শক্তি
দেবীর রূপ, মন্ত্র, কাহিনী ও সঙ্গীত

ষোড়শী

তৃতীয় মহাবিদ্যা · ত্রিপুরসুন্দরী · ললিতা · রাজরাজেশ্বরী · শ্রীবিদ্যা

পরিচয়

ষোড়শী অর্থে ষোড়শবর্ষীয়া কিশোরী — চিরনবীনা। ত্রিভুবনে তাঁহার অপেক্ষা সুন্দর কিছু নাই বলিয়া নাম ত্রিপুরসুন্দরী। দশমহাবিদ্যার মধ্যে তিনিই সৌম্যতমা, আর শ্রীবিদ্যা নামে সমগ্র দক্ষিণ ভারত ও বাঙ্গালায় তাঁহার উপাসনা প্রচলিত।

তাঁহার দেহ উদীয়মান সূর্যের ন্যায় রক্তাভ; তিনি ত্রিনয়না, চতুর্ভুজা। হস্তে পাশ, অঙ্কুশ, ইক্ষুধনু ও পঞ্চবাণ। পাশ অর্থে আকর্ষণ, অঙ্কুশ অর্থে নিয়ন্ত্রণ; ইক্ষুধনু মন, আর পাঁচটি পুষ্পবাণ পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের বিষয়।

তাঁহার আসন পঞ্চপ্রেতাসন — ব্রহ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র, ঈশ্বর ও সদাশিব শয্যা হইয়া রহিয়াছেন। তাঁহার যন্ত্র শ্রীচক্র, মন্ত্র পঞ্চদশী অথবা ষোড়শী।

উৎপত্তির কাহিনী

ব্রহ্মাণ্ড পুরাণের ললিতোপাখ্যানে তাঁহার আবির্ভাব। শিব যখন কামদেবকে ভস্ম করিলেন, সেই ভস্মরাশি হইতে চিত্রকর্মা নামে এক গণ মনুষ্যাকৃতি গড়িল। ব্রহ্মার ‘ভণ্ড’ শব্দে সে প্রাণ পাইল — জন্মিল ভণ্ডাসুর। তপস্যা করিয়া সে ষাট সহস্র বৎসর রাজত্বের বর পাইল, এবং অজেয় হইয়া ত্রিভুবন অধিকার করিল।

দেবতারা তখন মহাযজ্ঞ করিলেন। সেই চিদগ্নিকুণ্ড হইতে উত্থিতা হইলেন দেবী ললিতা ত্রিপুরসুন্দরী — রাজরাজেশ্বরীর বেশে, শ্রীচক্ররথে আরূঢ়া। শক্তিসেনা লইয়া তিনি ভণ্ডাসুরকে বধ করিলেন, এবং কামদেবকে পুনর্জীবন দিলেন।

তন্ত্র বলে, কাম ভস্ম হইয়াও নিঃশেষ হয় না — তাহাকে বশ করিতে হয়। ললিতা সেই সংযমের শক্তি; সেই হেতু তাঁহার হস্তে পাশ ও অঙ্কুশ, আর বাণগুলি পুষ্পের।

মন্ত্র

মন্ত্রের নাম (একাক্ষর, ত্র্যক্ষর …) আসে তাহার অক্ষরসংখ্যা হইতে; শাস্ত্রে সেই গণনায় আদির প্রণব (ওঁ) ধরা হয় না। বন্ধনীতে প্রণবসহ সমস্ত অক্ষরের সংখ্যা দেওয়া হইল।

ত্র্যক্ষর — বালার মন্ত্র (ওঁ-সহ ৪ অক্ষর)

ওঁ ঐং সৌঃ ক্লীং

পঞ্চাক্ষর (ওঁ-সহ ৬ অক্ষর)

ওঁ ঐং ক্লীং সৌঃ সৌঃ ক্লীং

ষড়ক্ষর (ওঁ-সহ ৭ অক্ষর)

ওঁ ঐং ক্লীং সৌঃ সৌঃ ক্লীং ঐং

অষ্টাদশাক্ষর (ওঁ-সহ ১৯ অক্ষর)

ওঁ হ্রীং শ্রীং ক্লীং ত্রিপুরামদনে সর্বশুভং সাধয় স্বাহা

বিংশত্যক্ষর (ওঁ-সহ ২১ অক্ষর)

ওঁ হ্রীং শ্রীং ক্লীং পরাপরে ত্রিপুরে সর্বমীপ্সিতং সাধয় স্বাহা

ত্রিপুরা মন্ত্র (ওঁ-সহ ১২ অক্ষর)

ওঁ ঐং হ্রীং শ্রীং ত্রিপুরসুন্দর্যৈ নমঃ

ত্র্যক্ষরী — প্রথম ক্রম (পাঠান্তর) (৩ অক্ষর)

ঐং ক্লীং সৌঃ

ত্র্যক্ষরী — দ্বিতীয় ক্রম (পাঠান্তর) (৩ অক্ষর)

ঐং সৌঃ ক্লীং

ত্র্যক্ষরী — তৃতীয় ক্রম (পাঠান্তর) (৩ অক্ষর)

ক্লীং ঐং সৌঃ

ত্র্যক্ষরী — চতুর্থ ক্রম (পাঠান্তর) (৩ অক্ষর)

ক্লীং সৌঃ ঐং

ধ্যানমন্ত্র

বালার্কমণ্ডলাভাসাং চতুর্বাহুং ত্রিলোচনাম্‌। পাশাঙ্কুশশরাংশ্চাপং ধারয়ন্তীং শিবাং ভজে॥

