শক্তি
দেবীর রূপ, মন্ত্র, কাহিনী ও সঙ্গীত

ভৈরবী

পঞ্চম মহাবিদ্যা · ত্রিপুরাভৈরবী · কালভৈরবী · শুভঙ্করী

পরিচয়

ভৈরবী ভৈরবের শক্তি। ‘ভৈরব’ অর্থে যিনি ভয় জন্মান, আবার যিনি ভয় হইতে রক্ষা করেন। ভৈরবী সেই সংহারশক্তির নারীরূপ — কিন্তু তাঁহার সংহার ধ্বংস নহে, ক্ষয়। প্রতিদিন আমরা যে ক্ষয়ের পথে অগ্রসর হই, তাহাই তাঁহার কর্ম।

রূপ — সহস্র সূর্যের ন্যায় রক্তাভ দেহ, রক্তবস্ত্র, মস্তকে চন্দ্রকলা, কণ্ঠে মুণ্ডমালা, স্তনে রক্তচিহ্ন। চারি হস্তে জপমালা ও পুস্তক (জ্ঞান), বর ও অভয়।

এক হস্তে মালা, অপর হস্তে পুস্তক — উভয়ই তপস্যার চিহ্ন। সেই হেতু ভৈরবীকে তপস্বিনীদের দেবী বলা হয়।

উৎপত্তির কাহিনী

ভৈরবীর আবির্ভাব মহাকালের সহিত যুক্ত। কাল যখন আপন কর্ম আরম্ভ করিলেন — অর্থাৎ যখন সৃষ্টির ক্ষয় আরম্ভ হইল — তখন সেই ক্ষয়ের শক্তিরূপে ভৈরবী প্রকট হইলেন। সেই হেতু তাঁহাকে কালভৈরবী বলা হয়।

আর এক ধারা বলে, দেবী দুর্গা যখন শুম্ভ-নিশুম্ভের সেনার সহিত যুদ্ধে অবতীর্ণা হন, তখন তাঁহার ক্রোধ হইতে যে রক্তবর্ণা শক্তি নির্গতা হইলেন, তিনিই ভৈরবী। অসুরগণের রুধির পান করিয়া তাঁহার দেহ রক্তবর্ণ হইয়া যায়।

তন্ত্রে ভৈরবী মূলতঃ কুণ্ডলিনীর শক্তি — যে তাপে সাধকের অন্তরের অশুদ্ধি দগ্ধ হয়। সেই হেতু তাঁহার সাধনা কঠিন, আর তাঁহার নামের সহিত ‘তপস্’ শব্দটি জড়িত।

মন্ত্র

মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।

ত্র্যক্ষর (ওঁ-সহ ৪ অক্ষর)

ওঁ হ্স্রৈং হ্স্ক্ল্রীং হ্স্রৌঃ

ত্রিপুরাভৈরবী — বর্ণ ভাঙিয়া লেখা রূপ (পাঠান্তর) (১১ অক্ষর)

হসরৈং হসকলরীং হসরৌঃ

মূলমন্ত্র (ওঁ-সহ ৯ অক্ষর)

ওঁ হ্রীং ভৈরবি ক্লৌং হ্রীং স্বাহা

ধ্যানমন্ত্র

উদ্যদ্ভানুসহস্রাভাং শিরোমালাবিভূষিতাম্‌। রক্তাম্বরধরাং দেবীং রক্তপঙ্কজলোচনাম্‌॥ বরাভয়করাং দেবীং জপমালাক্ষসূত্রিণীম্‌। পুস্তকং দধতীং হস্তে ত্রিনেত্রাং চন্দ্রশেখরাম্‌॥

