শক্তি
দেবীর রূপ, মন্ত্র, কাহিনী ও সঙ্গীত

বগলামুখী

অষ্টম মহাবিদ্যা · পীতাম্বরা · ব্রহ্মাস্ত্ররূপিণী · বল্গামুখী

পরিচয়

বগলামুখীর কর্ম একটিমাত্র — স্তম্ভন, অর্থাৎ থামাইয়া দেওয়া। শত্রুর বাক্য, ষড়যন্ত্র, বিবাদ, এমনকি আপন মনের চাঞ্চল্য — সমস্তই তিনি স্থির করিয়া দেন।

রূপ — সর্বাঙ্গ পীতবর্ণ। পীত আসন, পীত বসন, পীত পুষ্প, স্বর্ণালংকার। সেই হেতু তাঁহার নাম পীতাম্বরা। দক্ষিণ হস্তে মুদ্গর, বাম হস্তে শত্রুর জিহ্বা ধরিয়া টানিয়া রাখিয়াছেন।

‘বগলা’ শব্দটি আসিয়াছে ‘বল্গা’ হইতে — অশ্বের লাগাম। যিনি লাগাম ধরেন, তিনিই বগলামুখী। তাঁহার পূজায় হরিদ্রা, পীত পুষ্প ও পীত বসন আবশ্যক; জপ হয় হরিদ্রামালায়।

উৎপত্তির কাহিনী

সত্যযুগের কথা। অকস্মাৎ এক মহাপ্রলয়কারী ঝটিকা উঠিল — সমুদয় সৃষ্টি উড়াইয়া লইয়া যাইবার উপক্রম। দেবতারা ভীত হইলেন; তখন বিষ্ণু সৌরাষ্ট্রে হরিদ্রা সরোবরের তীরে মহাশক্তির তপস্যা করিলেন।

সেই পীতবর্ণ জলের সরোবর হইতে দেবী আবির্ভূতা হইলেন — স্বর্ণের ন্যায় অঙ্গকান্তি, পীত বসন। তিনি হস্ত উত্তোলন করিবামাত্র ঝটিকা থামিয়া গেল, সৃষ্টি স্থির হইল। এই স্তম্ভনশক্তিরই নাম বগলামুখী।

মদন নামে এক অসুরের কথাও প্রচলিত। সে এমন বর পাইয়াছিল যে, যাহা বলিবে তাহাই সত্য হইবে; সেই বরের বলে সে ত্রিভুবন জ্বালাইতে লাগিল। দেবী তাহার জিহ্বাটিই টানিয়া ধরিলেন, তাহাতেই বাক্য বন্ধ হইল আর শক্তিও নিঃশেষ। সেই হেতু প্রতিমায় তিনি শত্রুর জিহ্বা ধরিয়া আছেন।

মন্ত্র

মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।

একাক্ষর — বীজমন্ত্র (১ অক্ষর)

হ্লীং

দ্ব্যক্ষর (ওঁ-সহ ৩ অক্ষর)

ওঁ হ্লীং ওঁ

ত্র্যক্ষর (ওঁ-সহ ৪ অক্ষর)

ওঁ আং হ্লীং ক্রোং

সপ্তাক্ষর (ওঁ-সহ ৮ অক্ষর)

ওঁ আং হ্লীং ক্রোং হূং ফট্ স্বাহা

নবাক্ষর (৯ অক্ষর)

হ্রীং ক্লীং হ্রীং বগলামুখি ঠঃ

দশাক্ষর (ওঁ-সহ ১১ অক্ষর)

ওঁ হ্লীং ক্লীং হ্লীং বগলামুখি ঠঃ ঠঃ

মূলমন্ত্র (ওঁ-সহ ১৩ অক্ষর)

ওঁ হ্লীং বগলামুখীদেব্যৈ হ্লীং ওঁ নমঃ

প্রধান মন্ত্র — ষট্‌ত্রিংশাক্ষরী (প্রচলিত গণনায় আদির ওঁ-সহ) (ওঁ-সহ ৩৬ অক্ষর)

ওঁ হ্লীং বগলামুখি সর্বদুষ্টানাং বাচং মুখং পদং স্তম্ভয় জিহ্বাং কীলয় বুদ্ধিং বিনাশয় হ্লীং ওঁ স্বাহা

ধ্যানমন্ত্র

সৌবর্ণাসনসংস্থিতাং ত্রিনয়নাং পীতাংশুকোল্লাসিনীং হেমাভাঙ্গরুচিং শশাঙ্কমুকুটাং সচ্চম্পকস্রগ্‌যুতাম্‌। হস্তৈর্মুদ্গরপাশবজ্ররসনাঃ সম্বিভ্রতীং ভূষণৈ- র্ব্যাপ্তাঙ্গীং বগলামুখীং ত্রিজগতাং সংস্তম্ভিনীং চিন্তয়েৎ॥

বঙ্গানুবাদ

প্রচলিত আর একটি পাঠ
মধ্যে সুধাব্ধিমণিমণ্ডপরত্নবেদ্যাং সিংহাসনোপরিগতাং পরিপীতবর্ণাম্। পীতাম্বরাভরণমাল্যবিভূষিতাঙ্গীং দেবীং ভজামি ধৃতমুদ্গরবৈরিজিহ্বাম্॥ জিহ্বাগ্রমাদায় করেণ দেবীং বামেন শত্রূন্ পরিপীডয়ন্তীম্। গদাভিঘাতেন চ দক্ষিণেন পীতাম্বরাঢ্যাং দ্বিভুজাং নমামি॥

