তারা
দ্বিতীয় মহাবিদ্যা · উগ্রতারা · নীলসরস্বতী · একজটা
পরিচয়
‘তারা’ শব্দের অর্থ — যিনি তারেন, অর্থাৎ পার করাইয়া দেন। ভবসাগর হইতে উদ্ধার করেন বলিয়াই তাঁহার এই নাম। দশমহাবিদ্যার দ্বিতীয়া তিনি, এবং তন্ত্রে কালীর অব্যবহিত পরেই তাঁহার স্থান।
রূপে তিনি কালীর নিকটবর্তিনী, তথাপি স্বতন্ত্রা — খর্বাকৃতি, লম্বোদরী, নীলবর্ণা, একটিমাত্র জটা (সেই হেতু একজটা), কটিদেশে ব্যাঘ্রচর্ম, কণ্ঠে নরমুণ্ডমালা। চারি হস্তে খড়্গ, কর্তৃকা, নীলপদ্ম ও কপাল। পদতলে শব।
তাঁহার তিন প্রধান রূপ — উগ্রতারা (রক্ষাকর্ত্রী), একজটা (তপস্বিনী) এবং নীলসরস্বতী (বাক্ ও কবিত্বের দাত্রী)। বাঙ্গালায় তারাপীঠের মা তারা এই ধারারই কেন্দ্র।
উৎপত্তির কাহিনী
সমুদ্রমন্থনকালে উঠিল হলাহল বিষ। ত্রিভুবন দগ্ধ হইতেছে দেখিয়া শিব সেই বিষ পান করিলেন। বিষের জ্বালায় তিনি মূর্ছিত হইয়া পড়িলে দেবী তারা আবির্ভূতা হইলেন, শিবকে শিশুরূপে ক্রোড়ে লইয়া স্তন্য পান করাইলেন — আর সেই স্তন্যেই বিষের জ্বালা জুড়াইল।
এই কারণেই তারার প্রতিমায় দেবী মাতা, আর শিব তাঁহার ক্রোড়ে শিশু। কালীর কাহিনীতে শিব শবরূপে দেবীর পদতলে, তারার এই কাহিনীতে তিনি দেবীর ক্রোড়ে সন্তান — দুই রূপের ভাবের প্রভেদ এইখানে। (তারার ধ্যানমূর্তিতে অবশ্য তিনিও শবারূঢ়া।)
তারাপীঠে আবার অন্য কথা চলে। বশিষ্ঠ মুনি বহুকাল তারামন্ত্র জপ করিয়াও সিদ্ধি পাইলেন না। দেবীর নির্দেশে তিনি মহাচীনে গমন করিয়া বুদ্ধরূপী বিষ্ণুর নিকট ‘চীনাচার’ শিক্ষা করিলেন; ফিরিয়া আসিয়া দ্বারকা নদীর তীরে সেই প্রণালীতে সাধনা করিয়া তারার দর্শন পাইলেন। সেই স্থানই তারাপীঠ।
পুরাণ বলে, সতীর তৃতীয় নয়ন অথবা নয়নতারা এই স্থানে পতিত হইয়াছিল — তাই ‘তারাপীঠ’।
মন্ত্র
মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।
একাক্ষর — বীজমন্ত্র (ওঁ-সহ ২ অক্ষর)
ত্র্যক্ষর (ওঁ-সহ ৪ অক্ষর)
চতুরক্ষর (ওঁ-সহ ৫ অক্ষর)
চতুরক্ষর — দ্বিতীয় রূপ (ওঁ-সহ ৫ অক্ষর)
ষড়ক্ষর (৬ অক্ষর)
ষড়ক্ষর — দ্বিতীয় রূপ (ওঁ-সহ ৭ অক্ষর)
চতুরক্ষর — পাঠান্তর (৪ অক্ষর)
পঞ্চাক্ষর — পাঠান্তর (৫ অক্ষর)
ধ্যানমন্ত্র
