ষোড়শী
তৃতীয় মহাবিদ্যা · ত্রিপুরসুন্দরী · ললিতা · রাজরাজেশ্বরী · শ্রীবিদ্যা
পরিচয়
ষোড়শী অর্থে ষোড়শবর্ষীয়া কিশোরী — চিরনবীনা। ত্রিভুবনে তাঁহার অপেক্ষা সুন্দর কিছু নাই বলিয়া নাম ত্রিপুরসুন্দরী। দশমহাবিদ্যার মধ্যে তিনিই সৌম্যতমা, আর শ্রীবিদ্যা নামে সমগ্র দক্ষিণ ভারত ও বাঙ্গালায় তাঁহার উপাসনা প্রচলিত।
তাঁহার দেহ উদীয়মান সূর্যের ন্যায় রক্তাভ; তিনি ত্রিনয়না, চতুর্ভুজা। হস্তে পাশ, অঙ্কুশ, ইক্ষুধনু ও পঞ্চবাণ। পাশ অর্থে আকর্ষণ, অঙ্কুশ অর্থে নিয়ন্ত্রণ; ইক্ষুধনু মন, আর পাঁচটি পুষ্পবাণ পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের বিষয়।
তাঁহার আসন পঞ্চপ্রেতাসন — ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র, ঈশ্বর ও সদাশিব শয্যা হইয়া রহিয়াছেন। তাঁহার যন্ত্র শ্রীচক্র, মন্ত্র পঞ্চদশী অথবা ষোড়শী।
উৎপত্তির কাহিনী
ব্রহ্মাণ্ড পুরাণের ললিতোপাখ্যানে তাঁহার আবির্ভাব। শিব যখন কামদেবকে ভস্ম করিলেন, সেই ভস্মরাশি হইতে চিত্রকর্মা নামে এক গণ মনুষ্যাকৃতি গড়িল। ব্রহ্মার ‘ভণ্ড’ শব্দে সে প্রাণ পাইল — জন্মিল ভণ্ডাসুর। তপস্যা করিয়া সে ষাট সহস্র বৎসর রাজত্বের বর পাইল, এবং অজেয় হইয়া ত্রিভুবন অধিকার করিল।
দেবতারা তখন মহাযজ্ঞ করিলেন। সেই চিদগ্নিকুণ্ড হইতে উত্থিতা হইলেন দেবী ললিতা ত্রিপুরসুন্দরী — রাজরাজেশ্বরীর বেশে, শ্রীচক্ররথে আরূঢ়া। শক্তিসেনা লইয়া তিনি ভণ্ডাসুরকে বধ করিলেন, এবং কামদেবকে পুনর্জীবন দিলেন।
তন্ত্র বলে, কাম ভস্ম হইয়াও নিঃশেষ হয় না — তাহাকে বশ করিতে হয়। ললিতা সেই সংযমের শক্তি; সেই হেতু তাঁহার হস্তে পাশ ও অঙ্কুশ, আর বাণগুলি পুষ্পের।
মন্ত্র
মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।
ত্র্যক্ষর — বালার মন্ত্র (ওঁ-সহ ৪ অক্ষর)
পঞ্চাক্ষর (ওঁ-সহ ৬ অক্ষর)
ষড়ক্ষর (ওঁ-সহ ৭ অক্ষর)
অষ্টাদশাক্ষর (ওঁ-সহ ১৯ অক্ষর)
বিংশত্যক্ষর (ওঁ-সহ ২১ অক্ষর)
ত্রিপুরা মন্ত্র (ওঁ-সহ ১২ অক্ষর)
ত্র্যক্ষরী — প্রথম ক্রম (পাঠান্তর) (৩ অক্ষর)
ত্র্যক্ষরী — দ্বিতীয় ক্রম (পাঠান্তর) (৩ অক্ষর)
ত্র্যক্ষরী — তৃতীয় ক্রম (পাঠান্তর) (৩ অক্ষর)
ত্র্যক্ষরী — চতুর্থ ক্রম (পাঠান্তর) (৩ অক্ষর)
ধ্যানমন্ত্র
বঙ্গানুবাদ
- বালসূর্যের মণ্ডলের ন্যায় যাঁহার আভা, যিনি চতুর্ভুজা ও ত্রিনয়না,
- যিনি পাশ, অঙ্কুশ, শর (পঞ্চবাণ) ও চাপ (ইক্ষুধনু) ধারণ করেন — সেই কল্যাণময়ী শিবাকে ভজনা করি।
শব্দে-শব্দে অর্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| বালার্ক | উদীয়মান সূর্য |
| আভাসাম্ | যাঁহার আভা |
| চতুর্বাহাম্ | চারি বাহুবিশিষ্টা |
| ত্রিলোচনাম্ | ত্রিনয়না |
| শর | বাণ |
| চাপ | ধনুক |
| ধারয়ন্তীম্ | ধারণকারিণী |
| শিবাম্ | মঙ্গলময়ী |
| ভজে | আমি ভজনা করি |
প্রণাম মন্ত্র
বঙ্গানুবাদ
