শক্তি
দেবীর রূপ, মন্ত্র, কাহিনী ও সঙ্গীত

কমলা

দশম মহাবিদ্যা · কমলাত্মিকা · মহালক্ষ্মী · শ্রী

পরিচয়

দশমহাবিদ্যার অন্তিম ও সর্বাপেক্ষা সৌম্য রূপ — কমলা, অর্থাৎ পদ্মে অধিষ্ঠিতা। ইনিই তন্ত্রের মহালক্ষ্মী। কালী দিয়া যে তালিকার আরম্ভ, কমলা দিয়া তাহার শেষ — সংহার হইতে শ্রী পর্যন্ত সম্পূর্ণ বৃত্ত।

রূপ — স্বর্ণের ন্যায় অঙ্গকান্তি, পদ্মাসনে উপবিষ্টা, চারি হস্তে দুইটি পদ্ম, বর ও অভয়। চতুর্দিকে চারিটি শ্বেত হস্তী স্বর্ণকলসে তাঁহাকে অভিষেক করিতেছে।

সাধকেরা মনে করাইয়া দেন — কমলা কেবল অর্থের দেবী নহেন; অধর্মের পথে যে ধন আসে, তাহা শ্রী নহে। সমুদ্রমন্থনে লক্ষ্মীর পূর্বে উঠিয়াছিলেন জ্যেষ্ঠা (অলক্ষ্মী), যাঁহাকে ধূমাবতীর সহিত এক বলিয়া ধরা হয় — সেই অর্থে কমলা ও ধূমাবতী একই মুদ্রার দুই পৃষ্ঠ: একজন পূর্ণতা, অন্যজন শূন্যতা।

উৎপত্তির কাহিনী

সমুদ্রমন্থনের কাহিনী। দেবাসুর মিলিয়া মন্দার পর্বত দ্বারা ক্ষীরসাগর মন্থন করিতেছিলেন। একে একে উঠিয়া আসিল চন্দ্র, কামধেনু, পারিজাত, ঐরাবত, বারুণী। অনন্তর উঠিয়া আসিলেন এক দেবী — হস্তে পদ্ম, অঙ্গে স্বর্ণাভা।

সমুদ্র স্বয়ং তাঁহাকে মাল্য পরাইলেন, নদীরা জল দিলেন, চারিটি দিগ্‌গজ স্বর্ণকলস তুলিয়া তাঁহাকে স্নান করাইল। দেবতারা স্তব করিলেন। তিনি বিষ্ণুকে বরণ করিয়া তাঁহার বক্ষে স্থান লইলেন। শ্রী — সৌন্দর্য, সম্পদ, সৌভাগ্য — তাঁহারই নাম; আর তাঁহার আসন পদ্ম, তাই কমলা।

তন্ত্র বলে, লক্ষ্মী চঞ্চলা — তিনি এক স্থানে থাকেন না। কমলারূপে তাঁহাকে স্থির করা যায়, কারণ এই রূপে তিনি মহাবিদ্যা, নিছক ধনদাত্রী নহেন।

মন্ত্র

মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।

একাক্ষর — বীজমন্ত্র (১ অক্ষর)

শ্রীং

দ্ব্যক্ষর — সাম্রাজ্যলক্ষ্মী (২ অক্ষর)

স্হ্ক্ল্রীং হং

ত্র্যক্ষর — সাম্রাজ্যলক্ষ্মী (৩ অক্ষর)

শ্রীং ক্লীং শ্রীং

চতুরক্ষর (৪ অক্ষর)

ঐং শ্রীং হ্রীং ক্লীং

পঞ্চাক্ষর (৫ অক্ষর)

শ্রীং ক্লীং শ্রীং নমঃ

অষ্টাক্ষর — সিদ্ধিলক্ষ্মী (ওঁ-সহ ৯ অক্ষর)

ওঁ হ্রীং হূং হাং গ্রেং ক্ষোং ক্রোং নমঃ

দশাক্ষর (১০ অক্ষর)

নমঃ কমলবাসিন্যৈ স্বাহা

অষ্টমহালক্ষ্মী মন্ত্র (ওঁ-সহ ১০ অক্ষর)

ওঁ হ্রীং অষ্টমহালক্ষ্ম্যৈ নমঃ

নাম-মন্ত্র — পাঠান্তর (৭ অক্ষর)

শ্রীং কমলায়ৈ নমঃ

ধ্যানমন্ত্র

কান্ত্যা কাঞ্চনসন্নিভাং হিমগিরিপ্রখ্যৈশ্চতুর্ভির্গজৈ- র্হস্তোৎক্ষিপ্তহিরণ্ময়ামৃতঘটৈরাসিচ্যমানাং শ্রিয়ম্‌। বিভ্রাণাং বরমব্জযুগ্মমভয়ং হস্তৈঃ কিরীটোজ্জ্বলাং ক্ষৌমাবদ্ধনিতম্ববিম্বললিতাং বন্দেঽরবিন্দস্থিতাম্‌॥