বঙ্গানুবাদ

শব্দে-শব্দে অর্থ
শব্দঅর্থ
বালার্কউদীয়মান সূর্য
আভাসাম্যাঁহার আভা
চতুর্বাহাম্চারি বাহুবিশিষ্টা
ত্রিলোচনাম্ত্রিনয়না
শরবাণ
চাপধনুক
ধারয়ন্তীম্ধারণকারিণী
শিবাম্মঙ্গলময়ী
ভজেআমি ভজনা করি

প্রণাম মন্ত্র

ওঁ ত্রিপুরে ত্রিপুরাধীশে ত্রিলোকজননি শিবে। সর্বসৌভাগ্যদে দেবি ত্রিপুরে প্রণমাম্যহম্‌॥

বঙ্গানুবাদ

হে ত্রিপুরা, হে ত্রিপুরের অধীশ্বরী, হে ত্রিলোকজননী, হে কল্যাণময়ী! হে সর্বসৌভাগ্যদায়িনী দেবী ত্রিপুরা, তোমাকে প্রণাম করি।

গায়ত্রী

ওঁ ত্রিপুরসুন্দর্যৈ বিদ্মহে কামেশ্বর্যৈ ধীমহি। তন্নো ক্লিন্নে প্রচোদয়াৎ॥

বঙ্গানুবাদ

ত্রিপুরসুন্দরীকে জানি, কামেশ্বরীকে ধ্যান করি — সেই ক্লিন্না (করুণায় আর্দ্র) দেবী আমাদের প্রেরণা দিন।

স্তোত্র — ললিতা সহস্রনাম — প্রথম নামাবলি

শ্রীমাতা শ্রীমহারাজ্ঞী শ্রীমৎসিংহাসনেশ্বরী। চিদগ্নিকুণ্ডসম্ভূতা দেবকার্যসমুদ্যতা॥ উদ্যদ্‌ভানুসহস্রাভা চতুর্বাহুসমন্বিতা। রাগস্বরূপপাশাঢ্যা ক্রোধাকারাঙ্কুশোজ্জ্বলা॥

বাংলা অর্থ

শ্রীত্রিপুরসুন্দরীস্তোত্রম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

১

শ্বেতপদ্মাসনারূঢাং শুদ্ধস্ফটিকসন্নিভাম্। বন্দে বাগ্দেবতাং ধ্যাত্বা দেবীং ত্রিপুরসুন্দরীম্॥

শুভ্র পদ্মাসনে আরূঢ়া, নির্মল স্ফটিকের ন্যায় উজ্জ্বলা, বাগ্‌দেবতাস্বরূপা — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে ধ্যান করিয়া আমি বন্দনা করি।

২

শৈলাধিরাজতনয়াং শঙ্করপ্রিয়বল্লভাম্। তরুণেন্দুনিভাং বন্দে দেবীং ত্রিপুরসুন্দরীম্॥

শৈলাধিরাজের তনয়া, শঙ্করের প্রিয়বল্লভা, তরুণ চন্দ্রের ন্যায় স্নিগ্ধা — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।

৩

সর্বভূতমনোরম্যাং সর্বভূতেষু সংস্থিতাম্। সর্বসম্পৎকরীং বন্দে দেবীং ত্রিপুরসুন্দরীম্॥

সর্বভূতের নিকট মনোরমা, সর্বভূতে সংস্থিতা, সর্বসম্পদদায়িনী — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।

৪

পদ্মালয়াং পদ্মহস্তাং পদ্মসম্ভবসেবিতাম্। পদ্মরাগনিভাং বন্দে দেবীং ত্রিপুরসুন্দরীম্॥

পদ্মই যাঁহার আলয়, হস্তে পদ্ম, পদ্মসম্ভব ব্রহ্মা যাঁহাকে সেবা করেন, পদ্মরাগমণির ন্যায় আভা — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।

৫

পঞ্চবাণধনুর্বাণপাশাঙ্কুশধরাং শুভাম্। পঞ্চব্রহ্মময়ীং বন্দে দেবীং ত্রিপুরসুন্দরীম্॥

পঞ্চবাণ, ধনুক, পাশ ও অঙ্কুশধারিণী, শুভা, পঞ্চব্রহ্মময়ী — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।

৬

ষট্পুণ্ডরীকনিলয়াং ষডাননসুতামিমাম্। ষট্কোণান্তঃস্থিতাং বন্দে দেবীং ত্রিপুরসুন্দরীম্॥

ষট্‌পুণ্ডরীকে নিলয়া, ষড়াননের জননী, ষট্‌কোণের অন্তঃস্থিতা — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।

৭

হরার্ধভাগনিলয়ামম্বামদ্রিসুতাং মৃড়াম্। হরিপ্রিয়ানুজাং বন্দে দেবীং ত্রিপুরসুন্দরীম্॥

হরের অর্ধভাগে নিলয়া, অম্বা, অদ্রিসুতা, মৃড়া, হরির প্রিয় অনুজা — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।

৮

অষ্টৈশ্বর্যপ্রদামম্বামষ্টদিক্পালসেবিতাম্। অষ্টমূর্তিময়ীং বন্দে দেবীং ত্রিপুরসুন্দরীম্॥

অষ্টৈশ্বর্যপ্রদা অম্বা, অষ্টদিক্‌পালসেবিতা, অষ্টমূর্তিময়ী — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।