বঙ্গানুবাদ

শব্দে-শব্দে অর্থ
শব্দঅর্থ
উদ্যদ্ভানুসহস্রাভাম্উদীয়মান সহস্র সূর্যের ন্যায় দীপ্তিমতী
শিরোমালামুণ্ডমালা
বিভূষিতাম্বিভূষিতা
রক্তাম্বরধরাম্রক্তবস্ত্রধারিণী
দেবীম্দেবীকে
রক্তপঙ্কজরক্তপদ্ম
লোচনাম্নয়নবিশিষ্টা
বরাভয়করাম্যাঁহার হস্তে বর ও অভয়মুদ্রা
জপমালাজপের মালা
অক্ষসূত্রিণীম্রুদ্রাক্ষের মালা ধারণকারিণী
পুস্তকম্গ্রন্থ
দধতীম্ধারণ করিয়া আছেন যিনি
ত্রিনেত্রাম্ত্রিনয়না
চন্দ্রশেখরাম্মস্তকে চন্দ্রকলাধারিণী

প্রণাম মন্ত্র

ওঁ ভৈরবি ভৈরবারাধ্যে ভবসাগরতারিণি। ভবপাশবিমোক্ষায় ভৈরবি ত্বাং নমাম্যহম্‌॥

বঙ্গানুবাদ

হে ভৈরবী, হে ভৈরবের আরাধ্যা, হে ভবসাগরতারিণী! ভবপাশ হইতে মুক্তির জন্য, হে ভৈরবী, তোমাকে প্রণাম করি।

গায়ত্রী

ওঁ ত্রিপুরায়ৈ বিদ্মহে মহাভৈরব্যৈ ধীমহি। তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ॥

বঙ্গানুবাদ

ত্রিপুরাকে জানি, মহাভৈরবীকে ধ্যান করি — সেই দেবী আমাদের প্রেরণা দিন।

স্তোত্র — চণ্ডী (দেবীমাহাত্ম্য) — অপরাজিতা স্তুতির সূচনা

নমো দেব্যৈ মহাদেব্যৈ শিবায়ৈ সততং নমঃ। নমঃ প্রকৃত্যৈ ভদ্রায়ৈ নিয়তাঃ প্রণতাঃ স্ম তাম্‌॥ রৌদ্রায়ৈ নমো নিত্যায়ৈ গৌর্যৈ ধাত্র্যৈ নমো নমঃ। জ্যোৎস্নায়ৈ চেন্দুরূপিণ্যৈ সুখায়ৈ সততং নমঃ॥

বাংলা অর্থ

শ্রীত্রিপুরার্ণবোক্তবর্গান্তস্তোত্রম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

১

ক্ষ্মাম্ব্বগ্নীরণখার্কেন্দুয়ষ্ট্টপ্রায়যুগাক্ষরৈঃ। মাতৃভৈরবগাং বন্দে দেবীং ত্রিপুরভৈরবীম্॥

ক্ষ্মা (ক্ষিতি), অম্বু (জল), অগ্নি, ঈরণ (বায়ু), খ (আকাশ), অর্ক (সূর্য), ইন্দু (চন্দ্র) ও যষ্টা (যজমান) — শিবের এই অষ্টমূর্তির অক্ষরসমূহে যিনি প্রকাশিতা; মাতৃকারূপে ভৈরবের সহিত যুক্তা — সেই দেবী ত্রিপুরাভৈরবীকে আমি বন্দনা করি।

২

কাদিবর্গাষ্টকাকারসমস্তাষ্টকবিগ্রহাম্। অষ্টশক্ত্যাবৃতাং বন্দে দেবীং ত্রিপুরভৈরবীম্॥

ক-আদি বর্ণবর্গের অষ্টক-আকারে যিনি সমস্ত অষ্টকেরই বিগ্রহ, যিনি অষ্টশক্তিতে আবৃতা — সেই দেবী ত্রিপুরাভৈরবীকে আমি বন্দনা করি।

৩

স্বরষোড়শকানাং তু ষট্ ত্রিংশদ্ভিঃ পরাপরৈঃ। ষট্ ত্রিংশত্তত্বগাং বন্দে দেবীং ত্রিপুরভৈরবীম্॥

ষোড়শ স্বরের এবং পর ও অপর ভেদে ছত্রিশ তত্ত্বের মধ্যে যিনি বিরাজমানা — সেই ষট্‌ত্রিংশত্তত্ত্বগা দেবী ত্রিপুরাভৈরবীকে আমি বন্দনা করি।

