শক্তি
দেবীর রূপ, মন্ত্র, কাহিনী ও সঙ্গীত

তারা

দ্বিতীয় মহাবিদ্যা · উগ্রতারা · নীলসরস্বতী · একজটা

পরিচয়

‘তারা’ শব্দের অর্থ — যিনি তারেন, অর্থাৎ পার করাইয়া দেন। ভবসাগর হইতে উদ্ধার করেন বলিয়াই তাঁহার এই নাম। দশমহাবিদ্যার দ্বিতীয়া তিনি, এবং তন্ত্রে কালীর অব্যবহিত পরেই তাঁহার স্থান।

রূপে তিনি কালীর নিকটবর্তিনী, তথাপি স্বতন্ত্রা — খর্বাকৃতি, লম্বোদরী, নীলবর্ণা, একটিমাত্র জটা (সেই হেতু একজটা), কটিদেশে ব্যাঘ্রচর্ম, কণ্ঠে নরমুণ্ডমালা। চারি হস্তে খড়্গ, কর্তৃকা, নীলপদ্ম ও কপাল। পদতলে শব।

তাঁহার তিন প্রধান রূপ — উগ্রতারা (রক্ষাকর্ত্রী), একজটা (তপস্বিনী) এবং নীলসরস্বতী (বাক্‌ ও কবিত্বের দাত্রী)। বাঙ্গালায় তারাপীঠের মা তারা এই ধারারই কেন্দ্র।

উৎপত্তির কাহিনী

সমুদ্রমন্থনকালে উঠিল হলাহল বিষ। ত্রিভুবন দগ্ধ হইতেছে দেখিয়া শিব সেই বিষ পান করিলেন। বিষের জ্বালায় তিনি মূর্ছিত হইয়া পড়িলে দেবী তারা আবির্ভূতা হইলেন, শিবকে শিশুরূপে ক্রোড়ে লইয়া স্তন্য পান করাইলেন — আর সেই স্তন্যেই বিষের জ্বালা জুড়াইল।

এই কারণেই তারার প্রতিমায় দেবী মাতা, আর শিব তাঁহার ক্রোড়ে শিশু। কালীর কাহিনীতে শিব শবরূপে দেবীর পদতলে, তারার এই কাহিনীতে তিনি দেবীর ক্রোড়ে সন্তান — দুই রূপের ভাবের প্রভেদ এইখানে। (তারার ধ্যানমূর্তিতে অবশ্য তিনিও শবারূঢ়া।)

তারাপীঠে আবার অন্য কথা চলে। বশিষ্ঠ মুনি বহুকাল তারামন্ত্র জপ করিয়াও সিদ্ধি পাইলেন না। দেবীর নির্দেশে তিনি মহাচীনে গমন করিয়া বুদ্ধরূপী বিষ্ণুর নিকট ‘চীনাচার’ শিক্ষা করিলেন; ফিরিয়া আসিয়া দ্বারকা নদীর তীরে সেই প্রণালীতে সাধনা করিয়া তারার দর্শন পাইলেন। সেই স্থানই তারাপীঠ।

পুরাণ বলে, সতীর তৃতীয় নয়ন অথবা নয়নতারা এই স্থানে পতিত হইয়াছিল — তাই ‘তারাপীঠ’।

মন্ত্র

মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।

একাক্ষর — বীজমন্ত্র (ওঁ-সহ ২ অক্ষর)

ওঁ ত্রীং

ত্র্যক্ষর (ওঁ-সহ ৪ অক্ষর)

ওঁ হূং স্ত্রীং হূং

চতুরক্ষর (ওঁ-সহ ৫ অক্ষর)

ওঁ হ্রীং স্ত্রীং হূং ফট্

চতুরক্ষর — দ্বিতীয় রূপ (ওঁ-সহ ৫ অক্ষর)

ওঁ হ্রীং ত্রীং হূং ফট্

ষড়ক্ষর (৬ অক্ষর)

ঐং ওঁ হ্রীং ক্রীং হূং ফট্

ষড়ক্ষর — দ্বিতীয় রূপ (ওঁ-সহ ৭ অক্ষর)

ওঁ ত্রীং হ্রীং হ্রূং হ্রীং হূং ফট্

চতুরক্ষর — পাঠান্তর (৪ অক্ষর)

হ্রীং স্ত্রীং হূং ফট্

পঞ্চাক্ষর — পাঠান্তর (৫ অক্ষর)