বঙ্গানুবাদ
- তিনি প্রত্যালীঢ় ভঙ্গিতে দণ্ডায়মানা, ঘোররূপা, মুণ্ডমালায় বিভূষিতা।
- খর্বাকৃতি, লম্বোদরী, ভীমা; কটিদেশ ব্যাঘ্রচর্মে আবৃত।
- নবযৌবনসম্পন্না, পঞ্চমুদ্রায় ভূষিতা, চতুর্ভুজা, লোলজিহ্বা — মহাভীমা, অথচ বরদায়িনী।
- ডান দুই হাতে খড়্গ ও কর্তৃকা, বাম দুই হাতে কপাল (নরকরোটি) ও নীলপদ্ম।
- মস্তকে একটিমাত্র পিঙ্গলবর্ণ উগ্র জটা, তাহাতে অক্ষোভ্য বিরাজিত; তিন নয়ন বালসূর্যের মণ্ডলের ন্যায়।
- জ্বলন্ত চিতার মধ্যে অবস্থিতা, ঘোর দংষ্ট্রায় করালবদনা।
- বেশভূষায় সজ্জিতা, মুখে স্মিত হাসি; মালা ও অলংকারে ভূষিতা।
- বিশ্বব্যাপী জলরাশির মধ্যে শ্বেতপদ্মের উপর তিনি অবস্থিতা।
শব্দে-শব্দে অর্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| প্রত্যালীঢপদাম্ | প্রত্যালীঢ় ভঙ্গিতে পদস্থাপনকারিণী |
| ঘোরাম্ | ভয়ংকরী |
| মুণ্ডমালা | মুণ্ডের মালা |
| বিভূষিতাম্ | অলংকৃতা |
| খর্বাম্ | খর্বাকৃতি |
| লম্বোদরীম্ | লম্বিত উদরবিশিষ্টা |
| ভীমাম্ | ভীষণা |
| আবৃতাম্ | আবৃতা |
| কটৌ | কটিদেশে |
| নবযৌবনসম্পন্নাম্ | নবযৌবনসম্পন্না |
| চতুর্ভুজাম্ | চারি বাহুবিশিষ্টা |
| লোলজিহ্বাম্ | দোলায়মান জিহ্বাযুক্তা |
| বরপ্রদাম্ | বরদানকারিণী |
| খড্গ | তরবারি |
| কর্তৃ | কর্তৃকা; ছেদনকারী অস্ত্র |
| সমাযুক্ত | যুক্ত |
| সব্যেতর | সব্য (বাম) ভিন্ন অন্য, অর্থাৎ দক্ষিণ |
| ভুজদ্বয় | দুই বাহু |
| কপাল | নরকরোটি; খর্পর |
| উৎপল | নীলপদ্ম |
| সব্যপাণি | বাম হস্ত |
| পিঙ্গ | পিঙ্গল; তাম্রবর্ণ |
| উগ্র | ভয়ংকর |
| একজটা | একটিমাত্র জটা |
| ধ্যায়েৎ | ধ্যান করিবে |
| মৌলি | মস্তক; মুকুট |
| বালার্ক | উদীয়মান সূর্য |
| মণ্ডলাকার | মণ্ডলের ন্যায় |
| লোচনত্রয় | তিন নয়ন |
| জ্বলৎ | জ্বলন্ত |
| চিতাম্ | চিতা; চিতাগ্নি |
| গতাম্ | অবস্থানকারিণী |
| করালিনী | ভয়ংকর মুখমণ্ডলবিশিষ্টা |
| স্মেরবদনা | মৃদুহাস্যযুক্ত মুখ |
| অলঙ্কার | অলংকার |
প্রণাম মন্ত্র
বঙ্গানুবাদ
হে তারিণী, তুমিই তারণের সর্বস্ব; তুমি তারক — ভবসাগর পার করাও, আবার তুমিই তারকাসুরের অন্তকারিণী। হে মহাদেবী, আমাকে পার কর — আমি শরণাগত, আমাকে রক্ষা কর।
