শক্তি
দেবীর রূপ, মন্ত্র, কাহিনী ও সঙ্গীত

মাতঙ্গী

নবম মহাবিদ্যা · উচ্ছিষ্টচাণ্ডালিনী · শ্যামলা · রাজমাতঙ্গী

পরিচয়

মাতঙ্গীকে বলা হয় তন্ত্রের সরস্বতী। বাক্‌শক্তি, সঙ্গীত, কবিতা, শিল্প — সমস্তই তাঁহার। কিন্তু সরস্বতীর শুভ্রতা নহে, তাঁহার বর্ণ শ্যাম; তিনি রত্নসিংহাসনে বসিয়া বীণা বাজান।

রূপ — শ্যামবর্ণা, ত্রিনয়না, মস্তকে চন্দ্রকলা, চারি হস্তে পাশ, অঙ্কুশ, ধনু ও বাণ — নীচের ধ্যানমন্ত্রে এইরূপই; অন্য ধ্যানে তাঁহার হস্তে বীণা, খড়্গ বা অভয়। শুকপক্ষী তাঁহার সঙ্গী — বাক্‌শক্তির প্রতীক।

তাঁহার আর এক নাম উচ্ছিষ্টচাণ্ডালিনী। ‘উচ্ছিষ্ট’ অর্থে ভোজনান্তে পড়িয়া থাকা অংশ — যাহা সাধারণ বিধানে অশুদ্ধ। মাতঙ্গীর পূজায় সেই উচ্ছিষ্টই নৈবেদ্য। ইঙ্গিত স্পষ্ট: তাঁহার নিকট উচ্চ-নীচ, শুদ্ধ-অশুদ্ধের ভেদ নাই।

উৎপত্তির কাহিনী

একটি কাহিনী — শিব ও পার্বতী একত্রে আহার করিতেছিলেন। আহারকালে কিঞ্চিৎ অন্ন ভূমিতে পড়িল। সেই উচ্ছিষ্ট অন্ন হইতে এক কন্যা উঠিয়া আসিলেন, এবং উভয়ের নিকটেই অবশিষ্ট আহার প্রার্থনা করিলেন। শিব বলিলেন, ‘তুমি উচ্ছিষ্টেই তৃপ্তা, অতএব তোমার নাম উচ্ছিষ্টচাণ্ডালিনী। যাহারা উচ্ছিষ্ট নিবেদন করিয়া ডাকিবে, তুমি তাহাদের নিকট যাইবে।’

মতঙ্গ মুনির কথাটি স্বতন্ত্র। তিনি বহুকাল তপস্যা করিয়াছিলেন, যেন সমস্ত প্রাণী তাঁহার বশে আসে। সেই তপস্যায় তুষ্টা হইয়া ত্রিপুরসুন্দরীর নয়ন হইতে এক শ্যামবর্ণা দেবী নির্গতা হইলেন। ইনিই রাজমাতঙ্গী; মতঙ্গের কন্যা বলিয়া নাম মাতঙ্গী।

লোকধারায় তিনি চণ্ডাল পরিবারে পালিতা — সেই হেতু যাঁহাদের সমাজ দূরে সরাইয়া রাখে, তাঁহাদেরই দেবী তিনি। প্রান্তিক সমাজে তাঁহার উপাসনার ধারা প্রাচীন বলিয়া গবেষকেরা মনে করেন।

মন্ত্র

মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।

অষ্টাক্ষর (ওঁ-সহ ৯ অক্ষর)

ওঁ কামিনি রঞ্জিনি স্বাহা

নবাক্ষর (ওঁ-সহ ১০ অক্ষর)

ওঁ হ্রীং ক্লীং হূং মাতঙ্গ্যৈ ফট্ স্বাহা

মূলমন্ত্র (ওঁ-সহ ১৫ অক্ষর)

ওঁ হ্রীং ঐং ভগবতি মতঙ্গেশ্বরি শ্রীং স্বাহা

ধ্যানমন্ত্র

শ্যামাঙ্গীং শশিশেখরাং ত্রিনয়নাং রত্নসিংহাসনস্থিতাং বেদৈর্বাহুদণ্ডৈঃ সপাশসৃণিকোদণ্ডেষুদণ্ডোজ্জ্বলাম্‌। মাণিক্যাদিবিভূষণৈরুপচিতাং শ্যামালিকাং সুস্মিতাং নীলোৎপলদলপ্রভাং ভগবতীং মাতঙ্গিনীং চিন্তয়েৎ॥