শ্রীং হ্রীং স্ত্রীং হূং ফট্

ধ্যানমন্ত্র

প্রত্যালীঢ়পদাং ঘোরাং মুণ্ডমালাবিভূষিতাম্‌। খর্বাং লম্বোদরীং ভীমাং ব্যাঘ্রচর্মাবৃতাং কটৌ॥ নবযৌবনসম্পন্নাং পঞ্চমুদ্রাবিভূষিতাম্‌। চতুর্ভুজাং লোলজিহ্বাং মহাভীমাং বরপ্রদাম্‌॥ খড়্গকর্তৃসমাযুক্তসব্যেতরভুজদ্বয়াম্‌। কপালোৎপলসংযুক্তসব্যপাণিযুগান্বিতাম্‌॥ পিঙ্গোগ্রৈকজটাং ধ্যায়েন্মৌলাবক্ষোভ্যভূষিতাম্‌। বালার্কমণ্ডলাকারলোচনত্রয়ভূষিতাম্‌॥ জ্বলচ্চিতামধ্যগতাং ঘোরদংষ্ট্রাকরালিনীম্‌। সবেশস্মেরবদনাং স্রগলংকারবিভূষিতাম্‌॥ বিশ্বব্যাপকতোয়ান্তঃ শ্বেতপদ্মোপরি স্থিতাম্‌॥

বঙ্গানুবাদ

শব্দে-শব্দে অর্থ
শব্দঅর্থ
প্রত্যালীঢপদাম্প্রত্যালীঢ় ভঙ্গিতে পদস্থাপনকারিণী
ঘোরাম্ভয়ংকরী
মুণ্ডমালামুণ্ডের মালা
বিভূষিতাম্অলংকৃতা
খর্বাম্খর্বাকৃতি
লম্বোদরীম্লম্বিত উদরবিশিষ্টা
ভীমাম্ভীষণা
আবৃতাম্আবৃতা
কটৌকটিদেশে
নবযৌবনসম্পন্নাম্নবযৌবনসম্পন্না
চতুর্ভুজাম্চারি বাহুবিশিষ্টা
লোলজিহ্বাম্দোলায়মান জিহ্বাযুক্তা
বরপ্রদাম্বরদানকারিণী
খড্গতরবারি
কর্তৃকর্তৃকা; ছেদনকারী অস্ত্র
সমাযুক্তযুক্ত
সব্যেতরসব্য (বাম) ভিন্ন অন্য, অর্থাৎ দক্ষিণ
ভুজদ্বয়দুই বাহু
কপালনরকরোটি; খর্পর
উৎপলনীলপদ্ম
সব্যপাণিবাম হস্ত
পিঙ্গপিঙ্গল; তাম্রবর্ণ
উগ্রভয়ংকর
একজটাএকটিমাত্র জটা
ধ্যায়েৎধ্যান করিবে
মৌলিমস্তক; মুকুট
বালার্কউদীয়মান সূর্য
মণ্ডলাকারমণ্ডলের ন্যায়
লোচনত্রয়তিন নয়ন
জ্বলৎজ্বলন্ত
চিতাম্চিতা; চিতাগ্নি
গতাম্অবস্থানকারিণী
করালিনীভয়ংকর মুখমণ্ডলবিশিষ্টা
স্মেরবদনামৃদুহাস্যযুক্ত মুখ
অলঙ্কারঅলংকার

প্রণাম মন্ত্র

ওঁ তারিণি তারসর্বস্বে তারকে তারকান্তকে। তারয়স্ব মহাদেবি ত্রাহি মাং শরণাগতম্‌॥

বঙ্গানুবাদ

হে তারিণী, তুমিই তারণের সর্বস্ব; তুমি তারক — ভবসাগর পার করাও, আবার তুমিই তারকাসুরের অন্তকারিণী। হে মহাদেবী, আমাকে পার কর — আমি শরণাগত, আমাকে রক্ষা কর।

গায়ত্রী

ওঁ তারায়ৈ বিদ্মহে মহোগ্রায়ৈ ধীমহি। তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ॥

বঙ্গানুবাদ

তারাকে জানি, মহা-উগ্রাকে ধ্যান করি — সেই দেবী আমাদের প্রেরণা দিন।

স্তোত্র — উগ্রতারা স্তুতি

নীলাম্বুজদলশ্যামাং চন্দ্রার্ধকৃতশেখরাম্‌। ত্রিনেত্রাং রক্তবসনাং শববক্ষোঽবস্থিতাং শিবাম্‌॥ উগ্রতারাং নমস্যামি সংসারার্ণবতারিণীম্‌। যা স্মৃতা সর্বভয়হা শরণাগতবৎসলা॥

বাংলা অর্থ

শ্রীতারাস্তোত্রম্‌ (তারাষ্টকম্‌ / শ্রীনীলসরস্বতীস্তোত্রম্‌) — সম্পূর্ণ পাঠ
শ্রীগণেশায় নমঃ।

১

মাতর্নীলসরস্বতি প্রণমতাং সৌভাগ্যসম্পৎপ্রদে প্রত্যালীঢপদস্থিতে শবহৃদি স্মেরাননাম্ভোরুহে। ফুল্লেন্দীবরলোচনে ত্রিনয়নে কর্ত্রীকপালোৎপলে খড্গং চাদধতী ত্বমেব শরণং ত্বামীশ্বরীমাশ্রয়ে॥

হে মাতা নীলসরস্বতী! যাঁহারা প্রণাম করেন, তাঁহাদিগকে তুমি সৌভাগ্য ও সম্পদ দাও। প্রত্যালীঢ় ভঙ্গিতে শবের হৃদয়ে অবস্থিতা, তোমার মুখপদ্মে মৃদু হাস্য। প্রস্ফুটিত নীলপদ্মের ন্যায় তোমার তিন নয়ন; হস্তে কর্ত্রী, কপাল, উৎপল ও খড়্গ। হে ঈশ্বরী, তুমিই একমাত্র শরণ — আমি তোমারই আশ্রয় লইলাম।

