শক্তি
দেবীর রূপ, মন্ত্র, কাহিনী ও সঙ্গীত

ছিন্নমস্তা

ষষ্ঠ মহাবিদ্যা · প্রচণ্ডচণ্ডিকা · ছিন্নমস্তিকা · বজ্রবৈরোচনী

পরিচয়

দশমহাবিদ্যার সর্বাপেক্ষা বিস্ময়কর রূপ। দেবী আপন মস্তক ছেদন করিয়া বাম হস্তে ধারণ করিয়াছেন; ছিন্ন কণ্ঠ হইতে তিনটি রুধিরধারা — দুইটি যাইতেছে দুই সখী ডাকিনী ও বর্ণিনীর মুখে, তৃতীয়টি তাঁহার নিজেরই ছিন্ন মস্তকের মুখে।

পদতলে কামদেব ও রতি — বিপরীত রতিতে রত। দেবী তাঁহাদের উপরে দণ্ডায়মানা। অর্থ এই — কামশক্তিকে তিনি দমন করেন নাই, তাহার উপরে দাঁড়াইয়াছেন; সেই শক্তিকেই ঊর্ধ্বমুখী করিয়াছেন।

মূল তত্ত্ব — আত্মদান। যিনি ভোজন করান আর যিনি ভোজন করেন, উভয়েই এক। আপনাকে না দিলে কাহাকেও পুষ্ট করা যায় না।

উৎপত্তির কাহিনী

কাহিনী বলে, দেবী পার্বতী তাঁহার দুই সখী জয়া ও বিজয়া (তন্ত্রে ডাকিনী ও বর্ণিনী) সমভিব্যাহারে মন্দাকিনী নদীতে স্নান করিতে গিয়াছিলেন। স্নানান্তে দেবী পরম আনন্দে ছিলেন, তাঁহার অঙ্গকান্তি কৃষ্ণবর্ণ হইয়া গিয়াছিল।

তখন দুই সখী বলিল, ‘মা, বড় ক্ষুধা পাইয়াছে, কিছু আহার দাও।’ দেবী বলিলেন, ‘কিঞ্চিৎ অপেক্ষা কর, গৃহে গিয়া দিব।’ কিছুক্ষণ পরে তাহারা পুনরায় বলিল, তাহার পর আবার — ‘মা তো ডাকিলেই সন্তানকে আহার দেন — তুমি এখন দিতেছ না কেন?’

তখন দেবী হাসিলেন। নিজ খড়্গ তুলিয়া আপনারই মস্তক ছেদন করিলেন। ছিন্ন মস্তক বাম হস্তে আসিয়া পড়িল। কণ্ঠ হইতে তিন ধারায় রুধির নির্গত হইল — দুইটি দুই সখীর মুখে, তৃতীয়টি তাঁহার আপনার মুখে। সখীদ্বয়ের ক্ষুধা নিবৃত্ত হইল।

এই কারণেই তাঁহার নাম ছিন্নমস্তা — যাঁহার মস্তক ছিন্ন। মাতা যে পরিশেষে আপনাকেই দিয়া দেন, এই কাহিনী তাহারই চরম রূপ।

মন্ত্র

মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।

একাক্ষর — বীজমন্ত্র (১ অক্ষর)

হূং

দ্ব্যক্ষর (ওঁ-সহ ৩ অক্ষর)

ওঁ হূং ওঁ

ত্র্যক্ষর (ওঁ-সহ ৪ অক্ষর)

ওঁ হূং স্বাহা

চতুরক্ষর (ওঁ-সহ ৫ অক্ষর)

ওঁ হূং স্বাহা ওঁ

ষড়ক্ষর (৬ অক্ষর)

হ্রীং ক্লীং শ্রীং ঐং হূং ফট্

মূলমন্ত্র (১৬ অক্ষর)

শ্রীং হ্রীং ক্লীং ঐং বজ্রবৈরোচনীয়ে হূং হূং ফট্ স্বাহা

ধ্যানমন্ত্র

প্রত্যালীঢ়পদাং সদৈব দধতীং ছিন্নং শিরঃ কর্তৃকাম্‌। দিগ্‌বস্ত্রাং স্বকবন্ধশোণিতসুধাধারাং পিবন্তীং মুদা॥ নাগাবদ্ধশিরোমণিং ত্রিনয়নাং হৃদ্যুৎপলালংকৃতাম্‌। রত্যাসক্তমনোভবোপরি দৃঢ়াং ধ্যায়েজ্জপাসন্নিভাম্‌॥ দক্ষে চাতিসিতা বিমুক্তচিকুরা কর্ত্রীং তথা খর্পরম্‌। হস্তাভ্যাং দধতী রজোগুণভবা নাম্নাপি সা বর্ণিনী॥ দেব্যাশ্ছিন্নকবন্ধতঃ পতদসৃগ্ধারাং পিবন্তী মুদা। নাগাবদ্ধশিরোমণির্মনুবিদা ধ্যেয়া সদা সা সুরৈঃ॥ বামে কৃষ্ণতনূস্তথৈব দধতী খড়্গং তথা খর্পরম্‌। প্রত্যালীঢ়পদা কবন্ধবিগলদ্রক্তং পিবন্তী মুদা॥ সৈষা যা প্রলয়ে সমস্তভুবনং ভোক্তুং ক্ষমা তামসী। শক্তিঃ সাপি পরাৎপরা ভগবতী নাম্না পরা ডাকিনী। ধ্যেয়া ধ্যানপরৈঃ সদা সবিনয়ং ভক্তেষ্টভূতিপ্রদা॥