অমৃতসমুদ্রের মধ্যস্থ মণিমণ্ডপের রত্নবেদিকায় সিংহাসনে আসীনা, সম্পূর্ণ পীতবর্ণা, পীতাম্বর-আভরণ-মাল্যে বিভূষিতাঙ্গী, হস্তে মুদ্গর ও শত্রুর জিহ্বা ধারণকারিণী দেবীকে আমি ভজনা করি। যিনি বাম হস্তে শত্রুর জিহ্বাগ্র ধরিয়া তাহাদিগকে পীড়ন করিতেছেন আর দক্ষিণ হস্তে গদাঘাত করিতেছেন — সেই পীতাম্বরা দ্বিভুজাকে প্রণাম।

শব্দে-শব্দে অর্থ
শব্দঅর্থ
সুধাব্ধিঅমৃতসমুদ্র
মণিমণ্ডপরত্নময় মণ্ডপ
রত্নবেদিরত্নের বেদি
উপরিগতাউপরে অবস্থানকারিণী
পরিপীতবর্ণাসম্পূর্ণ পীতবর্ণা
পীতাম্বরপীতবস্ত্র
আভরণঅলংকার
বিভূষিতাঙ্গীবিভূষিত অঙ্গবিশিষ্টা
ভজামিআমি ভজনা করি
ধৃতধারণকৃত
মুদ্গরগদা
বৈরিশত্রু
জিহ্বাগ্রম্জিহ্বার অগ্রভাগ
আদায়ধরিয়া
করেণহস্ত দ্বারা
বামেনবাম হস্তে
শত্রূন্শত্রুদিগকে
পরিপীডয়ন্তীম্সম্পূর্ণরূপে পীড়নকারিণী
অভিঘাতআঘাত
দক্ষিণেনদক্ষিণ হস্তে
দ্বিভুজাম্দ্বিভুজাকে
নমামিআমি প্রণাম করি

প্রণাম মন্ত্র

ওঁ বগলে ভগবতি দেবি স্তম্ভিনি শত্রুনাশিনি। পীতাম্বরে নমস্তুভ্যং সর্ববিঘ্নবিনাশিনি॥

বঙ্গানুবাদ

হে বগলা, হে ভগবতী দেবী, হে স্তম্ভিনী, হে শত্রুনাশিনী; হে পীতাম্বরা, হে সর্ববিঘ্নবিনাশিনী — তোমাকে নমস্কার।

গায়ত্রী

ওঁ বগলামুখ্যৈ বিদ্মহে স্তম্ভিন্যৈ ধীমহি। তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ॥

বঙ্গানুবাদ

বগলামুখীকে জানি, স্তম্ভিনীকে ধ্যান করি — সেই দেবী আমাদের প্রেরণা দিন।

স্তোত্র — বগলামুখী স্তোত্র — সূচনা

চলৎকনককুণ্ডলোল্লসিতচারুগণ্ডস্থলাং লসৎকনকচম্পকদ্যুতিমদিন্দুবিম্বাননাম্‌। গদাহতবিপক্ষকাং কলিতলোলজিহ্বাঞ্চলাং স্মরামি বগলামুখীং বিমুখবাঙ্মনস্স্তম্ভিনীম্‌॥

বাংলা অর্থ

শ্রীবগলামুখীস্তোত্রম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

পাঠকের জন্য টীকা। ফলশ্রুতিতে মারণ, উচ্চাটন, স্তম্ভন প্রভৃতি অভিচার-কর্মের উল্লেখ আছে। এগুলি তন্ত্রের প্রাচীন শাস্ত্রীয় বর্ণনা; আজকের পূজা-পাঠে ইহাদের কোনও স্থান নাই, আর কাহারও ক্ষতি কামনা করা ভক্তির পথ নহে। পাঠটি এখানে শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল।

১

চলৎকনককুণ্ডলোল্লসিতচারুগণ্ডস্থলীং লসৎকনকচম্পকদ্যুতিমদিন্দুবিম্বাননাম্। গদাহতবিপক্ষকাং কলিতলোলজিহ্বাঞ্চলাং স্মরামি বগলামুখীং বিমুখবাঙ্মনস্স্তম্ভিনীম্॥

দোলায়মান কনককুণ্ডলে যাঁহার সুন্দর গণ্ডস্থল উল্লসিত, যাঁহার মুখ কনকচম্পকের দ্যুতিযুক্ত ইন্দুবিম্বের ন্যায়; যিনি গদাঘাতে বিপক্ষকে আহত করেন ও তাহার চঞ্চল জিহ্বা ধরিয়া রাখেন — সেই বিমুখের বাক্য ও মন স্তম্ভনকারিণী বগলামুখীকে আমি স্মরণ করি।

২

পীয়ূষোদধিমধ্যচারুবিলদ্রক্তোৎপলে মণ্ডপে সৎসিংহাসনমৌলিপাতিতরিপুং প্রেতাসনাধ্যাসিনীম্। স্বর্ণাভাং করপীডিতারিরসনাং ভ্রাম্যদ্গদাং বিভ্রতীমিত্থং ধ্যায়তি যান্তি তস্য সহসা সদ্যোঽথ সর্বাপদঃ॥

