বগলামুখী
অষ্টম মহাবিদ্যা · পীতাম্বরা · ব্রহ্মাস্ত্ররূপিণী · বল্গামুখী
পরিচয়
বগলামুখীর কর্ম একটিমাত্র — স্তম্ভন, অর্থাৎ থামাইয়া দেওয়া। শত্রুর বাক্য, ষড়যন্ত্র, বিবাদ, এমনকি আপন মনের চাঞ্চল্য — সমস্তই তিনি স্থির করিয়া দেন।
রূপ — সর্বাঙ্গ পীতবর্ণ। পীত আসন, পীত বসন, পীত পুষ্প, স্বর্ণালংকার। সেই হেতু তাঁহার নাম পীতাম্বরা। দক্ষিণ হস্তে মুদ্গর, বাম হস্তে শত্রুর জিহ্বা ধরিয়া টানিয়া রাখিয়াছেন।
‘বগলা’ শব্দটি আসিয়াছে ‘বল্গা’ হইতে — অশ্বের লাগাম। যিনি লাগাম ধরেন, তিনিই বগলামুখী। তাঁহার পূজায় হরিদ্রা, পীত পুষ্প ও পীত বসন আবশ্যক; জপ হয় হরিদ্রামালায়।
উৎপত্তির কাহিনী
সত্যযুগের কথা। অকস্মাৎ এক মহাপ্রলয়কারী ঝটিকা উঠিল — সমুদয় সৃষ্টি উড়াইয়া লইয়া যাইবার উপক্রম। দেবতারা ভীত হইলেন; তখন বিষ্ণু সৌরাষ্ট্রে হরিদ্রা সরোবরের তীরে মহাশক্তির তপস্যা করিলেন।
সেই পীতবর্ণ জলের সরোবর হইতে দেবী আবির্ভূতা হইলেন — স্বর্ণের ন্যায় অঙ্গকান্তি, পীত বসন। তিনি হস্ত উত্তোলন করিবামাত্র ঝটিকা থামিয়া গেল, সৃষ্টি স্থির হইল। এই স্তম্ভনশক্তিরই নাম বগলামুখী।
মদন নামে এক অসুরের কথাও প্রচলিত। সে এমন বর পাইয়াছিল যে, যাহা বলিবে তাহাই সত্য হইবে; সেই বরের বলে সে ত্রিভুবন জ্বালাইতে লাগিল। দেবী তাহার জিহ্বাটিই টানিয়া ধরিলেন, তাহাতেই বাক্য বন্ধ হইল আর শক্তিও নিঃশেষ। সেই হেতু প্রতিমায় তিনি শত্রুর জিহ্বা ধরিয়া আছেন।
মন্ত্র
মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।
একাক্ষর — বীজমন্ত্র (১ অক্ষর)
দ্ব্যক্ষর (ওঁ-সহ ৩ অক্ষর)
ত্র্যক্ষর (ওঁ-সহ ৪ অক্ষর)
সপ্তাক্ষর (ওঁ-সহ ৮ অক্ষর)
নবাক্ষর (৯ অক্ষর)
দশাক্ষর (ওঁ-সহ ১১ অক্ষর)
মূলমন্ত্র (ওঁ-সহ ১৩ অক্ষর)
প্রধান মন্ত্র — ষট্ত্রিংশাক্ষরী (প্রচলিত গণনায় আদির ওঁ-সহ) (ওঁ-সহ ৩৬ অক্ষর)
ধ্যানমন্ত্র
বঙ্গানুবাদ
- তিনি স্বর্ণাসনে উপবিষ্টা, ত্রিনয়না, পীতবস্ত্রে উজ্জ্বলা।
- স্বর্ণের ন্যায় অঙ্গকান্তি, মস্তকে চন্দ্রের মুকুট, কণ্ঠে চম্পকপুষ্পের মালা।
- হাতে মুদ্গর, পাশ, বজ্র ও শত্রুর জিহ্বা।
- সর্বাঙ্গ অলংকারে ভূষিত — ত্রিভুবন-স্তম্ভিনী সেই বগলামুখীর চিন্তা করিবে।
প্রচলিত আর একটি পাঠ