বঙ্গানুবাদ

প্রচলিত আর একটি পাঠ
ওঁ ভাস্বন্মণ্ডলমধ্যগাং নিজশিরশ্ছিন্নং বিকীর্ণালকম্ স্ফারাস্যং প্রপিবদ্গলাৎ স্বরুধিরং বামে করে বিভ্রতীম্। যাভাসক্তরতিস্মরোপরিগতাং সখ্যৌ নিজে ডাকিনী বর্ণিন্যৌ পরিদৃশ্য মোদকলিতাং শ্রীছিন্নমস্তাং ভজে॥

দীপ্তিমান মণ্ডলের মধ্যে অবস্থিতা, নিজের ছিন্ন মস্তক বাম হস্তে ধারণকারিণী, বিকীর্ণ কেশা, প্রসারিত মুখে নিজ কণ্ঠ হইতে নির্গত রুধির পানকারিণী, রতি ও কামের উপরে অধিষ্ঠিতা, ডাকিনী ও বর্ণিনী দুই সখীতে পরিবৃতা, আনন্দময়ী শ্রীছিন্নমস্তাকে আমি ভজনা করি।

শব্দে-শব্দে অর্থ
শব্দঅর্থ
ভাস্বৎদীপ্তিমান
গতাম্অবস্থানকারিণী
নিজনিজের
শিরস্মস্তক
ছিন্নম্ছিন্ন
বিকীর্ণছড়ানো
অলককেশ
স্ফারাস্যম্প্রসারিত মুখ
প্রপিবৎপান করিতেছেন
গলাৎকণ্ঠ হইতে
স্বরুধিরম্নিজের রুধির
করেহস্তে
বিভ্রতীম্ধারণকারিণী
স্মরকামদেব
উপরিগতাম্উপরে অবস্থিতা
সখ্যৌদুই সখী
পরিদৃশ্যদর্শন করিয়া
মোদকলিতাম্আনন্দপূর্ণা
ভজেআমি ভজনা করি

প্রণাম মন্ত্র

ওঁ ছিন্নমস্তে মহাদেবি প্রচণ্ডে চণ্ডনায়িকে। আত্মদানপরে দেবি ত্বাং নমামি পুনঃ পুনঃ॥

বঙ্গানুবাদ

হে ছিন্নমস্তা, হে মহাদেবী, হে প্রচণ্ডা, হে চণ্ডনায়িকা; হে আত্মদানপরায়ণা দেবী — তোমাকে পুনঃপুনঃ প্রণাম করি।

গায়ত্রী

ওঁ বৈরোচন্যৈ বিদ্মহে ছিন্নমস্তায়ৈ ধীমহি। তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ॥

বঙ্গানুবাদ

বৈরোচনীকে জানি, ছিন্নমস্তাকে ধ্যান করি — সেই দেবী আমাদের প্রেরণা দিন।

স্তোত্র — ছিন্নমস্তা স্তুতি

ছিন্নমস্তাং সদা বন্দে সর্বসিদ্ধিপ্রদায়িনীম্‌। স্বকীয়রুধিরাহারাং যোগিনীদ্বয়সংযুতাম্‌॥ আত্মনা আত্মনো দানং যয়া লোকে প্রদর্শিতম্‌। তস্যৈ মাত্রে নমো নিত্যং করুণার্ণবরূপিণ্যৈ॥

বাংলা অর্থ

শ্রীছিন্নমস্তাষ্টোত্তরশতনামস্তোত্রম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

পাঠকের জন্য টীকা। ফলশ্রুতিতে মারণ, উচ্চাটন, স্তম্ভন প্রভৃতি অভিচার-কর্মের উল্লেখ আছে। এগুলি তন্ত্রের প্রাচীন শাস্ত্রীয় বর্ণনা; আজকের পূজা-পাঠে ইহাদের কোনও স্থান নাই, আর কাহারও ক্ষতি কামনা করা ভক্তির পথ নহে। পাঠটি এখানে শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল।

১

শ্রীপার্বত্যুবাচ — নাম্নাং সহস্রং পরমং ছিন্নমস্তাপ্রিয়ং শুভম্‌। কথিতং ভবতা শম্ভো সদ্যঃ শত্রুনিকৃন্তনম্‌॥

পার্বতী কহিলেন — হে শম্ভু, আপনি ছিন্নমস্তার প্রিয় ও শুভ যে পরম সহস্রনাম বলিয়াছেন, তাহা সদ্যই শত্রুনিকৃন্তন বলিয়া কথিত।

২

পুনঃ পৃচ্ছাম্যহং দেব কৃপাং কুরু মমোপরি। সহস্রনামপাঠে চ অশক্তো যঃ পুমান্‌ ভবেৎ‌॥

হে দেব, আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করি — আমার প্রতি কৃপা করুন। যে ব্যক্তি সহস্রনাম পাঠে অশক্ত —