২

বাচামীশ্বরি ভক্তিকল্পলতিকে সর্বার্থসিদ্ধিশ্বরি গদ্যপ্রাকৃতপদ্যজাতরচনাসর্বার্থসিদ্ধিপ্রদে। নীলেন্দীবরলোচনত্রয়যুতে কারুণ্যবারান্নিধে সৌভাগ্যামৃতবর্ধনেন কৃপয়াসিঞ্চ ত্বমস্মাদৃশম্॥

হে বাক্যের ঈশ্বরী, হে ভক্তের কল্পলতা, হে সর্বার্থসিদ্ধির ঈশ্বরী! গদ্য, প্রাকৃত ও পদ্য রচনার শক্তি এবং সর্বপ্রকার সিদ্ধি তুমিই দাও। নীলপদ্মসদৃশ ত্রিনয়না, হে করুণার সমুদ্র — আমার ন্যায় জনকে সৌভাগ্যের অমৃতবৃদ্ধি দ্বারা কৃপা করিয়া সিঞ্চন কর।

৩

খর্বে গর্বসমূহপূরিততনো সর্পাদিবেষোজ্জ্বলে ব্যাঘ্রত্বক্পরিবীতসুন্দরকটিব্যাধূতঘণ্টাঙ্কিতে। সদ্যঃকৃত্তগলদ্রজঃপরিমিলন্মুণ্ডদ্বয়ীমূর্দ্ধজগ্রন্থিশ্রেণিনৃমুণ্ডদামললিতে ভীমে ভয়ং নাশয়॥

হে খর্বাকৃতি, অথচ গর্বে পরিপূর্ণ দেহধারিণী! সর্পাদি বেশে উজ্জ্বলা, ব্যাঘ্রচর্মে বেষ্টিত সুন্দর কটিদেশে দোলায়মান ঘণ্টায় চিহ্নিতা। সদ্যচ্ছিন্ন, রক্তঝরা দুই মুণ্ড কেশগ্রন্থিতে বাঁধা, নরমুণ্ডের মালায় ললিতা — হে ভীমা, আমার ভয় নাশ কর।

৪

মায়ানঙ্গবিকাররূপললনাবিন্দ্বর্দ্ধচন্দ্রাম্বিকে হুংফট্কারময়ি ত্বমেব শরণং মন্ত্রাত্মিকে মাদৃশঃ। মূর্তিস্তে জননি ত্রিধামঘটিতা স্থূলাতিসূক্ষ্মা পরা বেদানাং নহি গোচরা কথমপি প্রাজ্ঞৈর্নুতামাশ্রয়ে॥

হে অম্বিকা! তুমি মায়া ও অনঙ্গবিকারের রূপে প্রকাশিতা, তুমিই বিন্দু ও অর্ধচন্দ্ররূপিণী। হে হুঁ-ফট্‌কারময়ী, হে মন্ত্রাত্মিকা, আমার ন্যায় জনের একমাত্র শরণ তুমিই। হে জননী, তোমার মূর্তি ত্রিধামে গঠিত — স্থূলা, অতিসূক্ষ্মা ও পরা। সেই পরা রূপ বেদেরও গোচর নহে, প্রাজ্ঞগণ যাহার স্তব করেন — সেই তোমারই আশ্রয় লই।

৫

ত্বৎপাদাম্বুজসেবয়া সুকৃতিনো গচ্ছন্তি সাযুজ্যতাং তস্যাঃ শ্রীপরমেশ্বরত্রিনয়নব্রহ্মাদিসাম্যাত্মনঃ। সংসারাম্বুধিমজ্জনে পটুতনুর্দেবেন্দ্রমুখ্যাসুরান্ মাতস্তে পদসেবনে হি বিমুখান্ কিং মন্দধীঃ সেবতে॥

হে মাতা! সুকৃতীগণ তোমার পদ্মচরণসেবায় সায়ুজ্য লাভ করে — পরমেশ্বর, ত্রিনয়ন ও ব্রহ্মাদির সহিত সাম্য পায়। যাঁহারা সংসারসমুদ্রে নিমজ্জিত, তোমার পদসেবায় বিমুখ — সেই ইন্দ্রাদিকে কোন্‌ মন্দবুদ্ধি সেবা করিবে?