৪

ষট্ ত্রিংশত্তত্বসংস্থাপ্যশিবচন্দ্রকলাস্বপি। কাদিতত্ত্বান্তরাং বন্দে দেবীং ত্রিপুরভৈরবীম্॥

ছত্রিশ তত্ত্বে সংস্থাপিত শিব ও চন্দ্রকলাসমূহের মধ্যেও যিনি অন্তর্গতা, ক-আদি তত্ত্বের অন্তরে যিনি বিরাজমানা — সেই দেবী ত্রিপুরাভৈরবীকে আমি বন্দনা করি।

৫

আ ঈ মায়া দ্বয়োপাধিবিচিত্রেন্দুকলাবতীম্। সর্বাত্মিকাং পরাং বন্দে দেবীং ত্রিপুরভৈরবীম্॥

‘আ’ ও ‘ঈ’ — মায়ার এই দুই উপাধিতে ও বিচিত্র ইন্দুকলায় যিনি সমন্বিতা, যিনি সর্বাত্মিকা ও পরা — সেই দেবী ত্রিপুরাভৈরবীকে আমি বন্দনা করি।

৬

ষডধ্বপিণ্ডযোনিস্থাং মণ্ডলত্রয়কুণ্ডলীম্। লিঙ্গত্রয়াতিগাং বন্দে দেবীং ত্রিপুরভৈরবীম্॥

ষড়ধ্বের পিণ্ডযোনিতে যিনি অবস্থিতা, যিনি মণ্ডলত্রয়ের কুণ্ডলিনী, যিনি লিঙ্গত্রয় অতিক্রম করিয়া আছেন — সেই দেবী ত্রিপুরাভৈরবীকে আমি বন্দনা করি।

৭

স্বয়ম্ভূহৃদয়াং বাণভ্রূকামান্তঃস্থিতেতরাম্। প্রাচ্যাং প্রত্যক্চিতিং বন্দে দেবীং ত্রিপুরভৈরবীম্॥

স্বয়ম্ভূর হৃদয়ে যিনি স্থিতা, বাণ-ভ্রূ-কামের অন্তরে ও তাহার অতীতে যিনি বিরাজমানা; বহির্মুখ (প্রাচী) দৃষ্টির বিপরীতে যিনি অন্তর্মুখ চৈতন্য — সেই দেবী ত্রিপুরাভৈরবীকে আমি বন্দনা করি।

৮

অক্ষরান্তর্গতাশেষনামরূপাং ক্রিয়াপরাম্। শক্তিং বিশ্বেশ্বরীং বন্দে দেবীং ত্রিপুরভৈরবীম্॥

অক্ষরের অন্তর্গত অশেষ নাম ও রূপ যাঁহার, যিনি ক্রিয়ার পরা শক্তি, যিনি বিশ্বেশ্বরী — সেই দেবী ত্রিপুরাভৈরবীকে আমি বন্দনা করি।

ফলশ্রুতি

৯

বর্গান্তে পঠিতব্যং স্যাৎ স্তোত্রমেতৎসমাহিতৈঃ। সর্বান্ কামানবাপ্নোতি অন্তে সাযুজ্যমাপ্নুয়াৎ॥

সমাহিতচিত্ত সাধকগণ বর্গের অন্তে এই স্তোত্র পাঠ করিবেন। পাঠকারী সমস্ত কামনা লাভ করে এবং অন্তে সায়ুজ্য প্রাপ্ত হয়।