অমৃতসমুদ্রের মধ্যে সুন্দর রক্তোৎপলশোভিত মণ্ডপে, উত্তম সিংহাসনে শত্রুকে পদতলে ফেলিয়া প্রেতাসনে অধিষ্ঠিতা; স্বর্ণাভা, হস্তে শত্রুর রসনা পীড়িতা, ঘূর্ণ্যমান গদাধারিণী — যে এইরূপে তোমার ধ্যান করে, তাহার সমস্ত আপদ সহসা সদ্যই দূর হয়।

৩

দেবি ত্বচ্চরণাম্বুজার্চনকৃতে যঃ পীতপুষ্পাঞ্জলীন্ভক্ত্যা বামকরে নিধায় চ মনুং মন্ত্রী মনোজ্ঞাক্ষরম্। পীঠধ্যানপরোঽথ কুম্ভকবশাদ্বীজং স্মরেৎপার্থিবং তস্যামিত্রমুখস্য বাচি হৃদয়ে জাড্যং ভবেত্তৎক্ষণাৎ॥

হে দেবী, যে মন্ত্রসাধক তোমার চরণাম্বুজ অর্চনার নিমিত্ত ভক্তিভরে বাম হস্তে পীতপুষ্পাঞ্জলি ধরিয়া মনোজ্ঞ অক্ষরের মনু স্মরণ করেন, পীঠধ্যানে নিরত হইয়া কুম্ভকযোগে পার্থিব বীজ স্মরণ করেন — তৎক্ষণাৎ তাঁহার শত্রুর বাক্যে ও হৃদয়ে জাড্য উপস্থিত হয়।

৪

বাদী মূকতি রঙ্কতি ক্ষিতিপতির্বৈশ্বানরঃ শীততি ক্রোধী শাম্যতি দুর্জনঃ সুজনতি ক্ষিপ্রানুগঃ খঞ্জতি। গর্বী খর্বতি সর্ববিচ্চ জডতি ত্বন্মন্ত্রিণা যন্ত্রিতঃ শ্রীর্নিত্যে বগলামুখি প্রতিদিনং কল্যাণি তুভ্যং নমঃ॥

তোমার মন্ত্রসাধকের মন্ত্রে বাঁধা পড়িলে বাদী মূক হয়, ক্ষিতিপতি রঙ্ক হয়, বৈশ্বানর শীতল হয়; ক্রোধী শান্ত হয়, দুর্জন সুজন হয়, ক্ষিপ্রগামী খঞ্জ হয়, গর্বী খর্ব হয়, সর্বজ্ঞ জড় হয়। হে নিত্যা শ্রী, হে কল্যাণী বগলামুখী, তোমাকে প্রতিদিন প্রণাম।

৫

মন্ত্রস্তাবদলং বিপক্ষদলনে স্তোত্রং পবিত্রং চ তে যন্ত্রং বাদিনিয়ন্ত্রণং ত্রিজগতাং জৈত্রং চ চিত্রং চ তে। মাতঃ শ্রীবগলেতি নাম ললিতং যস্যাস্তি জন্তোর্মুখে ত্বন্নামগ্রহণেন সংসদি মুখে স্তম্ভো ভবেদ্বাদিনাম্॥

হে মাতা, বিপক্ষদলনে তোমার মন্ত্রই যথেষ্ট, তোমার স্তোত্র পবিত্র, তোমার যন্ত্র বাদীর নিয়ন্ত্রক — ত্রিজগতে জৈত্র ও বিচিত্র। যে ব্যক্তির মুখে ‘শ্রীবগলা’ এই ললিত নাম আছে, তোমার নামগ্রহণেই সভায় বাদীদের মুখে স্তম্ভ উপস্থিত হয়।

৬

দুষ্টস্তম্ভনমুগ্রবিঘ্নশমনং দারিদ্র্যবিদ্রাবণং ভূভৃৎসন্দমনং চলন্মৃগদৃশাং চেতঃসমাকর্ষণম্। সৌভাগ্যৈকনিকেতনং সমদৃশঃ কারুণ্যপূর্ণেক্ষণম্ মৃত্যোর্মারণমাবিরস্তু পুরতো মাতস্ত্বদীয়ং বপুঃ॥

দুষ্টের স্তম্ভন, উগ্র বিঘ্নের শমন, দারিদ্র্যের বিদ্রাবণ, ভূভৃতের সন্দমন, চঞ্চলনয়নাদের চিত্তাকর্ষণ; সৌভাগ্যের একমাত্র নিকেতন, সমদৃষ্টি ও করুণাপূর্ণ ঈক্ষণ, মৃত্যুরও মারণস্বরূপ — হে মাতা, তোমার সেই বিগ্রহ আমার সম্মুখে আবির্ভূত হউক।

৭

মাতর্ভঞ্জয় মদ্বিপক্ষবদনং জিহ্বাং চ সঙ্কীলয় ব্রাহ্মীং মুদ্রয় দৈত্যদেবধিষণামুগ্রাং গতিং স্তম্ভয়। শত্রূংশ্চূর্ণয় দেবি তীক্ষ্ণগদয়া গৌরাঙ্গি পীতাম্বরে বিঘ্নৌঘং বগলে হর প্রণমতাং কারুণ্যপূর্ণেক্ষণে॥