হে ত্রিপুরা, হে ত্রিপুরের অধীশ্বরী, হে ত্রিলোকজননী, হে কল্যাণময়ী! হে সর্বসৌভাগ্যদায়িনী দেবী ত্রিপুরা, তোমাকে প্রণাম করি।
গায়ত্রী
বঙ্গানুবাদ
ত্রিপুরসুন্দরীকে জানি, কামেশ্বরীকে ধ্যান করি — সেই ক্লিন্না (করুণায় আর্দ্র) দেবী আমাদের প্রেরণা দিন।
স্তোত্র — ললিতা সহস্রনাম — প্রথম নামাবলি
বাংলা অর্থ
- তিনি শ্রীমাতা — জগতের মাতা; শ্রীমহারাজ্ঞী — সকল ভুবনের রাজ্ঞী; শ্রীমৎসিংহাসনেশ্বরী — শ্রেষ্ঠ সিংহাসনের অধিষ্ঠাত্রী।
- চৈতন্যরূপ অগ্নিকুণ্ড হইতে তাঁহার আবির্ভাব; দেবতাদের কার্যসাধনে তিনি উদ্যতা।
- উদীয়মান সহস্র সূর্যের ন্যায় তাঁহার দীপ্তি; তিনি চতুর্ভুজা।
- তাঁহার পাশ রাগ বা আসক্তির রূপ, আর অঙ্কুশ ক্রোধের রূপ — উভয়কেই তিনি হস্তে ধারণ করিয়া আছেন, অর্থাৎ নিয়ন্ত্রণ করিতেছেন।
শ্রীত্রিপুরসুন্দরীস্তোত্রম্ — সম্পূর্ণ পাঠ
১
শুভ্র পদ্মাসনে আরূঢ়া, নির্মল স্ফটিকের ন্যায় উজ্জ্বলা, বাগ্দেবতাস্বরূপা — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে ধ্যান করিয়া আমি বন্দনা করি।
২
শৈলাধিরাজের তনয়া, শঙ্করের প্রিয়বল্লভা, তরুণ চন্দ্রের ন্যায় স্নিগ্ধা — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।
৩
সর্বভূতের নিকট মনোরমা, সর্বভূতে সংস্থিতা, সর্বসম্পদদায়িনী — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।
৪
পদ্মই যাঁহার আলয়, হস্তে পদ্ম, পদ্মসম্ভব ব্রহ্মা যাঁহাকে সেবা করেন, পদ্মরাগমণির ন্যায় আভা — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।
৫
পঞ্চবাণ, ধনুক, পাশ ও অঙ্কুশধারিণী, শুভা, পঞ্চব্রহ্মময়ী — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।
৬
ষট্পুণ্ডরীকে নিলয়া, ষড়াননের জননী, ষট্কোণের অন্তঃস্থিতা — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।
৭
হরের অর্ধভাগে নিলয়া, অম্বা, অদ্রিসুতা, মৃড়া, হরির প্রিয় অনুজা — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।
৮
অষ্টৈশ্বর্যপ্রদা অম্বা, অষ্টদিক্পালসেবিতা, অষ্টমূর্তিময়ী — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।
৯
নবমাণিক্যের মুকুটধারিণী, নবনাথ কর্তৃক সুপূজিতা, নবযৌবনের শোভায় সমৃদ্ধা — সেই ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।
১০
কাঞ্চীতে যাঁহার বাস মনোরম, কাঞ্চীদামে বিভূষিতা, কাঞ্চীপুরীর ঈশ্বরী — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।
এইরূপে শ্রীত্রিপুরসুন্দরীস্তোত্র সম্পূর্ণ হইল।
কয়েকটি শব্দের অর্থ
| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| বাগ্দেবতা | বাক্যের দেবী |
| শৈলাধিরাজতনয়া | পর্বতরাজের কন্যা |
| তরুণেন্দু | নবীন চন্দ্র |
| পদ্মসম্ভব | ব্রহ্মা |
| পদ্মরাগ | পদ্মরাগ মণি |
| পঞ্চবাণ | কামদেবের পাঁচ শর |
| পঞ্চব্রহ্মময়ী | পঞ্চব্রহ্মস্বরূপা |