বঙ্গানুবাদ

শব্দে-শব্দে অর্থ
শব্দঅর্থ
শ্যামাঙ্গীম্শ্যামবর্ণ অঙ্গবিশিষ্টা
শশিশেখরাম্মস্তকে চন্দ্রকলাধারিণী
ত্রিনয়নাম্তিন নয়নবিশিষ্টা
রত্নসিংহাসনস্থিতাম্রত্নসিংহাসনে উপবিষ্টা
বেদৈঃচারিটি (বেদ = চার, বেদের সংখ্যা ধরিয়া)
বাহুদণ্ডৈঃদণ্ডসদৃশ বাহু দ্বারা
সপাশপাশসহ
সৃণিঅঙ্কুশ
কোদণ্ডধনু
ইষুবাণ
উজ্জ্বলাম্উজ্জ্বলা
মাণিক্যাদিমাণিক্য প্রভৃতি
বিভূষণৈঃঅলংকার দ্বারা
উপচিতাম্শোভিতা
শ্যামালিকাম্শ্যামা; শ্যামলা
সুস্মিতাম্মৃদুহাস্যময়ী
নীলোৎপলদলনীলপদ্মের পাপড়ি
প্রভাম্যাঁহার আভা
ভগবতীম্ভগবতীকে
মাতঙ্গিনীম্মাতঙ্গীকে
চিন্তয়েৎচিন্তা করিবে

প্রণাম মন্ত্র

ওঁ মাতঙ্গি পরমেশানি সর্ববাক্‌সিদ্ধিদায়িনি। শ্যামাঙ্গি শুভদে দেবি মাতঙ্গি ত্বাং নমাম্যহম্‌॥

বঙ্গানুবাদ

হে মাতঙ্গী, হে পরমেশ্বরী, হে সর্ববাক্‌সিদ্ধিদায়িনী; হে শ্যামাঙ্গী, হে শুভদা দেবী মাতঙ্গী — তোমাকে প্রণাম করি।

গায়ত্রী

ওঁ মাতঙ্গ্যৈ বিদ্মহে উচ্ছিষ্টচাণ্ডাল্যৈ ধীমহি। তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ॥

বঙ্গানুবাদ

মাতঙ্গীকে জানি, উচ্ছিষ্টচাণ্ডালিনীকে ধ্যান করি — সেই দেবী আমাদের প্রেরণা দিন।

স্তোত্র — মাতঙ্গী স্তুতি

মাতঙ্গি ত্বং জগন্মাতা বাগ্‌দেবী বরদা শুভা। বীণাবাদনতৎপরা শ্যামা রত্নাসনস্থিতা॥ উচ্ছিষ্টেঽপি প্রসন্না ত্বং ন শুদ্ধ্যশুদ্ধিভেদিনী। সর্বজাতিসমা দেবী মাতঙ্গি ত্বাং নমাম্যহম্‌॥

বাংলা অর্থ

শ্রীমাতঙ্গীস্তোত্রম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

পাঠকের জন্য টীকা। ফলশ্রুতিতে মারণ, উচ্চাটন, স্তম্ভন প্রভৃতি অভিচার-কর্মের উল্লেখ আছে। এগুলি তন্ত্রের প্রাচীন শাস্ত্রীয় বর্ণনা; আজকের পূজা-পাঠে ইহাদের কোনও স্থান নাই, আর কাহারও ক্ষতি কামনা করা ভক্তির পথ নহে। পাঠটি এখানে শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল। ‘নারীগণ দাসীত্ব পান’ জাতীয় ফলশ্রুতিও সেই যুগের ভাষা; আজকের দৃষ্টিতে তাহা গ্রহণযোগ্য নহে।

১

মাতঙ্গীং মধুপানমত্তনয়নাং মাতঙ্গসঞ্চারিণীং কুম্ভীকুম্ভবিবৃত্তপীবরকুচাং কুম্ভাদিপাত্রাঞ্চিতাম্। ধ্যায়েঽহং মধুমারণৈকসহজাং ধ্যাতুস্সুপুত্রপ্রদাং শর্বাণীং সুরসিদ্ধসাধ্যবনিতা সংসেবিতা পাদুকাম্॥