বঙ্গানুবাদ

শব্দে-শব্দে অর্থ
শব্দঅর্থ
কান্ত্যাকান্তি দ্বারা
কাঞ্চনস্বর্ণ
সন্নিভাম্সদৃশা
হিমগিরিহিমালয়
প্রখ্যৈঃসদৃশ; বিশাল
চতুর্ভিঃচারিটি দ্বারা
গজৈঃগজ দ্বারা
হস্তোৎক্ষিপ্তশুণ্ড উত্তোলিত
হিরণ্ময়স্বর্ণময়
অমৃতঘটঅমৃতপূর্ণ কলস
আসিচ্যমানাম্অভিষিক্তা হইতেছেন
শ্রিয়ম্শ্রীদেবীকে
বিভ্রাণাম্ধারণকারিণী
বরম্বর
অব্জযুগ্মম্দুইটি পদ্ম
অভয়ম্অভয়
কিরীটমুকুট
উজ্জ্বলাম্দীপ্তিময়ীকে
ক্ষৌমসূক্ষ্ম বস্ত্র
নিতম্ববিম্বনিতম্বের বৃত্তশোভা
ললিতাম্ললিতা; মনোহরা
বন্দেবন্দনা করি
অরবিন্দস্থিতাম্পদ্মে অবস্থিতাকে

প্রণাম মন্ত্র

ওঁ সর্বমঙ্গলমাঙ্গল্যে বিষ্ণুবক্ষঃস্থলস্থিতে। কমলে কমলালয়ে প্রসীদ মম সর্বদা॥

বঙ্গানুবাদ

হে সর্বমঙ্গলের মঙ্গলস্বরূপা, হে বিষ্ণুর বক্ষে অধিষ্ঠিতা; হে কমলা, হে কমলালয়া — আমার প্রতি সর্বদা প্রসন্ন হও।

গায়ত্রী

ওঁ মহালক্ষ্ম্যৈ চ বিদ্মহে বিষ্ণুপত্ন্যৈ চ ধীমহি। তন্নো লক্ষ্মীঃ প্রচোদয়াৎ॥

বঙ্গানুবাদ

মহালক্ষ্মীকে জানি, বিষ্ণুপত্নীকে ধ্যান করি — সেই লক্ষ্মী আমাদের প্রেরণা দিন।

স্তোত্র — শ্রীসূক্ত (ঋগ্বেদ খিলসূক্ত) — সূচনা

হিরণ্যবর্ণাং হরিণীং সুবর্ণরজতস্রজাম্‌। চন্দ্রাং হিরণ্ময়ীং লক্ষ্মীং জাতবেদো ম আবহ॥ তাং ম আবহ জাতবেদো লক্ষ্মীমনপগামিনীম্‌। যস্যাং হিরণ্যং বিন্দেয়ং গামশ্বং পুরুষানহম্‌॥

বাংলা অর্থ

শ্রীকমলাস্তোত্রম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

১

ওঁকাররূপিণী দেবি বিশুদ্ধসত্ত্বরূপিণী। দেবানাং জননী ত্বং হি প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

হে দেবী, তুমি ওঁকাররূপিণী, বিশুদ্ধ সত্ত্বরূপিণী; তুমিই দেবগণের জননী। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

২

তন্মাত্রঞ্চৈব ভূতানি তব বক্ষস্থলং স্মৃতম্। ত্বমেব বেদগম্যা তু প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

তন্মাত্র ও ভূতসমূহ তোমার বক্ষস্থল বলিয়া স্মৃত। তুমিই বেদগম্যা। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

৩

দেবদানবগন্ধর্বযক্ষরাক্ষসকিন্নরঃ। স্তূয়সে ত্বং সদা লক্ষ্মি প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

দেব, দানব, গন্ধর্ব, যক্ষ, রাক্ষস ও কিন্নর — হে লক্ষ্মী, সকলে সর্বদা তোমার স্তব করে। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

৪

লোকাতীতা দ্বৈতাতীতা সমস্তভূতবেষ্টিতা। বিদ্বজ্জনকীর্ত্তিতা চ প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

তুমি লোকাতীতা, দ্বৈতাতীতা, সমস্ত ভূতে বেষ্টিতা এবং বিদ্বজ্জন কর্তৃক কীর্তিতা। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

৫

পরিপূর্ণা সদা লক্ষ্মি ত্রাত্রী তু শরণার্থিষু। বিশ্বাদ্যা বিশ্বকর্ত্রীং চ প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

হে লক্ষ্মী, তুমি সদা পরিপূর্ণা, শরণার্থীদের ত্রাত্রী; তুমি বিশ্বাদ্যা ও বিশ্বকর্ত্রী। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

৬

ব্রহ্মরূপা চ সাবিত্রী ত্বদ্দীপ্ত্যা ভাসতে জগৎ। বিশ্বরূপা বরেণ্যা চ প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

তুমি ব্রহ্মরূপা ও সাবিত্রী; তোমার দীপ্তিতেই জগৎ ভাসিত হয়। তুমি বিশ্বরূপা ও বরেণ্যা। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