৬

মাতস্ত্বৎপদপঙ্কজদ্বয়রজোমুদ্রাঙ্ককোটীরিণস্তে দেবা জয়সঙ্গরে বিজয়িনো নিঃশঙ্কমঙ্কে গতাঃ। দেবোঽহং ভুবনে ন মে সম ইতি স্পর্দ্ধাং বহন্তঃ পরে তত্তুল্যাং নিয়তং যথা শশিরবী নাশং ব্রজন্তি স্বয়ম্॥

হে মাতা! তোমার দুই পদ্মচরণের রজঃচিহ্ন যাঁহাদের মুকুটে অঙ্কিত, সেই দেবগণ সংগ্রামে বিজয়ী হন ও নিঃশঙ্কে তোমার অঙ্কে আশ্রয় পান। আর যাহারা ‘আমিই দেবতা, ভুবনে আমার সমান কেহ নাই’ বলিয়া স্পর্ধা বহন করে, তাহারা চন্দ্রসূর্যের ন্যায় স্বয়ংই ক্ষয় পায়।

৭

ত্বন্নামস্মরণাৎপলায়নপরান্দ্রষ্টুং চ শক্তা ন তে ভূতপ্রেতপিশাচরাক্ষসগণা যক্ষশ্চ নাগাধিপাঃ। দৈত্যা দানবপুঙ্গবাশ্চ খচরা ব্যাঘ্রাদিকা জন্তবো ডাকিন্যঃ কুপিতান্তকশ্চ মনুজান্ মাতঃ ক্ষণং ভূতলে॥

হে মাতা! তোমার নামস্মরণে ভূত, প্রেত, পিশাচ, রাক্ষসগণ, যক্ষ ও নাগাধিপগণ, দৈত্য ও দানবশ্রেষ্ঠগণ, খেচরগণ, ব্যাঘ্রাদি জন্তু, ডাকিনীগণ, এমনকি কুপিত অন্তকও — পলায়নপর হয়, ভূতলে তোমার আশ্রিত মনুষ্যের দিকে ক্ষণকালও তাকাইতে পারে না।

৮

লক্ষ্মীঃ সিদ্ধিগণশ্চ পাদুকমুখাঃ সিদ্ধাস্তথা বৈরিণাং স্তম্ভশ্চাপি বরাঙ্গনে গজঘটাস্তম্ভস্তথা মোহনম্। মাতস্ত্বৎপদসেবয়া খলু নৃণাং সিদ্ধ্যন্তি তে তে গুণাঃ ক্লান্তঃ কান্তমনোভবোঽত্র ভবতি ক্ষুদ্রোঽপি বাচস্পতিঃ॥

হে বরাঙ্গনা! লক্ষ্মী, সিদ্ধিসমূহ, পাদুকাদি সিদ্ধি, শত্রুস্তম্ভন, গজঘটাস্তম্ভন ও মোহন — হে মাতা, তোমার পদসেবায় মনুষ্যের এই সকল গুণ সিদ্ধ হয়। ক্ষুদ্রবুদ্ধি ব্যক্তিও এখানে বাচস্পতি হইয়া উঠে।

ফলশ্রুতি

৯

তারাষ্টকমিদং পুণ্যং ভক্তিমান্ যঃ পঠেন্নরঃ। প্রাতর্মধ্যাহ্নকালে চ সায়াহ্নে নিয়তঃ শুচিঃ॥

যে ভক্তিমান্‌ নর নিয়ম ও শুচিতার সহিত প্রাতে, মধ্যাহ্নে ও সায়াহ্নে এই পুণ্য তারাষ্টক পাঠ করে —

১০

লভতে কবিতাং বিদ্যাং সর্বশাস্ত্রার্থবিদ্ভবেৎ। লক্ষ্মীমনশ্বরাং প্রাপ্য ভুক্ত্বা ভোগান্যথেপ্সিতান্॥

সে কবিত্ব ও বিদ্যা লাভ করে, সর্বশাস্ত্রের অর্থবেত্তা হয়; অক্ষয়া লক্ষ্মী পাইয়া যথেপ্সিত ভোগ উপভোগ করে —

১১

কীর্তিং কান্তিং চ নৈরুজ্যং সর্বেষাং প্রিয়তাং ব্রজেৎ। বিখ্যাতিং চাপি লোকেষু প্রাপ্যান্তে মোক্ষমাপ্নুয়াৎ॥

কীর্তি, কান্তি ও নীরোগতা লাভ করে, সকলের প্রিয় হয়; লোকমধ্যে বিখ্যাতি পাইয়া অন্তে মোক্ষ লাভ করে।

ইতি শ্রীবৃহন্নীলতন্ত্রে তারাস্তোত্রং অথবা তারাষ্টকং সম্পূর্ণম্॥

এইরূপে শ্রীবৃহন্নীলতন্ত্রোক্ত তারাস্তোত্র তথা তারাষ্টক সম্পূর্ণ হইল।

কয়েকটি শব্দের অর্থ

শব্দঅর্থ
নীলসরস্বতীতারার এক নাম
প্রত্যালীঢপ্রত্যালীঢ়; যুদ্ধের এক পদভঙ্গি
কর্ত্রীছেদনকারী অস্ত্র
কপালনরকরোটি
উৎপলনীলপদ্ম
বাচামীশ্বরীবাক্যের ঈশ্বরী
কল্পলতিকাকল্পলতা; ইচ্ছাপূরণকারী লতা
খর্বাখর্বাকৃতি
ব্যাঘ্রত্বক্ব্যাঘ্রচর্ম
নৃমুণ্ডদামনরমুণ্ডের মালা
অর্দ্ধচন্দ্রঅর্ধচন্দ্র
সাযুজ্যসায়ুজ্য; দেবতার সহিত একাত্মতা
স্তম্ভনগতিরোধ
বাচস্পতিবাক্যের অধিপতি, পরম পণ্ডিত
ফলশ্রুতিপাঠের ফল বর্ণনা
শ্রীতারাকবচম্‌ (উগ্রতারাকবচ) — সম্পূর্ণ পাঠ