মধুপানে মত্তনয়না, মাতঙ্গের (হস্তীর) ন্যায় মন্থরগামিনী, কুম্ভীকুম্ভের ন্যায় পীবর কুচা, কুম্ভাদি পাত্রে অঞ্চিতা; ধ্যাতার সুপুত্রপ্রদা সেই শর্বাণীর আমি ধ্যান করি — সুর, সিদ্ধ ও সাধ্যগণের বনিতাগণ যাঁহার পাদুকা সেবা করেন।

২

মাতঙ্গী মহিষাদিরাক্ষসকৃতধ্বান্তৈকদীপো মণিঃ মন্বাদিস্তুত মন্ত্ররাজবিলসৎসদ্ভক্ত চিন্তামণিঃ। শ্রীমৎকৌলিকদানহাস্যরচনা চাতুর্য রাকামণিঃ দেবিত্বং হৃদয়ে বসাদ্যমহিমে মদ্ভাগ্য রক্ষামণিঃ॥

মহিষাদি রাক্ষসকৃত অন্ধকারে মাতঙ্গী একমাত্র দীপ ও মণি; মন্বাদি কর্তৃক স্তুত মন্ত্ররাজে বিলসিত, সদ্‌ভক্তের চিন্তামণি; শ্রীমৎ কৌলিক দান ও হাস্যরচনার চাতুর্যে রাকামণি — হে আদ্যমহিমে, আমার ভাগ্যের রক্ষামণি হইয়া তুমি হৃদয়ে বাস কর।

৩

জয়দেবি বিশালাক্ষি জয় সর্বেশ্বরি জয়। জয়াঞ্জনগিরিপ্রখ্যে মহাদেব প্রিয়ঙ্করি॥

জয় হউক হে দেবী, হে বিশালাক্ষী; জয় হউক হে সর্বেশ্বরী। হে অঞ্জনগিরির ন্যায় শ্যামবর্ণা, হে মহাদেবপ্রিয়ংকরী — তোমার জয় হউক।

৪

মহাবিশ্বেশ দয়িতে জয় ব্রহ্মাদি পূজিতে। পুষ্পাঞ্জলিং প্রদাস্যামি গৃহাণ কুলনায়িকে॥

হে মহাবিশ্বেশের দয়িতা, হে ব্রহ্মাদি কর্তৃক পূজিতা, তোমার জয় হউক। হে কুলনায়িকা, আমি পুষ্পাঞ্জলি দিতেছি — গ্রহণ কর।

৫

জয়মাতর্মহাকৃষ্ণে জয় নীলোৎপলপ্রভে। মনোহারি নমস্তেঽস্তু নমস্তুভ্যং বশঙ্করি॥

জয় হউক হে মাতা মহাকৃষ্ণা, জয় হউক হে নীলোৎপলপ্রভা। হে মনোহারিণী, তোমাকে প্রণাম; হে বশংকরী, তোমাকে প্রণাম।

৬

জয় সৌভাগ্যদে নৃণাং লোকমোহিনি তে নমঃ। সর্বৈশ্বর্যপ্রদে পুংসাং সর্ববিদ্যাপ্রদে নমঃ॥

জয় হউক হে নরগণের সৌভাগ্যদা, হে লোকমোহিনী — তোমাকে প্রণাম। হে পুরুষগণের সর্বৈশ্বর্যপ্রদা, হে সর্ববিদ্যাপ্রদা — প্রণাম।

৭

সর্বাপদাং নাশকরীং সর্বদারিদ্র্যনাশিনীম্। নমো মাতঙ্গতনয়ে নমশ্চাণ্ডালি কামদে॥

সর্ব আপদের নাশকারিণী, সর্ব দারিদ্র্যের নাশিনী — হে মাতঙ্গতনয়া, তোমাকে প্রণাম; হে চাণ্ডালী, হে কামদা, প্রণাম।