৩

তেন কিং পঠ্যতে নাথ তন্মে ব্রূহি কৃপাময়। শ্রীসদাশিব উবাচ — অষ্টোত্তরশতং নাম্নাং পঠ্যতে তেন সর্বদা॥

সে কী পাঠ করিবে, হে নাথ, হে কৃপাময়, তাহা আমাকে বলুন। সদাশিব কহিলেন — সে সর্বদা অষ্টোত্তরশত নাম পাঠ করিবে।

৪

সহস্রনামপাঠস্য ফলং প্রাপ্নোতি নিশ্চিতম্‌। ওঁ অস্য শ্রীছিন্নমস্তাষ্টোত্তরশতনামস্তোত্রস্য সদাশিব ঋষিরনুষ্টুপ্‌ ছন্দঃ শ্রীছিন্নমস্তা দেবতা মমসকলসিদ্ধিপ্রাপ্তয়ে জপে বিনিয়োগঃ॥ ওঁ ছিন্নমস্তা মহাবিদ্যা মহাভীমা মহোদরী। চণ্ডেশ্বরী চণ্ডমাতা চণ্ডমুণ্ডপ্রভঞ্জিনী॥

তাহাতেই সহস্রনামপাঠের ফল নিশ্চিতরূপে লাভ হয়। — এই শ্রীছিন্নমস্তাষ্টোত্তরশতনামস্তোত্রের ঋষি সদাশিব, ছন্দ অনুষ্টুপ্‌, দেবতা শ্রীছিন্নমস্তা; সকল সিদ্ধি লাভের নিমিত্ত জপে ইহার বিনিয়োগ। — ছিন্নমস্তা, মহাবিদ্যা, মহাভীমা, মহোদরী, চণ্ডেশ্বরী, চণ্ডমাতা, চণ্ড ও মুণ্ডের প্রভঞ্জিনী।

৫

মহাচণ্ডা চণ্ডরূপা চণ্ডিকা চণ্ডখণ্ডিনী। ক্রোধিনী ক্রোধজননী ক্রোধরূপা কুহূকলা॥

মহাচণ্ডা, চণ্ডরূপা, চণ্ডিকা, চণ্ডখণ্ডিনী, ক্রোধিনী, ক্রোধজননী, ক্রোধরূপা, কুহূকলা।

৬

কোপাতুরা কোপযুতা কোপসংহারকারিণী। বজ্রবৈরোচনী বজ্রা বজ্রকল্পা চ ডাকিনী॥

কোপাতুরা, কোপযুতা, কোপসংহারকারিণী, বজ্রবৈরোচনী, বজ্রা, বজ্রকল্পা এবং ডাকিনী।

৭

ডাকিনী কর্মনিরতা ডাকিনী কর্মপূজিতা। ডাকিনী সঙ্গনিরতা ডাকিনী প্রেমপূরিতা॥

ডাকিনীকর্মে নিরতা, ডাকিনীকর্মে পূজিতা, ডাকিনীর সঙ্গে নিরতা, ডাকিনীর প্রেমে পূরিতা।

৮

খট্বাঙ্গধারিণী খর্বা খড্গখপ্পরধারিণী। প্রেতাসনা প্রেতযুতা প্রেতসঙ্গবিহারিণী॥

খট্বাঙ্গধারিণী, খর্বা, খড়্গ ও খপ্পরধারিণী, প্রেতাসনা, প্রেতযুতা, প্রেতসঙ্গে বিহারিণী।

৯

ছিন্নমুণ্ডধরা ছিন্নচণ্ডবিদ্যা চ চিত্রিণী। ঘোররূপা ঘোরদৃষ্টির্‌ ঘোররাবা ঘনোবরী॥

ছিন্নমুণ্ডধরা, ছিন্নচণ্ডবিদ্যা ও চিত্রিণী, ঘোররূপা, ঘোরদৃষ্টি, ঘোররাবা, ঘনোবরী।

১০

যোগিনী যোগনিরতা জপযজ্ঞপরায়ণা। যোনিচক্রময়ী যোনির্‌ যোনিচক্রপ্রবর্তিনী॥

যোগিনী, যোগে নিরতা, জপযজ্ঞে পরায়ণা, যোনিচক্রময়ী, যোনি, যোনিচক্রপ্রবর্তিনী।

১১

যোনিমুদ্রা যোনিগম্যা যোনিযন্ত্রনিবাসিনী। যন্ত্ররূপা যন্ত্রময়ী যন্ত্রেশী যন্ত্রপূজিতা॥

যোনিমুদ্রা, যোনিগম্যা, যোনিযন্ত্রে নিবাসিনী, যন্ত্ররূপা, যন্ত্রময়ী, যন্ত্রেশী, যন্ত্রপূজিতা।

১২

কীর্ত্যা কপর্দিনী কালী কঙ্কালী কলকারিণী। আরক্তা রক্তনয়না রক্তপানপরায়ণা॥

কীর্ত্যা, কপর্দিনী, কালী, কঙ্কালী, কলকারিণী, আরক্তা, রক্তনয়না, রক্তপানে পরায়ণা।