পাঠকের জন্য টীকা। ফলশ্রুতিতে মারণ, উচ্চাটন, স্তম্ভন প্রভৃতি অভিচার-কর্মের উল্লেখ আছে। এগুলি তন্ত্রের প্রাচীন শাস্ত্রীয় বর্ণনা; আজকের পূজা-পাঠে ইহাদের কোনও স্থান নাই, আর কাহারও ক্ষতি কামনা করা ভক্তির পথ নহে। পাঠটি এখানে শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল।

এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।

১

ঈশ্বর উবাচ । কোটিতন্ত্রেষু গোপ্যা হি বিদ্যাতিভয়মোচিনী । দিব্যং হি কবচং তস্যাঃ শৃণুষ্ব সর্বকামদম্ ॥ ১॥

২

অস্য তারাকবচস্য অক্ষোভ্য ঋষিঃ, ত্রিষ্টুপ্ ছন্দঃ , ভগবতী তারা দেবতা , সর্বমন্ত্রসিদ্ধিসমৃদ্ধয়ে জপে বিনিয়োগঃ । প্রণবো মে শিরঃ পাতু ব্রহ্মরূপা মহেশ্বরী । ললাটে পাতু হ্রীঙ্কারো বীজরূপা মহেশ্বরী ॥ ২॥

৩

স্ত্রীঙ্কারো বদনে নিত্যং লজ্জারূপা মহেশ্বরী । হূংকারঃ পাতু হৃদয়ে ভবানীরূপশক্তিধৃক্ ॥ ৩॥

৪

ফট্কারঃ পাতু সর্বাঙ্গে সর্বসিদ্ধিফলপ্রদা । খর্বা মাং পাতু দেবেশী গণ্ডযুগ্মে ভয়াপহা ॥ ৪॥

৫

নিম্নোদরী সদা স্কন্ধযুগ্মে পাতু মহেশ্বরী । ব্যাঘ্রচর্মাবৃতা কট্যাং পাতু দেবী শিবপ্রিয়া ॥ ৫॥

৬

পীনোন্নতস্তনী পাতু পার্শ্বযুগ্মে মহেশ্বরী । রক্তবর্তুলনেত্রা চ কটিদেশে সদাঽবতু ॥ ৬॥

৭

ললজিহ্বা সদা পাতু নাভৌ মাং ভুবনেশ্বরী । করালাস্যা সদা পাতু লিঙ্গে দেবী হরপ্রিয়া ॥ ৭॥

৮

পিঙ্গোগ্রৈকজটা পাতু জঙ্ঘায়াং বিঘ্ননাশিনী । প্রেতখর্পরভৃদ্দেবী জানুচক্রে মহেশ্বরী ॥ ৮॥

৯

নীলবর্ণা সদা পাতু জানুনী সর্বদা মম । নাগকুণ্ডলধর্ত্রী চ পাতু পাদযুগে ততঃ ॥ ৯॥

১০

নাগহারধরা দেবী সর্বাঙ্গং পাতু সর্বদা । নাগকঙ্কণধরা দেবী পাতু প্রান্তরদেশতঃ ॥ ১০॥

১১

চতুর্ভুজা সদা পাতু গমনে শত্রুনাশিনী । খড্গহস্তা মহাদেবী শ্রবণে পাতু সর্বদা ॥ ১১॥

১২

নীলাম্বরধরা দেবী পাতু মাং বিঘ্ননাশিনী । কর্ত্রিহস্তা সদা পাতু বিবাদে শত্রুমধ্যতঃ ॥ ১২॥

১৩

ব্রহ্মরূপধরা দেবী সঙ্গ্রামে পাতু সর্বদা । নাগকঙ্কণধর্ত্রী চ ভোজনে পাতু সর্বদা ॥ ১৩॥

১৪

শবকর্ণা মহাদেবী শয়নে পাতু সর্বদা । বীরাসনধরা দেবী নিদ্রায়াং পাতু সর্বদা ॥ ১৪॥

১৫

ধনুর্বাণধরা দেবী পাতু মাং বিঘ্নসঙ্কুলে । নাগাঞ্চিতকটী পাতু দেবী মাং সর্বকর্মসু ॥ ১৫॥

১৬

ছিন্নমুণ্ডধরা দেবী কাননে পাতু সর্বদা । চিতামধ্যস্থিতা দেবী মারণে পাতু সর্বদা ॥ ১৬॥