৭

ক্ষিত্যপ্তেজোমরুদ্ব্যোমপঞ্চভূতস্বরূপিণী। বন্ধাদেঃ কারণং ত্বং হি প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

ক্ষিতি, অপ্‌, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম — এই পঞ্চভূতের স্বরূপিণী তুমি; বন্ধনাদিরও কারণ তুমিই। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

৮

মহেশে ত্বং হৈমবতী কমলা কেশবেঽপি চ। ব্রহ্মণঃ প্রেয়সী ত্বং হি প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

মহেশের নিকট তুমি হৈমবতী, কেশবের নিকট কমলা, আর ব্রহ্মার প্রেয়সীও তুমিই। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

৯

চণ্ডী দুর্গা কালিকা চ কৌশিকী সিদ্ধিরূপিণী। যোগিনী যোগগম্যা চ প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

তুমিই চণ্ডী, দুর্গা, কালিকা ও কৌশিকী; সিদ্ধিরূপিণী, যোগিনী ও যোগগম্যা। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

১০

বাল্যে চ বালিকা ত্বং হি যৌবনে যুবতীতি চ। স্থবিরে বৃদ্ধরূপা চ প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

বাল্যে তুমি বালিকা, যৌবনে যুবতী, স্থবির বয়সে বৃদ্ধরূপা। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

১১

গুণময়ী গুণাতীতা আদ্যা বিদ্যা সনাতনী। মহত্তত্ত্বাদিসংযুক্তা প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

তুমি গুণময়ী ও গুণাতীতা; আদ্যা, বিদ্যা ও সনাতনী; মহত্তত্ত্বাদিতে সংযুক্তা। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

১২

তপস্বিনী তপঃসিদ্ধি স্বর্গসিদ্ধিস্তদর্থিষু। চিন্ময়ী প্রকৃতিস্ত্বং তু প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

তুমি তপস্বিনী ও তপঃসিদ্ধি; যাঁহারা স্বর্গ কামনা করেন, তাঁহাদের নিকট তুমিই স্বর্গসিদ্ধি। তুমি চিন্ময়ী প্রকৃতি। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

১৩

ত্বমাদির্জগতাং দেবি ত্বমেব স্থিতিকারণম্। ত্বমন্তে নিধনস্থানং স্বেচ্ছাচারা ত্বমেব হি॥

হে দেবী, তুমিই জগতের আদি, তুমিই স্থিতির কারণ, অন্তে তুমিই নিধনস্থান; স্বতন্ত্রা স্বেচ্ছাময়ীও তুমিই।

১৪

চরাচরাণাং ভূতানাং বহিরন্তস্ত্বমেব হি। ব্যাপ্যব্যাপকরূপেণ ত্বং ভাসি ভক্তবৎসলে॥

চরাচর ভূতগণের বাহিরে ও অন্তরে তুমিই আছ; হে ভক্তবৎসলা, ব্যাপ্য ও ব্যাপকরূপে তুমি ভাসমান।

১৫

ত্বন্মায়য়া হৃতজ্ঞানা নষ্টাত্মানো বিচেতসঃ। গতাগতং প্রপদ্যন্তে পাপপুণ্যবশাৎসদা॥

তোমার মায়ায় জ্ঞান হৃত হইয়া, আত্মা নষ্ট হইয়া, বিচেতন জীবগণ পাপপুণ্যের বশে সর্বদা গতাগতি প্রাপ্ত হয়।

১৬

তাবৎ সত্যং জগদ্ভাতি শুক্তিকারজতং যথা। যাবন্ন জ্ঞায়তে জ্ঞানং চেতসা নান্বগামিনী॥

শুক্তিতে রজতের ন্যায় জগৎ ততক্ষণই সত্য বলিয়া ভাসে, যতক্ষণ চিত্তে প্রকৃত জ্ঞান উদিত না হয়।

১৭

ত্বজ্জ্ঞানাত্তু সদা যুক্তঃ পুত্রদারগৃহাদিষু। রমন্তে বিষয়ান্সর্বানন্তে দুঃখপ্রদান্ ধ্রুবম্॥

তোমার জ্ঞান হইতে বিচ্যুত হইয়া যাঁহারা পুত্র, দারা ও গৃহাদিতে আসক্ত থাকেন, তাঁহাদের পক্ষে সেই সকল বিষয় অন্তে নিশ্চিতই দুঃখপ্রদ হয়।

১৮

ত্বদাজ্ঞয়া তু দেবেশি গগনে সূর্যমণ্ডলম্। চন্দ্রশ্চ ভ্রমতে নিত্যং প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

হে দেবেশী, তোমার আজ্ঞাতেই গগনে সূর্যমণ্ডল ও চন্দ্র নিত্য ভ্রমণ করে। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

১৯

ব্রহ্মেশবিষ্ণুজননী ব্রহ্মাখ্যা ব্রহ্মসংশ্রয়া। ব্যক্তাব্যক্তে চ দেবেশি প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