১৩

ভবানী ভূতিদা ভূতির্‌ ভূতিদাত্রী চ ভৈরবী। ভৈরবাচারনিরতা ভূতভৈরবসেবিতা॥

ভবানী, ভূতিদা, ভূতি, ভূতিদাত্রী ও ভৈরবী; ভৈরবাচারে নিরতা, ভূত ও ভৈরব কর্তৃক সেবিতা।

১৪

ভীমা ভীমেশ্বরী দেবী ভীমনাদপরায়ণা। ভবারাধ্যা ভবনুতা ভবসাগরতারিণী॥

ভীমা, ভীমেশ্বরী দেবী, ভীমনাদে পরায়ণা, ভব কর্তৃক আরাধ্যা, ভব কর্তৃক নুতা, ভবসাগরের তারিণী।

১৫

ভদ্রকালী ভদ্রতনুর্‌ ভদ্ররূপা চ ভদ্রিকা। ভদ্ররূপা মহাভদ্রা সুভদ্রা ভদ্রপালিনী॥

ভদ্রকালী, ভদ্রতনু, ভদ্ররূপা ও ভদ্রিকা; ভদ্ররূপা, মহাভদ্রা, সুভদ্রা, ভদ্রপালিনী।

১৬

সুভব্যা ভব্যবদনা সুমুখী সিদ্ধসেবিতা। সিদ্ধিদা সিদ্ধিনিবহা সিদ্ধাসিদ্ধনিষেবিতা॥

সুভব্যা, ভব্যবদনা, সুমুখী, সিদ্ধ কর্তৃক সেবিতা, সিদ্ধিদা, সিদ্ধিনিবহা, সিদ্ধ ও অসিদ্ধ উভয়ের নিষেবিতা।

১৭

শুভদা শুভফলা শুদ্ধা শুদ্ধসত্ত্বা শুভাবহা। শ্রেষ্ঠা দৃষ্টিময়ী দেবী দৃষ্টিসংহারকারিণী॥

শুভদা, শুভফলা, শুদ্ধা, শুদ্ধসত্ত্বা, শুভাবহা, শ্রেষ্ঠা, দৃষ্টিময়ী দেবী, দৃষ্টিসংহারকারিণী।

১৮

শর্বাণী সর্বগা সর্বা সর্বমঙ্গলকারিণী। শিবা শান্তা শান্তিরূপা মৃড়ানী মদাতুরা॥

শর্বাণী, সর্বগা, সর্বা, সর্বমঙ্গলকারিণী, শিবা, শান্তা, শান্তিরূপা, মৃড়ানী, মদাতুরা।

ফলশ্রুতি

১৯

ইতি তে কথিতং দেবি স্তোত্রং পরমদুর্লভং। গুহ্যাদ্‌গুহ্যতরং গোপ্যং গোপনীয়ং প্রযত্নতঃ॥

হে দেবী, এইরূপে তোমাকে এই পরম দুর্লভ স্তোত্র বলা হইল। ইহা গুহ্য হইতেও গুহ্যতর, গোপ্য — যত্নপূর্বক গোপনীয়।

২০

কিমত্র বহুনোক্তেন ত্বদগ্রং প্রাণবল্লভে। মারণং মোহনং দেবি হ্যুচ্চাটনমতঃ পরমম্‌॥

হে প্রাণবল্লভে, তোমার সম্মুখে অধিক বলিবার কী আছে? হে দেবী, মারণ, মোহন ও তাহার পরে উচ্চাটন —

২১

স্তম্ভনাদিককর্মাণি ঋদ্ধয়ঃ সিদ্ধয়োঽপি চ। ত্রিকালপঠনাদস্য সর্বে সিধ্যন্ত্যসংশয়ঃ॥

স্তম্ভনাদি কর্ম, ঋদ্ধি ও সিদ্ধিসমূহও — ইহার ত্রিকাল পাঠে এই সকলই নিঃসংশয়ে সিদ্ধ হয়।

২২

মহোত্তমং স্তোত্রমিদং বরাননে ময়েরিতং নিত্যমনন্যবুদ্ধয়ঃ। পঠন্তি যে ভক্তিযুতা নরোত্তমা ভবেন্ন তেষাং রিপুভিঃ পরাজয়ঃ॥

হে বরাননে, আমার কথিত এই মহোত্তম স্তোত্র যে নরোত্তমগণ অনন্য বুদ্ধিতে, ভক্তিযুক্ত হইয়া নিত্য পাঠ করেন, শত্রুর দ্বারা তাঁহাদের পরাজয় হয় না।

॥ ইতি শ্রীছিন্নমস্তাষ্টোত্তরশতনাম স্তোত্রম্ ॥

এইরূপে শ্রীছিন্নমস্তাষ্টোত্তরশতনামস্তোত্র সমাপ্ত।

কয়েকটি শব্দের অর্থ

শব্দঅর্থ
মহোদরীবৃহৎ উদরযুক্তা
প্রভঞ্জিনীভঙ্গকারিণী
কুহূকলাঅমাবস্যার কলা
বজ্রবৈরোচনীছিন্নমস্তার মূলমন্ত্রের নাম
ডাকিনীছিন্নমস্তার এক সহচরী
খট্বাঙ্গমুণ্ডশীর্ষ দণ্ড
খর্পরকরোটিপাত্র
যোনিচক্রতন্ত্রোক্ত চক্র
যন্ত্রপূজার রেখাচিত্র
ভূতিঐশ্বর্য
ভৈরবাচারভৈরবের উপাসনাপদ্ধতি
মৃড়ানীমৃড়ানী; শিবের শক্তি
ঋদ্ধিসমৃদ্ধি
ত্রিকালপঠনত্রিকালপাঠ; প্রাতঃ, মধ্যাহ্ন ও সন্ধ্যায় পাঠ
শ্রীছিন্নমস্তাস্তোত্রম্‌ (প্রচণ্ডচণ্ডিকাস্তবরাজ) — সম্পূর্ণ পাঠ

