শক্তি
দেবীর রূপ, মন্ত্র, কাহিনী ও সঙ্গীত

ভুবনেশ্বরী

চতুর্থ মহাবিদ্যা · আদিশক্তি · মহামায়া · রাজরাজেশ্বরী

পরিচয়

ভুবনেশ্বরী অর্থে ভুবনের ঈশ্বরী। চতুর্দশ ভুবন তাঁহারই শরীর — আকাশ তাঁহার উদর, নক্ষত্র তাঁহার অলংকার। দশমহাবিদ্যার মধ্যে তিনিই ‘জগৎ’ রূপে প্রকাশিতা শক্তি।

দেহে উদীয়মান সূর্যের আভা, মস্তকে চন্দ্রকলার মুকুট, ত্রিনয়ন, বদনে মৃদু হাস্য। চারি হস্তে পাশ, অঙ্কুশ, বর ও অভয়। তিনি সৌম্যা, অস্ত্র তাঁহার নাই; যাহা আছে তাহা আকর্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের প্রতীকমাত্র।

তাঁহার বীজ ‘হ্রীং’ — মায়াবীজ। তন্ত্র বলে, এই একটিমাত্র বীজেই সমস্ত সৃষ্টি নিহিত।

উৎপত্তির কাহিনী

ভুবনেশ্বরীর অসুরবধের কোনও কাহিনী নাই — কারণ তিনি যুদ্ধের দেবী নহেন, তিনি আকাশের — সৃষ্টির আধার যে স্থান, তাহার — দেবী। দেবীভাগবত বলিতেছে, সৃষ্টির পূর্বে ছিল কেবল চৈতন্য। সেই চৈতন্য আপনাকে দেখিতে চাহিল — আর সেই ইচ্ছাই হইল মহামায়া, ভুবনেশ্বরী। তিনি আকাশ রচনা করিলেন, তাহাতেই ভুবন বসিল।

দেবীভাগবতের এক আখ্যানে তিনি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবকে মণিদ্বীপে লইয়া যান, এবং দেখাইয়া দেন — তাঁহারা তিনজনেই তাঁহারই শক্তিতে কর্ম করিতেছেন। সৃষ্টির ক্ষমতা ব্রহ্মাকে, পালনের ক্ষমতা বিষ্ণুকে, সংহারের ক্ষমতা শিবকে তিনিই দিয়াছেন।

সেই হেতু তাঁহাকে বলা হয় আদিশক্তি — যাঁহা হইতে অবশিষ্ট সমুদয় শক্তি নির্গত।

মন্ত্র

মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।

একাক্ষর — বীজমন্ত্র (ওঁ-সহ ২ অক্ষর)

ওঁ হ্রীং

ত্র্যক্ষর (ওঁ-সহ ৪ অক্ষর)

ওঁ আং হ্রীং ক্রোং

পঞ্চাক্ষর (ওঁ-সহ ৬ অক্ষর)

ওঁ ঐং হ্রীং শ্রীং নমঃ

অষ্টাক্ষর (ওঁ-সহ ৯ অক্ষর)

ওঁ আং শ্রীং হ্রীং ক্লীং ক্লীং হ্রীং শ্রীং ক্রোং

এক-বীজযুক্ত নাম-মন্ত্র (৮ অক্ষর)

হ্রীং ভুবনেশ্বর্যৈ নমঃ

দ্বি-বীজযুক্ত নাম-মন্ত্র (৯ অক্ষর)

শ্রীং হ্রীং ভুবনেশ্বর্যৈ নমঃ

ত্রিবীজযুক্ত নাম-মন্ত্র (ওঁ-সহ ১১ অক্ষর)

ওঁ হ্রীং শ্রীং ক্লীং ভুবনেশ্বর্যৈ নমঃ

দ্ব্যক্ষর — পাঠান্তর (২ অক্ষর)

ঐং হ্রীং

ত্র্যক্ষর — পাঠান্তর (৩ অক্ষর)

ঐং হ্রীং ঐং

ধ্যানমন্ত্র

উদ্যদ্দিনদ্যুতিমিন্দুকিরীটাং তুঙ্গকুচাং নয়নত্রয়যুক্তাম্‌। স্মেরমুখীং বরদাঙ্কুশপাশাভীতিকরাং প্রভজে ভুবনেশীম্‌॥

বঙ্গানুবাদ

শব্দে-শব্দে অর্থ
শব্দঅর্থ
উদ্যৎউদিত
দিনসূর্য
দ্যুতিম্দীপ্তিযুক্তা
ইন্দুচন্দ্র
কিরীটমুকুট
তুঙ্গউন্নত
কুচস্তন
নয়নত্রয়তিন নয়ন
যুক্তাম্যুক্তা
স্মেরমুখীম্মৃদুহাস্যময়ী
বরদবরদানকারিণী
অভীতিকরাঅভয়প্রদায়িনী
ভুবনেশীম্ভুবনের ঈশ্বরীকে