ইতি শ্রীত্রিপুরার্ণবোক্তবর্গান্তস্তোত্রং সম্পূর্ণম্॥

এইরূপে শ্রীত্রিপুরার্ণবোক্ত বর্গান্তস্তোত্র সম্পূর্ণ হইল।

কয়েকটি শব্দের অর্থ

শব্দঅর্থ
ক্ষ্মাপৃথিবী
অম্বুজল
ঈরণবায়ু
অর্কসূর্য
ইন্দুচন্দ্র
মাতৃকাবর্ণমালার অধিষ্ঠাত্রী শক্তি
কাদিবর্গক-আদি বর্গ; ক হইতে আরম্ভ বর্ণবর্গ
অষ্টশক্তিআট শক্তি
ষট্ত্রিংশত্তত্ত্বছত্রিশ তত্ত্ব; শৈব-শাক্ত তত্ত্বক্রম
পরাপরপর ও অপর; উচ্চ ও নিম্ন স্তর
চন্দ্রকলাচাঁদের কলা
ষডধ্বষড়ধ্ব; তন্ত্রোক্ত ছয় পথ
মণ্ডলত্রয়তিন মণ্ডল
কুণ্ডলীকুণ্ডলিনী
লিঙ্গত্রয়তন্ত্রোক্ত তিন লিঙ্গ
প্রত্যক্চিতিপ্রত্যক্‌চিতি; অন্তর্মুখী চৈতন্য
বিশ্বেশ্বরীবিশ্বের অধীশ্বরী
সাযুজ্যসায়ুজ্য; দেবতার সহিত ঐক্য
শ্রীভৈরবীকবচম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

পাঠকের জন্য টীকা। এই কবচের ফলশ্রুতিতে নর ও পশু বলি দিয়া পূজার কথা আছে। নরবলি বহুকাল আগে পরিত্যক্ত, আর আজ তাহা আইনত গুরুতর অপরাধ; পশুবলিও অনেক জায়গায় নিষিদ্ধ। পাঠটি শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল — ইহা কোনও বিধান নহে।

এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।

১

শ্রীপার্বত্যুবাচ - দেবদেব মহাদেব সর্বশাস্ত্রবিশারদ । কৃপাঙ্কুরু জগন্নাথ ধর্মজ্ঞোঽসি মহামতে ॥ ১॥

২

ভৈরবী যা পুরা প্রোক্তা বিদ্যা ত্রিপুরপূর্বিকা । তস্যাস্তু কবচন্দিব্যং মহ্যঙ্কথয় তত্ত্বতঃ ॥ ২॥

৩

তস্যাস্তু বচনং শ্রুত্বা জগাদ জগদীশ্বরঃ । অদ্ভুতঙ্কবচন্দেব্যা ভৈরব্যা দিব্যরূপি বৈ ॥ ৩॥

৪

ঈশ্বর উবাচ — কথয়ামি মহাবিদ্যাকবচং সর্বদুর্লভম্ । শৃণুষ্ব ত্বঞ্চ বিধিনা শ্রুত্বা গোপ্যন্তবাপি তৎ ॥ ৪॥

৫

যস্যাঃ প্রসাদাৎসকলং বিভর্মি ভুবনত্রয়ম্ । যস্যাঃ সর্বং সমুৎপন্নং যস্যামদ্যাপি তিষ্ঠতি ॥ ৫॥

৬

মাতা পিতা জগদ্ধন্যা জগদ্ব্রহ্মস্বরূপিণী । সিদ্ধিদাত্রী চ সিদ্ধাস্স্যাদসিদ্ধা দুষ্টজন্তুষু ॥ ৬॥

৭

সর্বভূতহিতকরী সর্বভূতস্বরূপিণী । ককারী পাতু মান্দেবী কামিনী কামদায়িনী ॥ ৭॥

৮

একারী পাতু মান্দেবী মূলাধারস্বরূপিণী । ইকারী পাতু মান্দেবী ভূরি সর্বসুখপ্রদা ॥ ৮॥

৯

লকারী পাতু মান্দেবী ইন্দ্রাণী বরবল্লভা । হ্রীঙ্কারী পাতু মান্দেবী সর্বদা শম্ভুসুন্দরী ॥ ৯॥

১০

এতৈর্বর্ণৈর্মহামায়া শাম্ভবী পাতু মস্তকম্ । ককারে পাতু মান্দেবী শর্বাণী হরগেহিনী ॥ ১০॥

১১

মকারে পাতু মান্দেবী সর্বপাপপ্রণাশিনী । ককারে পাতু মান্দেবী কামরূপধরা সদা ॥ ১১॥

১২

ককারে পাতু মান্দেবী শম্বরারিপ্রিয়া সদা । পকারী পাতু মান্দেবী ধরাধরণিরূপধৃক্ ॥ ১২॥

