান করছেন — অর্থাৎ শক্তি বাইরে না গিয়ে নিজের মধ্যেই ফিরছে। মাথা কাটা মানে মৃত্যু নয়, মাথা কাটা মানে ‘আমি’-বোধের ছেদ। যে সাধকের ‘আমি’-বোধ ছিন্ন হয়, সে-ই দেখতে পায় যে আসল দেখা মাথা দিয়ে হয় না।
বই
- ভারতের শক্তি-সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য
লেখক / সংকলক: শশিভূষণ দাশগুপ্ত
প্রকাশক: সাহিত্য সংসদ, কলকাতা
দশমহাবিদ্যার তত্ত্ব ও তাঁদের প্রতীক নিয়ে আলোচনা।
এই রূপের প্রচলিত বাংলা গান বিশেষ নাই। সমস্ত গান →