৯

নবমাণিক্যমকুটাং নবনাথসুপূজিতাম্। নবযৌবনশোভাঢ্যাং বন্দে ত্রিপুরসুন্দরীম্॥

নবমাণিক্যের মুকুটধারিণী, নবনাথ কর্তৃক সুপূজিতা, নবযৌবনের শোভায় সমৃদ্ধা — সেই ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।

১০

কাঞ্চীবাসমনোরম্যাং কাঞ্চীদামবিভূষিতাম্। কাঞ্চীপুরীশ্বরীং বন্দে দেবীং ত্রিপুরসুন্দরীম্॥

কাঞ্চীতে যাঁহার বাস মনোরম, কাঞ্চীদামে বিভূষিতা, কাঞ্চীপুরীর ঈশ্বরী — সেই দেবী ত্রিপুরসুন্দরীকে আমি বন্দনা করি।

ইতি শ্রীত্রিপুরসুন্দরীস্তোত্রং সম্পূর্ণম্॥

এইরূপে শ্রীত্রিপুরসুন্দরীস্তোত্র সম্পূর্ণ হইল।

কয়েকটি শব্দের অর্থ

শব্দঅর্থ
বাগ্দেবতাবাক্যের দেবী
শৈলাধিরাজতনয়াপর্বতরাজের কন্যা
তরুণেন্দুনবীন চন্দ্র
পদ্মসম্ভবব্রহ্মা
পদ্মরাগপদ্মরাগ মণি
পঞ্চবাণকামদেবের পাঁচ শর
পঞ্চব্রহ্মময়ীপঞ্চব্রহ্মস্বরূপা
ষট্পুণ্ডরীকছয়টি পদ্ম; ষট্‌চক্র
ষডাননষড়ানন; কার্তিকেয়
ষট্কোণষট্‌কোণ; শ্রীচক্রের কোণ
মৃড়ামৃড়া; কল্যাণময়ী
অষ্টৈশ্বর্যআট প্রকার ঐশ্বর্য
দিক্পালদিক্‌পাল; দিকের অধিপতি
অষ্টমূর্তিশিবের অষ্টমূর্তি
নবনাথনব নাথ; নাথ-সম্প্রদায়ের নয় সিদ্ধ
কাঞ্চীদামকটিদেশের মেখলা
কাঞ্চীপুরীকাঞ্চীপুরম্‌
শ্রীত্রিপুরসুন্দর্যষ্টকম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।

১

কদম্ববনচারিণীং মুনিকদম্বকাদম্বিনীং নিতম্বজিতভূধরাং সুরনিতম্বিনীসেবিতাম্ । নবাম্বুরুহলোচনামভিনবাম্বুদশ্যামলাং ত্রিলোচনকুটুম্বিনীং ত্রিপুরসুন্দরীমাশ্রয়ে ॥ ১॥

২

কদম্ববনবাসিনীং কনকবল্লকীধারিণীং মহার্হমণিহারিণীং মুখসমুল্লসদ্বারুণীম্ । দয়াবিভবকারিণীং বিশদলোচনীং চারিণীং ত্রিলোচনকুটুম্বিনীং ত্রিপুরসুন্দরীমাশ্রয়ে ॥ ২॥

৩

কদম্ববনশালয়া কুচভরোল্লসন্মালয়া কুচোপমিতশৈলয়া গুরুকৃপালসদ্বেলয়া । মদারুণকপোলয়া মধুরগীতবাচালয়া কয়াঽপি ঘননীলয়া কবচিতা বয়ং লীলয়া ॥ ৩॥

৪

কদম্ববনমধ্যগাং কনকমণ্ডলোপস্থিতাং ষডম্বুরুহবাসিনীং সততসিদ্ধসৌদামিনীম্ । বিডম্বিতজপারুচিং বিকচচন্দ্রচূড়ামণিং ত্রিলোচনকুটুম্বিনীং ত্রিপুরসুন্দরীমাশ্রয়ে ॥ ৪॥

৫

কুচাঞ্চিতবিপঞ্চিকাং কুটিলকুন্তলালঙ্কৃতাং কুশেশয়নিবাসিনীং কুটিলচিত্তবিদ্বেষিণীম্ । মদারুণবিলোচনাং মনসিজারিসংমোহিনীং মতঙ্গমুনিকন্যকাং মধুরভাষিণীমাশ্রয়ে ॥ ৫॥

৬

স্মরপ্রথমপুষ্পিণীং রুধিরবিন্দুনীলাম্বরাং গৃহীতমধুপাত্রিকাং মদবিঘূর্ণনেত্রাঞ্চলাম্ । ঘনস্তনভরোন্নতাং গলিতচূলিকাং শ্যামলাং ত্রিলোচনকুটুম্বিনীং ত্রিপুরসুন্দরীমাশ্রয়ে ॥ ৬॥

৭

সকুঙ্কুমবিলেপনামলকচুম্বিকস্তূরিকাং সমন্দহসিতেক্ষণাং সশরচাপপাশাঙ্কুশাম্ । অশেষজনমোহিনীমরুণমাল্যভূষাম্বরাং জপাকুসুমভাসুরাং জপবিধৌ স্মরাম্যম্বিকাম্ ॥ ৭॥