১৩

হ্রীঙ্কারী পাতু মান্দেবী আকারার্দ্ধশরীরিণী । এতৈর্বর্ণৈর্মহামায়া কামরাহুপ্রিয়াঽবতু ॥ ১৩॥

১৪

মকারঃ পাতু মান্দেবী সাবিত্রী সর্বদায়িনী । ককারঃ পাতু সর্বত্র কলাম্বরস্বরূপিণী ॥ ১৪॥

১৫

লকারঃ পাতু মান্দেবী লক্ষ্মীঃ সর্বসুলক্ষণা । হ্রীং পাতু মান্তু সর্বত্র দেবী ত্রিভুবনেশ্বরী ॥ ১৫॥

১৬

এতৈর্বর্ণৈর্মহামায়া পাতু শক্তিস্বরূপিণী । বাগ্ভবং মস্তকমম্পাতু বদনঙ্কামরাজিকা ॥ ১৬॥

১৭

শক্তিস্বরূপিণী পাতু হৃদয়য়ন্ত্রসিদ্ধিদা । সুন্দরী সর্বদা পাতু সুন্দরী পরিরক্ষতি ॥ ১৭॥

১৮

রক্তবর্ণা সদা পাতু সুন্দরী সর্বদায়িনী । নানালঙ্কারসংযুক্তা সুন্দরী পাতু সর্বদা ॥ ১৮॥

১৯

সর্বাঙ্গসুন্দরী পাতু সর্বত্র শিবদায়িনী । জগদাহ্লাদজননী শম্ভুরূপা চ মাং সদা ॥ ১৯॥

২০

সর্বমন্ত্রময়ী পাতু সর্বসৌভাগ্যদায়িনী । সর্বলক্ষ্মীময়ী দেবী পরমানন্দদায়িনী ॥ ২০॥

২১

পাতু মাং সর্বদা দেবী নানাশঙ্খনিধিঃ শিবা । পাতু পদ্মনিধির্দেবী সর্বদা শিবদায়িনী ॥ ২১॥

২২

দক্ষিণামূর্তির্মাম্পাতু ঋষিঃ সর্বত্র মস্তকে । পঙ্ক্তিশ্ছন্দঃ স্বরূপা তু মুখে পাতু সুরেশ্বরী ॥ ২২॥

২৩

গন্ধাষ্টকাত্মিকা পাতু হৃদয়ং শঙ্করী সদা । সর্বসংমোহিনী পাতু পাতু সঙ্ক্ষোভিণী সদা ॥ ২৩॥

২৪

সর্বসিদ্ধিপ্রদা পাতু সর্বাকর্ষণকারিণী । ক্ষোভিণী সর্বদা পাতু বশিনী সর্বদাবতু ॥ ২৪॥

২৫

আকর্ষিণী সদা পাতু সম্মোহিনী সদাবতু । রতির্দেবী সদা পাতু ভগাঙ্গা সর্বদাবতু ॥ ২৫॥

২৬

মহেশ্বরী সদা পাতু কৌমারী সর্বদাবতু । সর্বাহ্লাদনকারী মাম্পাতু সর্ববশঙ্করী ॥ ২৬॥

২৭

ক্ষেমঙ্করী সদা পাতু সর্বাঙ্গসুন্দরী তথা । সর্বাঙ্গয়ুবতিঃ সর্বং সর্বসৌভাগ্যদায়িনী ॥ ২৭॥

২৮

বাগ্দেবী সর্বদা পাতু বাণিনী সর্বদাবতু । বশিনী সর্বদা পাতু মহাসিদ্ধিপ্রদা সদা ॥ ২৮॥

২৯

সর্ববিদ্রাবিণী পাতু গণনাথঃ সদাবতু । দুর্গা দেবী সদা পাতু বটুকঃ সর্বদাবতু ॥ ২৯॥

৩০

ক্ষেত্রপালঃ সদা পাতু পাতু চাবরিশান্তিকা । অনন্তঃ সর্বদা পাতু বরাহঃ সর্বদাবতু ॥ ৩০॥