৮

নীলাম্বরে নমস্তুভ্যং নীলালকসমন্বিতে। নমস্তুভ্যং মহাবাণি মহালক্ষ্মি নমোঽস্তুতে॥

হে নীলাম্বরা, হে নীল অলকসমন্বিতা, তোমাকে প্রণাম। হে মহাবাণী, তোমাকে প্রণাম; হে মহালক্ষ্মী, তোমাকে প্রণাম।

৯

মহামাতঙ্গি পাদাব্জং তব নিত্যং নমাম্যহম্। এতদুক্তং মহাদেব্যা মাতঙ্গ্যাঃ স্তোত্রমুত্তমম্॥

হে মহামাতঙ্গী, আমি নিত্য তোমার পাদাব্জে প্রণাম করি। মহাদেবী মাতঙ্গীর এই উত্তম স্তোত্র কথিত হইল।

ফলশ্রুতি

১০

সর্বকামপ্রদং নিত্যং যঃ পঠেন্মানবোত্তমঃ। বিমুক্তস্সকলৈঃ পাপৈঃ সমগ্রং পুণ্যমশ্নুতে॥

যে মানবোত্তম নিত্য এই সর্বকামপ্রদ স্তোত্র পাঠ করেন, তিনি সকল পাপ হইতে বিমুক্ত হইয়া সমগ্র পুণ্য ভোগ করেন।

১১

রাজানো দাসতাং যান্তি নার্যো দাসীত্বমাপ্নুয়ুঃ। দাসীভূতং জগৎসর্বং শীঘ্রং তস্য ভবেদ্ ধ্রুবম্॥

রাজারা দাসত্ব প্রাপ্ত হন, নারীগণ দাসীত্ব পান; সমগ্র জগৎ শীঘ্রই তাঁহার অনুগত হয় — ইহা ধ্রুব।

১২

মহাকবির্ভবেদ্বাগ্ভিঃ সাক্ষাদ্ বাগীশ্বরো ভবেৎ। অচলাং শ্রিয়মাপ্নোতি অণিমাদ্যষ্টকং লভেৎ॥

বাক্যে তিনি মহাকবি হন, সাক্ষাৎ বাগীশ্বর হন; অচলা শ্রী লাভ করেন এবং অণিমাদি অষ্টসিদ্ধি প্রাপ্ত হন।

১৩

লভেন্মনোরথান্ সর্বান্ ত্রৈলোক্যে নাপি দুর্লভান্। অন্তে শিবত্বমাপ্নোতি নাত্র কার্যা বিচারণা॥

ত্রৈলোক্যেও দুর্লভ সমস্ত মনোরথ তিনি লাভ করেন এবং অন্তে শিবত্ব প্রাপ্ত হন — ইহাতে বিচারের প্রয়োজন নাই।

॥ শ্রীরাজমাতঙ্গী পাদুকার্পণমস্তু ॥ ॥ ইতি শ্রীমাতঙ্গীস্তোত্রং সম্পূর্ণম্ ॥

শ্রীরাজমাতঙ্গীর পাদুকায় এই অর্পণ হউক। এইরূপে শ্রীমাতঙ্গীস্তোত্র সম্পূর্ণ হইল।

কয়েকটি শব্দের অর্থ

শব্দঅর্থ
মাতঙ্গহস্তী (দেবীর নাম মাতঙ্গী — মতঙ্গ মুনির কন্যা বলিয়া)
কুম্ভীকুম্ভহস্তীর মস্তকের কুম্ভ
শর্বাণীশর্ব অর্থাৎ শিবের শক্তি
চিন্তামণিইচ্ছাপূরক রত্ন
রাকামণিপূর্ণিমার চন্দ্রসদৃশ মণি
অঞ্জনগিরিঅঞ্জনবর্ণ পর্বত
কুলনায়িকাকুলাচারের অধিষ্ঠাত্রী
নীলোৎপলনীলপদ্ম
বশঙ্করীবশংকরী; বশীকরণকারিণী
চাণ্ডালীমাতঙ্গীর এক নাম
অলককেশগুচ্ছ
বাগীশ্বরবাক্যের অধীশ্বর
অণিমাদিঅণিমা প্রভৃতি অষ্টসিদ্ধি
শ্রীমাতঙ্গীস্তোত্রম্‌ (দ্বিতীয়) — সম্পূর্ণ পাঠ