প্রণাম মন্ত্র

ওঁ ভুবনেশি মহামায়ে সর্বভূতনমস্কৃতে। সর্বকামপ্রদে দেবি প্রসীদ ত্বং নমোঽস্তু তে॥

বঙ্গানুবাদ

হে ভুবনেশী, হে মহামায়া, হে সর্বভূতনমস্কৃতা! হে সর্বকামপ্রদা দেবী, তুমি প্রসন্ন হও — তোমাকে প্রণাম।

গায়ত্রী

ওঁ নারায়ণ্যৈ বিদ্মহে ভুবনেশ্বর্যৈ ধীমহি। তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ॥

বঙ্গানুবাদ

নারায়ণীকে জানি, ভুবনেশ্বরীকে ধ্যান করি — সেই দেবী আমাদের প্রেরণা দিন।

স্তোত্র — চণ্ডী (দেবীমাহাত্ম্য) — অপরাজিতা ও নারায়ণী স্তুতি হইতে

যা দেবী সর্বভূতেষু মাতৃরূপেণ সংস্থিতা। নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নমঃ॥ সৃষ্টিস্থিতিবিনাশানাং শক্তিভূতে সনাতনি। গুণাশ্রয়ে গুণময়ে নারায়ণি নমোঽস্তু তে॥

বাংলা অর্থ

শ্রীভুবনেশ্বরীস্তোত্রম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

পাঠকের জন্য টীকা। স্তোত্রে দেবীর রূপ চরণ হইতে মস্তক পর্যন্ত অঙ্গ ধরিয়া বর্ণিত — ইহা সংস্কৃত স্তোত্রের প্রচলিত ‘নখশিখ’ রীতি, ভক্তির ভাষা।

১

অথানন্দময়ীং সাক্ষাচ্ছব্দব্রহ্মস্বরূপিণীম্। ঈডে সকলসম্পত্ত্যৈ জগৎকারণমম্বিকাম্॥ বিদ্যামশেষজননীমরবিন্দয়োনে- র্বিষ্ণোঃ শিবস্য চ বপুঃ প্রতিপাদয়িত্রীম্। সৃষ্টিস্থিতিক্ষয়করীং জগতাং ত্রয়াণাং স্তুত্বা গিরং বিমলয়াম্যহমম্বিকে ত্বাম্॥

হে অম্বিকা, তুমি সাক্ষাৎ আনন্দময়ী ও শব্দব্রহ্মস্বরূপিণী। সকল সম্পদের নিমিত্ত আমি সেই জগৎকারণা অম্বিকার স্তব করি। তুমি বিদ্যারূপিণী, অশেষের জননী; ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিবের বপুও তুমিই প্রতিপাদন কর। ত্রিজগতের সৃষ্টি, স্থিতি ও ক্ষয় তুমিই কর। তোমার স্তব করিয়া আমি আমার বাণী নির্মল করি।

২

পৃথ্ব্যা জলেন শিখিনা মরুতাম্বরেণ হোত্রেন্দুনা দিনকরেণ চ মূর্তিভাজঃ। দেবস্য মন্মথরিপোরপি শক্তিমত্তা হেতুস্ত্বমেব খলু পর্বতরাজপুত্রি॥

হে পর্বতরাজপুত্রী! পৃথিবী, জল, অগ্নি, বায়ু, আকাশ, হোতা, চন্দ্র ও সূর্য — এই অষ্টমূর্তিতে যিনি প্রকাশিত, সেই মন্মথরিপু মহাদেবের শক্তিমত্তারও হেতু কেবল তুমিই।

৩

ত্রিস্রোতসঃ সকলদেবসমর্চ্চিতায়াঃ বৈশিষ্ট্যকারণমবৈমি তদেব মাতঃ। ত্বৎপাদপঙ্কজপরাগপবিত্রিতাসু শম্ভোর্জটাসু সততং পরিবর্তনং যৎ॥

হে মাতা! সকল দেবতা কর্তৃক অর্চিতা ত্রিস্রোতা গঙ্গার যে বৈশিষ্ট্য, তাহার কারণ আমি ইহাই বুঝি — তোমার পদপঙ্কজের পরাগে পবিত্রিত শম্ভুর জটায় তিনি নিরন্তর বিচরণ করেন।

৪

আনন্দয়েৎকুমুদিনীমধিপঃ কলানা- ন্নান্যামিনঃ কমলিনীমথ নেতরাং বা। একস্য মোদনবিধৌ পরমেকমীষ্টে ত্বং তু প্রপঞ্চমভিনন্দয়সি স্বদৃষ্ট্যা॥

কলার অধিপতি চন্দ্র কেবল কুমুদিনীকে আনন্দিত করেন, অন্যকে নহে; সূর্য কেবল কমলিনীকে। একের আনন্দবিধানে এক-একজন সমর্থ। কিন্তু তুমি, হে দেবী, নিজ দৃষ্টিমাত্রেই সমস্ত প্রপঞ্চকে আনন্দিত কর।

৫

আদ্যাপ্যশেষজগতান্নবযৌবনাসি শৈলাধিরাজতনয়াপ্যতিকোমলাসি। ত্রয়্যাঃ প্রসূরপি তয়া ন সমীক্ষিতাসি ধ্যেয়াসি গৌরি মনসো ন পথি স্থিতাসি॥