তুমি ব্রহ্মা, ঈশ ও বিষ্ণুর জননী; ব্রহ্ম নামে আখ্যাতা ও ব্রহ্মসংশ্রয়া; ব্যক্ত ও অব্যক্ত উভয়েই বিরাজমানা। হে দেবেশী, হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

২০

অচলা সর্বগা ত্বং হি মায়াতীতা মহেশ্বরি। শিবাত্মা শাশ্বতা নিত্যা প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

হে মহেশ্বরী, তুমি অচলা, সর্বগা ও মায়াতীতা; শিবাত্মা, শাশ্বতা ও নিত্যা। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

২১

সর্বকার্যনিয়ন্ত্রী চ সর্বভূতেশ্বরী। অনন্তা নিষ্কলা ত্বং হি প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

তুমি সর্বকার্যের নিয়ন্ত্রী ও সর্বভূতেশ্বরী; অনন্তা ও নিষ্কলা। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

২২

সর্বেশ্বরী সর্ববন্দ্যা অচিন্ত্যা পরমাত্মিকা। ভুক্তিমুক্তিপ্রদা ত্বং হি প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

তুমি সর্বেশ্বরী, সর্ববন্দ্যা, অচিন্ত্যা ও পরমাত্মিকা; ভুক্তি ও মুক্তি তুমিই দাও। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

২৩

ব্রহ্মাণী ব্রহ্মলোকে ত্বং বৈকুণ্ঠে সর্বমঙ্গলা। ইন্দ্রাণী অমরাবত্যামম্বিকা বরুণালয়ে॥

ব্রহ্মলোকে তুমি ব্রহ্মাণী, বৈকুণ্ঠে সর্বমঙ্গলা, অমরাবতীতে ইন্দ্রাণী, বরুণালয়ে অম্বিকা।

২৪

যমালয়ে কালরূপা কুবেরভবনে শুভা। মহানন্দাগ্নিকোণে চ প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

যমালয়ে কালরূপা, কুবেরভবনে শুভা, অগ্নিকোণে মহানন্দা। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

২৫

নৈর্ঋত্যাং রক্তদন্তা ত্বং বায়ব্যাং মৃগবাহিনী। পাতালে বৈষ্ণবীরূপা প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

নৈর্ঋতকোণে তুমি রক্তদন্তা, বায়ব্যে মৃগবাহিনী, পাতালে বৈষ্ণবীরূপা। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

২৬

সুরসা ত্বং মণিদ্বীপে ঐশান্যাং শূলধারিণী। ভদ্রকালী চ লঙ্কায়াং প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

মণিদ্বীপে তুমি সুরসা, ঈশানকোণে শূলধারিণী, লঙ্কায় ভদ্রকালী। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

২৭

রামেশ্বরী সেতুবন্ধে সিংহলে দেবমোহিনী। বিমলা ত্বং চ শ্রীক্ষেত্রে প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

সেতুবন্ধে তুমি রামেশ্বরী, সিংহলে দেবমোহিনী, শ্রীক্ষেত্রে বিমলা। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

২৮

কালিকা ত্বং কালিঘাটে কামাখ্যা নীলপর্বতে। বিরজা ওড্রদেশে ত্বং প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

কালীঘাটে তুমি কালিকা, নীলপর্বতে কামাখ্যা, ওড্রদেশে বিরজা। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

২৯

বারাণস্যামন্নপূর্ণা অয়োধ্যায়াং মহেশ্বরী। গয়াসুরী গয়াধাম্নি প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

বারাণসীতে অন্নপূর্ণা, অযোধ্যায় মহেশ্বরী, গয়াধামে গয়াসুরী। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

৩০

ভদ্রকালী কুরুক্ষেত্রে ত্বং চ কাত্যায়নী ব্রজে। মহামায়া দ্বারকায়াং প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

কুরুক্ষেত্রে ভদ্রকালী, ব্রজে কাত্যায়নী, দ্বারকায় মহামায়া। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

৩১

ক্ষুধা ত্বং সর্বজীবানাং বেলা চ সাগরস্য হি। মহেশ্বরী মথুরায়াং চ প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

সর্বজীবের ক্ষুধা তুমি, সাগরের বেলাও তুমি; মথুরায় মহেশ্বরী। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

৩২

রামস্য জানকী ত্বং চ শিবস্য মনোমোহিনী। দক্ষস্য দুহিতা চৈব প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

রামের জানকী তুমি, শিবের মনোমোহিনী, আর দক্ষের দুহিতাও তুমিই। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

৩৩

বিষ্ণুভক্তিপ্রদাং ত্বং চ কংসাসুরবিনাশিনী। রাবণনাশিনীং চৈব প্রসন্না ভব সুন্দরি॥

তুমি বিষ্ণুভক্তিপ্রদা, কংসাসুরের বিনাশিনী ও রাবণের নাশিনী। হে সুন্দরী, প্রসন্না হও।