পাঠকের জন্য টীকা। এই স্তোত্রে গোমাংস, মদ্য, রজস্বলা নারী প্রভৃতির উল্লেখ তান্ত্রিক বামাচারের পরিভাষা — সাধারণ পূজার বিধি নহে। ফলশ্রুতির মারণ-কর্মও আজকের পূজা-পাঠে স্থান পায় না। পাঠটি শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল।

এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।

১

নমামি বরদাং দেবীং সুমুখীং সর্বসিদ্ধিদাম্ । সূর্যকোটিনিভাং দেবীং বহ্নিরূপাং ব্যবস্থিতাম্ ॥ ১॥

২

রক্তবস্ত্র নিতম্বাং চ রক্তমাল্যোপশোভিতাম্ । গুঞ্জাহারস্তনাঢ্যান্তাং পরঞ্জ্যোতিঃস্বরূপিণীম্ ॥ ২॥

৩

মারণং মোহনং বশ্যং স্তম্ভনাকর্ষ দায়িনী । মুণ্ড কর্ত্রিং শরাবামাং পরঞ্জ্যোতিঃস্বরূপিণীম্ ॥ ৩॥

৪

স্বয়ম্ভুকুসুম প্রীতাং ঋতুযোনিনিবাসিনীম্ । শবস্থাং স্মেরবদনাং পরঞ্জ্যোতিঃস্বরূপিণীম্ ॥ ৪॥ রজস্বলা ভবেন্নিত্যং পূজেষ্টফলদায়িনী । মদ্যপ্রিয়াং রতিময়ীং পরঞ্জ্যোতিঃস্বরূপিণীম্ ॥ ৫॥

৫

শিববিষ্ণুবিরঞ্চীনাং সাদ্যাং বুদ্ধিপ্রদায়িনীম্ । অসাধ্যং সাধিনীং নিত্যাং পরঞ্জ্যোতিঃস্বরূপিণীম্ ॥ ৬॥

৬

রাত্রৌ পূজা বলিযুতাং গোমাংস রুধিরপ্রিয়াম্ । নানাঽলঙ্কারিণীং রৌদ্রীং পিশাচগণসেবিতাম্ ॥ ৭॥

৭

ইত্যষ্টকং পঠেদ্যস্তু ধ্যানরূপাং প্রসন্নধীঃ । শিবরাত্রৌ ব্রতেরাত্রৌ বারুণী দিবসেঽপিবা ॥ ৮॥

৮

পৌর্ণমাস্যামমাবস্যাং শনিভৌমদিনে তথা । সততং বা পঠেদ্যস্তু তস্য সিদ্ধিঃ পদে পদে ॥ ৯॥
শ্রীমাতঙ্গিনীকবচম্‌ (ত্বরিতফলদায়িনী) — সম্পূর্ণ পাঠ

এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।

১

সাধু সাধু মহাদেব কথয়স্ব সুরেশ্বর । মাতঙ্গীকবচন্দিব্যং সর্বসিদ্ধিকরন্নৃণাম্ ॥ ১॥

২

শ্রী ঈশ্বর উবাচ শৃণু দেবি প্রবক্ষ্যামি মাতঙ্গীকবচং শুভম্ । গোপনীয়ং মহাদেবি মৌনী জাপং সমাচরেৎ ॥ ২॥

৩

অস্য শ্রীমাতঙ্গীকবচস্য দক্ষিণামূর্তিরৃষির্বিরাট্ ছন্দো মাতঙ্গী দেবতা চতুর্বর্গসিদ্ধয়ে বিনিয়োগঃ ॥ ওঁ শিরো মাতঙ্গিনী পাতু ভুবনেশী তু চক্ষুষী । তোডলা কর্ণযুগলন্ত্রিপুরা বদনং মম ॥ ৩॥

৪

পাতু কণ্ঠে মহামায়া হৃদি মাহেশ্বরী তথা । ত্রিপুষ্পা পার্শ্বয়োঃ পাতু গুদে কামেশ্বরী মম ॥ ৪॥

৫

ঊরুদ্বয়ে তথা চণ্ডী জঙ্ঘয়োশ্চ হরপ্রিয়া । মহামায়া পাদযুগ্মে সর্বাঙ্গেষু কুলেশ্বরী ॥ ৫॥