হে গৌরী! সমস্ত জগতের আদ্যা হইয়াও তুমি নবযৌবনা; শৈলাধিরাজের তনয়া হইয়াও অতিকোমলা। ত্রয়ী বেদের প্রসূতি হইয়াও সেই বেদ তোমাকে সম্যক্‌ দেখিতে পায় নাই। তুমি ধ্যেয়া, অথচ মনের পথে ধরা দাও না।

৬

আসাদ্য জন্ম মনুজেষু চিরাদ্দুরাপং তত্রাপি পাটবমবাপ্য নিজেন্দ্রিয়াণাম্। নাভ্যর্চয়ন্তি জগতাং জনয়িত্রি যে ত্বাং নিঃশ্রেণিকাগ্রমধিরুহ্য পুনঃ পতন্তি॥

হে জগতের জননী! বহুকালে দুর্লভ মনুষ্যজন্ম লাভ করিয়া, তাহাতেও নিজ ইন্দ্রিয়ের পটুতা পাইয়া যাহারা তোমার অর্চনা করে না — তাহারা নিঃশ্রেণীর অগ্রভাগে উঠিয়াও পুনরায় পড়িয়া যায়।

৭

কর্পূরচূর্ণহিমবারিবিলোডিতেন যে চন্দনেন কুসুমৈশ্চ সুজাতগন্ধৈঃ। আরাধয়ন্তি হি ভবানি সমুৎসুকাস্ত্বাং তে খল্বখণ্ডভুবনাধিভুবঃ প্রথন্তে॥

হে ভবানি! যাঁহারা কর্পূরচূর্ণমিশ্রিত শীতল জলে মথিত চন্দনে ও সুগন্ধ কুসুমে সমুৎসুক হইয়া তোমার আরাধনা করেন, তাঁহারাই অখণ্ড ভুবনের অধিপতিরূপে প্রথিত হন।

৮

আবিশ্য মধ্যপদবীং প্রথমে সরোজে সুপ্তা হি রাজসদৃশী বিরচয়্য বিশ্বম্। বিদ্যুল্লতাবলয়বিভ্রমমুদ্বহন্তী পদ্মানি পঞ্চ বিদলয়্য সমশ্নুবানা॥

প্রথম সরোজে — মূলাধারে — মধ্যপথ আশ্রয় করিয়া তুমি বিশ্ব রচনা করিয়া রাজ্ঞীর ন্যায় সুপ্তা থাক। পরে বিদ্যুল্লতার বলয়ের বিভ্রম বহন করিয়া পাঁচটি পদ্ম বিদীর্ণ করিয়া ঊর্ধ্বে ওঠ।

৯

তন্নির্গতামৃতরসৈরভিষিচ্য গাত্রং মার্গেণ তেন বিলয়ং পুনরপ্যবাপ্তা। যেষাং হৃদি স্ফুরসি জাতু ন তে ভবেয়ু- র্মাতর্মহেশ্বরকুটুম্বিনি গর্ভভাজঃ॥

সেখান হইতে নির্গত অমৃতরসে গাত্র অভিষিক্ত করিয়া সেই পথেই পুনরায় বিলয় প্রাপ্ত হও। হে মহেশ্বরের কুটুম্বিনী মাতা! যাঁহাদের হৃদয়ে তুমি স্ফুরিত হও, তাঁহারা আর গর্ভবাস ভোগ করেন না।

১০

আলম্বিকুণ্ডলভরামভিরামবক্ত্রা- মাপীবরস্তনতটীং তনুবৃত্তমধ্যাম্। চিন্তাক্ষসূত্রকলশালিখিতাঢ্যহস্তা- মাবর্তয়ামি মনসা তব গৌরি মূর্তিম্॥

হে গৌরী! লম্বিত কুণ্ডলে ভারাক্রান্ত, অভিরাম মুখমণ্ডলা, পীন স্তনতটী ও তনু বৃত্ত মধ্যদেশবিশিষ্টা; হস্তে চিন্তামণি, অক্ষসূত্র, কলস ও লেখনী — তোমার সেই মূর্তি আমি মনে আবর্তন করি।

১১

আস্থায় যোগমবিজিত্য চ বৈরিষট্ক- মাবধ্য চেন্দ্রিয়গণং মনসি প্রসন্নে। পাশাঙ্কুশাভয়বরাঢ্যকরাংশুবক্ত্রা- মালোকয়ন্তি ভুবনেশ্বরি যোগিনস্ত্বাম্॥

হে ভুবনেশ্বরী! যোগিগণ যোগে প্রতিষ্ঠিত হইয়া ষড়্‌রিপু জয় করিয়া, ইন্দ্রিয়গণকে বদ্ধ করিয়া, প্রসন্ন মনে তোমাকে দর্শন করেন — তোমার হস্তে পাশ, অঙ্কুশ, অভয় ও বর, আর মুখে কিরণ।

১২

উত্তপ্তহাটকনিভাং করিভিশ্চতুর্ভি- রাবর্তিতামৃতঘটৈরভিষিচ্যমানা। হস্তদ্বয়েন নলিনে রুচিরে বহন্তী পদ্মাপি সাভয়করা ভবসি ত্বমেব॥