পাঠকের জন্য টীকা। এই পাঠে মাংস, মদ্য ও বলির মতো বামাচারী তান্ত্রিক উপচারের উল্লেখ আছে। এগুলি বিশেষ সাধনপথের পরিভাষা, সাধারণ গৃহপূজার বিধি নহে। পাঠটি শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল। স্তোত্রে উচ্চাটনেরও উল্লেখ আছে; আজকের পূজা-পাঠে তাহার কোনও স্থান নাই।

এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।

১

আনন্দয়িত্রি পরমেশ্বরি বেদগর্ভে মাতঃ পুরন্দরপুরান্তরলব্ধনেত্রে । লক্ষ্মীমশেষজগতাং পরিভাবয়ন্তঃ সন্তো ভজন্তি ভবতীং ধনদেশলব্ধ্যৈ ॥ ১॥

২

লজ্জানুগাং বিমলবিদ্রুমকান্তিকান্তাং কান্তানুরাগরসিকাঃ পরমেশ্বরি ত্বাম্ । যে ভাবয়ন্তি মনসা মনুজাস্ত এতে সীমন্তিনীভিরনিশং পরিভাব্যমানাঃ ॥ ২॥

৩

মায়াময়ীং নিখিলপাতককোটিকূটবিদ্রাবিণীং ভৃশমসংশয়িনো ভজন্তি । ত্বাং পদ্মসুন্দরতনুং তরুণারুণাস্যাং পাশাঙ্কুশাভয়বরাদ্যকরাং বরাস্ত্রৈঃ ॥ ৩॥

৪

তে তর্ককর্কশধিয়ঃ শ্রুতিশাস্ত্রশিল্পৈশ্ছন্দোঽ- ভিশোভিতমুখাঃ সকলাগমজ্ঞাঃ । সর্বজ্ঞলব্ধবিভবাঃ কুমুদেন্দুবর্ণাং যে বাগ্ভবে চ ভবতীং পরিভাবয়ন্তি ॥ ৪॥

৫

বজ্রপণুন্নহৃদয়া সময়দ্রুহস্তে বৈরোচনে মদনমন্দিরগাস্যমাতঃ । মায়াদ্বয়ানুগতবিগ্রহভূষিতাঽসি দিব্যাস্ত্রবহ্নিবনিতানুগতাঽসি ধন্যে ॥ ৫॥

৬

বৃত্তত্রয়াষ্টদলবহ্নিপুরঃসরস্য মার্তণ্ডমণ্ডলগতাং পরিভাবয়ন্তি । যে বহ্নিকূটসদৃশীং মণিপূরকান্তস্তে কালকণ্টকবিডম্বনচঞ্চবঃ স্যুঃ ॥ ৬॥

৭

কালাগরুভ্রমরচন্দনকুণ্ডগোল- খণ্ডৈরনঙ্গমদনোদ্ভবমাদনীভিঃ । সিন্দূরকুঙ্কুমপটীরহিমৈর্বিধায় সন্মণ্ডলং তদুপরীহ যজেন্মৃড়ানীম্ ॥ ৭॥

৮

চঞ্চত্তডিন্মিহিরকোটিকরাং বিচেলা- মুদ্যৎকবন্ধরুধিরাং দ্বিভুজাং ত্রিনেত্রাম্ । বামে বিকীর্ণকচশীর্ষকরে পরে তামীডে পরং পরমকর্ত্রিকয়া সমেতাম্ ॥ ৮॥

৯

কামেশ্বরাঙ্গনিলয়াং কলয়া সুধাংশোর্বিভ্রাজমানহৃদয়ামপরে স্মরন্তি । সুপ্তাহিরাজসদৃশীং পরমেশ্বরস্থাং ত্বামাদ্রিরাজতনয়ে চ সমানমানাঃ ॥ ৯॥

১০

লিঙ্গত্রয়োপরিগতামপি বহ্নিচক্র- পীঠানুগাং সরসিজাসনসন্নিবিষ্টাম্ । সুপ্তাং প্রবোধ্য ভবতীং মনুজা গুরূক্তহূংকারবায়ুবশিভির্মনসা ভজন্তি ॥ ১০॥

১১

শুভ্রাসি শান্তিককথাসু তথৈব পীতা স্তম্ভে রিপোরথ চ শুভ্রতরাসি মাতঃ । উচ্চাটনেঽপ্যসিতকর্মসুকর্মণি ত্বং সংসেব্যসে স্ফটিককান্তিরনন্তচারে ॥ ১১॥