| ষট্পুণ্ডরীক | ছয়টি পদ্ম; ষট্চক্র |
| ষডানন | ষড়ানন; কার্তিকেয় |
| ষট্কোণ | ষট্কোণ; শ্রীচক্রের কোণ |
| মৃড়া | মৃড়া; কল্যাণময়ী |
| অষ্টৈশ্বর্য | আট প্রকার ঐশ্বর্য |
| দিক্পাল | দিক্পাল; দিকের অধিপতি |
| অষ্টমূর্তি | শিবের অষ্টমূর্তি |
| নবনাথ | নব নাথ; নাথ-সম্প্রদায়ের নয় সিদ্ধ |
| কাঞ্চীদাম | কটিদেশের মেখলা |
| কাঞ্চীপুরী | কাঞ্চীপুরম্ |
শ্রীত্রিপুরসুন্দর্যষ্টকম্ — সম্পূর্ণ পাঠ
এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।
১
২
৩
৪
৫
৬
৭
৮
শ্রীত্রিপুরসুন্দরীপ্রাতঃস্মরণম্ — সম্পূর্ণ পাঠ
১
কস্তূরীর তিলকে মনোজ্ঞ ললাট, উজ্জ্বল অর্ধচন্দ্রে মুগ্ধ নিটিলপ্রান্ত, নীল কেশ; ঝুলন্ত নবমুক্তার হারে ভূষিতা — কমলের ন্যায় আয়তনয়না সেই ললিতাকে প্রাতে স্মরণ করি।
২
চন্দ্রচূড় শিবের অর্জিত পুণ্যরাশিস্বরূপা, তপ্ত সোনার মতো দেহকান্তির ঝরনায় ঘেরা, একাগ্রচিত্ত মুনিদের মানস-সরোবরের রাজহংসী — সেই ললিতা পরমেশ্বরীকে প্রাতে স্মরণ করি।
৩
ঈষৎ প্রস্ফুটিত নয়নপ্রান্তের দৃষ্টিপাতেই সাম্রাজ্য দানে চতুরা, চতুরানন ব্রহ্মার স্তুত্যা; শিবের অঙ্কে বাস করিতে রসিকা, রসসিদ্ধির দাত্রী — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।
৪
লক্ষ্মীপতি, পদ্মভব প্রভৃতি চারি পদে শোভিত, আর সদাশিব যাহার ফলক — সেই বিতানযুক্ত মঞ্চে সুখে উপবিষ্টা ললিতাধিনাথাকে মনে মনে প্রাতে স্মরণ করি।
৫
হ্রীংকারমন্ত্রের জপ, তর্পণ ও হোমে তুষ্টা; হ্রীংকারমন্ত্ররূপ সরোবরের সুন্দর রাজহংসী; হ্রীংকাররূপ সোনার নূতন খাঁচার শালিক — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।
৬
হল্লীসক নৃত্যের মৃদু গীতিরস পান করিতে করিতে অর্ধনিমীলিত চক্ষু, অনবদ্য গুণের সমুদ্র; শ্রুতিমনোহর শুকপাখির কণ্ঠে নিদ্রা হইতে জাগিয়া উঠিয়াছেন — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।
৭
সচ্চিন্ময়ী, সকল লোকের হিতৈষিণী, সম্পৎকরী, হয়মুখী প্রভৃতি প্রধান দেবতাগণের স্তুত্যা; সর্বাঙ্গে অনবদ্য সুকুমার দেহে রম্যা — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।
৮
অর্ধচন্দ্রে মুগ্ধ কিরীটে উজ্জ্বল চূড়া, কোলে মনোহর বীণা — এমন কন্যাগণ যাঁহার চরিত স্তব করেন, সেই সরোজনয়না ললিতাধিনাথাকে মনে মনে প্রাতে স্মরণ করি।
৯
অতিশয় বলগর্বিত অসুরেন্দ্র ভণ্ডাসুরকে সমরে তাহার প্রচণ্ড ঘোর সৈন্যসহ বধ করিয়া আর্তজনকে রক্ষা করিয়াছেন; সূর্য ও চন্দ্র যাঁহার নয়ন — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।
১০
লজ্জায় নত রমণীয় মুখচন্দ্র, লাক্ষার মতো রাঙা চরণপদ্মে শোভমানা, ভ্রমরের ঝাঁকের মতো নীল কুন্তলে সমৃদ্ধা — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।
১১