উত্তপ্ত স্বর্ণের ন্যায় দীপ্তিময়ী, চারিটি হস্তী কর্তৃক অমৃতঘটে অভিষিক্তা, দুই হস্তে রুচির নলিনী ধারণকারিণী — সেই অভয়করা পদ্মাও তুমিই।

১৩

অষ্টাভিরুগ্রবিবিধায়ুধবাহিনীভি- র্দ্দোর্বল্লরীভিরধিরুহ্য মৃগাধিবাসম্। দূর্বাদলদ্যুতিরমর্ত্যবিপক্ষপক্ষা- ন্ন্যক্কুর্বতী ত্বমসি দেবি ভবানি দুর্গে॥

হে দেবী ভবানি দুর্গে! আটটি বাহুলতায় উগ্র নানা আয়ুধ বহন করিয়া সিংহে আরোহণ করিয়া, দূর্বাদলের ন্যায় দ্যুতিময়ী হইয়া তুমি দেবশত্রুপক্ষকে পরাভূত কর।

১৪

আবির্ন্নিদাঘজলশীকরশোভিবক্ত্রাং গুঞ্জাফলেন পরিকল্পিতহারয়ষ্টিম্। রত্নাংশুকামসিতকান্তিমলঙ্কৃতাং ত্বা- মাদ্যাং পুলিন্দতরুণীমসকৃন্নমামি॥

নিদাঘজলের শীকরে শোভিত মুখমণ্ডলা, গুঞ্জাফলে গাঁথা হারধারিণী, রত্নাংশুকে ও অসিত কান্তিতে অলংকৃতা — সেই আদ্যা পুলিন্দতরুণীকে আমি বারংবার প্রণাম করি।

১৫

হংসৈর্গতিঃ ক্বণিতনূপুরদূরদৃষ্টে মূর্তেরিবাপ্তবচনৈরনুগম্যমানৌ। পদ্মাবিবোর্দ্ধ্বমুখরূঢসুজাতনালৌ শ্রীকণ্ঠপত্নি শিরসৈব দধে তবাঙ্ঘ্রী॥

হে শ্রীকণ্ঠের পত্নী! ক্বণিত নূপুরের ধ্বনিতে দূর হইতেই যাঁহার গতি হংসেরাও অনুসরণ করে; ঊর্ধ্বমুখে রূঢ় সুজাত নালযুক্ত পদ্মের ন্যায় তোমার সেই চরণযুগল আমি মস্তকেই ধারণ করি।

১৬

দ্বাভ্যাং সমীক্ষিতুমতৃপ্তিমতেব দৃগ্ভ্যা- মুৎপাদ্যতা ত্রিনয়নং বৃষকেতনেন। সান্দ্রানুরাগভবনেন নিরীক্ষ্যমাণে জঙ্ঘে উভে অপি ভবানি তবানতোঽস্মি॥

হে ভবানি! দুই চক্ষুতে দেখিয়া তৃপ্তি হয় নাই বলিয়াই যেন বৃষকেতন তৃতীয় নয়ন উৎপাদন করিয়াছেন। সান্দ্র অনুরাগভরে তিনি যে দুই জঙ্ঘা নিরীক্ষণ করেন, সেই দুইটিতেই আমি নত হইলাম।

১৭

ঊরূ স্মরামি জিতহস্তিকরাবলেপৌ স্থৌল্যেন মার্দ্দবতয়া পরিভূতরম্ভৌ। শ্রোণীভরস্য সহনৌ পরিকল্প্য দত্তৌ স্তম্ভাবিবাঙ্গবয়সা তব মধ্যমেন॥

স্থৌল্যে হস্তিশুণ্ডের গর্ব জয়কারী, মার্দবে রম্ভাকে (কদলীকাণ্ডকে) পরাভূতকারী তোমার ঊরুযুগল আমি স্মরণ করি — শ্রোণীর ভার সহিবার নিমিত্ত তোমার তনু মধ্যদেশ যেন দুইটি স্তম্ভরূপে তাহাদিগকে গড়িয়া দিয়াছে।

১৮

শ্রোণ্যৌ স্তনৌ চ যুগপৎপ্রথয়িষ্যতোচ্চৈ- র্বাল্যাৎপরেণ বয়সা পরিকৃষ্ণসারঃ। রোমাবলীবিলসিতেন বিভাব্যমূর্তি- র্মধ্যং তব স্ফুরতু মে হৃদয়স্য মধ্যে॥

শ্রোণী ও স্তন একসঙ্গে উচ্চে বিস্তৃত হইবার ফলে বাল্যের পরবর্তী বয়সে যাহা কৃশ হইয়াছে, রোমাবলির বিলাসে যাহার রূপ প্রকাশিত — তোমার সেই মধ্যদেশ আমার হৃদয়ের মধ্যে স্ফুরিত হউক।

১৯

সখ্যাস্স্মরস্য হরনেত্রহুতাশভীরো- র্ল্লাবণ্যবারিভরিতং নবযৌবনেন। আপাদ্য দত্তমিব পল্লবমপ্রবিষ্টং নাভিং কদাপি তব দেবি ন বিস্মরেয়ম্॥

