ধূমাবতী
সপ্তম মহাবিদ্যা · বিধবা · জ্যেষ্ঠা · অলক্ষ্মী
পরিচয়
দশমহাবিদ্যার একমাত্র বিধবা রূপ। তাঁহার সঙ্গে শিব নাই — কারণ তিনি শিবকেই গ্রাস করিয়াছেন। সেই হেতু তিনি ‘একাকিনী’, আর তাঁহার রূপ শূন্যতার।
রূপ — বিবর্ণা, দীর্ঘাঙ্গী, শীর্ণা, মলিন বসন, রুক্ষ এলোমেলো কেশ, দন্ত পড়িয়া গিয়াছে। কাকধ্বজ রথে অথবা কাকের পৃষ্ঠে তিনি উপবিষ্টা; হস্তে শূর্প। বদনে সর্বদা ক্ষুধা।
দেখিতে অশুভ, কিন্তু তন্ত্র বলে — যে সমস্ত ভয় ও অভাবকে মা বলিয়া মানিয়া লইতে পারে, তাহার আর হারাইবার কিছু থাকে না। ধূমাবতী দুঃখকেই দেবী করিয়া তোলেন। বিপদ, রোগ, বিবাদ ও শত্রু হইতে রক্ষা পাইবার নিমিত্ত তাঁহার উপাসনা।
উৎপত্তির কাহিনী
কাহিনী এই — একদা সতী শিবের সহিত ছিলেন, এবং তাঁহার প্রবল ক্ষুধা পাইল। পুনঃপুনঃ বলিলেন, ‘আমাকে কিছু আহার দাও।’ শিব ধ্যানমগ্ন, বলিলেন, ‘কিঞ্চিৎ অপেক্ষা কর।’
ক্ষুধা সহ্য করিতে না পারিয়া সতী কহিলেন, ‘তবে তোমাকেই খাই।’ — এবং শিবকে গ্রাস করিলেন। তৎক্ষণাৎ তাঁহার শরীর হইতে ধূম নির্গত হইতে লাগিল।
উদরের অভ্যন্তর হইতে শিব বলিলেন, ‘তুমি আমাকে গ্রাস করিলে, অতএব অদ্য হইতে তুমি বিধবা। এই ধূমাবৃত রূপেই তুমি থাকিবে, তোমার নাম হইবে ধূমাবতী।’ শিব নির্গত হইলেন, কিন্তু দেবীর ধূমের আবরণ আর ঘুচিল না।
সমুদ্রমন্থনের কথাও শোনা যায়। লক্ষ্মীর পূর্বে উত্থিতা হইয়াছিলেন জ্যেষ্ঠা, অর্থাৎ অলক্ষ্মী; তিনিই ধূমাবতী। যেখানে অভাব, সেইখানেই তাঁহার বাস।
মন্ত্র
মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।
সপ্তাক্ষর (ওঁ-সহ ৮ অক্ষর)
অষ্টাক্ষর (ওঁ-সহ ৯ অক্ষর)
নবাক্ষর (ওঁ-সহ ১০ অক্ষর)
চতুর্দশাক্ষর (ওঁ-সহ ১৫ অক্ষর)
মূলমন্ত্র (ওঁ-সহ ১১ অক্ষর)
ধ্যানমন্ত্র
বঙ্গানুবাদ
- তিনি বিবর্ণা, চঞ্চলা, রুষ্টা, দীর্ঘাকৃতি, মলিনবসনা।
- তাঁহার কেশ বিবর্ণ ও রুক্ষ; তিনি বিধবা, দন্ত বিরল।
- কাকধ্বজ রথে আরূঢ়া; স্তন লম্বমান।
- এক হাতে শূর্প (কুলা), নয়ন অতি রুক্ষ; অন্য হাত কম্পমান, তাহাতে বরমুদ্রা।
- নাসিকা অতি দীর্ঘ; তিনি কুটিলা, দৃষ্টিও কুটিল।
- সর্বদা ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতরা, ভয়দায়িনী, কলহের আশ্রয় — এইরূপে তাঁহার ধ্যান করিতে হয়।
শব্দে-শব্দে অর্থ
প্রথম পদে কোনও পাঠে ‘রুষ্টা’ (ক্রুদ্ধা), কোনওটিতে ‘দুষ্টা’; এখানে ‘রুষ্টা’ রাখা হইল। দুইটির অর্থই নীচে দেওয়া হইল।