গায়ত্রী
বঙ্গানুবাদ
তারাকে জানি, মহা-উগ্রাকে ধ্যান করি — সেই দেবী আমাদের প্রেরণা দিন।
স্তোত্র — উগ্রতারা স্তুতি
বাংলা অর্থ
- নীলপদ্মের পাপড়ির ন্যায় শ্যামবর্ণা, মস্তকে অর্ধচন্দ্র, ত্রিনয়না, রক্তবসনা — শবের বক্ষে অবস্থিতা কল্যাণময়ী।
- সংসারসমুদ্র যিনি পার করান, সেই উগ্রতারাকে প্রণাম করি।
- যাঁহাকে স্মরণ করিলেই সকল ভয় দূর হয়, যিনি শরণাগতের প্রতি স্নেহশীলা।
শ্রীতারাস্তোত্রম্ (তারাষ্টকম্ / শ্রীনীলসরস্বতীস্তোত্রম্) — সম্পূর্ণ পাঠ
১
হে মাতা নীলসরস্বতী! যাঁহারা প্রণাম করেন, তাঁহাদিগকে তুমি সৌভাগ্য ও সম্পদ দাও। প্রত্যালীঢ় ভঙ্গিতে শবের হৃদয়ে অবস্থিতা, তোমার মুখপদ্মে মৃদু হাস্য। প্রস্ফুটিত নীলপদ্মের ন্যায় তোমার তিন নয়ন; হস্তে কর্ত্রী, কপাল, উৎপল ও খড়্গ। হে ঈশ্বরী, তুমিই একমাত্র শরণ — আমি তোমারই আশ্রয় লইলাম।
২
হে বাক্যের ঈশ্বরী, হে ভক্তের কল্পলতা, হে সর্বার্থসিদ্ধির ঈশ্বরী! গদ্য, প্রাকৃত ও পদ্য রচনার শক্তি এবং সর্বপ্রকার সিদ্ধি তুমিই দাও। নীলপদ্মসদৃশ ত্রিনয়না, হে করুণার সমুদ্র — আমার ন্যায় জনকে সৌভাগ্যের অমৃতবৃদ্ধি দ্বারা কৃপা করিয়া সিঞ্চন কর।
৩
হে খর্বাকৃতি, অথচ গর্বে পরিপূর্ণ দেহধারিণী! সর্পাদি বেশে উজ্জ্বলা, ব্যাঘ্রচর্মে বেষ্টিত সুন্দর কটিদেশে দোলায়মান ঘণ্টায় চিহ্নিতা। সদ্যচ্ছিন্ন, রক্তঝরা দুই মুণ্ড কেশগ্রন্থিতে বাঁধা, নরমুণ্ডের মালায় ললিতা — হে ভীমা, আমার ভয় নাশ কর।
৪
হে অম্বিকা! তুমি মায়া ও অনঙ্গবিকারের রূপে প্রকাশিতা, তুমিই বিন্দু ও অর্ধচন্দ্ররূপিণী। হে হুঁ-ফট্কারময়ী, হে মন্ত্রাত্মিকা, আমার ন্যায় জনের একমাত্র শরণ তুমিই। হে জননী, তোমার মূর্তি ত্রিধামে গঠিত — স্থূলা, অতিসূক্ষ্মা ও পরা। সেই পরা রূপ বেদেরও গোচর নহে, প্রাজ্ঞগণ যাহার স্তব করেন — সেই তোমারই আশ্রয় লই।
৫
হে মাতা! সুকৃতীগণ তোমার পদ্মচরণসেবায় সায়ুজ্য লাভ করে — পরমেশ্বর, ত্রিনয়ন ও ব্রহ্মাদির সহিত সাম্য পায়। যাঁহারা সংসারসমুদ্রে নিমজ্জিত, তোমার পদসেবায় বিমুখ — সেই ইন্দ্রাদিকে কোন্ মন্দবুদ্ধি সেবা করিবে?