হে দেবী! হরের নেত্রাগ্নিতে ভীত স্মরের সখা (বসন্ত) যেন নবযৌবনের লাবণ্যজলে পূর্ণ করিয়া গড়িয়া দিয়াছেন — তোমার সেই নাভি আমি কখনও বিস্মৃত না হই।

২০

ঈশোঽপি গেহপিশুনং ভসিতং দধানে কাশ্মীরকর্দ্দমমনু স্তনপঙ্কজে তে। স্নানোত্থিতস্য করিণঃ ক্ষণলক্ষফেনৌ সিন্দূরিতৌ স্মরয়তঃ সমদস্য কুম্ভৌ॥

ঈশের গৃহচিহ্ন ভস্ম ও কাশ্মীরকর্দমের লেপ যাহাতে শোভা পায়, তোমার সেই স্তনপঙ্কজযুগল — স্নান হইতে উত্থিত সমদ করীর ফেনশোভিত ও সিন্দূররঞ্জিত কুম্ভদ্বয়কে স্মরণ করাইয়া দেয়।

২১

কণ্ঠাতিরিক্তগলদুজ্জ্বলকান্তিধারা শোভৌ ভুজৌ নিজরিপোর্মকরধ্বজেন। কণ্ঠগ্রহায় রচিতৌ কিল দীর্ঘপাশৌ মাতর্মম স্মৃতিপথং ন বিলজ্জয়েতাম্॥

হে মাতা! কণ্ঠ হইতে গলিত উজ্জ্বল কান্তিধারায় শোভিত তোমার বাহুযুগল — যেন মকরধ্বজ নিজ রিপুর কণ্ঠগ্রহণের নিমিত্ত দুইটি দীর্ঘ পাশ রচনা করিয়াছেন। তাহারা যেন কখনও আমার স্মৃতিপথ হইতে সরিয়া না যায়।

২২

নাত্যায়তং রুচিরকম্বুবিলাসচৌর্যং ভূষাভরেণ বিবিধেন বিরাজমানম্। কণ্ঠং মনোহরগুণং গিরিরাজকন্যে সঞ্চিন্ত্য তৃপ্তিমুপয়ামি কদাপি নাহম্॥

হে গিরিরাজকন্যা! অতিদীর্ঘ নহে, রুচির কম্বুর বিলাস যেন চুরি করিয়াছে, বিবিধ ভূষণে বিরাজমান — তোমার সেই মনোহরগুণ কণ্ঠ চিন্তা করিয়া আমি কখনও তৃপ্তি পাই না।

২৩

অত্যায়তাক্ষমভিজাতললাটপট্টং মন্দস্মিতেন দরফুল্লকপোলরেখম্। বিম্বাধরং খলু সমুন্নতদীর্ঘনাসং যত্তে স্মরত্যসকৃদম্ব স এব জাতঃ॥

হে অম্বা! অত্যায়ত নয়ন, অভিজাত ললাটপট্ট, মন্দহাস্যে ঈষৎ প্রফুল্ল কপোলরেখা, বিম্বসদৃশ অধর, সমুন্নত ও দীর্ঘ নাসা — যে ব্যক্তি তোমার সেই মুখ বারংবার স্মরণ করে, তাহার জন্মই সার্থক।

২৪

আবিস্ত্বয়ারকরলেখমনল্পগন্ধ- পুষ্পোপরি ভ্রমদলিব্রজনির্বিশেষম্। যশ্চেতসা কলয়তে তব কেশপাশং তস্য স্বয়ং গলতি দেবি পুরাণপাশঃ॥

হে দেবী! সুগন্ধ পুষ্পের উপর ভ্রমণশীল ভ্রমরপুঞ্জ হইতে যাহা অভিন্ন, তোমার সেই কেশপাশ যে ব্যক্তি চিত্তে ধারণ করে, তাহার পুরাতন পাশ আপনি হইতেই খসিয়া পড়ে।

ফলশ্রুতি

২৫

শ্রুতিসুরচিতপাকং ধীমতাং স্তোত্রমেতৎ পঠতি য ইহ মর্ত্যো নিত্যমার্দ্দ্রান্তরাত্মা। স ভবতি পদমুচ্চৈস্সম্পদাং পাদনম্র- ক্ষিতিপমুকুটলক্ষ্মীর্ল্লক্ষণানাং চিরায়॥

শ্রুতিতে সুরচিত ও পরিণত এই স্তোত্র যে মর্ত্য আর্দ্র অন্তরাত্মা লইয়া নিত্য পাঠ করে, সে দীর্ঘকাল সম্পদের উচ্চ পদ লাভ করে — চরণে নত নরপতিগণের মুকুটলক্ষ্মীর লক্ষণ তাহাতে বর্তে।