১২

ত্বামুৎপলৈর্মধুযুতৈর্মধুনোপনীতৈর্গব্যৈঃ পয়োবিলুলিতৈঃ শতমেব কুণ্ডে । সাজ্যৈশ্চ তোষয়তি যঃ পুরুষস্ত্রিসন্ধ্যং ষণ্মাসতো ভবতি শক্রসমো হি ভূমৌ ॥ ১২॥

১৩

জাগ্রৎস্বপন্নপি শিবে তব মন্ত্ররাজমেবং বিচিন্তয়তি যো মনসা বিধিজ্ঞঃ । সংসারসাগরসমৃদ্ধরণে বহিত্রং চিত্রং ন ভূতজননেঽপি জগৎসু পুংসঃ ॥ ১৩॥

১৪

ইয়ং বিদ্যা বন্দ্যা হরিহরবিরিঞ্চিপ্রভৃতিভিঃ পুরারাতেরন্তঃ পুরমিদমগম্যং পশুজনৈঃ । সুধামন্দানন্দৈঃ পশুপতিসমানব্যসনিভিঃ সুধাসেব্যৈঃ সদ্ভির্গুরুচরণসংসারচতুরৈঃ ॥ ১৪॥

১৫

কুণ্ডে বা মণ্ডলে বা শুচিরথ মনুনা ভাবয়ত্যেব মন্ত্রী সংস্থাপ্যোচ্চৈর্জুহোতি প্রসবসুফলদৈঃ পদ্মপালাশকানাম্ । হৈমং ক্ষীরৈস্তিলৈর্বাং সমধুককুসুমৈর্মালতীবন্ধুজাতীশ্বেতৈরব্ধং সকানামপি বরসমিধা সম্পদে সর্বসিদ্ধ্যৈ ॥ ১৫॥

১৬

অন্ধঃ সাজ্যং সমাংসং দধিযুতমথবা যোঽন্বহং যামিনীনাং মধ্যে দেব্যৈ দদাতি প্রভবতি গৃহগা শ্রীরমুষ্যাবখণ্ডা । আজ্যং মাংসং সরক্তং তিলযুতমথবা তণ্ডুলং পায়সং বা হুত্বা মাংসং ত্রিসন্ধ্যং স ভবতি মনুজো ভূতিভির্ভূতনাথঃ ॥ ১৬॥

১৭

ইদং দেব্যাঃ স্তোত্রং পঠতি মনুজো যস্ত্রিসময়ং শুচির্ভূত্বা বিশ্বে ভবতি ধনদো বাসবসমঃ । বশা ভূপাঃ কান্তা নিখিলরিপুহন্তুঃ সুরগণা ভবন্ত্যুচ্চৈর্বাচো যদিহ ননু মাসৈস্ত্রিভিরপি ॥ ১৭॥ ইতি শ্রীশঙ্করাচার্যবিরচিতঃ প্রচণ্ডচণ্ডিকাস্তবরাজঃ সমাপ্তঃ ॥
শ্রীছিন্নমস্তাকবচম্‌ (ত্রৈলোক্যবিজয়) — সম্পূর্ণ পাঠ

এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।

১

দেব্যুবাচ । কথিতাশ্ছিন্নমস্তায়া যা যা বিদ্যা সুগোপিতাঃ । ত্বয়া নাথেন জীবেশ শ্রুতাশ্চাধিগতা ময়া ॥ ১॥

২

ইদানীং শ্রোতুমিচ্ছামি কবচং সর্বসূচিতম্ । ত্রৈলোক্যবিজয়ং নাম কৃপয়া কথ্যতাং প্রভো ॥ ২॥

৩

ভৈরব উবাচ । শৃণু বক্ষ্যামি দেবেশি সর্বদেবনমস্কৃতে । ত্রৈলোক্যবিজয়ং নাম কবচং সর্বমোহনম্ ॥ ৩॥

৪

সর্ববিদ্যাময়ং সাক্ষাৎসুরাসুরজয়প্রদম্ । ধারণাৎপঠনাদীশস্ত্রৈলোক্যবিজয়ী বিভুঃ ॥ ৪॥

৫

ব্রহ্মা নারায়ণো রুদ্রো ধারণাৎপঠনাদ্যতঃ । কর্তা পাতা চ সংহর্তা ভুবনানাং সুরেশ্বরি ॥ ৫॥

৬

ন দেয়ং পরশিষ্যেভ্যোঽভক্তেভ্যোঽপি বিশেষতঃ । দেয়ং শিষ্যায় ভক্তায় প্রাণেভ্যোঽপ্যধিকায় চ ॥ ৬॥

৭

দেব্যাশ্চ ছিন্নমস্তায়াঃ কবচস্য চ ভৈরবঃ । ঋষিস্তু স্যাদ্বিরাট্ ছন্দো দেবতা ছিন্নমস্তকা ॥ ৭॥

৮

ত্রৈলোক্যবিজয়ে মুক্তৌ বিনিয়োগঃ প্রকীর্তিতঃ । হুঙ্কারো মে শিরঃ পাতু ছিন্নমস্তা বলপ্রদা ॥ ৮॥

৯

হ্রাং হ্রূং ঐং ত্র্যক্ষরী পাতু ভালং বক্ত্রং দিগম্বরা । শ্রীং হ্রীং হ্রূং ঐং দৃশৌ পাতু মুণ্ডং কর্ত্রিধরাপি সা ॥ ৯॥