অমৃতসমুদ্রের মধ্যস্থ মণিমণ্ডপের রত্নবেদিকায় সিংহাসনে আসীনা, সম্পূর্ণ পীতবর্ণা, পীতাম্বর-আভরণ-মাল্যে বিভূষিতাঙ্গী, হস্তে মুদ্গর ও শত্রুর জিহ্বা ধারণকারিণী দেবীকে আমি ভজনা করি। যিনি বাম হস্তে শত্রুর জিহ্বাগ্র ধরিয়া তাহাদিগকে পীড়ন করিতেছেন আর দক্ষিণ হস্তে গদাঘাত করিতেছেন — সেই পীতাম্বরা দ্বিভুজাকে প্রণাম।
শব্দে-শব্দে অর্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| সুধাব্ধি | অমৃতসমুদ্র |
| মণিমণ্ডপ | রত্নময় মণ্ডপ |
| রত্নবেদি | রত্নের বেদি |
| উপরিগতা | উপরে অবস্থানকারিণী |
| পরিপীতবর্ণা | সম্পূর্ণ পীতবর্ণা |
| পীতাম্বর | পীতবস্ত্র |
| আভরণ | অলংকার |
| বিভূষিতাঙ্গী | বিভূষিত অঙ্গবিশিষ্টা |
| ভজামি | আমি ভজনা করি |
| ধৃত | ধারণকৃত |
| মুদ্গর | গদা |
| বৈরি | শত্রু |
| জিহ্বাগ্রম্ | জিহ্বার অগ্রভাগ |
| আদায় | ধরিয়া |
| করেণ | হস্ত দ্বারা |
| বামেন | বাম হস্তে |
| শত্রূন্ | শত্রুদিগকে |
| পরিপীডয়ন্তীম্ | সম্পূর্ণরূপে পীড়নকারিণী |
| অভিঘাত | আঘাত |
| দক্ষিণেন | দক্ষিণ হস্তে |
| দ্বিভুজাম্ | দ্বিভুজাকে |
| নমামি | আমি প্রণাম করি |
প্রণাম মন্ত্র
বঙ্গানুবাদ
হে বগলা, হে ভগবতী দেবী, হে স্তম্ভিনী, হে শত্রুনাশিনী; হে পীতাম্বরা, হে সর্ববিঘ্নবিনাশিনী — তোমাকে নমস্কার।
গায়ত্রী
বঙ্গানুবাদ
বগলামুখীকে জানি, স্তম্ভিনীকে ধ্যান করি — সেই দেবী আমাদের প্রেরণা দিন।
স্তোত্র — বগলামুখী স্তোত্র — সূচনা
বাংলা অর্থ
- দোদুল্যমান স্বর্ণকুণ্ডলে তাঁহার সুন্দর গণ্ডস্থল ঝলমল করিতেছে।
- উজ্জ্বল স্বর্ণচম্পকের ন্যায় দীপ্তি, মুখ যেন পূর্ণচন্দ্র।
- গদার আঘাতে তিনি শত্রুকে দমন করিতেছেন, শত্রুর চঞ্চল জিহ্বার অগ্রভাগ ধরিয়া আছেন।
- বিমুখ জনের বাক্য ও মন যিনি স্তম্ভিত করেন, সেই বগলামুখীকে আমি স্মরণ করি।
শ্রীবগলামুখীস্তোত্রম্ — সম্পূর্ণ পাঠ
পাঠকের জন্য টীকা। ফলশ্রুতিতে মারণ, উচ্চাটন, স্তম্ভন প্রভৃতি অভিচার-কর্মের উল্লেখ আছে। এগুলি তন্ত্রের প্রাচীন শাস্ত্রীয় বর্ণনা; আজকের পূজা-পাঠে ইহাদের কোনও স্থান নাই, আর কাহারও ক্ষতি কামনা করা ভক্তির পথ নহে। পাঠটি এখানে শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল।
১