৬
হে মাতা! তোমার দুই পদ্মচরণের রজঃচিহ্ন যাঁহাদের মুকুটে অঙ্কিত, সেই দেবগণ সংগ্রামে বিজয়ী হন ও নিঃশঙ্কে তোমার অঙ্কে আশ্রয় পান। আর যাহারা ‘আমিই দেবতা, ভুবনে আমার সমান কেহ নাই’ বলিয়া স্পর্ধা বহন করে, তাহারা চন্দ্রসূর্যের ন্যায় স্বয়ংই ক্ষয় পায়।
৭
হে মাতা! তোমার নামস্মরণে ভূত, প্রেত, পিশাচ, রাক্ষসগণ, যক্ষ ও নাগাধিপগণ, দৈত্য ও দানবশ্রেষ্ঠগণ, খেচরগণ, ব্যাঘ্রাদি জন্তু, ডাকিনীগণ, এমনকি কুপিত অন্তকও — পলায়নপর হয়, ভূতলে তোমার আশ্রিত মনুষ্যের দিকে ক্ষণকালও তাকাইতে পারে না।
৮
হে বরাঙ্গনা! লক্ষ্মী, সিদ্ধিসমূহ, পাদুকাদি সিদ্ধি, শত্রুস্তম্ভন, গজঘটাস্তম্ভন ও মোহন — হে মাতা, তোমার পদসেবায় মনুষ্যের এই সকল গুণ সিদ্ধ হয়। ক্ষুদ্রবুদ্ধি ব্যক্তিও এখানে বাচস্পতি হইয়া উঠে।
ফলশ্রুতি
৯
যে ভক্তিমান্ নর নিয়ম ও শুচিতার সহিত প্রাতে, মধ্যাহ্নে ও সায়াহ্নে এই পুণ্য তারাষ্টক পাঠ করে —
১০
সে কবিত্ব ও বিদ্যা লাভ করে, সর্বশাস্ত্রের অর্থবেত্তা হয়; অক্ষয়া লক্ষ্মী পাইয়া যথেপ্সিত ভোগ উপভোগ করে —
১১
কীর্তি, কান্তি ও নীরোগতা লাভ করে, সকলের প্রিয় হয়; লোকমধ্যে বিখ্যাতি পাইয়া অন্তে মোক্ষ লাভ করে।
এইরূপে শ্রীবৃহন্নীলতন্ত্রোক্ত তারাস্তোত্র তথা তারাষ্টক সম্পূর্ণ হইল।
কয়েকটি শব্দের অর্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| নীলসরস্বতী | তারার এক নাম |
| প্রত্যালীঢ | প্রত্যালীঢ়; যুদ্ধের এক পদভঙ্গি |
| কর্ত্রী | ছেদনকারী অস্ত্র |
| কপাল | নরকরোটি |
| উৎপল | নীলপদ্ম |
| বাচামীশ্বরী | বাক্যের ঈশ্বরী |
| কল্পলতিকা | কল্পলতা; ইচ্ছাপূরণকারী লতা |
| খর্বা | খর্বাকৃতি |
| ব্যাঘ্রত্বক্ | ব্যাঘ্রচর্ম |
| নৃমুণ্ডদাম | নরমুণ্ডের মালা |
| অর্দ্ধচন্দ্র | অর্ধচন্দ্র |
| সাযুজ্য | সায়ুজ্য; দেবতার সহিত একাত্মতা |
| স্তম্ভন | গতিরোধ |
| বাচস্পতি | বাক্যের অধিপতি, পরম পণ্ডিত |
| ফলশ্রুতি | পাঠের ফল বর্ণনা |
শ্রীতারাকবচম্ (উগ্রতারাকবচ) — সম্পূর্ণ পাঠ
পাঠকের জন্য টীকা। ফলশ্রুতিতে মারণ, উচ্চাটন, স্তম্ভন প্রভৃতি অভিচার-কর্মের উল্লেখ আছে। এগুলি তন্ত্রের প্রাচীন শাস্ত্রীয় বর্ণনা; আজকের পূজা-পাঠে ইহাদের কোনও স্থান নাই, আর কাহারও ক্ষতি কামনা করা ভক্তির পথ নহে। পাঠটি এখানে শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল।
এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।
১
২
৩
৪
৫
৬
৭
৮
৯
১০
১১
১২
১৩
১৪
১৫
১৬
১৭
১৮
১৯
২০
২১
২২
২৩
২৪
২৫
২৬
২৭
২৮
২৯
৩০
৩১
৩২
৩৩
৩৪
৩৫
৩৬
৩৭
৩৮
৩৯
৪০
৪১
৪২
৪৩
৪৪
৪৫
৪৬
৪৭
৪৮
৪৯
৫০
৫১
৫২
৫৩
৫৪
৫৫
৫৬
৫৭
৫৮
৫৯
প্রধান মন্দির
তারাপীঠ মন্দির
তারাপীঠ, রামপুরহাট, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ — দ্বারকা নদীর তীরে
শক্তিপীঠ ও সিদ্ধপীঠ। মন্দিরের পাশেই মহাশ্মশান, যেখানে বামাক্ষ্যাপা সাধনা করেছিলেন। গর্ভগৃহের শিলামূর্তিতে মা শিবকে স্তন্য দিচ্ছেন; তার উপরে সাধারণত ধাতুর ত্রিনয়না মুখাবয়ব পরানো থাকে — দর্শনে সেটিই চোখে পড়ে।
বামাক্ষ্যাপার সমাধিমন্দির, তারাপীঠ — মহাশ্মশানের পাশে, দ্বারকা নদীর ধারে — যেখানে বামাক্ষ্যাপার সাধনার আসন ছিল।
মন্দির

ছবি: Pinakpani · CC BY-SA 4.0 · কমন্স

ছবি: Tarunsamanta · CC BY-SA 4.0 · কমন্স
বিগ্রহ

তারাপীঠে মা তারা — রূপার মুখাবরণ, জবা ও পদ্মে সাজ
ছবি: অজ্ঞাত
কাহিনী
হলাহল ও মায়ের স্তন্য
দেবাসুরে মিলে সমুদ্র মন্থন করছে। অমৃতের আগে উঠে এল হলাহল — এমন বিষ, যার ধোঁয়াতেই প্রাণিকুল মরতে বসল। কেউ এগোয় না। শিব অঞ্জলি ভরে বিষ তুলে গিলে ফেললেন। পার্বতী তাঁর কণ্ঠ চেপে ধরলেন, বিষ আর নামল না — কণ্ঠ নীল হয়ে গেল, নাম হল নীলকণ্ঠ। তবু জ্বালা কমে না, শিব অচেতন। তখন আদ্যাশক্তি তারারূপে এলেন, শিবকে শিশু করে কোলে নিলেন, স্তন্য দিলেন। বিষের জ্বালা জুড়াল। জগৎ বাঁচল মায়ের দুধে।
বামাক্ষ্যাপা ও মায়ের ভাত
তারাপীঠের বামাক্ষ্যাপা মন্দিরের নিয়ম মানতেন না। একদিন মায়ের ভোগ নিবেদনের আগেই তিনি ভোগের থালা থেকে খেতে শুরু করেন। মন্দিরের লোকজন তাঁকে মারধর করে বার করে দেয়। মন্দির তখন নাটোর রাজবাড়ির; সেই রাতে নাটোরের রানি মা তারার স্বপ্ন পান — মা বলছেন, ‘ওরা আমার ছেলেকে মেরেছে। ও আগে খেলে আমি আগেই খাই। কাল থেকে ওকে আগে খাওয়াবি।’ পরদিন থেকে বামাক্ষ্যাপাই আগে ভোগ পেতেন।
বই
- শ্রীশ্রীচণ্ডী
লেখক / সংকলক: স্বামী জগদীশ্বরানন্দ (অনুবাদ ও টীকা)
প্রকাশক: উদ্বোধন কার্যালয়, কলকাতা
দেবীর সব রূপের মূল গ্রন্থ; তারাসাধকেরাও চণ্ডীপাঠ করেন। - ভারতের শক্তি-সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য
লেখক / সংকলক: শশিভূষণ দাশগুপ্ত
প্রকাশক: সাহিত্য সংসদ, কলকাতা
তারাপীঠ, চীনাচার ও বামাক্ষ্যাপার ধারা নিয়ে আলোচনা রয়েছে।