হে মাতা, আমার বিপক্ষের বদন ভঞ্জন কর, জিহ্বা কীলিত কর, ব্রাহ্মী মুদ্রিত কর, দৈত্য ও দেবের উগ্র ধিষণা ও গতি স্তম্ভিত কর। হে দেবী, তীক্ষ্ণ গদায় শত্রুদিগকে চূর্ণ কর। হে গৌরাঙ্গী, হে পীতাম্বরা, হে করুণাপূর্ণনয়না বগলা — প্রণতদের বিঘ্নরাশি হরণ কর।

৮

মাতর্ভৈরবি ভদ্রকালি বিজয়ে বারাহি বিশ্বাশ্রয়ে শ্রীবিদ্যে সময়ে মহেশি বগলে কামেশি বামে রমে। মাতঙ্গি ত্রিপুরে পরাৎপরতরে স্বর্গাপবর্গপ্রদে দাসোঽহং শরণাগতঃ করুণয়া বিশ্বেশ্বরি ত্রাহি মাম্॥

হে মাতা ভৈরবী, ভদ্রকালী, বিজয়া, বারাহী, বিশ্বের আশ্রয়; হে শ্রীবিদ্যা, সময়া, মহেশী, বগলা, কামেশী, বামা, রমা; হে মাতঙ্গী, ত্রিপুরা, পরাৎপরতরা, স্বর্গ ও অপবর্গদায়িনী — আমি দাস, আমি শরণাগত; হে বিশ্বেশ্বরী, করুণা করিয়া আমাকে ত্রাণ কর।

৯

সংরম্ভে চৌরসঙ্ঘে প্রহরণসময়ে বন্ধনে ব্যাধিমধ্যে বিদ্যাবাদে বিবাদে প্রকুপিতনৃপতৌ দিব্যকালে নিশায়াম্। বশ্যে বা স্তম্ভনে বা রিপুবধসময়ে নির্জনে বা বনে বা গচ্ছংস্তিষ্ঠংস্ত্রিকালং যদি পঠতি শিবং প্রাপ্নুয়াদাশু ধীরঃ॥

সংগ্রামে, চোরের দলের মধ্যে, প্রহারের সময়, বন্ধনে, ব্যাধির মধ্যে; বিদ্যার তর্কে, বিবাদে, রাজা কুপিত হইলে, দিব্যকালে বা নিশীথে; বশীকরণে বা স্তম্ভনে, শত্রুবধের সময়, নির্জনে বা বনে — চলিতে চলিতে বা দাঁড়াইয়া, যে ধীর ব্যক্তি ত্রিকাল এই স্তোত্র পাঠ করে, সে শীঘ্রই মঙ্গল লাভ করে।

১০

ত্বং বিদ্যা পরমা ত্রিলোকজননী বিঘ্নৌঘসঞ্ছেদিনী যোষিৎকর্ষণকারিণী জনমনঃসম্মোহসন্দায়িনী। স্তম্ভোৎসারণকারিণী পশুমনঃসম্মোহসন্দায়িনী জিহ্বাকীলনভৈরবী বিজয়তে ব্রহ্মাদিমন্ত্রো যথা॥

তুমি পরমা বিদ্যা, ত্রিলোকজননী, বিঘ্নরাশির সংছেদিনী; আকর্ষণকারিণী ও জনমনের সম্মোহদায়িনী; স্তম্ভন ও উৎসারণকারিণী, পশুমনের সম্মোহদায়িনী — ব্রহ্মাদির মন্ত্রের ন্যায় সেই জিহ্বাকীলনভৈরবী বিজয়ী হন।

১১

বিদ্যা লক্ষ্মীর্নিত্যসৌভাগ্যমায়ুঃ পুত্রৈঃ পৌত্রৈঃ সর্বসাম্রাজ্যসিদ্ধিঃ। মানো ভোগো বশ্যমারোগ্যসৌখ্যং প্রাপ্তং তত্তদ্ভূতলেঽস্মিন্নরেণ॥

বিদ্যা, লক্ষ্মী, নিত্য সৌভাগ্য, আয়ু, পুত্র-পৌত্র, সর্বসাম্রাজ্যসিদ্ধি; মান, ভোগ, বশ্যতা, আরোগ্য ও সৌখ্য — এই সকলই এই ভূতলে মানুষ লাভ করে।

১২

ত্বৎকৃতে জপসন্নাহং গদিতং পরমেশ্বরি। দুষ্টানাং নিগ্রহার্থায় তদ্গৃহাণ নমোঽস্তু তে॥

হে পরমেশ্বরী, তোমার নিমিত্ত এই জপসন্নাহ কথিত হইল। দুষ্টদের নিগ্রহের নিমিত্ত তাহা গ্রহণ কর — তোমাকে প্রণাম।

১৩

পীতাম্বরাং চ দ্বিভুজাং ত্রিনেত্রাং গাত্রকোমলাম্। শিলামুদ্গরহস্তাং চ স্মরে তাং বগলামুখীম্॥

পীতাম্বরা, দ্বিভুজা, ত্রিনেত্রা, কোমলগাত্রা, হস্তে শিলা ও মুদ্গরধারিণী — সেই বগলামুখীকে আমি স্মরণ করি।

১৪

ব্রহ্মাস্ত্রমিতি বিখ্যাতং ত্রিষু লোকেষু বিশ্রুতম্। গুরুভক্তায় দাতব্যং ন দেয়ং যস্য কস্যচিৎ॥

ইহা ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ নামে ত্রিলোকে বিখ্যাত ও বিশ্রুত। গুরুভক্তকে দেওয়া বিধেয়; যাহাকে তাহাকে দেয় নহে।