দোলায়মান কনককুণ্ডলে যাঁহার সুন্দর গণ্ডস্থল উল্লসিত, যাঁহার মুখ কনকচম্পকের দ্যুতিযুক্ত ইন্দুবিম্বের ন্যায়; যিনি গদাঘাতে বিপক্ষকে আহত করেন ও তাহার চঞ্চল জিহ্বা ধরিয়া রাখেন — সেই বিমুখের বাক্য ও মন স্তম্ভনকারিণী বগলামুখীকে আমি স্মরণ করি।
২
অমৃতসমুদ্রের মধ্যে সুন্দর রক্তোৎপলশোভিত মণ্ডপে, উত্তম সিংহাসনে শত্রুকে পদতলে ফেলিয়া প্রেতাসনে অধিষ্ঠিতা; স্বর্ণাভা, হস্তে শত্রুর রসনা পীড়িতা, ঘূর্ণ্যমান গদাধারিণী — যে এইরূপে তোমার ধ্যান করে, তাহার সমস্ত আপদ সহসা সদ্যই দূর হয়।
৩
হে দেবী, যে মন্ত্রসাধক তোমার চরণাম্বুজ অর্চনার নিমিত্ত ভক্তিভরে বাম হস্তে পীতপুষ্পাঞ্জলি ধরিয়া মনোজ্ঞ অক্ষরের মনু স্মরণ করেন, পীঠধ্যানে নিরত হইয়া কুম্ভকযোগে পার্থিব বীজ স্মরণ করেন — তৎক্ষণাৎ তাঁহার শত্রুর বাক্যে ও হৃদয়ে জাড্য উপস্থিত হয়।
৪
তোমার মন্ত্রসাধকের মন্ত্রে বাঁধা পড়িলে বাদী মূক হয়, ক্ষিতিপতি রঙ্ক হয়, বৈশ্বানর শীতল হয়; ক্রোধী শান্ত হয়, দুর্জন সুজন হয়, ক্ষিপ্রগামী খঞ্জ হয়, গর্বী খর্ব হয়, সর্বজ্ঞ জড় হয়। হে নিত্যা শ্রী, হে কল্যাণী বগলামুখী, তোমাকে প্রতিদিন প্রণাম।
৫
হে মাতা, বিপক্ষদলনে তোমার মন্ত্রই যথেষ্ট, তোমার স্তোত্র পবিত্র, তোমার যন্ত্র বাদীর নিয়ন্ত্রক — ত্রিজগতে জৈত্র ও বিচিত্র। যে ব্যক্তির মুখে ‘শ্রীবগলা’ এই ললিত নাম আছে, তোমার নামগ্রহণেই সভায় বাদীদের মুখে স্তম্ভ উপস্থিত হয়।
৬
দুষ্টের স্তম্ভন, উগ্র বিঘ্নের শমন, দারিদ্র্যের বিদ্রাবণ, ভূভৃতের সন্দমন, চঞ্চলনয়নাদের চিত্তাকর্ষণ; সৌভাগ্যের একমাত্র নিকেতন, সমদৃষ্টি ও করুণাপূর্ণ ঈক্ষণ, মৃত্যুরও মারণস্বরূপ — হে মাতা, তোমার সেই বিগ্রহ আমার সম্মুখে আবির্ভূত হউক।
৭
হে মাতা, আমার বিপক্ষের বদন ভঞ্জন কর, জিহ্বা কীলিত কর, ব্রাহ্মী মুদ্রিত কর, দৈত্য ও দেবের উগ্র ধিষণা ও গতি স্তম্ভিত কর। হে দেবী, তীক্ষ্ণ গদায় শত্রুদিগকে চূর্ণ কর। হে গৌরাঙ্গী, হে পীতাম্বরা, হে করুণাপূর্ণনয়না বগলা — প্রণতদের বিঘ্নরাশি হরণ কর।
৮
হে মাতা ভৈরবী, ভদ্রকালী, বিজয়া, বারাহী, বিশ্বের আশ্রয়; হে শ্রীবিদ্যা, সময়া, মহেশী, বগলা, কামেশী, বামা, রমা; হে মাতঙ্গী, ত্রিপুরা, পরাৎপরতরা, স্বর্গ ও অপবর্গদায়িনী — আমি দাস, আমি শরণাগত; হে বিশ্বেশ্বরী, করুণা করিয়া আমাকে ত্রাণ কর।
৯