৩১

পৃথিবী সর্বদা পাতু স্বর্ণসিংহাসনন্তথা । রক্তামৃতঞ্চ সততম্পাতু মাং সর্বকালতঃ ॥ ৩১॥

৩২

সুরার্ণবঃ সদা পাতু কল্পবৃক্ষঃ সদাবতু । শ্বেতচ্ছত্রং সদা পাতু রক্তদীপঃ সদাবতু ॥ ৩২॥

৩৩

নন্দনোদ্যানং সততম্পাতু মাং সর্বসিদ্ধয়ে । দিক্পালাঃ সর্বদা পান্তু দ্বন্দ্বৌঘাঃ সকলাস্তথা ॥ ৩৩॥

৩৪

বাহনানি সদা পান্তু অস্ত্রাণি পান্তু সর্বদা । শস্ত্রাণি সর্বদা পান্তু যোগিন্যঃ পান্তু সর্বদা ॥ ৩৪॥

৩৫

সিদ্ধাঃ পান্তু সদা দেবী সর্বসিদ্ধিপ্রদাবতু । সর্বাঙ্গসুন্দরী দেবী সর্বদাবতু মান্তথা ॥ ৩৫॥

৩৬

আনন্দরূপিণী দেবী চিৎস্বরূপা চিদাত্মিকা । সর্বদা সুন্দরী পাতু সুন্দরী ভবসুন্দরী ॥ ৩৬॥

৩৭

পৃথগ্দেবালয়ে ঘোরে সঙ্কটে দুর্গমে গিরৌ । অরণ্যে প্রান্তরে বাপি পাতু মাং সুন্দরী সদা ॥ ৩৭॥

৩৮

ইদঙ্কবচমিত্যুক্তং মন্ত্রোদ্ধারশ্চ পার্বতি । যঃ পঠেৎপ্রয়তো ভূত্বা ত্রিসন্ধ্যন্নিয়তঃ শুচিঃ ॥ ৩৮॥

৩৯

তস্য সর্বার্থসিদ্ধিঃ স্যাদ্যদ্যন্মনসি বর্ততে । গোরোচনাকুঙ্কুমেন রক্তচন্দনকেন বা ॥ ৩৯॥

৪০

স্বয়ম্ভূকুসুমৈঃ শুক্লৈর্ভূমিপুত্রে শনৌ সুরে । শ্মশানে প্রান্তরে বাপি শূন্যাগারে শিবালয়ে ॥ ৪০॥

৪১

স্বশক্ত্যা গুরুণা যন্ত্রম্পূজয়িত্বা কুমারিকাঃ । তন্মনুম্পূজয়িত্বা চ গুরুপঙ্ক্তিন্তথৈব চ ॥ ৪১॥

৪২

দেব্যৈ বলিন্নিবেদ্যাথ নরমার্জারসূকরৈঃ । নকুলৈর্মহিষৈর্মেষৈঃ পূজয়িত্বা বিধানতঃ ॥ ৪২॥

৪৩

ধৃত্বা সুবর্ণমধ্যস্তঙ্কণ্ঠে বা দক্ষিণে ভুজে । সুতিথৌ শুভনক্ষত্রে সূর্যস্যোদয়নে তথা ॥ ৪৩॥

৪৪

ধারয়িত্বা চ কবচং সর্বসিদ্ধিং লভেন্নরঃ । কবচস্য চ মাহাত্ম্যন্নাহং বর্ষশতৈরপি ॥ ৪৪॥

৪৫

শক্নোমি তু মহেশানি বক্তুন্তস্য ফলন্তু যৎ । ন দুর্ভিক্ষফলন্তত্র ন চাপি পীডনন্তথা ॥ ৪৫॥

৪৬

সর্ববিঘ্নপ্রশমনং সর্বব্যাধিবিনাশনম্ ॥ ৪৬॥

৪৭

সর্বরক্ষাকরঞ্জন্তোশ্চতুর্বর্গফলপ্রদম্ । যত্র কুত্র ন বক্তব্যন্ন দাতব্যঙ্কদাচন ॥ ৪৭॥