১৫

নিত্যং স্তোত্রমিদং পবিত্রমিহ যো দেব্যাঃ পঠত্যাদরাদ্ধৃত্বা যন্ত্রমিদং তথৈব সমরে বাহৌ করে বা গলে। রাজানোঽপ্যরয়ো মদান্ধকরিণঃ সর্পা মৃগেন্দ্রাদিকাস্তে বৈ যান্তি বিমোহিতা রিপুগণা লক্ষ্মীঃ স্থিরা সিদ্ধয়ঃ॥

যে ব্যক্তি নিত্য আদরের সহিত দেবীর এই পবিত্র স্তোত্র পাঠ করে এবং এই যন্ত্র সমরে বাহুতে, করে বা গলায় ধারণ করে — রাজা, শত্রু, মদান্ধ করী, সর্প, মৃগেন্দ্রাদি সকলে বিমোহিত হয়, রিপুগণ পরাভূত হয়, লক্ষ্মী স্থিরা হন ও সিদ্ধি লাভ ঘটে।

॥ ইতি শ্রীরুদ্রয়ামলে তন্ত্রে শ্রীবগলামুখীস্তোত্রং সমাপ্তম্ ॥

এইরূপে শ্রীরুদ্রযামল তন্ত্রে শ্রীবগলামুখীস্তোত্র সমাপ্ত হইল।

কয়েকটি শব্দের অর্থ

শব্দঅর্থ
কনককুণ্ডলস্বর্ণকুণ্ডল
চম্পকচাঁপা ফুল
গদামুদ্গর
পীয়ূষোদধিঅমৃতসমুদ্র
রক্তোৎপললাল পদ্ম
প্রেতাসনশবাসন
রসনাজিহ্বা
কুম্ভকপ্রাণায়ামের শ্বাসধারণ
জাড্যজড়তা
বৈশ্বানরঅগ্নি
স্তম্ভনগতিরোধ
ভূভৃৎনরপতি, পর্বত
ব্রাহ্মীবাক্‌শক্তি ও একটি মুদ্রা
ধিষণাবুদ্ধি
সংরম্ভসংগ্রাম, উত্তেজনা
অপবর্গমোক্ষ
ব্রহ্মাস্ত্রঅমোঘ অস্ত্র
মৃগেন্দ্রসিংহ
শ্রীবগলামুখীস্তবরাজঃ — সম্পূর্ণ পাঠ

পাঠকের জন্য টীকা। এই পাঠে মাংস, মদ্য ও বলির মতো বামাচারী তান্ত্রিক উপচারের উল্লেখ আছে। এগুলি বিশেষ সাধনপথের পরিভাষা, সাধারণ গৃহপূজার বিধি নহে। পাঠটি শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল।

এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।

১

বন্দে সকলসন্দেহদাবপাবকমীশ্বরম্ । করুণাবরুণাবাসং ভক্তকল্পতরুং গুরুম্ ॥ ১॥

২

উল্লসৎপীতবিদ্যোতি বিদ্যোতিত তনুত্রয়ম্ । নিগমাগমসর্বস্বমীডেঽহং তন্মহন্মহঃ ॥ ২॥

৩

ওঁ পূর্বং স্থিরমায়াং চ বগলামুখী সর্বতঃ । দুষ্টানাং বাচমুচ্চার্য মুখং পদং তথোদ্ধরেৎ ॥ ৩॥

৪

স্তম্ভয়েতি ততো জিহ্বাং কীলয়েতি সমুদ্ধরেৎ । বুদ্ধিং বিনাশয়েতি পদং স্থিরমায়ামনুস্মরেৎ ॥ ৪॥

৫

প্রণবং বহ্নিজায়া চেত্যেব পৈতাম্বরো মনুঃ । পাতু মাং সর্বদা সর্বং নিগ্রহানুগ্রহক্ষমঃ ॥ ৫॥

৬

কণ্ঠং নারদ ঋষিঃ পাতু পঙ্ক্তিছন্দোঽবতান্মুখম্ । পীতাম্বরা দেবতা তু হৃন্মধ্যমবতান্মম ॥ ৬॥

৭

হ্লীং বীজং স্তনয়োর্মেঽব্যাৎ স্বাহা শক্তিশ্চ দন্তয়োঃ । স কীলকং তথা গুহ্যে বিনিয়োগোঽবতাদ্বপুঃ ॥ ৭॥

৮

ষড্-দীর্ঘভাজা বীজেন ব্যাসোঽব্যান্মে করাদিকম্ । দ্বিপঞ্জপঞ্চ নন্দেষু দশভির্মন্ত্রবর্ণকৈঃ ॥ ৮॥

৯

ষডঙ্গকল্পনা পাতু ষডঙ্গানি হ্যনুক্রমাৎ । ঐং বিদ্যাতত্ত্বং ক্লীং মায়াতত্ত্বং সৌশ্চ শিবাত্মকম্ ॥ ৯॥

১০

তত্ত্বত্রয়ং সং বীজং চ মূলং হৃৎকণ্ঠং মধ্যগঃ । সুধাব্ধৌ হেমভূরূঢচম্পকোদ্যানমধ্যতঃ ॥ ১০॥

১১

গারুডোৎপলনির্ব্যূঢস্বর্ণসিংহাসনোপরি । স্বর্ণপঙ্কজসংবিষ্টাং ত্রিনেত্রাং শশিশেখরাম্ ॥ ১১॥