৮

পুরন্দরপুরন্ধ্রিকা চিকুরবন্ধসৈরন্ধ্রিকাং পিতামহপতিব্রতা পুটপটীরচর্চারতাম্ । মুকুন্দরমণীমণীলসদলঙ্ক্রিয়াকারিণীং ভজামি ভুবনাম্বিকাং সুরবধূটিকাচেটিকাম্ ॥ ৮॥
শ্রীত্রিপুরসুন্দরীপ্রাতঃস্মরণম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

১

কস্তূরিকাকৃতমনোজ্ঞললামভাস্ব- দর্ধেন্দুমুগ্ধনিটিলাঞ্চলনীলকেশীম্ । প্রালম্বমাননবমৌক্তিকহারভূষাং প্রাতঃ স্মরামি ললিতাং কমলায়তাক্ষীম্ ॥ ১॥

কস্তূরীর তিলকে মনোজ্ঞ ললাট, উজ্জ্বল অর্ধচন্দ্রে মুগ্ধ নিটিলপ্রান্ত, নীল কেশ; ঝুলন্ত নবমুক্তার হারে ভূষিতা — কমলের ন্যায় আয়তনয়না সেই ললিতাকে প্রাতে স্মরণ করি।

২

এণাঙ্কচূড়সমুপার্জিতপুণ্যরাশি- মুত্তপ্তহেমতনুকান্তিঝরীপরীতাম্ । একাগ্রচিত্তমুনিমানসরাজহংসীং প্রাতঃ স্মরামি ললিতাপরমেশ্বরীং তাম্ ॥ ২॥

চন্দ্রচূড় শিবের অর্জিত পুণ্যরাশিস্বরূপা, তপ্ত সোনার মতো দেহকান্তির ঝরনায় ঘেরা, একাগ্রচিত্ত মুনিদের মানস-সরোবরের রাজহংসী — সেই ললিতা পরমেশ্বরীকে প্রাতে স্মরণ করি।

৩

ঈষদ্বিকাসিনয়নান্তনিরীক্ষণেন সাম্রাজ্যদানচতুরাং চতুরাননেড্যাম্ । ঈশাঙ্কবাসরসিকাং রসসিদ্ধিদাত্রীং প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্ ॥ ৩॥

ঈষৎ প্রস্ফুটিত নয়নপ্রান্তের দৃষ্টিপাতেই সাম্রাজ্য দানে চতুরা, চতুরানন ব্রহ্মার স্তুত্যা; শিবের অঙ্কে বাস করিতে রসিকা, রসসিদ্ধির দাত্রী — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।

৪

লক্ষ্মীশপদ্মভবনাদিপদৈশ্চতুর্ভিঃ সংশোভিতে চ ফলকেন সদাশিবেন । মঞ্চে বিতানসহিতে সসুখং নিষণ্ণাং প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্ ॥ ৪॥

লক্ষ্মীপতি, পদ্মভব প্রভৃতি চারি পদে শোভিত, আর সদাশিব যাহার ফলক — সেই বিতানযুক্ত মঞ্চে সুখে উপবিষ্টা ললিতাধিনাথাকে মনে মনে প্রাতে স্মরণ করি।

৫

হ্রীঙ্কারমন্ত্রজপতর্পণহোমতুষ্টাং হ্রীঙ্কারমন্ত্রজলজাতসুরাজহংসীম্ । হ্রীঙ্কারহেমনবপঞ্জরসারিকাং তাং প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্ ॥ ৫॥

হ্রীংকারমন্ত্রের জপ, তর্পণ ও হোমে তুষ্টা; হ্রীংকারমন্ত্ররূপ সরোবরের সুন্দর রাজহংসী; হ্রীংকাররূপ সোনার নূতন খাঁচার শালিক — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।

৬

হল্লীসলাস্যমৃদুগীতিরসং পিবন্তী- মাকূণিতাক্ষমনবদ্যগুণাম্বুরাশিম্ । সুপ্তোত্থিতাং শ্রুতিমনোহরকীরবাগ্ভিঃ প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্॥ ৬॥

হল্লীসক নৃত্যের মৃদু গীতিরস পান করিতে করিতে অর্ধনিমীলিত চক্ষু, অনবদ্য গুণের সমুদ্র; শ্রুতিমনোহর শুকপাখির কণ্ঠে নিদ্রা হইতে জাগিয়া উঠিয়াছেন — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।

৭

সচ্চিন্ময়ীং সকললোকহিতৈষিণী চ সম্পৎকরীহয়মুখীমুখদেবতেড্যাম্ । সর্বানবদ্যসুকুমারশরীররম্যাং প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্ ॥ ৭॥

সচ্চিন্ময়ী, সকল লোকের হিতৈষিণী, সম্পৎকরী, হয়মুখী প্রভৃতি প্রধান দেবতাগণের স্তুত্যা; সর্বাঙ্গে অনবদ্য সুকুমার দেহে রম্যা — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।

৮

কন্যাভিরর্ধশশিমুগ্ধকিরীটভাস্ব- চ্চূড়াভিরঙ্কগতহৃদ্যবিপঞ্চিকাভিঃ । সংস্তূয়মানচরিতাং সরসীরুহাক্ষীং প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্ ॥ ৮॥

অর্ধচন্দ্রে মুগ্ধ কিরীটে উজ্জ্বল চূড়া, কোলে মনোহর বীণা — এমন কন্যাগণ যাঁহার চরিত স্তব করেন, সেই সরোজনয়না ললিতাধিনাথাকে মনে মনে প্রাতে স্মরণ করি।