৬

অঙ্গম্প্রত্যঙ্গকঞ্চৈব সদা রক্ষতু বৈষ্ণবী । ব্রহ্মরন্ধ্রে সদা রক্ষেন্মাতঙ্গী নাম সংস্থিতা ॥ ৬॥

৭

ললাটে রক্ষয়েন্নিত্যং মহাপিশাচিনীতি চ । নেত্রাভ্যাং সুমুখী রক্ষেদ্দেবী রক্ষতু নাসিকাম্ ॥ ৭॥

৮

মহাপিশাচিনী পায়ান্মুখে রক্ষতু সর্বদা । লজ্জা রক্ষতু মান্দন্তে চোষ্ঠৌ সংমার্জনীকরী ॥ ৮॥

৯

চিবুকে কণ্ঠদেশে তু চকারত্রিতয়ম্পুনঃ । সবিসর্গং মহাদেবী হৃদয়ম্পাতু সর্বদা ॥ ৯॥

১০

নাভিং রক্ষতু মা লোলা কালিকাবতু লোচনে । উদরে পাতু চামুণ্ডা লিঙ্গে কাত্যায়নী তথা ॥ ১০॥

১১

উগ্রতারা গুদে পাতু পাদৌ রক্ষতু চাম্বিকা । ভুজৌ রক্ষতু শর্বাণী হৃদয়ঞ্চণ্ডভূষণা ॥ ১১॥

১২

জিহ্বায়াং মাতৃকা রক্ষেৎপূর্বে রক্ষতু পুষ্টিকা । বিজয়া দক্ষিণে পাতু মেধা রক্ষতু বারুণে ॥ ১২॥

১৩

নৈর্ঋত্যাং সুদয়া রক্ষেদ্বায়ব্যাম্পাতু লক্ষ্মণা । ঐশান্যাং রক্ষয়েদ্দেবী মাতঙ্গী শুভকারিণী ॥ ১৩॥

১৪

রক্ষেৎসুরেশা চাগ্নেয়ে বগলা পাতু চোত্তরে । ঊর্দ্ধ্বম্পাতু মহাদেবী দেবানাং হিতকারিণী ॥ ১৪॥

১৫

পাতালে পাতু মা নিত্যং বশিনী বিশ্বরূপিণী । প্রণবঞ্চ ততো মায়া কামবীজঞ্চ কূর্চ্চকম্ ॥ ১৫॥

১৬

মাতঙ্গিনী ঙেযুতাস্ত্রং বহ্নিজায়াবধির্মনুঃ । সার্দ্ধৈকাদশবর্ণা সা সর্বত্র পাতু মাং সদা ॥ ১৬॥

১৭

ইতি তে কথিতন্দেবি গুহ্যাদ্গুহ্যতরম্পরম্ । ত্রৈলোক্যমঙ্গলন্নাম কবচন্দেবদুর্লভম্ ॥ ১৭॥

১৮

য ইদম্প্রপঠেন্নিত্যঞ্জায়তে সম্পদালয়ম্ । পরমৈশ্বর্যমতুলম্প্রাপ্নুয়ান্নাত্র সংশয়ঃ ॥ ১৮॥

১৯

গুরুমভ্যর্চ্চ্য বিধিবৎকবচম্প্রপঠেদ্যদি । ঐশ্বর্যং সুকবিত্বঞ্চ বাক্সিদ্ধিং লভতে ধ্রুবম্ ॥ ১৯॥

২০

নিত্যন্তস্য তু মাতঙ্গী মহিলা মঙ্গলঞ্চরেৎ । ব্রহ্মা বিষ্ণুশ্চ রুদ্রশ্চ যে দেবাঃ সুরসত্তমাঃ ॥ ২০॥

২১

ব্রহ্মরাক্ষসবেতালা গ্রহাদ্যা ভূতজাতয়ঃ । তন্দৃষ্ট্বা সাধকন্দেবি লজ্জাযুক্তা ভবন্তি তে ॥ ২১॥

২২

কবচন্ধারয়েদ্যস্তু সর্বসিদ্ধিংলভেদ্ধ্রুবম্ । রাজানোঽপি চ দাসত্বং ষট্কর্মাণি চ সাধয়েৎ ॥ ২২॥