ইতি শ্রীভুবনেশ্বরীস্তোত্রং সমাপ্তম্॥

এইরূপে শ্রীভুবনেশ্বরীস্তোত্র সমাপ্ত হইল।

কয়েকটি শব্দের অর্থ

শব্দঅর্থ
শব্দব্রহ্মবাক্যরূপ ব্রহ্ম
অম্বিকাজননী
অরবিন্দযোনিব্রহ্মা
ত্রিস্রোতাগঙ্গা
কুমুদিনীচন্দ্রালোকে প্রস্ফুটিত ফুল
কমলিনীসূর্যালোকে প্রস্ফুটিত পদ্ম
ত্রয়ীতিন বেদ
নিঃশ্রেণিকানিঃশ্রেণী; সিঁড়ি
মূলাধারপ্রথম চক্র
বিদ্যুল্লতাবিদ্যুতের রেখা
অক্ষসূত্রজপমালা
বৈরিষট্কষড়্‌রিপু; কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ, মাৎসর্য
হাটকস্বর্ণ
দূর্বাদলদূর্বার পাতা
গুঞ্জাফলকুঁচফল
পুলিন্দতরুণীশবরকন্যা
শ্রীকণ্ঠশিব
বৃষকেতনশিব
মকরধ্বজকামদেব
কম্বুশঙ্খ
কাশ্মীরকর্দ্দমকাশ্মীরকর্দম; কুঙ্কুমলেপ
ক্ষিতিপনরপতি
শ্রীভুবনেশ্বরীকবচম্‌ (ত্রৈলোক্যমঙ্গল) — সম্পূর্ণ পাঠ

এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।

১

দেব্যুবাচ । দেবেশ ভুবনেশ্বর্যা যা যা বিদ্যাঃ প্রকাশিতাঃ । শ্রুতাশ্চাধিগতাঃ সর্বাঃ শ্রোতুমিচ্ছামি সাম্প্রতম্ ॥ ১॥

২

ত্রৈলোক্যমঙ্গলং নাম কবচং যৎপুরোদিতম্ । কথয়স্ব মহাদেব মম প্রীতিকরং পরম্ ॥ ২॥

৩

ঈশ্বর উবাচ । শৃণু পার্বতি বক্ষ্যামি সাবধানাবধারয় । ত্রৈলোক্যমঙ্গলং নাম কবচং মন্ত্রবিগ্রহম্ ॥ ৩॥

৪

সিদ্ধবিদ্যাময়ং দেবি সর্বৈশ্বর্যসমন্বিতম্ । পঠনাদ্ধারণান্মর্ত্যস্ত্রৈলোক্যৈশ্বর্যভাগ্ভবেৎ ॥ ৪॥

৫

ওঁ অস্য শ্রীভুবনেশ্বরীত্রৈলোক্যমঙ্গলকবচস্য শিব ঋষিঃ, বিরাট্ ছন্দঃ , জগদ্ধাত্রী ভুবনেশ্বরী দেবতা , ধর্মার্থকামমোক্ষার্থে জপে বিনিয়োগঃ । হ্রীং বীজং মে শিরঃ পাতু ভুবনেশী ললাটকম্ । ঐং পাতু দক্ষনেত্রং মে হ্রীং পাতু বামলোচনম্ ॥ ১॥

৬

শ্রীং পাতু দক্ষকর্ণং মে ত্রিবর্ণাত্মা মহেশ্বরী । বামকর্ণং সদা পাতু ঐং ঘ্রাণং পাতু মে সদা ॥ ২॥

৭

হ্রীং পাতু বদনং দেবি ঐং পাতু রসনাং মম । বাক্পুটা চ ত্রিবর্ণাত্মা কণ্ঠং পাতু পরাত্মিকা ॥ ৩॥

৮

শ্রীং স্কন্ধৌ পাতু নিয়তং হ্রীং ভুজৌ পাতু সর্বদা । ক্লীং করৌ ত্রিপুটা পাতু ত্রিপুরৈশ্বর্যদায়িনী ॥ ৪॥

৯

ওঁ পাতু হৃদয়ং হ্রীং মে মধ্যদেশং সদাবতু । ক্রৌং পাতু নাভিদেশং মে ত্র্যক্ষরী ভুবনেশ্বরী ॥ ৫॥

১০

সর্ববীজপ্রদা পৃষ্ঠং পাতু সর্ববশঙ্করী । হ্রীং পাতু গুহ্যদেশং মে নমোভগবতী কটিম্ ॥ ৬॥

১১

মাহেশ্বরী সদা পাতু শঙ্খিনী জানুযুগ্মকম্ । অন্নপূর্ণা সদা পাতু স্বাহা পাতু পদদ্বয়ম্ ॥ ৭॥

১২

সপ্তদশাক্ষরা পায়াদন্নপূর্ণাখিলং বপুঃ । তারং মায়া রমাকামঃ ষোড়শার্ণা ততঃ পরম্ ॥ ৮॥

১৩

শিরঃস্থা সর্বদা পাতু বিংশত্যর্ণাত্মিকা পরা । তারং দুর্গে যুগং রক্ষিণী স্বাহেতি দশাক্ষরা ॥ ৯॥

১৪

জয়দুর্গা ঘনশ্যামা পাতু মাং সর্বতো মুদা । মায়াবীজাদিকা চৈষা দশার্ণা চ ততঃ পরা ॥ ১০॥