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| বিবর্ণা | ফ্যাকাশে |
| চঞ্চলা | অস্থিরা |
| দুষ্টা | দুষ্টা (পাঠান্তরে ‘রুষ্টা’ — ক্রুদ্ধা) |
| রুষ্টা | ক্রুদ্ধা |
| দীর্ঘা | দীর্ঘাঙ্গী |
| মলিনাম্বরা | মলিন বস্ত্রপরিহিতা |
| বিবর্ণকুন্তলা | বিবর্ণ কেশযুক্তা |
| রূক্ষা | রুক্ষা; শুষ্কা |
| বিরলদ্বিজা | বিরল দন্তযুক্তা |
| ধ্বজ | ধ্বজা |
| আরূঢা | আরোহণকারিণী |
| বিলম্বিত | লম্বিত |
| পয়োধরা | স্তন |
| শূর্প | কুলা; শস্য ঝাড়িবার পাত্র |
| হস্তা | হস্তে ধারণকারিণী |
| অতিরূক্ষ | অত্যন্ত রুক্ষ |
| অক্ষ | নয়ন |
| ধূতহস্তা | কম্পমান হস্তযুক্তা |
| বরান্বিতা | বরদানসমন্বিতা |
| প্রবৃদ্ধ | অতিবৃদ্ধ; বৃহৎ |
| ঘোণা | নাসিকা |
| কুটিলা | বক্রা |
| কুটিলেক্ষণা | বক্রদৃষ্টিযুক্তা |
| ক্ষুৎ | ক্ষুধা |
| পিপাসা | তৃষ্ণা |
| অর্দিতা | পীড়িতা |
| ভয়দা | ভয়দায়িনী |
| কলহাস্পদা | কলহের আশ্রয়স্বরূপা |
প্রণাম মন্ত্র
বঙ্গানুবাদ
হে ধূমাবতী, হে মহাবিদ্যা, হে সর্বদুঃখনিবারিণী; হে দারিদ্র্য ও দুঃখের শমনকারিণী ধূমাবতী, তোমাকে প্রণাম।
গায়ত্রী
বঙ্গানুবাদ
ধূমাবতীকে জানি, সংহাররূপিণীকে ধ্যান করি — সেই ধূমা আমাদের প্রেরণা দিন।
স্তোত্র — ধূমাবতী স্তুতি
বাংলা অর্থ
- প্রাতে যিনি কুমারী, মধ্যাহ্নে যুবতী, সায়াহ্নে বৃদ্ধা — হে ধূমাবতী, তোমাকে প্রণাম। (জীবনের তিন কালই তিনি।)
- ক্ষুধা ও তৃষ্ণাই যাঁহার রূপ, অথচ যিনি মাতা; যিনি নিত্য দুঃখরাশি নাশ করেন —
- শত্রুনাশিনী সেই দেবী — হে ধূমাবতী, তোমাকে প্রণাম।
শ্রীধূমাবতীস্তোত্রম্ (ধূমাবত্যষ্টকম্) — সম্পূর্ণ পাঠ
পাঠকের জন্য টীকা। ফলশ্রুতিতে মারণ, উচ্চাটন, স্তম্ভন প্রভৃতি অভিচার-কর্মের উল্লেখ আছে। এগুলি তন্ত্রের প্রাচীন শাস্ত্রীয় বর্ণনা; আজকের পূজা-পাঠে ইহাদের কোনও স্থান নাই, আর কাহারও ক্ষতি কামনা করা ভক্তির পথ নহে। পাঠটি এখানে শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল।
১
প্রাতে যিনি কুমারী — পুষ্পকলিকার জপমালা লইয়া জপ করেন; মধ্যাহ্নে প্রৌঢ়রূপা, বিকশিত বদনা ও চারুনেত্রা; সন্ধ্যায় বৃদ্ধরূপা, গলিতকুচযুগা, মুণ্ডমালাধারিণী — সেই দেবী, দেবদেবী, ত্রিভুবনজননী কালিকা তোমাদিগকে রক্ষা করুন।
২