১০

সা বিদ্যা প্রণবাদ্যন্তা শ্রুতিযুগ্মং সদাঽবতু । বজ্রবৈরোচনীয়ে হুং ফট্ স্বাহা চ ধ্রুবাদিকা ॥ ১০॥

১১

ঘ্রাণং পাতু ছিন্নমস্তা মুণ্ডকর্ত্রিবিধারিণী । শ্রীমায়াকূর্চবাগ্বীজৈর্বজ্রবৈরোচনীয়হ্রূম্ ॥ ১১॥

১২

হূং ফট্ স্বাহা মহাবিদ্যা ষোড়শী ব্রহ্মরূপিণী । স্বপার্শ্বে বর্ণিনী চাসৃগ্ধারাং পায়য়তী মুদা ॥ ১২॥

১৩

বদনং সর্বদা পাতু ছিন্নমস্তা স্বশক্তিকা । মুণ্ডকর্ত্রিধরা রক্তা সাধকাভীষ্টদায়িনী ॥ ১৩॥

১৪

বর্ণিনী ডাকিনীযুক্তা সাপি মামভিতোঽবতু । রামাদ্যা পাতু জিহ্বাং চ লজ্জাদ্যা পাতু কণ্ঠকম্ ॥ ১৪॥

১৫

কূর্চাদ্যা হৃদয়ং পাতু বাগাদ্যা স্তনযুগ্মকম্ । রময়া পুটিতা বিদ্যা পার্শ্বৌ পাতু সুরেশ্বরী ॥ ১৫॥

১৬

মায়য়া পুটিতা পাতু নাভিদেশে দিগম্বরা । কূর্চেণ পুটিতা দেবী পৃষ্ঠদেশে সদাঽবতু ॥ ১৬॥

১৭

বাগ্বীজপুটিতা চৈষা মধ্যং পাতু সশক্তিকা । ঈশ্বরী কূর্চবাগ্বীজৈর্বজ্রবৈরোচনীয়হ্রূম্ ॥ ১৭॥

১৮

হূংফট্ স্বাহা মহাবিদ্যা কোটিসূর্য্যসমপ্রভা । ছিন্নমস্তা সদা পায়াদুরুযুগ্মং সশক্তিকা ॥ ১৮॥

১৯

হ্রীং হ্রূং বর্ণিনী জানুং শ্রীং হ্রীং চ ডাকিনী পদম্ । সর্ববিদ্যাস্থিতা নিত্যা সর্বাঙ্গং মে সদাঽবতু ॥ ১৯॥

২০

প্রাচ্যাং পায়াদেকলিঙ্গা যোগিনী পাবকেঽবতু । ডাকিনী দক্ষিণে পাতু শ্রীমহাভৈরবী চ মাম্ ॥ ২০॥

২১

নৈর্ঋত্যাং সততং পাতু ভৈরবী পশ্চিমেঽবতু । ইন্দ্রাক্ষী পাতু বায়ব্যেঽসিতাঙ্গী পাতু চোত্তরে ॥ ২১॥

২২

সংহারিণী সদা পাতু শিবকোণে সকর্ত্রিকা । ইত্যষ্টশক্তয়ঃ পান্তু দিগ্বিদিক্ষু সকর্ত্রিকাঃ ॥ ২২॥

২৩

ক্রীং ক্রীং ক্রীং পাতু সা পূর্বং হ্রীং হ্রীং মাং পাতু পাবকে । হ্রূং হ্রূং মাং দক্ষিণে পাতু দক্ষিণে কালিকাঽবতু ॥ ২৩॥

২৪

ক্রীং ক্রীং ক্রীং চৈব নৈর্ঋত্যাং হ্রীং হ্রীং চ পশ্চিমেঽবতু । হ্রূং হ্রূং পাতু মরুৎকোণে স্বাহা পাতু সদোত্তরে ॥ ২৪॥

২৫

মহাকালী খড্গহস্তা রক্ষঃকোণে সদাঽবতু । তারো মায়া বধূঃ কূর্চং ফট্ কারোঽয়ং মহামনুঃ ॥ ২৫॥

২৬

খড্গকর্ত্রিধরা তারা চোর্ধ্বদেশং সদাঽবতু । হ্রীং স্ত্রীং হূং ফট্ চ পাতালে মাং পাতু চৈকজটা সতী । তারা তু সহিতা খেঽব্যান্মহানীলসরস্বতী ॥ ২৬॥

২৭

ইতি তে কথিতং দেব্যাঃ কবচং মন্ত্রবিগ্রহম্ । যদ্ধৃত্বা পঠনান্ভীমঃ ক্রোধাখ্যো ভৈরবঃ স্মৃতঃ ॥ ২৭॥

২৮

সুরাসুরমুনীন্দ্রাণাং কর্তা হর্তা ভবেৎস্বয়ম্ । যস্যাজ্ঞয়া মধুমতী যাতি সা সাধকালয়ম্ ॥ ২৮॥

২৯

ভূতিন্যাদ্যাশ্চ ডাকিন্যো যক্ষিণ্যাদ্যাশ্চ খেচরাঃ । আজ্ঞাং গৃহ্ণন্তি তাস্তস্য কবচস্য প্রসাদতঃ ॥ ২৯॥