১৫

উত্তপ্তকাঞ্চনাভাসা জয়দুর্গাঽঽননেঽবতু । তারং হ্রীং দুং চ দুর্গায়ৈ নমোঽষ্টার্ণাত্মিকা পরা ॥ ১১॥

১৬

শঙ্খচক্রধনুর্বাণধরা মাং দক্ষিণেঽবতু । মহিষামর্দ্দিনী স্বাহা বসুবর্ণাত্মিকা পরা ॥ ১২॥

১৭

নৈর্ঋত্যাং সর্বদা পাতু মহিষাসুরনাশিনী । মায়া পদ্মাবতী স্বাহা সপ্তার্ণা পরিকীর্তিতা ॥ ১৩॥

১৮

পদ্মাবতী পদ্মসংস্থা পশ্চিমে মাং সদাঽবতু । পাশাঙ্কুশপুটা মায়ো স্বাহা হি পরমেশ্বরি ॥ ১৪॥

১৯

ত্রয়োদশার্ণা তারাদ্যা অশ্বারূঢ়াঽনলেঽবতু । সরস্বতি পঞ্চস্বরে নিত্যক্লিন্নে মদদ্রবে ॥ ১৫॥

২০

স্বাহা বস্বক্ষরা বিদ্যা উত্তরে মাং সদাঽবতু । তারং মায়া চ কবচং খে রক্ষেৎসততং বধূঃ ॥ ১৬॥

২১

হূং ক্ষেং হ্রীং ফট্ মহাবিদ্যা দ্বাদশার্ণাখিলপ্রদা । ত্বরিতাষ্টাহিভিঃ পায়াচ্ছিবকোণে সদা চ মাম্ ॥ ১৭॥

২২

ঐং ক্লীং সৌঃ সততং বালা মূর্দ্ধদেশে ততোঽবতু । বিন্দ্বন্তা ভৈরবী বালা হস্তৌ মাং চ সদাঽবতু ॥ ১৮॥

২৩

ইতি তে কথিতং পুণ্যং ত্রৈলোক্যমঙ্গলং পরম্ । সারাৎসারতরং পুণ্যং মহাবিদ্যৌঘবিগ্রহম্ ॥ ১৯॥

২৪

অস্যাপি পঠনাৎসদ্যঃ কুবেরোঽপি ধনেশ্বরঃ । ইন্দ্রাদ্যাঃ সকলা দেবা ধারণাৎপঠনাদ্যতঃ ॥ ২০॥

২৫

সর্বসিদ্ধীশ্বরাঃ সন্তঃ সর্বৈশ্বর্যমবাপ্নুয়ুঃ । পুষ্পাঞ্জল্যষ্টকং দদ্যান্মূলেনৈব পৃথক্ পৃথক্ ॥ ২১॥

২৬

সংবৎসরকৃতায়াস্তু পূজায়াঃ ফলমাপ্নুয়াৎ । প্রীতিমন্যোঽন্যতঃ কৃত্বা কমলা নিশ্চলা গৃহে ॥ ২২॥

২৭

বাণী চ নিবসেদ্বক্ত্রে সত্যং সত্যং ন সংশয়ঃ । যো ধারয়তি পুণ্যাত্মা ত্রৈলোক্যমঙ্গলাভিধম্ ॥ ২৩॥

২৮

কবচং পরমং পুণ্যং সোঽপি পুণ্যবতাং বরঃ । সর্বৈশ্বর্যযুতো ভূত্বা ত্রৈলোক্যবিজয়ী ভবেৎ ॥ ২৪॥

২৯

পুরুষো দক্ষিণে বাহৌ নারী বামভুজে তথা । বহুপুত্রবতী ভূয়াদ্বন্ধ্যাপি লভতে সুতম্ ॥ ২৫॥

৩০

ব্রহ্মাস্ত্রাদীনি শস্ত্রাণি নৈব কৃন্তন্তি তং জনম্ । এতৎকবচমজ্ঞাত্বা যো ভজেদ্ভুবনেশ্বরীম্ । দারিদ্র্যং পরমং প্রাপ্য সোঽচিরান্মৃত্যুমাপ্নুয়াৎ ॥ ২৬॥
পাতকদহন ভুবনেশ্বরীকবচম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ
শিব উবাচ —

শিব কহিলেন —

১

পাতকদহনং নাম কবচং সর্ব্বকামকম্। শৃণু পার্ব্বতি বক্ষ্যামি তব স্নেহাৎপ্রকাশিতম্॥

হে পার্বতী, ‘পাতকদহন’ নামে যে কবচ — উহা সর্বকামনাপূরক। শুন, বলিতেছি; তোমার প্রতি স্নেহেই ইহা প্রকাশ করিলাম।

২

পাতকং দহনস্যাস্য সদাশিব ঋষিঃস্মৃতঃ। ছন্দোঽনুষ্টুব্ দেবতা চ ভুবনেশী প্রকীর্ত্তিতা। ধর্মার্থকামমোক্ষেষু বিনিয়োগঃ প্রকীর্ত্তিতঃ॥