খট্বাঙ্গের প্রান্তে কপিলবর্ণ জটামণ্ডল বাঁধিয়া, শ্রেষ্ঠ দৈত্যদের মুণ্ডে বক্ষে মালা ও গরুড়ের পালকে শিরোভূষণ রচনা করিয়া, দেবতাদের রক্তে পূর্ণ যমমহিষের মহাশৃঙ্গ হস্তে লইয়া — প্রলয়ে কালরাত্রির সহিত উদিত, বন্দ্যমান সেই ভৈরব তোমাদিগকে রক্ষা করুন।
৩
অস্থিখণ্ড চর্বণ করিতে করিতে প্রকট ‘কটকটা’ শব্দসংঘাত করিতেছেন; প্রেতের মধ্যে ‘কহহ-কহকহা’ উগ্র হাস্য করিতেছেন সেই কৃশাঙ্গী; ডমরুর ‘ডিমডিমা’ ধ্বনিতে মুখাব্জ স্ফারিত করিয়া ‘ঝঝম-ঝমঝমা’ জল্পনা করিতে করিতে ভ্রমণ করিতেছেন — সেই চণ্ডিকা আমাদিগকে রক্ষা করুন।
৪
‘টণ্টণ্টণ্টণ্টটণ্টা’ শব্দে নাটঘণ্টা বহন করিতেছেন; ‘স্ফেং স্ফেং’ স্ফারকারা, টকটক শব্দময় হাস্যে ও নাদসংঘট্টে ভীমা; দোলায়মান মুণ্ডাগ্রমালা, ‘ললহলহলহা’ চঞ্চল বাক্; ‘মটমটমটিতে’ চণ্ড ও মুণ্ড চর্বণ করিতে করিতে তিনি আমাদিগকে পবিত্র করুন।
৫
বাম কর্ণে মৃগাঙ্ক, দক্ষিণে সূর্যবিম্ব, কণ্ঠে নক্ষত্রহার, বিকট জটাজূটে মুণ্ডমালা; স্কন্ধে উরগেন্দ্রধ্বজ ও ব্রহ্মার কঙ্কালভার — সংহারকালে এই সকল ধারণ করিয়া সেই ভদ্রদা ভদ্রকালী আমার ভয় হরণ করুন।
৬
তৈলাভ্যক্ত একবেণী, ত্রপুময় কর্ণিকায় আক্রান্ত কর্ণ, একটিমাত্র লৌহে চরণনলিনের শোভা; দিগ্বাসা, রাসভযুক্তা — মায়ার দ্বারা এই জগৎ গ্রাস করেন; কর্ণপূরা, অতিপ্রবদ্ধা, ধ্বজের ন্যায় বিতত ভুজা — হে দেবী, তুমিই সেই দেবী।
৭
সংগ্রামে অস্ত্রে নিহত যোদ্ধাদের রক্তমাখা মস্তকে মালা গাঁথিয়া মূর্ধায় বাঁধিয়া, বিতত ভুজা হইয়া তুমি শ্মশানে প্রবেশ করিয়াছ। অসংখ্য ভূত তোমাকে দেখিতেছে; পৃথুতর জঘনা, কটিতে নাগেন্দ্রের কাঞ্চী, হস্তে শূলাগ্র, রুধিরে সদা রঞ্জিতা, রাত্রিতে তাম্রনেত্রা।
৮
হে দেবী, তোমার এই রৌদ্র মুখে ও দংষ্ট্রায় ক্ষণার্ধেই সমস্ত জগৎ প্রবেশ করে। সংসারের অন্তকালে, নররুধির ও বসার প্লাবনে ধূম্রাচ্ছন্ন ভূমিতে — সেই কালী, কাপালিকী, শবশয়নতরা, যোগিনী, যোগমুদ্রা, রক্তা, সভাস্থা, মরণভয়হরা শিবা চণ্ডঘণ্টা তুমিই।
ফলশ্রুতি
৯
এই পুণ্য ধূমাবত্যষ্টক সর্ব আপদের নিবারক। যে সাধক ভক্তিসহকারে ইহা পাঠ করেন, তিনি বাঞ্ছিত সিদ্ধি লাভ করেন।
১০
মহাবিপদে, মহাঘোরে, মহারোগে, মহারণে; শত্রুর উচ্চাটনে, মারণাদিতে এবং জন্তুগণের মোহনেও —
১১
হে দেবী, এই স্তোত্র পাঠ করিলে সর্বত্র সিদ্ধির ভাগী হয়। দেব, দানব, গন্ধর্ব, যক্ষ, রাক্ষস ও পন্নগ —
১২