৯

হত্বাঽসুরেন্দ্রমতিমাত্রবলাবলিপ্ত- ভণ্ডাসুরং সমরচণ্ডমঘোরসৈন্যম্ । সংরক্ষিতার্তজনতাং তপনেন্দুনেত্রাং প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্ ॥ ৯॥

অতিশয় বলগর্বিত অসুরেন্দ্র ভণ্ডাসুরকে সমরে তাহার প্রচণ্ড ঘোর সৈন্যসহ বধ করিয়া আর্তজনকে রক্ষা করিয়াছেন; সূর্য ও চন্দ্র যাঁহার নয়ন — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।

১০

লজ্জাবনম্ররমণীয়মুখেন্দুবিম্বাং লাক্ষারুণাঙ্ঘ্রিসরসীরুহশোভমানাম্ । রোলম্বজালসমনীলসুকুন্তলাড্যাং প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্ ॥ ১০॥

লজ্জায় নত রমণীয় মুখচন্দ্র, লাক্ষার মতো রাঙা চরণপদ্মে শোভমানা, ভ্রমরের ঝাঁকের মতো নীল কুন্তলে সমৃদ্ধা — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।

১১

হ্রীঙ্কারিণী হিমমহীধরপুণ্যরাশিং হ্রীঙ্কারমন্ত্রমহনীয়মনোজ্ঞরূপাম্ । হ্রীঙ্কারগর্ভমনুসাধকসিদ্ধিদাত্রীং প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্ ॥ ১১॥

হ্রীংকারিণী, হিমালয়ের পুণ্যরাশিস্বরূপা; হ্রীংকারমন্ত্রে মহনীয় মনোজ্ঞরূপা; হ্রীংকারগর্ভ মন্ত্রের সাধককে সিদ্ধিদাত্রী — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।

১২

সঞ্জাতজন্মমরণাদিভয়েন দেবীং সম্ফুল্লপদ্মবিলয়াং শরদিন্দুশুভ্রাম্ । অর্ধেন্দুচূড়বনিতামণিমাদিবন্দ্যাং প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্ ॥ ১২॥

জন্ম-মৃত্যু প্রভৃতির ভয়ে দেবীকে স্মরণ করি — প্রস্ফুটিত পদ্মে নিলয়া (অধিষ্ঠিতা), শরৎচন্দ্রের মতো শুভ্রা; অর্ধচন্দ্রচূড় শিবের বনিতা, অণিমাদি সিদ্ধির বন্দিতা সেই ললিতাধিনাথাকে মনে মনে প্রাতে স্মরণ করি।

১৩

কল্যাণশৈলশিখরেষু বিহারশীলাং কামেশ্বরাঙ্কনিলয়াং কমনীয়রূপাম্ । কাদ্যর্ণমন্ত্রমহনীয়মহানুভাবাং প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্ ॥ ১৩॥

কল্যাণশৈলের শিখরে বিহারশীলা, কামেশ্বরের অঙ্কে নিলয়া, কমনীয়রূপা; কাদিবিদ্যার মন্ত্রে মহনীয় মহানুভাবা — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।

১৪

লম্বোদরস্য জননীং তনুরোমরাজীং বিম্বাধরাং চ শরদিন্দুমুখীং মৃড়ানীম্ । লাবণ্যপূর্ণজলধিং জলজাতহস্তাং প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্ ॥ ১৪॥

লম্বোদর গণেশের জননী, সূক্ষ্ম রোমরাজি, বিম্বের মতো অধর, শরৎচন্দ্রের মতো মুখ, মৃড়ানী; লাবণ্যে পূর্ণ সমুদ্র, হাতে পদ্ম — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।

১৫

হ্রীঙ্কারপূর্ণনিগমৈঃ প্রতিপাদ্যমানাং হ্রীঙ্কারপদ্মনিলয়াং হতদানবেন্দ্রাম্ । হ্রীঙ্কারগর্ভমনুরাজনিষেব্যমাণাং প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্ ॥ ১৫॥

হ্রীংকারে পূর্ণ নিগমসমূহে যিনি প্রতিপাদ্যা; হ্রীংকাররূপ পদ্মে নিলয়া, দানবেন্দ্রহন্ত্রী; হ্রীংকারগর্ভ মন্ত্ররাজে সেব্যমানা — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।

১৬

শ্রীচক্ররাজনিলয়াং শ্রিতকামধেনুং শ্রীকামরাজজননীং শিবভাগধেয়াম্ । শ্রীমদ্গুহস্য কুল্যমঙ্গলদেবতাং তাং প্রাতঃ স্মরামি মনসা ললিতাধিনাথাম্ ॥ ১৬॥

শ্রীচক্ররাজে নিলয়া, আশ্রিতের কামধেনু; শ্রীকামরাজের জননী, শিবের ভাগ্য; শ্রীমান্‌ গুহ কার্তিকেয়ের কুলমঙ্গলদেবতা — মনে মনে সেই ললিতাধিনাথাকে প্রাতে স্মরণ করি।

শ্রীত্রিপুরসুন্দরীপ্রাতঃশ্লোকপঞ্চকম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

১

প্রাতর্নমামি জগতাং জনন্যাশ্চরণাম্বুজম্ । শ্রীমত্ত্রিপুরসুন্দর্যা নমিতা যা হরাদিভিঃ ॥ ১॥

প্রাতে জগজ্জননীর চরণকমলে নমস্কার করি — ত্রিপুরসুন্দরীর সেই চরণ, হর প্রভৃতি দেবগণ যাহাতে নত হইয়াছেন।