১৭

দ্বীপিচর্মধরা দেবী পুত্রদারধনাদিষু । অলঙ্কারান্বিতা দেবী পাতু মাং হরবল্লভা ॥ ১৭॥

১৮

রক্ষ রক্ষ নদীকুঞ্জে হূং হূং ফট্ সুসমন্বিতে । বীজরূপা মহাদেবী পর্বতে পাতু সর্বদা ॥ ১৮॥

১৯

মণিভৃদ্বজ্রিণী দেবী মহাপ্রতিসরে তথা । রক্ষ রক্ষ সদা হূং হূং ওঁ হ্রীং স্বাহা মহেশ্বরী ॥ ১৯॥

২০

পুষ্পকেতুরজার্হেতি কাননে পাতু সর্বদা । ওঁ হ্রীং বজ্রপুষ্পং হুং ফট্ প্রান্তরে সর্বকামদা ॥ ২০॥

২১

ওঁ পুষ্পে পুষ্পে মহাপুষ্পে পাতু পুত্রান্মহেশ্বরী । হূং স্বাহা শক্তিসংযুক্তা দারান্ রক্ষতু সর্বদা ॥ ২১॥

২২

ওঁ আং হূং স্বাহা মহেশানী পাতু দ্যূতে হরপ্রিয়া । ওঁ হ্রীং সর্ববিঘ্নোৎসারিণী দেবী বিঘ্নান্মাং সদাঽবতু ॥ ২২॥

২৩

ওঁ পবিত্রবজ্রভূমে হুংফট্স্বাহা সমন্বিতা । পূরিকা পাতু মাং দেবী সর্ববিঘ্নবিনাশিনী ॥ ২৩॥

২৪

ওঁ আঃ সুরেখে বজ্ররেখে হুংফট্স্বাহাসমন্বিতা । পাতালে পাতু সা দেবী লাকিনী নামসঞ্জ্ঞিকা ॥ ২৪॥

২৫

হ্রীঙ্কারী পাতু মাং পূর্বে শক্তিরূপা মহেশ্বরী । স্ত্রীঙ্কারী পাতু দেবেশী বধূরূপা মহেশ্বরী ॥ ২৫॥

২৬

হূংস্বরূপা মহাদেবী পাতু মাং ক্রোধরূপিণী । ফট্স্বরূপা মহামায়া উত্তরে পাতু সর্বদা ॥ ২৬॥

২৭

পশ্চিমে পাতু মাং দেবী ফট্স্বরূপা হরপ্রিয়া । মধ্যে মাং পাতু দেবেশী হূংস্বরূপা নগাত্মজা ॥ ২৭॥

২৮

নীলবর্ণা সদা পাতু সর্বতো বাগ্ভবা সদা । ভবানী পাতু ভবনে সর্বৈশ্বর্যপ্রদায়িনী ॥ ২৮॥

২৯

বিদ্যাদানরতা দেবী বক্ত্রে নীলসরস্বতী । শাস্ত্রে বাদে চ সঙ্গ্রামে জলে চ বিষমে গিরৌ ॥ ২৯॥

৩০

ভীমরূপা সদা পাতু শ্মশানে ভয়নাশিনী । ভূতপ্রেতালয়ে ঘোরে দুর্গমা শ্রীঘনাঽবতু ॥ ৩০॥

৩১

পাতু নিত্যং মহেশানী সর্বত্র শিবদূতিকা । কবচস্য মাহাত্ম্যং নাহং বর্ষশতৈরপি ॥ ৩১॥

৩২

শক্নোমি গদিতুং দেবি ভবেত্তস্য ফলং চ যৎ । পুত্রদারেষু বন্ধূনাং সর্বদেশে চ সর্বদা ॥ ৩২॥

৩৩

ন বিদ্যতে ভয়ং তস্য নৃপপূজ্যো ভবেচ্চ সঃ । শুচির্ভূত্বাঽশুচির্বাপি কবচং সর্বকামদম্ ॥ ৩৩॥

৩৪

প্রপঠন্ বা স্মরন্মর্ত্যো দুঃখশোকবিবর্জিতঃ । সর্বশাস্ত্রে মহেশানি কবিরাড্ ভবতি ধ্রুবম্ ॥ ৩৪॥

৩৫

সর্ববাগীশ্বরো মর্ত্যো লোকবশ্যো ধনেশ্বরঃ । রণে দ্যূতে বিবাদে চ জয়স্তত্র ভবেদ্ ধ্রুবম্ ॥ ৩৫॥

৩৬

পুত্রপৌত্রান্বিতো মর্ত্যো বিলাসী সর্বয়োষিতাম্ । শত্রবো দাসতাং যান্তি সর্বেষাং বল্লভঃ সদা ॥ ৩৬॥

৩৭

গর্বী খর্বী ভবত্যেব বাদী স্খলতি দর্শনাৎ । মৃত্যুশ্চ বশ্যতাং যাতি দাসাস্তস্যাবনীভুজঃ ॥ ৩৭॥

৩৮

প্রসঙ্গাৎকথিতং সর্বং কবচং সর্বকামদম্ । প্রপঠন্বা স্মরন্মর্ত্যঃ শাপানুগ্রহণে ক্ষমঃ ॥ ৩৮॥