সিংহ, ব্যাঘ্র প্রভৃতি সকলেই কেবল স্তোত্রস্মরণমাত্রেই দূর হইতে দূরতরে চলিয়া যায় — তবে মনুষ্যাদির কথা আর কী।
১৩
হে দেবেশী, এই স্তোত্রে ভূতলে কী না সিদ্ধ হয়? হে দেবী, সর্বশান্তি লাভ হয় এবং অন্তে নির্বাণ প্রাপ্তি ঘটে।
এইরূপে ঊর্ধ্বাম্নায়ে ধূমাবতীস্তোত্র সমাপ্ত হইল।
কয়েকটি শব্দের অর্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| কুসুমকলিকা | ফুলের কুঁড়ি |
| গলিতকুচযুগা | শিথিল স্তনযুগলবিশিষ্টা |
| খট্বাঙ্গ | মুণ্ডশীর্ষ দণ্ড |
| পদ্মযোনি | ব্রহ্মা |
| তার্ক্ষ্য | গরুড় |
| মৃগাঙ্ক | চন্দ্র |
| উরগেন্দ্র | নাগরাজ |
| ত্রপু | রাং (টিন) |
| দিগ্বাসা | দিগ্বাসা; দিক্ই যাঁহার বসন |
| রাসভ | গর্দভ — কোনও কোনও ধ্যানে ধূমাবতীর বাহন (প্রচলিত ধ্যানে কাক) |
| কাঞ্চী | কটিবন্ধনী |
| বসা | মেদ |
| কাপালিকী | কপালধারিণী |
| উচ্চাটন | তন্ত্রোক্ত ষট্কর্মের একটি |
| স্তম্ভন | গতিরোধ |
| পন্নগ | সর্প |
| নির্বাণ | পরম মুক্তি |
শ্রীধূমাবত্যষ্টোত্তরশতনামস্তোত্রম্ — সম্পূর্ণ পাঠ
পাঠকের জন্য টীকা। এই পাঠে মাংস, মদ্য ও বলির মতো বামাচারী তান্ত্রিক উপচারের উল্লেখ আছে। এগুলি বিশেষ সাধনপথের পরিভাষা, সাধারণ গৃহপূজার বিধি নহে। পাঠটি শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল।
এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।
১
২
৩
৪
৫
৬
৭
৮
৯
১০
১১
১২
১৩
১৪
১৫
১৬
১৭
১৮
১৯
শ্রীধূমাবতীকবচম্ — সম্পূর্ণ পাঠ
১
শ্রীপার্বতী কহিলেন — হে শম্ভু, ধূমাবতীর অর্চনা আমি বিস্তারে শুনিয়াছি। এখন তাঁহার কবচ শুনিতে ইচ্ছা করি; হে দেব, আমাকে বলুন।
২
শ্রীভৈরব কহিলেন — হে দেবী, শুন; ইহা পরম গুহ্য, কলিযুগে প্রকাশ্য নহে। ইহা শ্রীধূমাবতীর কবচ, শত্রুনিগ্রহকারক।
৩
হে দেবী, ব্রহ্মাদি দেবতারা যাঁহার বশে সতত শত্রুঘাতী; যাঁহার ধ্যানের প্রভাবে যোগীরাও শত্রুনাশক হন।
৪
এই শ্রীধূমাবতীকবচের ঋষি পিপ্পলাদ, ছন্দ অনুষ্টুপ্, দেবতা শ্রীধূমাবতী, বীজ ‘ধূং’, শক্তি ‘স্বাহা’, কীলক ‘ধূমাবতী’; শত্রুহননের নিমিত্ত পাঠে ইহার বিনিয়োগ। — ‘ধূং’ বীজ আমার শির রক্ষা করুক, ‘ধূং’ সর্বদা ললাট; ‘ধূমা’ দুই নেত্র রক্ষা করুক, ‘বতী’ সর্বদা দুই কর্ণ।
৫
দীর্ঘা উদরের মধ্যভাগ রক্ষা করুন, মলিনাম্বরা নাভি; শূর্পহস্তা গুহ্যদেশ রক্ষা করুন, রূক্ষা দুই জানু।
৬
ভীমা নামে যিনি, তিনি আমার মুখ রক্ষা করুন; স্বাহা নাসিকা রক্ষা করুন। সর্ববিদ্যা কণ্ঠ রক্ষা করুন, বিবর্ণা দুই বাহু।