২

প্রাতস্ত্রিপুরসুন্দর্যা নমামি পদপঙ্কজম্ । হরির্হরো বিরিঞ্চিশ্চ সৃষ্ট্যাদীন্ কুরুতে যথা ॥ ২॥

প্রাতে ত্রিপুরসুন্দরীর পদপঙ্কজে নমস্কার করি — যাহার বলেই হরি, হর ও বিরিঞ্চি সৃষ্টি, স্থিতি ও লয় সম্পন্ন করেন।

৩

প্রাতস্ত্রিপুরসুন্দর্যা নমামি চরণাম্বুজম্ । যৎপাদমম্বু শিরসি ভাতি গঙ্গা মহেশিতুঃ ॥ ৩॥

প্রাতে ত্রিপুরসুন্দরীর চরণাম্বুজে নমস্কার করি — যাঁহার পাদোদক মহেশ্বরের মস্তকে গঙ্গারূপে শোভা পায়।

৪

প্রাতঃ পাশাঙ্কুশশরাঞ্চাপহস্তাং নমাম্যহম্ । উদয়াদিত্যসঙ্কাশাং শ্রীমত্ত্রিপুরসুন্দরীম্ ॥ ৪॥

প্রাতে সেই ত্রিপুরসুন্দরীকে নমস্কার করি — পাশ, অঙ্কুশ, শর ও চাপ যাঁহার হস্তে, উদয়সূর্যের ন্যায় যাঁহার কান্তি।

৫

প্রাতর্নমামি পাদাব্জং যয়েদং ধার্যতে জগৎ । তস্যাস্ত্রিপুরসুন্দর্যা যৎপ্রসাদান্নিবর্ততে ॥ ৫॥

প্রাতে সেই চরণপদ্মে নমস্কার করি, যাহাতে এই জগৎ ধৃত রহিয়াছে; সেই ত্রিপুরসুন্দরীর প্রসাদেই সংসার নিবৃত্ত হয়।

ফলশ্রুতি

৬

যঃ শ্লোকপঞ্চকমিদং প্রাতর্নিত্যং পঠেন্নরঃ । তস্মৈ দদাত্যাত্মপদং শ্রীমত্ত্রিপুরসুন্দরী ॥ ৬॥

যে মানুষ প্রতিদিন প্রাতে এই শ্লোকপঞ্চক পাঠ করেন, দেবী ত্রিপুরসুন্দরী তাঁহাকে নিজের পদ দান করেন।

শ্রীললিতাপ্রাতঃস্তোত্রপঞ্চকম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

১

প্রাতঃ স্মরামি ললিতাবদনারবিন্দং বিম্বাধরং পৃথুলমৌক্তিকশোভিনাসম্ । আকর্ণদীর্ঘনয়নং মণিকুণ্ডলাঢ্যং মন্দস্মিতং মৃগমদোজ্জ্বলভালদেশম্ ॥ ১॥

প্রাতে ললিতার মুখারবিন্দ স্মরণ করি — বিম্বের মতো অধর, স্থূল মুক্তায় শোভিত নাসা, কর্ণ পর্যন্ত দীর্ঘ নয়ন, মণিকুণ্ডলে সমৃদ্ধ, মৃদু হাসি, আর কস্তূরীতে উজ্জ্বল ললাট।

২

প্রাতর্ভজামি ললিতাভুজকল্পবল্লীং রত্নাঙ্গুলীয়লসদঙ্গুলিপল্লবাঢ্যাম্ । মাণিক্যহেমবলয়াঙ্গদশোভমানাং পুণ্ড্রেক্ষুচাপকুসুমেষুসৃণীর্দধানাম্ ॥ ২॥

প্রাতে ললিতার ভুজরূপ কল্পলতা ভজনা করি — রত্নাঙ্গুরীয়ে ঝলমল অঙ্গুলিপল্লবে সমৃদ্ধা, মাণিক্য ও সোনার বলয় ও অঙ্গদে শোভমানা; হাতে ইক্ষুচাপ, কুসুমশর ও অঙ্কুশ।

৩

প্রাতর্নমামি ললিতাচরণারবিন্দং ভক্তেষ্টদাননিরতং ভবসিন্ধুপোতম্ । পদ্মাসনাদিসুরনায়কপূজনীয়ং পদ্মাঙ্কুশধ্বজসুদর্শনলাঞ্ছনাঢ্যম্ ॥ ৩॥

প্রাতে ললিতার চরণারবিন্দে নমস্কার করি — ভক্তের অভীষ্ট দানে নিরত, ভবসমুদ্রের তরণী; পদ্মাসন প্রভৃতি দেবনায়কের পূজনীয়; পদ্ম, অঙ্কুশ, ধ্বজ ও সুদর্শনের চিহ্নে সমৃদ্ধ।

৪

প্রাতঃ স্তুবে পরশিবাং ললিতাং ভবানীং ত্রয়্যন্তবেদ্যবিভবাং করুণানবদ্যাম্ । বিশ্বস্য সৃষ্টিবিলয়স্থিতিহেতুভূতাং বিশ্বেশ্বরীং নিগমবাঙ্-মনসাতিদূরাম্ ॥ ৪॥

প্রাতে পরাশিবা ললিতা ভবানীকে স্তব করি — বেদান্তেই যাঁহার বিভব জ্ঞাত, করুণায় অনবদ্যা; বিশ্বের সৃষ্টি, স্থিতি ও লয়ের হেতু, বিশ্বেশ্বরী, নিগমের বাক্য ও মনের অতীত।