১২

পীতালঙ্কারবসনাং মল্লীচন্দনশোভিতাম্ । সব্যাভাং পঞ্চশাখায়াং বজ্রজিহ্বাং চ বিভ্রতীম্ ॥ ১২॥

১৩

মুদ্গরং নাগপাশং চ দক্ষিণাভ্যাং মদালসাম্ । ভক্তারিবিগ্রহোদ্যোগপ্রগল্ভাং বগলামুখীম্ ॥ ১৩॥

১৪

ধ্যায়মানস্য মে পাতু শাস্ত্রবোদ্বেষণে ভৃশম্ । ভূকলাদলদিক্পত্রষট্কোণং ত্র্যস্ত্রবৈন্দুকম্ ॥ ১৪॥

১৫

যন্ত্রং পৈতাম্বরং পাতু সা মাং পায়াদবিগ্রহা । আধারশক্তিমারভ্য জ্ঞানাত্মান্তাস্তু শক্তয়ঃ ॥ ১৫॥

১৬

পীঠাদ্যাঃ পান্তু পীঠেঽত্রং প্রথমং মাং চ রক্ষতু । শান্তিশঙ্খবিশেষাত্মশক্তিভূতানি পান্তু মাম্ ॥ ১৬॥

১৭

আবাহনাদ্যাঃ পঞ্চাপি মুদ্রাশ্চ সুমনোজলৈঃ । ত্রিকোণমধ্যমারভ্য পূজিতা বগলামুখী ॥ ১৭॥

১৮

ক্রোধিনী স্তম্ভিনী চাপি ধারিণ্যশ্চাপি মধ্যগাঃ । ওজঃ পূষাদিপীঠানি কোণাগ্রেষু স্থিতানি বৈ ॥ ১৮॥

১৯

ত্রিকোণ বাহ্যতঃ সিদ্ধনাথাদ্যা গুরবস্তথা । সিদ্ধনাথঃ সিদ্ধানন্দনাথঃ সিদ্ধপরমেষ্ঠি হি ॥ ১৯॥

২০

নাথঃ সিদ্ধঃ শ্রীকণ্ঠশ্চ নাথঃ সিদ্ধচতুষ্টয়ম্ । পাতু মামথ ষট্কোণে সুভগা ভগরূপিণী ॥ ২০॥

২১

ভগোদয়া চ ভগনিপাতিনী ভগমালিনী । ভগবাহা চ মাং পাতু ষট্কোণাগ্রেষু চ ক্রমাৎ ॥ ২১॥

২২

ত্বগাত্মা শোণিতাত্মা চ মাংসাত্মা মেদসাত্মকঃ । রূপাত্মা পরমাত্মা চ পাতু মাং স্থিরবিগ্রহা ॥ ২২॥

২৩

অষ্টপত্রেষু মূলেষু ব্রাহ্মী মাহেশ্বরী তথা । কৌমারী বৈষ্ণবী বারাহীন্দ্রাণী চ তথা পুনঃ ॥ ২৩॥

২৪

চামুণ্ডা চ মহালক্ষ্মীস্তত্র মধ্যে পুনর্জয়া । বিজয়া চ জয়াম্বা চ রাজিতা জৃম্ভিণী তথা ॥ ২৪॥

২৫

স্তম্ভিনী মোহিনী বশ্যাঽকর্ষিণ্যথ তদগ্রকে । অসিতাঙ্গো রুরুশ্চণ্ডঃ ক্রোধোন্মত্তকপালিনঃ । ভীষণাশ্চাপি সংহার এতে রক্ষন্তু মাং সদা ॥ ২৫॥

২৬

ততঃ ষোড়শপত্রেষু মঙ্গলা স্তম্ভিনী তথা । জৃম্ভিণী মোহিনী বশ্যা জ্বালা সিংহী বলাহকা ॥ ২৬॥

২৭

ভূধরা কল্মষা ধাত্রী কন্যকা কালকর্ষিণী । ভান্তিকা মন্দগমনা ভোগস্থা ভাবকেতি চ ॥ ২৭॥

২৮

পাতু মামথ ভূসদ্ম দশদিক্ষু দিগীশ্বরাঃ । ইন্দ্রোঽনলো যমো রক্ষো বরুণো মারুতঃ শশী ॥ ২৮॥

২৯

ঈশোঽনন্তঃ স্বয়ম্ভূশ্চ দশৈতে পান্তু মে বপুঃ । বজ্রশক্তির্দণ্ডখড্গৌ পাশাঙ্কুশগদাঃ ক্রমাৎ । শূলং চক্রং সরোজং চ তত্তচ্ছস্ত্রাণি পান্তু মাম্ ॥ ২৯॥

৩০

পাতু বিঘ্নেশবটুকৌ যোগিনী ক্ষেত্রপালকঃ ॥ ৩০॥

৩১

গুরুত্রয়ং ত্রিরেখাসু পাতু মে বপুরঞ্জসা । পুনঃ পীতাম্বরা পাতু উপচারৈঃ প্রপূজিতা ॥ ৩১॥

৩২

সাঙ্গাবরণশক্তিশ্চ জযশ্রীঃ পাতু সর্বদা । বলয়ং বটুকাদিভ্যো রক্ষাং কুর্বন্তু মে সদা ॥ ৩২॥