সংগ্রামে, চোরের দলের মধ্যে, প্রহারের সময়, বন্ধনে, ব্যাধির মধ্যে; বিদ্যার তর্কে, বিবাদে, রাজা কুপিত হইলে, দিব্যকালে বা নিশীথে; বশীকরণে বা স্তম্ভনে, শত্রুবধের সময়, নির্জনে বা বনে — চলিতে চলিতে বা দাঁড়াইয়া, যে ধীর ব্যক্তি ত্রিকাল এই স্তোত্র পাঠ করে, সে শীঘ্রই মঙ্গল লাভ করে।
১০
তুমি পরমা বিদ্যা, ত্রিলোকজননী, বিঘ্নরাশির সংছেদিনী; আকর্ষণকারিণী ও জনমনের সম্মোহদায়িনী; স্তম্ভন ও উৎসারণকারিণী, পশুমনের সম্মোহদায়িনী — ব্রহ্মাদির মন্ত্রের ন্যায় সেই জিহ্বাকীলনভৈরবী বিজয়ী হন।
১১
বিদ্যা, লক্ষ্মী, নিত্য সৌভাগ্য, আয়ু, পুত্র-পৌত্র, সর্বসাম্রাজ্যসিদ্ধি; মান, ভোগ, বশ্যতা, আরোগ্য ও সৌখ্য — এই সকলই এই ভূতলে মানুষ লাভ করে।
১২
হে পরমেশ্বরী, তোমার নিমিত্ত এই জপসন্নাহ কথিত হইল। দুষ্টদের নিগ্রহের নিমিত্ত তাহা গ্রহণ কর — তোমাকে প্রণাম।
১৩
পীতাম্বরা, দ্বিভুজা, ত্রিনেত্রা, কোমলগাত্রা, হস্তে শিলা ও মুদ্গরধারিণী — সেই বগলামুখীকে আমি স্মরণ করি।
১৪
ইহা ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ নামে ত্রিলোকে বিখ্যাত ও বিশ্রুত। গুরুভক্তকে দেওয়া বিধেয়; যাহাকে তাহাকে দেয় নহে।
১৫
যে ব্যক্তি নিত্য আদরের সহিত দেবীর এই পবিত্র স্তোত্র পাঠ করে এবং এই যন্ত্র সমরে বাহুতে, করে বা গলায় ধারণ করে — রাজা, শত্রু, মদান্ধ করী, সর্প, মৃগেন্দ্রাদি সকলে বিমোহিত হয়, রিপুগণ পরাভূত হয়, লক্ষ্মী স্থিরা হন ও সিদ্ধি লাভ ঘটে।
এইরূপে শ্রীরুদ্রযামল তন্ত্রে শ্রীবগলামুখীস্তোত্র সমাপ্ত হইল।
কয়েকটি শব্দের অর্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| কনককুণ্ডল | স্বর্ণকুণ্ডল |
| চম্পক | চাঁপা ফুল |
| গদা | মুদ্গর |
| পীয়ূষোদধি | অমৃতসমুদ্র |
| রক্তোৎপল | লাল পদ্ম |
| প্রেতাসন | শবাসন |
| রসনা | জিহ্বা |
| কুম্ভক | প্রাণায়ামের শ্বাসধারণ |
| জাড্য | জড়তা |
| বৈশ্বানর | অগ্নি |
| স্তম্ভন | গতিরোধ |
| ভূভৃৎ | নরপতি, পর্বত |
| ব্রাহ্মী | বাক্শক্তি ও একটি মুদ্রা |
| ধিষণা | বুদ্ধি |
| সংরম্ভ | সংগ্রাম, উত্তেজনা |
| অপবর্গ | মোক্ষ |
| ব্রহ্মাস্ত্র | অমোঘ অস্ত্র |
| মৃগেন্দ্র | সিংহ |
শ্রীবগলামুখীস্তবরাজঃ — সম্পূর্ণ পাঠ