৩৯

আনন্দবৃন্দসিন্ধূনামধিপঃ কবিরাড্ ভবেৎ । সর্ববাগীশ্বরো মর্ত্যো লোকবশ্যঃ সদা সুখী ॥ ৩৯॥

৪০

গুরোঃ প্রসাদমাসাদ্য বিদ্যাং প্রাপ্য সুগোপিতাম্ । তত্রাপি কবচং দেবি দুর্লভং ভুবনত্রয়ে ॥ ৪০॥

৪১

গুরুর্দেবো হরঃ সাক্ষাত্তৎপত্নী তু হরপ্রিয়া । অভেদেন ভজেদ্যস্তু তস্য সিদ্ধিরদূরতঃ ॥ ৪১॥

৪২

মন্ত্রাচারা মহেশানি কথিতাঃ পূর্ববৎপ্রিয়ে । নাভৌ জ্যোতিস্তথা রক্তং হৃদয়োপরি চিন্তয়েৎ ॥ ৪২॥

৪৩

ঐশ্বর্যং সুকবিত্বং চ মহাবাগীশ্বরো নৃপঃ । নিত্যং তস্য মহেশানি মহিলাসঙ্গমং চরেৎ ॥ ৪৩॥

৪৪

পঞ্চাচাররতো মর্ত্যঃ সিদ্ধো ভবতি নান্যথা । শক্তিযুক্তো ভবেন্মর্ত্যঃ সিদ্ধো ভবতি নান্যথা ॥ ৪৪॥

৪৫

ব্রহ্মা বিষ্ণুশ্চ রুদ্রশ্চ যে দেবাসুরমানুষাঃ । তং দৃষ্ট্বা সাধকং দেবি লজ্জাযুক্তা ভবন্তি তে ॥ ৪৫॥

৪৬

স্বর্গে মর্ত্যে চ পাতালে যে দেবাঃ সিদ্ধিদায়কাঃ । প্রশংসন্তি সদা দেবি তং দৃষ্ট্বা সাধকোত্তমম্ ॥ ৪৬॥

৪৭

বিঘ্নাত্মকাশ্চ যে দেবাঃ স্বর্গে মর্ত্যে রসাতলে । প্রশংসন্তি সদা সর্বে তং দৃষ্ট্বা সাধকোত্তমম্ ॥ ৪৭॥

৪৮

ইতি তে কথিতং দেবি ময়া সম্যক্প্রকীর্তিতম্ । ভুক্তিমুক্তিকরং সাক্ষাৎকল্পবৃক্ষস্বরূপকম্ ॥ ৪৮॥

৪৯

আসাদ্যাদ্যগুরুং প্রসাদ্য য ইদং কল্পদ্রুমালম্বনং মোহেনাপি মদেন চাপি রহিতো জাড্যেন বা যুজ্যতে । সিদ্ধোঽসৌ ভুবি সর্বদুঃখবিপদাং পারং প্রয়াত্যন্তকে মিত্রং তস্য নৃপাশ্চ দেবি বিপদো নশ্যন্তি তস্যাশু চ ॥ ৪৯॥

৫০

তদ্গাত্রং প্রাপ্য শস্ত্রাণি ব্রহ্মাস্ত্রাদীনি বৈ ভুবি । তস্য গেহে স্থিরা লক্ষ্মীর্বাণী বক্ত্রে বসেদ্ ধ্রুবম্ ॥ ৫০॥

৫১

ইদং কবচমজ্ঞাত্বা তারাং যো ভজতে নরঃ । অল্পায়ুর্নির্দ্ধনো মূর্খো ভবত্যেব ন সংশয়ঃ ॥ ৫১॥

৫২

লিখিত্বা ধারয়েদ্যস্তু কণ্ঠে বা মস্তকে ভুজে । তস্য সর্বার্থসিদ্ধিঃ স্যাদ্যদ্যন্মনসি বর্ততে ॥ ৫২॥

৫৩

গোরোচনাকুঙ্কুমেন রক্তচন্দনকেন বা । যাবকৈর্বা মহেশানি লিখেন্মন্ত্রং সমাহিতঃ ॥ ৫৩॥

৫৪

অষ্টম্যাং মঙ্গলদিনে চতুর্দ্দশ্যামথাপি বা । সন্ধ্যায়াং দেবদেবেশি লিখেদ্যন্ত্রং সমাহিতঃ ॥ ৫৪॥

৫৫

মঘায়াং শ্রবণে বাপি রেবত্যাং বা বিশেষতঃ । সিংহরাশৌ গতে চন্দ্রে কর্কটস্থে দিবাকরে ॥ ৫৫॥

৫৬

মীনরাশৌ গুরৌ যাতে বৃশ্চিকস্থে শনৈশ্চরে । লিখিত্বা ধারয়েদ্যস্তু উত্তরাভিমুখো ভবেৎ ॥ ৫৬॥

৫৭

শ্মশানে প্রান্তরে বাপি শূন্যাগারে বিশেষতঃ । নিশায়াং বা লিখেন্মন্ত্রং তস্য সিদ্ধিরচঞ্চলা ॥ ৫৭॥