৫

প্রাতর্বদামি ললিতে তব পুণ্যনাম কামেশ্বরীতি কমলেতি মহেশ্বরীতি । শ্রীশাম্ভবীতি জগতাং জননী পরেতি বাগ্দেবতেতি বচসা ত্রিপুরেশ্বরীতি ॥ ৫॥

প্রাতে উচ্চারণ করি — হে ললিতে, তোমার পুণ্য নাম: কামেশ্বরী, কমলা, মহেশ্বরী, শ্রীশাম্ভবী, জগজ্জননী, পরা, বাগ্‌দেবতা, ত্রিপুরেশ্বরী।

ফলশ্রুতি

৬

যঃ শ্লোকপঞ্চকমিদং ললিতাম্বিকায়াঃ সৌভাগ্যদং সুললিতং পঠতি প্রভাতে । তস্মৈ দদাতি ললিতা ঝটিতি প্রসন্না বিদ্যাং শ্রিয়ং বিমলসৌখ্যমনন্তকীর্তিম্ ॥ ৬॥

যিনি প্রভাতে ললিতাম্বিকার এই সৌভাগ্যদায়ক সুললিত শ্লোকপঞ্চক পাঠ করেন, প্রসন্না ললিতা তাঁহাকে তৎক্ষণাৎ বিদ্যা, শ্রী, নির্মল সৌখ্য ও অনন্ত কীর্তি দান করেন।

শ্রীষোড়শীকবচম্‌ — সম্পূর্ণ পাঠ

এই পাঠের বঙ্গানুবাদ এখনও লেখা হয় নাই; কেবল মূল সংস্কৃত দেওয়া হইল।

১

শ্রীগুরুভ্যো নমঃ । শ্রীদেব্যুবাচ - ভগবন্দেবদেবেশ ভক্তানুগ্রহকারক । শ্রীমহাষোড়শীদেব্যাঃ কবচং বদ মে প্রভো ॥ ১॥

২

শ্রীভৈরব উবাচ অধুনা দেবি বক্ষ্যামি মহাশ্রীষোড়শীময়ম্ । পরমার্থাভিধং বর্ম শ্রীবিদ্যাসারমুত্তমম্ ॥ ২॥

৩

অস্য শ্রীমহাষোড়শীকবচস্য শিবঋষিঃ, পঙ্ক্তিছন্দঃ, শ্রীমহাষোড়শীদেবতা । কএঈল হ্রীং বীজং, হসকহল হ্রীং শক্তিঃ, সকল হ্রীং কীলকং, ধর্মার্থকামমোক্ষার্থে বিনিয়োগঃ প্রকীর্তিতঃ । সূর্যকোটিসহস্রাভাং সর্বাভরণভূষিতাম্ । পঞ্চবক্ত্রাং চতুর্বাহুং শিবশক্ত্যাত্মকাং ভজে ॥ ৩॥

৪

শিরোঽব্যান্মে রমাবীজং বাগ্বীজং লোচনেঽবতাৎ । পরাবীজং শ্রুতী পায়াৎ কামবীজং চ নাসিকাম্ ॥ ৪॥

৫

কামরাজস্তথোষ্ঠৌ মে শক্তিঃ পায়ান্মুখং মম । বাসব্যারদনান্পাতু তারং জিহ্বাং মমাবতু ॥ ৫॥

৬

শক্তিঃ কণ্ঠং তথা পাতু রমা স্কন্ধৌ মমাবতু । ত্র্যক্ষং ভ্রুবৌ সদা পাতু ধৃতিঃ পাতু করৌ মম ॥ ৬॥

৭

পরাবীজং পাতু বক্ষো লক্ষ্মী কুক্ষিং মমাবতু । শিবকূটোঽবতাৎপৃষ্ঠং ব্রহ্মকূটং তু পার্শ্বয়োঃ ॥ ৭॥

৮

শক্তিকূটোঽবতান্নাভিং কান্তিকূটো গুদং তথা । বায়ুকূটোঽবতাদ্ধস্তৌ শক্তিকূটস্তু জানুতঃ ॥ ৮॥

৯

তারং জঙ্ঘে সদা পাতু পাদৌ শক্তির্মমাবতু । পরা প্রভাতকালেঽব্যাৎ বাঙ্মধ্যাহ্নেঽবতাচ্চ মাম্ ॥ ৯॥

১০

সা সায়ং পাতু সর্বত্র মোহাঽব্যান্মাং নিশীথকে । পূর্বাদিদিক্ষু তারোঽব্যাৎ বহ্নিবায়োঃ পরাবতু ॥ ১০॥

১১

জলদুর্ভিক্ষদারিদ্র্যাৎ শক্তিঃ পাতু মমানিশম্ । দারাপুত্রধনাঢ্যেভ্যো গজাশ্বগৃহমণ্ডলাৎ ॥ ১১॥

১২

পাতু মে কমলাবীজং কামঃ শ্রীয়োগিনীগণাৎ । বাগ্ভবং সর্বদা পাতু শ্রীবিদ্যা সর্বতোঽবতু ॥ ১২॥

১৩

ইতীদং কবচং দিব্যং মহাশ্রীষোড়শীময়ম্ । মূলমন্ত্রময়ং গোপ্যং সর্বাশাপরিপূরকম্ ॥ ১৩॥