৪৮

মন্ত্রম্প্রাপ্য বিধানেন পূজয়েৎসততং সুধীঃ । তত্রাপি দুর্লভং মন্যে কবচন্দেবরূপিণম্ ॥ ৪৮॥

৪৯

গুরোঃ প্রসাদমাসাদ্য বিদ্যাম্প্রাপ্য সুগোপিতাম্ । তত্রাপি কবচন্দিব্যন্দুর্লভম্ভুবনত্রয়ে ॥ ৪৯॥

৫০

শ্লোকং বা স্তবমেকং বা যঃ পঠেৎপ্রয়তঃ শুচিঃ । তস্য সর্বার্থসিদ্ধিঃ স্যাচ্ছঙ্করেণ প্রভাষিতম্ ॥ ৫০॥

৫১

গুরুর্দ্দেবো হরঃ সাক্ষাৎপত্নী তস্য চ পার্বতী । অভেদেন যজেদ্যস্তু তস্য সিদ্ধিরদূরতঃ ॥ ৫১॥

প্রধান মন্দির

ভৈরবী মন্দির, কামাখ্যা
নীলাচল পাহাড়, গুয়াহাটি, আসাম

দশমহাবিদ্যার মন্দিরগুলির একটি; কামাখ্যা চত্বরে ভুবনেশ্বরী মন্দিরের কাছেই।

ত্রিপুরাভৈরবী ঘাট, বারাণসী — গঙ্গার এই ঘাটের নাম দেবী ত্রিপুরাভৈরবীর নামে; ঘাটের কাছেই তাঁর মন্দির।

দশমহাবিদ্যা — উইকিপিডিয়া

মন্দির

এই মন্দিরের চিত্র পাওয়া যায় নাই।

বিগ্রহ

বিগ্রহের চিত্র পাওয়া যায় নাই।

কাহিনী

তপস্যার আগুন

একটি উপদেশ-কাহিনী প্রচলিত আছে। এক সাধক বহু বছর ভৈরবীর সাধনা করেও কিছু পাননি। ক্লান্ত হয়ে তিনি বললেন, ‘মা, তুমি কি শুধু পোড়াতেই জানো?’ রাতে দেবী স্বপ্নে এসে বললেন, ‘সোনার আকরিক আগুনে দিলে সে কাঁদে, ভাবে তাকে নষ্ট করা হচ্ছে। আগুন নিভলে দেখা যায় ময়লাটুকুই পুড়েছে, সোনা রয়ে গেছে। আমি নষ্ট করি না, বাদ দিই।’

বই


এই রূপের প্রচলিত বাংলা গান বিশেষ নাই। সমস্ত গান →

সতর্কবার্তা। এই পৃষ্ঠার মন্ত্রসমূহ স্বেচ্ছায় জপ করিবার বস্তু নহে। দশমহাবিদ্যার তান্ত্রিক মন্ত্র — বিশেষতঃ বীজমন্ত্র, পঞ্চদশী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী ও মাতঙ্গীর মন্ত্র — শাস্ত্রমতে দীক্ষা ব্যতীত জপের বিধান নাই। গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করিয়া, তাঁহার আদেশে, তাঁহার তত্ত্বাবধানেই ইহা অনুষ্ঠেয়। গুরুর পথনির্দেশ ব্যতিরেকে কেহ স্বয়ং চেষ্টা করিবেন না। এখানে মন্ত্র উদ্ধৃত হইয়াছে পাঠ, পরিচয় ও অর্থবোধের নিমিত্ত — সাধনার নির্দেশিকারূপে নহে।

মন্ত্র, ধ্যান ও স্তোত্র নানা গ্রন্থে পাঠভেদে ভিন্ন হইয়া থাকে; অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পূর্বে মুদ্রিত পুঁথি ও পঞ্জিকার সহিত মিলাইয়া লইবেন।

শক্তি — সমস্ত রূপের সূচি · স্বীকৃতি · গোপনীয়তার নীতি