ফলশ্রুতি

৩৪

লক্ষ্মীস্তোত্রমিদং পুণ্যং যঃ পঠেদ্ভক্তিসংযুতঃ। সর্বজ্বরভয়ং নশ্যেৎসর্বব্যাধিনিবারণম্॥

যে ব্যক্তি ভক্তিযুক্ত হইয়া এই পুণ্য লক্ষ্মীস্তোত্র পাঠ করে, তাহার সর্বজ্বরের ভয় নষ্ট হয় ও সর্বব্যাধির নিবারণ ঘটে।

৩৫

ইদং স্তোত্রং মহাপুণ্যমাপদুদ্ধারকারণম্। ত্রিসন্ধ্যমেকসন্ধ্যং বা যঃ পঠেৎসততং নরঃ॥

এই স্তোত্র মহাপুণ্য ও আপদ হইতে উদ্ধারের কারণ। যে নর সতত ত্রিসন্ধ্যায় অথবা এক সন্ধ্যায় ইহা পাঠ করে —

৩৬

মুচ্যতে সর্বপাপেভ্যো তথা তু সর্বসঙ্কটাৎ। মুচ্যতে নাত্র সন্দেহো ভুবি স্বর্গে রসাতলে॥

সে সর্ব পাপ হইতে এবং সর্ব সংকট হইতে মুক্ত হয় — ভূতলে, স্বর্গে বা রসাতলে, ইহাতে সন্দেহ নাই।

৩৭

সমস্তং চ তথা চৈকং যঃ পঠেদ্ভক্তিতৎপরঃ। স সর্বদুষ্করং তীর্ত্বা লভতে পরমাং গতিম্॥

যে ভক্তিপরায়ণ সমস্তটি অথবা একটিমাত্র শ্লোকও পাঠ করে, সে সর্ব দুষ্কর উত্তীর্ণ হইয়া পরমা গতি লাভ করে।

৩৮

সুখদং মোক্ষদং স্তোত্রং যঃ পঠেদ্ভক্তিসংযুক্তঃ। স তু কোটীতীর্থফলং প্রাপ্নোতি নাত্র সংশয়ঃ॥

এই সুখদ ও মোক্ষদ স্তোত্র যে ভক্তিযুক্ত হইয়া পাঠ করে, সে কোটি তীর্থের ফল প্রাপ্ত হয় — ইহাতে সংশয় নাই।

৩৯

একা দেবী তু কমলা যস্মিংস্তুষ্টা ভবেৎসদা। তস্যাসাধ্যং তু দেবেশি নাস্তি কিঞ্চিজ্জগৎ ত্রয়ে॥

একমাত্র দেবী কমলা যাঁহার প্রতি সদা তুষ্টা, হে দেবেশী, ত্রিজগতে তাঁহার অসাধ্য কিছুই নাই।

৪০

পঠনাদপি স্তোত্রস্য কিং ন সিধ্যতি ভূতলে। তস্মাৎস্তোত্রবরং প্রোক্তং সত্যং হি পার্বতি॥

কেবল এই স্তোত্র পাঠেই ভূতলে কী না সিদ্ধ হয়? সেই হেতু, হে পার্বতী, ইহাকে স্তোত্রশ্রেষ্ঠ বলা হইয়াছে — ইহা সত্য।

॥ ইতি শ্রীকমলা স্তোত্রং সম্পূর্ণম্ ॥

এইরূপে শ্রীকমলাস্তোত্র সম্পূর্ণ হইল।

কয়েকটি শব্দের অর্থ

শব্দঅর্থ
তন্মাত্রভূতের সূক্ষ্ম কারণ
বেদগম্যাবেদের দ্বারা জ্ঞাতব্যা
কৌশিকীদেবীর এক রূপ
মহত্তত্ত্বসাংখ্যের প্রথম বিকার
শুক্তিকারজতশুক্তিতে রজতের ভ্রম
নিষ্কলাঅবিভক্তা
মণিদ্বীপদেবীর ধাম
ওড্রদেশওড়িশা
শ্রীক্ষেত্রপুরী
বেলাসমুদ্রের সীমা
রসাতলপাতাল
কোটিতীর্থফলকোটি তীর্থদর্শনের ফল
শ্রীকমলাষ্টকম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।

১

ন্যঙ্কাবরাতিভযশঙ্কাকুলে ধৃতদৃগঙ্কায়তিঃ প্রণমতাং শঙ্কাকলঙ্কযুতপঙ্কায়তাশ্মশিতটঙ্কায়িতস্বচরিতা । ত্বং কালদেশপদশঙ্কাতিপাতিপতিসঙ্কাশ বৈভবযুতা শং কামমাতরনিশং কামনীয়মিহ সঙ্কাশয়াশু কৃপয়া ॥ ১॥

২

আচান্তরঙ্গদলিমোচান্তরঙ্গরুচিবাচাং তরঙ্গগতিভিঃ কাচাটনায় কটুবাচাটভাবযুতনীচাটনং ন কলয়ে । বাচামগোচরসদাচারসূরিজনতাচাতুরীবিবৃতয়ে প্রাচাং গতিং কুশলবাচাং জগজ্জননি যাচামি দেবি ভবতীম্ ॥ ২॥