হ্রীংকারিণী, হিমালয়ের পুণ্যরাশিস্বরূপা; হ্রীংকারমন্ত্রে মহনীয় মনোজ্ঞরূপা; হ্রীংকারগর্ভ মন্ত্রের সাধককে সিদ্ধিদাত্রী — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।
১২
জন্ম-মৃত্যু প্রভৃতির ভয়ে দেবীকে স্মরণ করি — প্রস্ফুটিত পদ্মে নিলয়া (অধিষ্ঠিতা), শরৎচন্দ্রের মতো শুভ্রা; অর্ধচন্দ্রচূড় শিবের বনিতা, অণিমাদি সিদ্ধির বন্দিতা সেই ললিতাধিনাথাকে মনে মনে প্রাতে স্মরণ করি।
১৩
কল্যাণশৈলের শিখরে বিহারশীলা, কামেশ্বরের অঙ্কে নিলয়া, কমনীয়রূপা; কাদিবিদ্যার মন্ত্রে মহনীয় মহানুভাবা — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।
১৪
লম্বোদর গণেশের জননী, সূক্ষ্ম রোমরাজি, বিম্বের মতো অধর, শরৎচন্দ্রের মতো মুখ, মৃড়ানী; লাবণ্যে পূর্ণ সমুদ্র, হাতে পদ্ম — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।
১৫
হ্রীংকারে পূর্ণ নিগমসমূহে যিনি প্রতিপাদ্যা; হ্রীংকাররূপ পদ্মে নিলয়া, দানবেন্দ্রহন্ত্রী; হ্রীংকারগর্ভ মন্ত্ররাজে সেব্যমানা — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।
১৬
শ্রীচক্ররাজে নিলয়া, আশ্রিতের কামধেনু; শ্রীকামরাজের জননী, শিবের ভাগ্য; শ্রীমান্ গুহ কার্তিকেয়ের কুলমঙ্গলদেবতা — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।
শ্রীত্রিপুরসুন্দরীপ্রাতঃশ্লোকপঞ্চকম্ — সম্পূর্ণ পাঠ
১
প্রাতে জগজ্জননীর চরণকমলে নমস্কার করি — ত্রিপুরসুন্দরীর সেই চরণ, হর প্রভৃতি দেবগণ যাহাতে নত হইয়াছেন।
২
প্রাতে ত্রিপুরসুন্দরীর পদপঙ্কজে নমস্কার করি — যাহার বলেই হরি, হর ও বিরিঞ্চি সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় সম্পন্ন করেন।
৩
প্রাতে ত্রিপুরসুন্দরীর চরণাম্বুজে নমস্কার করি — যাঁহার পাদোদক মহেশ্বরের মস্তকে গঙ্গারূপে শোভা পায়।
৪
প্রাতে সেই ত্রিপুরসুন্দরীকে নমস্কার করি — পাশ, অঙ্কুশ, শর ও চাপ যাঁহার হস্তে, উদয়সূর্যের ন্যায় যাঁহার কান্তি।
৫
প্রাতে সেই চরণপদ্মে নমস্কার করি, যাহাতে এই জগৎ ধৃত রহিয়াছে; সেই ত্রিপুরসুন্দরীর প্রসাদেই সংসার নিবৃত্ত হয়।
ফলশ্রুতি
৬
যে মানুষ প্রতিদিন প্রাতে এই শ্লোকপঞ্চক পাঠ করেন, দেবী ত্রিপুরসুন্দরী তাঁহাকে নিজের পদ দান করেন।
শ্রীললিতাপ্রাতঃস্তোত্রপঞ্চকম্ — সম্পূর্ণ পাঠ
১
প্রাতে ললিতার মুখারবিন্দ স্মরণ করি — বিম্বের মতো অধর, স্থূল মুক্তায় শোভিত নাসা, কর্ণ পর্যন্ত দীর্ঘ নয়ন, মণিকুণ্ডলে সমৃদ্ধ, মৃদু হাসি, আর কস্তূরীতে উজ্জ্বল ললাট।
২
প্রাতে ললিতার ভুজরূপ কল্পলতা ভজনা করি — রত্নাঙ্গুরীয়ে ঝলমল অঙ্গুলিপল্লবে সমৃদ্ধা, মাণিক্য ও সোনার বলয় ও অঙ্গদে শোভমানা; হাতে ইক্ষুচাপ, কুসুমশর ও অঙ্কুশ।
৩
প্রাতে ললিতার চরণারবিন্দে নমস্কার করি — ভক্তের অভীষ্ট দানে নিরত, ভবসমুদ্রের তরণী; পদ্মাসন প্রভৃতি দেবনায়কের পূজনীয়; পদ্ম, অঙ্কুশ, ধ্বজ ও সুদর্শনের চিহ্নে সমৃদ্ধ।
৪