৫৮

ভূর্জপত্রে লিখেন্মন্ত্রং গুরুণা চ মহেশ্বরি । ধ্যানধারণয়োগেন ধারয়েদ্যস্তু ভক্তিতঃ ॥ ৫৮॥

৫৯

অচিরাত্তস্য সিদ্ধিঃ স্যান্নাত্র কার্যা বিচারণা ॥ ৫৯॥

প্রধান মন্দির

তারাপীঠ মন্দির
তারাপীঠ, রামপুরহাট, বীরভূম, পশ্চিমবঙ্গ — দ্বারকা নদীর তীরে

শক্তিপীঠ ও সিদ্ধপীঠ। মন্দিরের পাশেই মহাশ্মশান, যেখানে বামাক্ষ্যাপা সাধনা করেছিলেন। গর্ভগৃহের শিলামূর্তিতে মা শিবকে স্তন্য দিচ্ছেন; তার উপরে সাধারণত ধাতুর ত্রিনয়না মুখাবয়ব পরানো থাকে — দর্শনে সেটিই চোখে পড়ে।

বামাক্ষ্যাপার সমাধিমন্দির, তারাপীঠ — মহাশ্মশানের পাশে, দ্বারকা নদীর ধারে — যেখানে বামাক্ষ্যাপার সাধনার আসন ছিল।

তারাপীঠ — উইকিপিডিয়া

মন্দির

তারাপীঠ মন্দির
তারাপীঠ মন্দির
ছবি: Pinakpani · CC BY-SA 4.0 · কমন্স
তারাপীঠ মন্দির
তারাপীঠ মন্দির
ছবি: Tarunsamanta · CC BY-SA 4.0 · কমন্স

বিগ্রহ

তারাপীঠে মা তারা — রূপার মুখাবরণ, জবা ও পদ্মে সাজ
সাইটের পরিচালকের দেওয়া ছবি।
তারাপীঠে মা তারা — রূপার মুখাবরণ, জবা ও পদ্মে সাজ
ছবি: অজ্ঞাত

কাহিনী

হলাহল ও মায়ের স্তন্য

দেবাসুরে মিলে সমুদ্র মন্থন করছে। অমৃতের আগে উঠে এল হলাহল — এমন বিষ, যার ধোঁয়াতেই প্রাণিকুল মরতে বসল। কেউ এগোয় না। শিব অঞ্জলি ভরে বিষ তুলে গিলে ফেললেন। পার্বতী তাঁর কণ্ঠ চেপে ধরলেন, বিষ আর নামল না — কণ্ঠ নীল হয়ে গেল, নাম হল নীলকণ্ঠ। তবু জ্বালা কমে না, শিব অচেতন। তখন আদ্যাশক্তি তারারূপে এলেন, শিবকে শিশু করে কোলে নিলেন, স্তন্য দিলেন। বিষের জ্বালা জুড়াল। জগৎ বাঁচল মায়ের দুধে।

বামাক্ষ্যাপা ও মায়ের ভাত

তারাপীঠের বামাক্ষ্যাপা মন্দিরের নিয়ম মানতেন না। একদিন মায়ের ভোগ নিবেদনের আগেই তিনি ভোগের থালা থেকে খেতে শুরু করেন। মন্দিরের লোকজন তাঁকে মারধর করে বার করে দেয়। মন্দির তখন নাটোর রাজবাড়ির; সেই রাতে নাটোরের রানি মা তারার স্বপ্ন পান — মা বলছেন, ‘ওরা আমার ছেলেকে মেরেছে। ও আগে খেলে আমি আগেই খাই। কাল থেকে ওকে আগে খাওয়াবি।’ পরদিন থেকে বামাক্ষ্যাপাই আগে ভোগ পেতেন।

বই


তারার গান →

সতর্কবার্তা। এই পৃষ্ঠার মন্ত্রসমূহ স্বেচ্ছায় জপ করিবার বস্তু নহে। দশমহাবিদ্যার তান্ত্রিক মন্ত্র — বিশেষতঃ বীজমন্ত্র, পঞ্চদশী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী ও মাতঙ্গীর মন্ত্র — শাস্ত্রমতে দীক্ষা ব্যতীত জপের বিধান নাই। গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করিয়া, তাঁহার আদেশে, তাঁহার তত্ত্বাবধানেই ইহা অনুষ্ঠেয়। গুরুর পথনির্দেশ ব্যতিরেকে কেহ স্বয়ং চেষ্টা করিবেন না। এখানে মন্ত্র উদ্ধৃত হইয়াছে পাঠ, পরিচয় ও অর্থবোধের নিমিত্ত — সাধনার নির্দেশিকারূপে নহে।

মন্ত্র, ধ্যান ও স্তোত্র নানা গ্রন্থে পাঠভেদে ভিন্ন হইয়া থাকে; অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পূর্বে মুদ্রিত পুঁথি ও পঞ্জিকার সহিত মিলাইয়া লইবেন।

শক্তি — সমস্ত রূপের সূচি · স্বীকৃতি · গোপনীয়তার নীতি