১৪

সর্বশ্রেয়স্করং নিত্যং স্তুতং সিদ্ধিপ্রদং কলৌ । যঃ পঠেৎসাধকো নিত্যং ধত্তে মৌনব্রতং শিবে ॥ ১৪॥

১৫

স এব ষোড়শীপুত্রঃ কামেশ্বরসমপ্রভুঃ । শ্যামাত্মকো মহাকালরূপো বৈরিবিমর্দনঃ ॥ ১৫॥

১৬

বহুপুত্রো রমানাথো মান্ত্রিকোত্তমশেখরঃ । ইত্যেতৎকথিতং বর্ম মহাশ্রীষোড়শীময়ম্ ॥ ১৬॥

১৭

বিনানেন ন সিদ্ধিঃ স্যান্মমাপি পরমেশ্বরি । গোপ্যং গুহ্যতমং বর্ম মূলমন্ত্রময়ং পরম্ ॥ ১৭॥ পরমার্থাভিধং বস্তু গোপয়েৎস সদাশিবঃ ॥

প্রধান মন্দির

ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির (মাতাবাড়ি)
উদয়পুর, গোমতী জেলা, ত্রিপুরা

একান্ন সতীপীঠের একটি — সতীর ডান পা এখানে পড়েছিল বলে বিশ্বাস। ১৫০১ সালে মহারাজ ধন্যমাণিক্য প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দির যে টিলার উপর, তার গড়ন কচ্ছপের পিঠের মতো — তাই ‘কূর্মপীঠ’ নামেও পরিচিত। অনেকের মতে রাজ্যের নাম ত্রিপুরা এই দেবীর নাম থেকেই।

কামাখ্যা মন্দির, নীলাচল পাহাড়, গুয়াহাটি — মূল মন্দিরের দেবী কামাখ্যাকেই ত্রিপুরসুন্দরী (ষোড়শী) রূপে পূজা করা হয়; মাতঙ্গী ও কমলাও ওই গর্ভগৃহেই পূজিতা।

ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির — উইকিপিডিয়া

মন্দির

ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির, উদয়পুর
ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির, উদয়পুর
ছবি: Soman (অনুমিত) · CC BY-SA 3.0 · কমন্স
ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির চত্বর, উদয়পুর (২০১৮)
ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির চত্বর, উদয়পুর (২০১৮)
ছবি: Yash raina · CC BY-SA 4.0 · কমন্স

বিগ্রহ

উদয়পুরের দেবী ত্রিপুরসুন্দরী
উদয়পুরের দেবী ত্রিপুরসুন্দরী
ছবি: Bodhisattwa · CC BY-SA 4.0 · কমন্স
উদয়পুরের দেবী ত্রিপুরসুন্দরী
উদয়পুরের দেবী ত্রিপুরসুন্দরী
ছবি: Bodhisattwa · CC BY-SA 4.0 · কমন্স

কাহিনী

ভণ্ডাসুর ও ফুলের বাণ

কামদেবকে পুড়িয়ে শিব সমাধিতে ফিরে গেলেন। ছাই পড়ে রইল। চিত্রকর্মা নামে এক গণ সেই ছাই দিয়ে কৌতুক করে একটা মূর্তি গড়ল। ব্রহ্মা পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, মূর্তিটি দেখে অবাক হয়ে বললেন ‘ভণ্ড! ভণ্ড!’ — আর সেই শব্দেই মূর্তি প্রাণ পেল। জন্মাল ভণ্ডাসুর। কাম থেকে জন্ম, তাই তার শক্তি কামেরই — সে ত্রিভুবনের সব আনন্দ শুষে নিল। তাকে মারতে যে দেবী এলেন, তাঁর অস্ত্রও কাম — কিন্তু বশে আনা কাম। হাতে ইক্ষুর ধনু, পাঁচটি ফুলের বাণ। যুদ্ধ শেষে তিনি কামদেবকে বাঁচিয়ে দিলেন। বার্তা একটাই — কামকে মারা যায় না, বশে আনা যায়।

বই


এই রূপের প্রচলিত বাংলা গান বিশেষ নাই। সমস্ত গান →

সতর্কবার্তা। এই পৃষ্ঠার মন্ত্রসমূহ স্বেচ্ছায় জপ করিবার বস্তু নহে। দশমহাবিদ্যার তান্ত্রিক মন্ত্র — বিশেষতঃ বীজমন্ত্র, পঞ্চদশী, বগলামুখী, ছিন্নমস্তা, ধূমাবতী ও মাতঙ্গীর মন্ত্র — শাস্ত্রমতে দীক্ষা ব্যতীত জপের বিধান নাই। গুরুর নিকট দীক্ষা গ্রহণ করিয়া, তাঁহার আদেশে, তাঁহার তত্ত্বাবধানেই ইহা অনুষ্ঠেয়। গুরুর পথনির্দেশ ব্যতিরেকে কেহ স্বয়ং চেষ্টা করিবেন না। এখানে মন্ত্র উদ্ধৃত হইয়াছে পাঠ, পরিচয় ও অর্থবোধের নিমিত্ত — সাধনার নির্দেশিকারূপে নহে।

মন্ত্র, ধ্যান ও স্তোত্র নানা গ্রন্থে পাঠভেদে ভিন্ন হইয়া থাকে; অনুষ্ঠানে ব্যবহারের পূর্বে মুদ্রিত পুঁথি ও পঞ্জিকার সহিত মিলাইয়া লইবেন।

শক্তি — সমস্ত রূপের সূচি · স্বীকৃতি · গোপনীয়তার নীতি