প্রাতে পরাশিবা ললিতা ভবানীকে স্তব করি — বেদান্তেই যাঁহার বিভব জ্ঞাত, করুণায় অনবদ্যা; বিশ্বের সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের হেতু, বিশ্বেশ্বরী, নিগমের বাক্য ও মনের অতীত।
৫
প্রাতে উচ্চারণ করি — হে ললিতে, তোমার পুণ্য নাম: কামেশ্বরী, কমলা, মহেশ্বরী, শ্রীশাম্ভবী, জগজ্জননী, পরা, বাগ্দেবতা, ত্রিপুরেশ্বরী।
ফলশ্রুতি
৬
যিনি প্রভাতে ললিতাম্বিকার এই সৌভাগ্যদায়ক সুললিত শ্লোকপঞ্চক পাঠ করেন, প্রসন্না ললিতা তাঁহাকে তৎক্ষণাৎ বিদ্যা, শ্রী, নির্মল সৌখ্য ও অনন্ত কীর্তি দান করেন।
শ্রীষোড়শীকবচম্ — সম্পূর্ণ পাঠ
এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।
১
২
৩
৪
৫
৬
৭
৮
৯
১০
১১
১২
১৩
১৪
১৫
১৬
১৭
প্রধান মন্দির
ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির (মাতাবাড়ি)
উদয়পুর, গোমতী জেলা, ত্রিপুরা
একান্ন সতীপীঠের একটি — সতীর ডান পা এখানে পড়েছিল বলে বিশ্বাস। ১৫০১ সালে মহারাজ ধন্যমাণিক্য প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দির যে টিলার উপর, তার গড়ন কচ্ছপের পিঠের মতো — তাই ‘কূর্মপীঠ’ নামেও পরিচিত। অনেকের মতে রাজ্যের নাম ত্রিপুরা এই দেবীর নাম থেকেই।
কামাখ্যা মন্দির, নীলাচল পাহাড়, গুয়াহাটি — মূল মন্দিরের দেবী কামাখ্যাকেই ত্রিপুরসুন্দরী (ষোড়শী) রূপে পূজা করা হয়; মাতঙ্গী ও কমলাও ওই গর্ভগৃহেই পূজিতা।
ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির — উইকিপিডিয়া
মন্দির

ছবি: Soman (অনুমিত) · CC BY-SA 3.0 · কমন্স

ছবি: Yash raina · CC BY-SA 4.0 · কমন্স
বিগ্রহ

ছবি: Bodhisattwa · CC BY-SA 4.0 · কমন্স

ছবি: Bodhisattwa · CC BY-SA 4.0 · কমন্স
কাহিনী
ভণ্ডাসুর ও ফুলের বাণ
কামদেবকে পুড়িয়ে শিব সমাধিতে ফিরে গেলেন। ছাই পড়ে রইল। চিত্রকর্মা নামে এক গণ সেই ছাই দিয়ে কৌতুক করে একটা মূর্তি গড়ল। ব্রহ্মা পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, মূর্তিটি দেখে অবাক হয়ে বললেন ‘ভণ্ড! ভণ্ড!’ — আর সেই শব্দেই মূর্তি প্রাণ পেল। জন্মাল ভণ্ডাসুর। কাম থেকে জন্ম, তাই তার শক্তি কামেরই — সে ত্রিভুবনের সব আনন্দ শুষে নিল। তাকে মারতে যে দেবী এলেন, তাঁর অস্ত্রও কাম — কিন্তু বশে আনা কাম। হাতে ইক্ষুর ধনু, পাঁচটি ফুলের বাণ। যুদ্ধ শেষে তিনি কামদেবকে বাঁচিয়ে দিলেন। বার্তা একটাই — কামকে মারা যায় না, বশে আনা যায়।
বই
- সৌন্দর্যলহরী
লেখক / সংকলক: শঙ্করাচার্য
প্রকাশক: গীতা প্রেস, গোরখপুর
একশো শ্লোকে ত্রিপুরসুন্দরীর স্তুতি ও শ্রীচক্রতত্ত্ব; সংস্কৃত মূল ও অনুবাদ। - শ্রীললিতাসহস্রনাম
লেখক / সংকলক: বেদব্যাস (প্রচলিত মতে)
প্রকাশক: গীতা প্রেস, গোরখপুর
ব্রহ্মাণ্ড পুরাণের হয়গ্রীব-অগস্ত্য সংবাদের অংশ; শ্রীবিদ্যার প্রধান স্তোত্র, অর্থসহ।
এই রূপের প্রচলিত বাংলা গান বিশেষ নাই। সমস্ত গান →