৩০

এতদেবং পরং ব্রহ্মকবচং মন্মুখোদিতম্ । দেবীমভ্যর্চ্য গন্ধাদ্যৈর্মূলেনৈব পঠেৎসকৃৎ ॥ ৩০॥

৩১

সংবৎসরকৃতায়াস্তু পূজায়াঃ ফলমাপ্নুয়াৎ । ভূর্জে বিলিখিতং চৈতদ্গুটিকাং কাঞ্চনস্থিতাম্ ॥ ৩১॥

৩২

ধারয়েদ্দক্ষিণে বাহৌ কণ্ঠে বা যদি বান্যতঃ । সর্বৈশ্বর্যযুতো ভূত্বা ত্রৈলোক্যং বশমানয়েৎ ॥ ৩২॥

৩৩

তস্য গেহে বসেল্লক্ষ্মীর্বাণী চ বদনাম্বুজে । ব্রহ্মাস্ত্রাদীনি শস্ত্রাণি তদ্গাত্রে যান্তি সৌম্যতাম্ ॥ ৩৩॥

৩৪

ইদং কবচমজ্ঞাত্বা যো ভজেচ্ছিন্নমস্তকাম্ । সোঽপি শস্ত্রপ্রহারেণ মৃত্যুমাপ্নোতি সত্বরম্ ॥ ৩৪॥

প্রধান মন্দির

ছিন্নমস্তিকা মন্দির, রজরপ্পা
রজরপ্পা, রামগড় জেলা, ঝাড়খণ্ড — দামোদর ও ভেড়া নদীর সঙ্গমে

ভারতের সবচেয়ে বিখ্যাত ছিন্নমস্তা মন্দির; শক্তিপীঠ বলে গণ্য। প্রাচীন মন্দির, আসাম-ধারার স্থাপত্য। বাঙালি ভক্তদের মধ্যেও অত্যন্ত জনপ্রিয়।

ছিন্নমস্তা মন্দির, চিন্তপূর্ণী, হিমাচল প্রদেশ — ছিন্নমস্তিকা দেবী নামে পূজিতা; একান্ন পীঠের একটি বলে বিশ্বাস।

রজরপ্পা — উইকিপিডিয়া

মন্দির

ছিন্নমস্তিকা মন্দির, রজরপ্পা
ছিন্নমস্তিকা মন্দির, রজরপ্পা
ছবি: Kuarun · CC BY-SA 3.0 · কমন্স
ছিন্নমস্তিকা মন্দির, রজরপ্পা
ছিন্নমস্তিকা মন্দির, রজরপ্পা
ছবি: Flashthomsom · CC0 · কমন্স

বিগ্রহ

বিগ্রহের চিত্র পাওয়া যায় নাই।

কাহিনী

তিন ধারা

চিত্রটা যতই ভয়ংকর লাগুক, তন্ত্রে এর একটি ব্যাখ্যা এই। দেবীর গলা থেকে তিনটি ধারা বেরোচ্ছে — বাঁ দিকেরটি ইড়া, ডান দিকেরটি পিঙ্গলা, আর মাঝেরটি সুষুম্না। দুই সখী ডাকিনী ও বর্ণিনী দুই নাড়ি; তাঁরা পান করছেন মানে প্রাণ চলছে। মাঝের ধারা দেবী নিজেই পান করছেন — অর্থাৎ শক্তি বাইরে না গিয়ে নিজের মধ্যেই ফিরছে। মাথা কাটা মানে মৃত্যু নয়, মাথা কাটা মানে ‘আমি’-বোধের ছেদ। যে সাধকের ‘আমি’-বোধ ছিন্ন হয়, সে-ই দেখতে পায় যে আসল দেখা মাথা দিয়ে হয় না।

বই


এই রূপের প্রচলিত বাংলা গান বিশেষ নাই। সমস্ত গান →

সতর্কবার্তা। এই পৃষ্ঠার মন্ত্রসমূহ স্বেচ্ছায় জপ করিবার বস্তু নহে। দশমহাবিদ্যার তান্ত্রিক মন্ত্র — বিশেষতঃ বীজমন্ত্র, পঞ্চদশী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী ও মাতঙ্গীর মন্ত্র — শাস্ত্রমতে দীক্ষা ব্যতীত জপের বিধান নাই। গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করিয়া, তাঁহার আদেশে, তাঁহার তত্ত্বাবধানেই ইহা অনুষ্ঠেয়। গুরুর পথনির্দেশ ব্যতিরেকে কেহ স্বয়ং চেষ্টা করিবেন না। এখানে মন্ত্র উদ্ধৃত হইয়াছে পাঠ, পরিচয় ও অর্থবোধের নিমিত্ত — সাধনার নির্দেশিকারূপে নহে।

মন্ত্র, ধ্যান ও স্তোত্র নানা গ্রন্থে পাঠভেদে ভিন্ন হইয়া থাকে; অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পূর্বে মুদ্রিত পুঁথি ও পঞ্জিকার সহিত মিলাইয়া লইবেন।

শক্তি — সমস্ত রূপের সূচি · স্বীকৃতি · গোপনীয়তার নীতি