পাঠকের জন্য টীকা। এই পাঠে মাংস, মদ্য ও বলির মতো বামাচারী তান্ত্রিক উপচারের উল্লেখ আছে। এগুলি বিশেষ সাধনপথের পরিভাষা, সাধারণ গৃহপূজার বিধি নহে। পাঠটি শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল।
এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।
১
২
৩
৪
৫
৬
৭
৮
৯
১০
১১
১২
১৩
১৪
১৫
১৬
১৭
১৮
১৯
২০
২১
২২
২৩
২৪
২৫
২৬
২৭
২৮
২৯
৩০
৩১
৩২
৩৩
৩৪
৩৫
৩৬
৩৭
৩৮
৩৯
৪০
৪১
শ্রীবগলামুখীকবচম্ — সম্পূর্ণ পাঠ
পাঠকের জন্য টীকা। ফলশ্রুতিতে মারণ, উচ্চাটন, স্তম্ভন প্রভৃতি অভিচার-কর্মের উল্লেখ আছে। এগুলি তন্ত্রের প্রাচীন শাস্ত্রীয় বর্ণনা; আজকের পূজা-পাঠে ইহাদের কোনও স্থান নাই, আর কাহারও ক্ষতি কামনা করা ভক্তির পথ নহে। পাঠটি এখানে শাস্ত্রের নথি হিসাবে অবিকল দেওয়া হইল।
এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।
১
২
৩
৪
৫
৬
৭
৮
৯
১০
১১
১২
১৩
১৪
১৫
১৬
প্রধান মন্দির
পীতাম্বরা পীঠ
দাতিয়া, মধ্যপ্রদেশ
দেশের সবচেয়ে বিখ্যাত বগলামুখী মন্দির। ১৯৩৫ সালে এক সন্ন্যাসী এটি প্রতিষ্ঠা করেন — ভক্তদের কাছে তিনি ‘স্বামীজি মহারাজ’ নামে পরিচিত (স্বামী বিবেকানন্দ নন)। ১৯৬২ সালের যুদ্ধের সময় এখানে বিশেষ যজ্ঞ হয়েছিল — এই কাহিনী মন্দিরকে সর্বভারতীয় খ্যাতি দিয়েছে। চত্বরেই ধূমাবতী মন্দির (১৯৭৮)।
বগলামুখী মন্দির, বনখণ্ডী, কাংড়া, হিমাচল প্রদেশ — পাহাড়ি ধারার মন্দির; হলুদ আর হলুদ রঙের ফুল দিয়ে পূজা হয়।
মন্দির

ছবি: Work2win · CC BY-SA 4.0 · কমন্স

ছবি: Chris7861 · CC0 · কমন্স
বিগ্রহ
বিগ্রহের চিত্র পাওয়া যায় নাই।
কাহিনী
হলুদ সরোবর
সাধকেরা বলেন, বগলামুখীর সাধনার সবচেয়ে কঠিন দিক হল উদ্দেশ্য। মন্ত্রটি শত্রুর বাক্ স্তম্ভনের — কিন্তু গুরুরা শেখান, সবচেয়ে বড় শত্রু নিজের ভিতরে। যে মন সারাক্ষণ বকে চলেছে, যে জিহ্বা না ভেবে কথা বলে, প্রথমে তাকেই থামাতে হয়। যে সাধক অন্যের ক্ষতির জন্য এই মন্ত্র ধরে, শাস্ত্র বলে, স্তম্ভন তার নিজের উপরেই ফেরে। সাধকেরা তাই বলেন, হরিদ্রা সরোবরের জল দেখতে সোনার মতো, কিন্তু স্বাদে তেতো — এ শক্তি লোভনীয়, অপব্যবহারে বিষ।
বই
- ভারতের শক্তি-সাধনা ও শাক্ত সাহিত্য
লেখক / সংকলক: শশিভূষণ দাশগুপ্ত
প্রকাশক: সাহিত্য সংসদ, কলকাতা
স্তম্ভন ও তান্ত্রিক প্রয়োগের ঐতিহাসিক আলোচনা।
এই রূপের প্রচলিত বাংলা গান বিশেষ নাই। সমস্ত গান →