৩

চেটীকৃতামরবধূটীকরাগ্রধৃতপেটীপুটার্ঘ্যসুমনো- বীটীদলক্রমুকপাটীরপঙ্কনবশাটীকৃতাঙ্গরচনা । খেটীকমানশতকোটীকরাব্জজজটাটীরবন্দিতপদা যা টীকতেঽব্জবনমাটীকতাং হৃদয়বাটীমতীব কমলা ॥ ৩॥

৪

স্বান্তান্তরালকৃতকান্তাগমান্তশতশান্তান্তরাঘনিকরাঃ শান্তার্থকান্তবকৃতান্তা ভজন্তি হৃদি দান্তা দুরন্ততপসা । যাং তানতাপভবতান্তাতিভীতজগতাং তাপনোদনপটুং মাং তারয়ত্বশুভকান্তারতোঽদ্য হরিকান্তাকটাক্ষলহরী ॥ ৪॥

৫

যাং ভাবুকা মনসি সম্ভাবয়ন্তি ভবসম্ভাবনাপহৃতয়ে ত্বং ভাসি লক্ষ্মি সততং ভাব্যয়দ্ভবনসম্ভাবনাদিবিধয়ে । জম্ভারিসম্পদুপলম্ভাদিকারণমহং ভাব্যমঙ্ঘ্রিযুগলং সম্ভাবয়ে শ্রুতিষু সম্ভাষিতং বচসি সম্ভাষ্য তস্য তব চ ॥ ৫॥

৬

দূরাবধূতমধুধারাগিরোচ্চকুচভারানতাঙ্গলতিকা- সারাঙ্গলিপ্তঘনসারার্দ্রকুঙ্কুমরসা রাজহংসগমনা । বৈরাকরস্মরবিকারাপসংসরণবারাশিমগ্রমনসঃ শ্রীরাবিরস্তু ধুরি তারায় মে গুরুভিরারধিতা ভগবতী ॥ ৬॥

৭

শ্রীবাসধূপকনদাবাসদীপরুচিরাবাসভূপরিসরা শ্রীবাসদেশলসদাবাপকাশরদভাবাভকেশনিকরা । শ্রীবাসুদেবরমণী বামদেববিধিদেবাধিপাবনপরা শ্রীবাসবস্তুনরদেবাহতস্তুতিসভাবা মুদেঽস্তু সুতরাম্ ॥ ৭॥

৮

ভাষাদিদেবকুলয়োষামণিস্তবনঘোষাঞ্চিতস্বসবিধা দোষাকুলে জগতি পোষাকুলা সপদি শেষাহি শায়িদয়িতা । দোষালয়স্য মম দোষানপোহ্য গতদোষাভিনন্দ্যমহিমা শেষাশনাহিরিপুশেষাদিসম্পদ বিশেষাং দদাতু বিভবান্ ॥ ৮॥
শ্রীকমলাকবচম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

১

ওঁ অস্যাশ্চতুরক্ষরাবিষ্ণুবনিতায়াঃ কবচস্য শ্রীভগবান্ শিব ঋষিঃ। অনুষ্টুপ্ছন্দঃ। বাগ্ভবা দেবতা। বাগ্ভবং বীজম্। লজ্জা শক্তিঃ। রমা কীলকম্। কামবীজাত্মকং কবচম্। মম সুকবিত্বপাণ্ডিত্যসমৃদ্ধিসিদ্ধয়ে পাঠে বিনিয়োগঃ। ঐঙ্কারো মস্তকে পাতু বাগ্ভবা সর্বসিদ্ধিদা। হ্রীং পাতু চক্ষুষোর্মধ্যে চক্ষুর্যুগ্মে চ শাঙ্করী॥

এই চতুরক্ষরা বিষ্ণুবনিতার কবচের ঋষি শ্রীভগবান্‌ শিব, ছন্দ অনুষ্টুপ্‌, দেবতা বাগ্‌ভবা, বীজ বাগ্‌ভব, শক্তি লজ্জা, কীলক রমা; ইহা কামবীজাত্মক কবচ। সুকবিত্ব, পাণ্ডিত্য ও সমৃদ্ধিসিদ্ধির নিমিত্ত পাঠে ইহার বিনিয়োগ। — ‘ঐং’কার সর্বসিদ্ধিদা বাগ্‌ভবা হইয়া মস্তক রক্ষা করুন; ‘হ্রীং’ দুই চক্ষুর মধ্যভাগ রক্ষা করুন, আর শাঙ্করী দুই চক্ষু।

২

জিহ্বায়াং মুখবৃত্তে চ কর্ণয়োর্দন্তয়োর্নসি। ওষ্ঠাধারে দন্তপঙ্ক্তৌ তালুমূলে হনৌ পুনঃ॥