৩৩

শক্তয়ঃ সাধকা বীরাঃ পাতু মে দেবতা ইমাঃ । ইত্যর্চাক্রমতঃ প্রোক্তং স্তোত্রং পৈতাম্বরং পরম্ ॥ ৩৩॥

৩৪

যঃ পঠেৎ সকৃদপ্যেতৎ সোঽর্চাফলমবাপ্নুয়াৎ । সর্বথা কারয়েৎ ক্ষিপ্রং প্রপদ্যন্তে গদাতুরান্ ॥ ৩৪॥

৩৫

রাজানো রাজপত্ন্যশ্চ পৌরজানপদাস্তথা । বশগাস্তস্য জায়ন্তে সততং সেবকা ইব ॥ ৩৫॥

৩৬

গুরুকল্পাশ্চ বিবুধা মূকতাং যান্তি তেঽগ্রতঃ । স্থিরা ভবতি তদ্গেহে চপলাপি হরিপ্রিয়া ॥ ৩৬॥

৩৭

পীতাম্বরাঙ্গবসনো যদি লক্ষসঙ্খ্যং পৈতাম্বরং মনুমমুং প্রজপেন্নরো যঃ । হেমী সকৃন্নিয়মবান্ বিধিনা হরিদ্রা- মালাং দধদ্ভবতি তদ্বশগা ত্রিলোকী ॥ ৩৭॥

৩৮

ভবানি বগলামুখি ত্রিদশকল্পবল্লি প্রভো কৃপাজলনিধে তব চরণধূতবাধাখিলঃ । সুরাসুরনরাদিকসকলভক্তভাগ্যপ্রদে ত্বদঙ্ঘ্রিসরসীরুহদ্বয়মহং তু ধ্যায়ে সদা ॥ ৩৮॥

৩৯

ত্বমস্য জগতাং জনিস্থিতিবিনাশবীজং নিজ প্রকাশবহুলদ্যুতির্ভবতি ভক্তহৃন্মধ্যগা । ত্রয়ীমনু সুপূজিতা হরিহরাদি বৃন্দারকৈ- রনুক্ষণমনুক্ষণং ময়ি শিবে ক্ষণং বীক্ষ্যতাম্ ॥ ৩৯॥

৪০

শিবে তব তনূমহং হরিহরাদ্যগম্যাং পরাং নিখিলতাপপ্রত্যূহহৃদয়াভাবযুক্তাং স্মরে । বিদারয় বিচূর্ণয় গ্লপয় শোষয় স্তম্ভয় প্রণোদয় বিরোধয় প্রবিলয় প্রবদ্ধারিণাম্ ॥ ৪০॥

৪১

পার্বতি কৃপালসন্ময়ি কটাক্ষপাতং মনা- গনাকুলতয়া ক্ষণং ক্ষিপ বিপক্ষসঙ্ক্ষোভিণি । যদীক্ষণপথং গতঃ সকৃদপি প্রভুঃ কশ্চন স্ফুটং মম বশংবদো ভবতু তেন পীতাম্বরে ॥ ৪১॥ ওঁ নমো ভগবতে মহারুদ্রায় হুং ফট্ স্বাহা । ইতি অথর্বণরহস্যান্তর্গতঃ শ্রীবগলামুখীস্তবরাজঃ সমাপ্তঃ ।
শ্রীবগলামুখীকবচম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

পাঠকের জন্য টীকা। ফলশ্রুতিতে মারণ, উচ্চাটন, স্তম্ভন প্রভৃতি অভিচার-কর্মের উল্লেখ আছে। এগুলি তন্ত্রের প্রাচীন শাস্ত্রীয় বর্ণনা; আজকের পূজা-পাঠে ইহাদের কোনও স্থান নাই, আর কাহারও ক্ষতি কামনা করা ভক্তির পথ নহে। পাঠটি এখানে শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল।

এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।

১

শ্রুত্বা চ বগলাপূজাং স্তোত্রং চাপি মহেশ্বর । ইদানীং শ্রোতুমিচ্ছামি কবচং বদ মে প্রভো ॥

২

বৈরিনাশকরং দিব্যং সর্বাশুভবিনাশনম্ । শুভদং স্মরণাৎপুণ্যং ত্রাহি মাং দুঃখনাশনম্ ॥

৩

শ্রীভৈরব উবাচ ॥

৪

কবচং শৃণু বক্ষ্যামি ভৈরবি প্রাণবল্লভে ॥

৫

পঠিত্বা ধারয়িত্বা তু ত্রৈলোক্যে বিজয়ী ভবেৎ ॥

৬

ওঁ অস্য শ্রীবগলামুখীকবচস্য নারদঋষিরনুষ্টুপ্ছন্দঃ শ্রীবগলামুখী দেবতা লং বীজং ঐং কীলকং পুরুষার্থচতুষ্টয়ে জপে বিনিয়োগঃ ॥