২৩

সিদ্ধো ভবতি সর্বত্র কিমন্যৈর্বহু ভাষিতৈঃ । ইদং কবচমজ্ঞাত্বা মাতঙ্গীং যো ভজেন্নরঃ ॥ ২৩॥

২৪

অল্পায়ুর্নির্দ্ধনো মূর্খো ভবত্যেব ন সংশয়ঃ । গুরৌ ভক্তিঃ সদা কার্যা কবচে চ দৃঢ়া মতিঃ ॥ ২৪॥

২৫

তস্মৈ মাতঙ্গিনী দেবী সর্বসিদ্ধিম্প্রয়চ্ছতি ॥ ২৫॥

প্রধান মন্দির

কামাখ্যা মন্দির (মাতঙ্গী)
নীলাচল পাহাড়, কামাখ্যা, গুয়াহাটি, আসাম

কামাখ্যায় মাতঙ্গীর আলাদা মন্দির নেই — মূল মন্দিরের গর্ভগৃহেই, কমলার সঙ্গে, তিনি পূজিতা। বাংলায় ও আসামে মাতঙ্গীর স্বতন্ত্র মন্দির বিরল; বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তিনি দশমহাবিদ্যার সমষ্টিগত মন্দিরে পূজিতা।

রাজমাতঙ্গী মন্দির, বারাণসী ও দক্ষিণ ভারতের শ্রীবিদ্যা পীঠগুলি — শ্রীবিদ্যার ধারায় মাতঙ্গী ‘শ্যামলা’ নামে ললিতার মন্ত্রিণী রূপে পূজিতা।

কামাখ্যা মন্দির — উইকিপিডিয়া

মন্দির

এই মন্দিরের চিত্র পাওয়া যায় নাই।

বিগ্রহ

বিগ্রহের চিত্র পাওয়া যায় নাই।

কাহিনী

উচ্ছিষ্টের মর্যাদা

একটি প্রচলিত কাহিনী — এক ব্রাহ্মণ পণ্ডিত মাতঙ্গীর সাধনা করতে গিয়ে আটকে গেলেন। উচ্ছিষ্ট নিবেদনের বিধান তিনি মানতে পারছেন না; স্নান করে, শুদ্ধ বস্ত্রে, শুদ্ধ নৈবেদ্যে পূজা করেন, কিছুই হয় না। শেষে গুরু বললেন, ‘তুমি ভুল জিনিস শুদ্ধ করছ। থালা নয়, মন।’ পরদিন তিনি নিজের খাওয়ার পরে পড়ে থাকা অন্নটুকুই সামনে রেখে ডাকলেন, আর প্রথমবার তাঁর কণ্ঠে সুর এল। কথিত আছে, সেদিন থেকে তাঁর কথায় মানুষ বশ হত — মাতঙ্গী বাক্‌সিদ্ধি দিয়েছিলেন।

বই


মাতঙ্গীর গান →

সতর্কবার্তা। এই পৃষ্ঠার মন্ত্রসমূহ স্বেচ্ছায় জপ করিবার বস্তু নহে। দশমহাবিদ্যার তান্ত্রিক মন্ত্র — বিশেষতঃ বীজমন্ত্র, পঞ্চদশী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী ও মাতঙ্গীর মন্ত্র — শাস্ত্রমতে দীক্ষা ব্যতীত জপের বিধান নাই। গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করিয়া, তাঁহার আদেশে, তাঁহার তত্ত্বাবধানেই ইহা অনুষ্ঠেয়। গুরুর পথনির্দেশ ব্যতিরেকে কেহ স্বয়ং চেষ্টা করিবেন না। এখানে মন্ত্র উদ্ধৃত হইয়াছে পাঠ, পরিচয় ও অর্থবোধের নিমিত্ত — সাধনার নির্দেশিকারূপে নহে।

মন্ত্র, ধ্যান ও স্তোত্র নানা গ্রন্থে পাঠভেদে ভিন্ন হইয়া থাকে; অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পূর্বে মুদ্রিত পুঁথি ও পঞ্জিকার সহিত মিলাইয়া লইবেন।

শক্তি — সমস্ত রূপের সূচি · স্বীকৃতি · গোপনীয়তার নীতি