জিহ্বায়, মুখমণ্ডলে, দুই কর্ণে, দন্তে ও নাসিকায়; ওষ্ঠে ও অধরে, দন্তপঙ্‌ক্তিতে, তালুমূলে ও হনুতে —

৩

পাতু মাং বিষ্ণুবনিতা লক্ষ্মীঃ শ্রীবর্ণরূপিণী॥ কর্ণযুগ্মে ভুজদ্বন্দ্বে স্তনদ্বন্দ্বে চ পার্বতী॥

শ্রীবর্ণরূপিণী বিষ্ণুবনিতা লক্ষ্মী আমাকে রক্ষা করুন। দুই কর্ণে, দুই ভুজে ও দুই স্তনে পার্বতী রক্ষা করুন।

৪

হৃদয়ে মণিবন্ধে চ গ্রীবায়াং পার্শ্বয়োর্দ্বয়োঃ। পৃষ্ঠদেশে তথা গুহ্যে বামে চ দক্ষিণে তথা॥

হৃদয়ে, মণিবন্ধে, গ্রীবায় ও দুই পার্শ্বে; পৃষ্ঠদেশে, গুহ্যদেশে, বামে ও দক্ষিণে —

৫

উপস্থে চ নিতম্বে চ নাভৌ জঙ্ঘাদ্বয়ে পুনঃ। জানুচক্রে পদদ্বন্দ্বে ঘুটিকেঽঙ্গুলিমূলকে॥

উপস্থে, নিতম্বে, নাভিতে ও দুই জঙ্ঘায়; জানুচক্রে, দুই পদে, গোড়ালিতে ও অঙ্গুলিমূলে —

৬

স্বধা তু প্রাণশক্ত্যাং বা সীমন্যাং মস্তকে তথা। সর্বাঙ্গে পাতু কামেশী মহাদেবী সমুন্নতিঃ॥

স্বধা প্রাণশক্তিতে, সীমন্তে ও মস্তকে রক্ষা করুন; সমুন্নতিরূপা মহাদেবী কামেশী সর্বাঙ্গ রক্ষা করুন।

৭

পুষ্টিঃ পাতু মহামায়া উৎকৃষ্টিঃ সর্বদাঽবতু। ঋদ্ধিঃ পাতু সদা দেবী সর্বত্র শম্ভুবল্লভা॥

পুষ্টিরূপা মহামায়া রক্ষা করুন, উৎকৃষ্টি সর্বদা রক্ষা করুন; ঋদ্ধিরূপা দেবী শম্ভুবল্লভা সর্বত্র সদা রক্ষা করুন।

৮

বাগ্ভবা সর্বদা পাতু পাতু মাং হরগেহিনী। রমা পাতু মহাদেবী পাতু মায়া স্বরাট্ স্বয়ম্॥

বাগ্‌ভবা সর্বদা রক্ষা করুন, হরগেহিনী আমাকে রক্ষা করুন; মহাদেবী রমা রক্ষা করুন, স্বয়ং স্বরাট্‌ মায়া রক্ষা করুন।

৯

সর্বাঙ্গে পাতু মাং লক্ষ্মীর্বিষ্ণুমায়া সুরেশ্বরী। বিজয়া পাতু ভবনে জয়া পাতু সদা মম॥

বিষ্ণুমায়া সুরেশ্বরী লক্ষ্মী আমার সর্বাঙ্গ রক্ষা করুন; বিজয়া গৃহে রক্ষা করুন, জয়া আমাকে সদা রক্ষা করুন।

১০

শিবদূতী সদা পাতু সুন্দরী পাতু সর্বদা। ভৈরবী পাতু সর্বত্র ভেরুণ্ডা সর্বদাঽবতু॥

শিবদূতী সদা রক্ষা করুন, সুন্দরী সর্বদা; ভৈরবী সর্বত্র রক্ষা করুন, ভেরুণ্ডা সর্বদা রক্ষা করুন।

১১

ত্বরিতা পাতু মাং নিত্যমুগ্রতারা সদাঽবতু। পাতু মাং কালিকা নিত্যং কালরাত্রিঃ সদাঽবতু॥

ত্বরিতা আমাকে নিত্য রক্ষা করুন, উগ্রতারা সদা; কালিকা আমাকে নিত্য রক্ষা করুন, কালরাত্রি সদা রক্ষা করুন।

১২

নবদুর্গাঃ সদা পাতু কামাখ্যা সর্বদাঽবতু। যোগিন্যঃ সর্বদা পাতু মুদ্রাঃ পাতু সদা মম॥

নবদুর্গা সদা রক্ষা করুন, কামাখ্যা সর্বদা; যোগিনীরা সর্বদা রক্ষা করুন, মুদ্রাগণ সদা রক্ষা করুন।

১৩

মাত্রাঃ পাতু সদা দেব্যশ্চক্রস্থা যোগিনী গণাঃ। সর্বত্র সর্বকার্যেষু সর্বকর্মসু সর্বদা॥ পাতু মাং দেবদেবী চ লক্ষ্মীঃ সর্বসমৃদ্ধিদা॥