৭
চঞ্চলা হৃদয় রক্ষা করুন, ধৃষ্টা সর্বদা পার্শ্বদেশ; ধূমহস্তা সর্বদা রক্ষা করুন, ভয়াবহা দুই পদ রক্ষা করুন।
৮
প্রবৃদ্ধরোমা, অতিশয় কুটিলা, কুটিলনয়না, ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় আর্তা, ভয়দাত্রী, কলহপ্রিয়া সেই দেবী —
ফলশ্রুতি
৯
সর্বশত্রুবিনাশিনী সেই দেবী আমার সর্বাঙ্গ রক্ষা করুন। এইরূপে তোমাকে এই পুণ্য কবচ বলিলাম, যাহা ভুবনে দুর্লভ।
১০
কলিযুগে ইহা প্রকাশ্য নহে, প্রকাশ্য নহে, প্রকাশ্য নহে। হে মহাদেবী, ধ্যানতৎপর ব্যক্তিরা ত্রিসন্ধ্যায় ইহা পাঠ করিবেন। হে দেবেশী, দুষ্টের অভিচার তাঁহাদের দেহ স্পর্শও করিতে পারিবে না।
এইরূপে ভৈরবী-ভৈরব সংবাদে ধূমাবতীতত্ত্বে ধূমাবতীকবচ সম্পূর্ণ হইল।
কয়েকটি শব্দের অর্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| বিনিয়োগ | পাঠের আগে ঋষি-ছন্দ-দেবতা নির্দেশ |
| কীলক | মন্ত্রের ‘খিল’, যাহা খুলিলে মন্ত্র সক্রিয় |
| মলিনাম্বরা | মলিন বস্ত্র পরিহিতা |
| শূর্প | কুলা |
| রূক্ষা | শুষ্কা, নিরাভরণা |
| বিবর্ণা | বর্ণহীনা, ফ্যাকাশে |
| অভিচার | মারণ-উচ্চাটনাদি ক্রিয়া |
প্রধান মন্দির
ধূমাবতী মন্দির
ধূপচণ্ডী, বারাণসী, উত্তরপ্রদেশ
ভারতের সবচেয়ে পরিচিত ধূমাবতী মন্দিরগুলির একটি; কাশীর পুরনো পাড়ার সরু গলির ভিতরে ছোট মন্দির।
ধূমাবতী মন্দির, দাতিয়া, মধ্যপ্রদেশ — পীতাম্বরা পীঠ চত্বরে, বগলামুখী মন্দিরের পাশে; প্রতিষ্ঠা ১৯৭৮ সালে। প্রচলিত নিয়মে সধবা নারীরা এখানে দেবীর দর্শন করেন না।
মন্দির
এই মন্দিরের চিত্র পাওয়া যায় নাই।
বিগ্রহ
বিগ্রহের চিত্র পাওয়া যায় নাই।
কাহিনী
খিদে যখন দেবী
অনেক রূপের হাতে অস্ত্র; ধূমাবতীর হাতে কুলো। কুলো দিয়ে চাল ঝাড়া হয় — ভালোটা থাকে, খোসা উড়ে যায়। তাঁর কাজও তাই। তিনি কিছু দেন না, কেড়ে নেন; আর যা কেড়ে নেন তা আসলে খোসা। সাধকেরা বলেন, জীবনে যখন সব চলে যায়, আর কিছুই আঁকড়ে ধরার থাকে না — সেই মুহূর্তটাই ধূমাবতীর দর্শন। তাই তাঁকে অশুভ বলা যায় না; তিনি সেই মা, যিনি হাত খালি করে দিয়ে হাত ধরার জায়গা করে দেন।
বই
- ভারতের শক্তি-সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য
লেখক / সংকলক: শশিভূষণ দাশগুপ্ত
প্রকাশক: সাহিত্য সংসদ, কলকাতা
ধূমাবতী-সহ দশ মহাবিদ্যার স্থান ও অর্থ।