এই পাতকদহন কবচের ঋষি সদাশিব, ছন্দ অনুষ্টুপ্‌, দেবতা ভুবনেশী; ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষে ইহার বিনিয়োগ।

৩

ঐং বীজং মে শিরঃ পাতু হ্রীং বীজং বদনং মম। শ্রীং বীজং কটিদেশন্তু সর্বাঙ্গং ভুবনেশ্বরী। দিক্ষু চৈব বিদিক্ষ্বীয়ং ভুবনেশী সদাবতু॥

ঐং বীজ আমার মস্তক রক্ষা করুক, হ্রীং বীজ মুখ, শ্রীং বীজ কটিদেশ; ভুবনেশ্বরী সর্বাঙ্গ রক্ষা করুন। দিকে ও বিদিকে — সর্বত্র ভুবনেশীই সদা রক্ষা করুন।

ফলশ্রুতি

৪

অস্যাপি পঠনাৎসদ্যঃ কুবেরোঽপি ধনেশ্বরঃ। তস্মাৎসদা প্রয়ত্নেন পঠেয়ুর্ম্মানবা ভুবি॥

ইহা পাঠের প্রসাদেই কুবের তৎক্ষণাৎ ধনেশ্বর হইয়াছিলেন। তাই পৃথিবীর মানুষ যত্নের সহিত সর্বদা ইহা পাঠ করিবেন।

প্রধান মন্দির

ভুবনেশ্বরী মন্দির
নীলাচল পাহাড়, কামাখ্যা, গুয়াহাটি, আসাম

নীলাচল পাহাড়ের চূড়ায়, মূল কামাখ্যা মন্দির থেকে খানিকটা উপরে। এখান থেকে ব্রহ্মপুত্র আর গুয়াহাটি শহরের অনেকটা দেখা যায়। নীলাচলের দশমহাবিদ্যা মন্দিরগুলির একটি।

ভুবনেশ্বরী মন্দির, উদয়পুর, ত্রিপুরা — গোমতী নদীর তীরে, সতেরো শতকে ত্রিপুরার মাণিক্য রাজাদের গড়া মন্দির। রবীন্দ্রনাথের ‘রাজর্ষি’ ও ‘বিসর্জন’-এর পটভূমি এই মন্দির।

কামাখ্যা মন্দির — উইকিপিডিয়া

মন্দির

ভুবনেশ্বরী মন্দির, নীলাচল, কামাখ্যা
ভুবনেশ্বরী মন্দির, নীলাচল, কামাখ্যা
ছবি: Rohit Goswami · CC BY-SA 4.0 · কমন্স
ভুবনেশ্বরী মন্দির, উদয়পুর, ত্রিপুরা
ভুবনেশ্বরী মন্দির, উদয়পুর, ত্রিপুরা
ছবি: Kanad Sanyal · CC BY-SA 4.0 · কমন্স

বিগ্রহ

বিগ্রহের চিত্র পাওয়া যায় নাই।

কাহিনী

মণিদ্বীপে তিন দেবতা

ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব — কে বড়, এই নিয়ে তিনজনের মনেই একটু অহংকার ছিল। হঠাৎ এক আলোর রথ এসে তাঁদের তুলে নিয়ে গেল মণিদ্বীপে। সেখানে রত্নসিংহাসনে বসে আছেন এক দেবী, আর তাঁর দুপাশে অসংখ্য শক্তি। তিন দেবতা নিজেদের দিকে তাকিয়ে দেখলেন — তাঁরাও নারীরূপ পেয়েছেন। দেবী হেসে বললেন, ‘তোমরা যে কাজ করো, সে শক্তি আমারই। আমি সরে গেলে সৃষ্টিও নেই, পালনও নেই, সংহারও নেই।’ ফিরে আসার পর তিনজনেই জানলেন, তাঁরা কর্তা নন, যন্ত্র।

বই


ভুবনেশ্বরীর গান →

সতর্কবার্তা। এই পৃষ্ঠার মন্ত্রসমূহ স্বেচ্ছায় জপ করিবার বস্তু নহে। দশমহাবিদ্যার তান্ত্রিক মন্ত্র — বিশেষতঃ বীজমন্ত্র, পঞ্চদশী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী ও মাতঙ্গীর মন্ত্র — শাস্ত্রমতে দীক্ষা ব্যতীত জপের বিধান নাই। গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করিয়া, তাঁহার আদেশে, তাঁহার তত্ত্বাবধানেই ইহা অনুষ্ঠেয়। গুরুর পথনির্দেশ ব্যতিরেকে কেহ স্বয়ং চেষ্টা করিবেন না। এখানে মন্ত্র উদ্ধৃত হইয়াছে পাঠ, পরিচয় ও অর্থবোধের নিমিত্ত — সাধনার নির্দেশিকারূপে নহে।

মন্ত্র, ধ্যান ও স্তোত্র নানা গ্রন্থে পাঠভেদে ভিন্ন হইয়া থাকে; অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পূর্বে মুদ্রিত পুঁথি ও পঞ্জিকার সহিত মিলাইয়া লইবেন।

শক্তি — সমস্ত রূপের সূচি · স্বীকৃতি · গোপনীয়তার নীতি