মাতৃকাদেবীগণ ও চক্রস্থ যোগিনীগণ সদা রক্ষা করুন — সর্বত্র, সর্বকার্যে ও সর্বকর্মে, সর্বদা। সর্বসমৃদ্ধিদা দেবদেবী লক্ষ্মী আমাকে রক্ষা করুন।

॥ ইতি বিশ্বসারতন্ত্রে শ্রীকমলাকবচং সম্পূর্ণম্ ॥

এইরূপে বিশ্বসারতন্ত্রে শ্রীকমলাকবচ সম্পূর্ণ হইল।

কয়েকটি শব্দের অর্থ

শব্দঅর্থ
বাগ্ভবাবাগ্‌ভবা; বাক্‌শক্তির বীজ ‘ঐং’-এর অধিষ্ঠাত্রী
বিষ্ণুবনিতাবিষ্ণুপত্নী, লক্ষ্মী
মণিবন্ধকব্জি
সীমন্তসিঁথি
ঘুটিকাগোড়ালি
হরগেহিনীহরের গৃহিণী, পার্বতী
মাত্রামাতৃকাগণ, সপ্তমাতৃকা

প্রধান মন্দির

মহালক্ষ্মী মন্দির
কোলাপুর, মহারাষ্ট্র

দেশের প্রধান মহালক্ষ্মী পীঠ; শক্তিপীঠ বলে গণ্য। এখানে দেবী মহালক্ষ্মী বা অম্বাবাই নামে পূজিতা — দশমহাবিদ্যার কমলা আর পুরাণের মহালক্ষ্মী একই শক্তির দুই ধারা।

কামাখ্যা মন্দির, নীলাচল, গুয়াহাটি — কামাখ্যায় কমলার আলাদা মন্দির নেই — মূল মন্দিরের গর্ভগৃহেই, মাতঙ্গীর সঙ্গে, তিনি তান্ত্রিক রূপে পূজিতা।

মহালক্ষ্মী মন্দির, কোলাপুর — উইকিপিডিয়া

মন্দির

মহালক্ষ্মী মন্দির, কোলাপুর
মহালক্ষ্মী মন্দির, কোলাপুর
ছবি: A.Murali · CC0 · কমন্স
মহালক্ষ্মী মন্দির, কোলাপুর
মহালক্ষ্মী মন্দির, কোলাপুর
ছবি: A.Murali · CC0 · কমন্স

বিগ্রহ

কোলাপুরের মহালক্ষ্মী (অম্বাবাই)
কোলাপুরের মহালক্ষ্মী (অম্বাবাই)
ছবি: Tanmaykelkar (ইংরাজি উইকিপিডিয়া) · CC BY-SA 3.0 · কমন্স

কাহিনী

লক্ষ্মী কোথায় থাকেন

পুরাণের কথা — একবার নারদ লক্ষ্মীকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘মা, আপনি কোথায় থাকেন?’ লক্ষ্মী বললেন, ‘যে ঘরে ভোরবেলা উঠে ঘর পরিষ্কার করা হয়, যে ঘরে কেউ কারও নামে মিথ্যে বলে না, যে ঘরে অতিথি ফেরে না, যে ঘরে বড়দের সম্মান আছে — সেখানে আমি থাকি। আর যে ঘরে অকারণে ঝগড়া, অলসতা আর কৃপণতা, সেখানে আমার দিদি জ্যেষ্ঠা থাকেন।’ বাংলার ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর পাঁচালীতে এই কথাই ঘুরে ফিরে আসে — লক্ষ্মী আসেন আচরণে, ভাগ্যে নয়।

বই


কমলার গান →

সতর্কবার্তা। এই পৃষ্ঠার মন্ত্রসমূহ স্বেচ্ছায় জপ করিবার বস্তু নহে। দশমহাবিদ্যার তান্ত্রিক মন্ত্র — বিশেষতঃ বীজমন্ত্র, পঞ্চদশী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী ও মাতঙ্গীর মন্ত্র — শাস্ত্রমতে দীক্ষা ব্যতীত জপের বিধান নাই। গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করিয়া, তাঁহার আদেশে, তাঁহার তত্ত্বাবধানেই ইহা অনুষ্ঠেয়। গুরুর পথনির্দেশ ব্যতিরেকে কেহ স্বয়ং চেষ্টা করিবেন না। এখানে মন্ত্র উদ্ধৃত হইয়াছে পাঠ, পরিচয় ও অর্থবোধের নিমিত্ত — সাধনার নির্দেশিকারূপে নহে।

মন্ত্র, ধ্যান ও স্তোত্র নানা গ্রন্থে পাঠভেদে ভিন্ন হইয়া থাকে; অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পূর্বে মুদ্রিত পুঁথি ও পঞ্জিকার সহিত মিলাইয়া লইবেন।

শক্তি — সমস্ত রূপের সূচি · স্বীকৃতি · গোপনীয়তার নীতি