৭

শিরো মে বগলা পাতু হৃদয়ৈকাক্ষরী পরা । ওঁ হ্রীং ওঁ মে ললাটে চ বগলা বৈরিনাশিনী ॥

৮

গদাহস্তা সদা পাতু মুখং মে মোক্ষদায়িনী । বৈরিজিহ্বাধরা পাতু কণ্ঠং মে বগলামুখী ॥

৯

উদরং নাভিদেশং চ পাতু নিত্যং পরাৎপরা । পরাৎপরপরা পাতু মম গুহ্যং সুরেশ্বরী ॥

১০

হস্তৌ চৈব তথা পাতু পার্বতীপরিপাতু মে । বিবাদে বিষমে ঘোরে সঙ্গ্রামে রিপুসঙ্কটে ॥

১১

পীতাম্বরধরা পাতু সর্বাঙ্গং শিবনর্তকী । শ্রীবিদ্যাসময়ো পাতু মাতঙ্গীদুরিতাশিবা ॥

১২

পাতু পুত্রং সুতাং চৈব কলত্রং কালিকা মম । পাতু নিত্যং ভ্রাতরং মে পিতরং শূলিনী সদা ॥

১৩

সন্দেহি বগলাদেব্যাঃ কবচং মন্মুখোদিতম্ । নৈব দেয়মমুখ্যায় সর্বসিদ্ধিপ্রদায়কম্ ॥

১৪

পঠনাদ্ধারণাদস্য পূজনাদ্বাঞ্ছিতং লভেৎ । ইদং কবচমজ্ঞাত্বা যো জপেদ্ বগলামুখীম্ ॥

১৫

পিবন্তি শোণিতং তস্য যোগিন্যঃ প্রাপ্যসাদরাঃ । বশ্যে চাকর্ষণে চৈব মারণে মোহনে তথা ॥

১৬

মহাভয়ে বিপত্তৌ চ পঠেদ্বাপাঠয়েত্তু যঃ । তস্য সর্বার্থসিদ্ধিঃ স্যাদ্ভক্তিযুক্তস্য পার্বতি ॥

প্রধান মন্দির

পীতাম্বরা পীঠ
দাতিয়া, মধ্যপ্রদেশ

দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত বগলামুখী মন্দির। ১৯৩৫ সালে এক সন্ন্যাসী এটি প্রতিষ্ঠা করেন — ভক্তদের কাছে তিনি ‘স্বামীজি মহারাজ’ নামে পরিচিত (স্বামী বিবেকানন্দ নন)। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের সময় এখানে বিশেষ যজ্ঞ হয়েছিল — এই কাহিনী মন্দিরকে সর্বভারতীয় খ্যাতি দিয়েছে। চত্বরেই ধূমাবতী মন্দির (১৯৭৮)।

বগলামুখী মন্দির, বনখণ্ডী, কাংড়া, হিমাচল প্রদেশ — পাহাড়ি ধারার মন্দির; হলুদ আর হলুদ রঙের ফুল দিয়ে পূজা হয়।

পীতাম্বরা পীঠ — উইকিপিডিয়া

মন্দির

পীতাম্বরা পীঠ, দাতিয়া
পীতাম্বরা পীঠ, দাতিয়া
ছবি: Work2win · CC BY-SA 4.0 · কমন্স
বগলামুখী মন্দির, বনখণ্ডী, কাংড়া
বগলামুখী মন্দির, বনখণ্ডী, কাংড়া
ছবি: Chris7861 · CC0 · কমন্স

বিগ্রহ

বিগ্রহের চিত্র পাওয়া যায় নাই।

কাহিনী

হলুদ সরোবর

সাধকেরা বলেন, বগলামুখীর সাধনার সবচেয়ে কঠিন দিক হল উদ্দেশ্য। মন্ত্রটি শত্রুর বাক্‌ স্তম্ভনের — কিন্তু গুরুরা শেখান, সবচেয়ে বড় শত্রু নিজের ভিতরে। যে মন সারাক্ষণ বকে চলেছে, যে জিহ্বা না ভেবে কথা বলে, প্রথমে তাকেই থামাতে হয়। যে সাধক অন্যের ক্ষতির জন্য এই মন্ত্র ধরে, শাস্ত্র বলে, স্তম্ভন তার নিজের উপরেই ফেরে। সাধকেরা তাই বলেন, হরিদ্রা সরোবরের জল দেখতে সোনার মতো, কিন্তু স্বাদে তেতো — এ শক্তি লোভনীয়, অপব্যবহারে বিষ।

বই


এই রূপের প্রচলিত বাংলা গান বিশেষ নাই। সমস্ত গান →

সতর্কবার্তা। এই পৃষ্ঠার মন্ত্রসমূহ স্বেচ্ছায় জপ করিবার বস্তু নহে। দশমহাবিদ্যার তান্ত্রিক মন্ত্র — বিশেষতঃ বীজমন্ত্র, পঞ্চদশী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী ও মাতঙ্গীর মন্ত্র — শাস্ত্রমতে দীক্ষা ব্যতীত জপের বিধান নাই। গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করিয়া, তাঁহার আদেশে, তাঁহার তত্ত্বাবধানেই ইহা অনুষ্ঠেয়। গুরুর পথনির্দেশ ব্যতিরেকে কেহ স্বয়ং চেষ্টা করিবেন না। এখানে মন্ত্র উদ্ধৃত হইয়াছে পাঠ, পরিচয় ও অর্থবোধের নিমিত্ত — সাধনার নির্দেশিকারূপে নহে।

মন্ত্র, ধ্যান ও স্তোত্র নানা গ্রন্থে পাঠভেদে ভিন্ন হইয়া থাকে; অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পূর্বে মুদ্রিত পুঁথি ও পঞ্জিকার সহিত মিলাইয়া লইবেন।

শক্তি — সমস্ত রূপের সূচি · স্বীকৃতি · গোপনীয়তার নীতি